মর্যাদাকর ডব্লিউজিইএস নোভা অ্যাওয়ার্ড ২০২২ পেলেন আজিজ আহমদ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ওয়ার্ল্ড গ্রিন এনার্জি সিম্পোজিয়াম-ডব্লিউজিইএস কাউন্সিলের নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি থিংকট্যাংক ও উদ্যোক্তা আজিজ আহমদ।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। ডব্লিউজিইএস'র সাইটেশনে বলা হলা হয় অনুকরণীয় নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও সামাজিক অসমতা নিরসনে টেকসই ও শিক্ষণীয় সমাধান দিতে অসাধারণ সক্ষমতা দেখানোয় ২০২২ সালে আজিজ আহমদকে দেওয়া হচ্ছে সম্মানজনক এই আন্তর্জাতিক পুরষ্কার।

আজিজ আহমদ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস, কোডার্সট্রাস্ট ও প্রবিটি কেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একাধারে একজন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবক, গবেষক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা। একজন জনহিতৈষী, সমাজসেবক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রে সুবিদিত এই বাংলাদেশি-আমেরিকান।

মর্যাদাকর এই আন্তর্জাতিক নোভা অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আজিজ আহমদ বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আর বার বার মনে পড়ছে সেইসব মুখগুলো যারা আমাদের এগিয়ে দেওয়া সুবিধা নিয়ে এখন আইটি জগতে তাদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। গ্লোবাল মার্কেট থেকে আয় করছে। তাদের একেকটি হাসিমুখ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। 

কিছু বিবেচক ও প্রত্যয়ী মানুষ বিশ্বটাকে বদলে দিতে পারেন, এমনটাই বলেছিলেন মার্গারেট মিড। এবারের নোভা পুরষ্কার হস্তান্তরের সময় এই উক্তিটিই স্মরণ করে ডব্লিউজিইএস।

আর প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সিইও ডেইজি গ্যালাগার বলেন, আমাদের এবারের সিম্পোজিয়াম ও পুরস্কার মূল প্রতিপাদ্যে রয়েছে মানুষ। যারা এবার অ্যাওয়ার্ড ভূষিত হলেন তারা তাদের কাজ দিয়ে মানুষের কাছে যেতে পেরেছেন।

আজিজ আহমদ ছাড়া নোভা অ্যাওয়ার্ড ২০২২ এ ভূষিত হয়েছে অপর দুই আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের একজন ফাদার এলবার্স জর্জ। এলডার জর্জ নামে যিনি সমধিক পরিচিত। গ্রিসের এই ক্যারিসম্যাটিক ধর্মযাজক মানবতা ও প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত একজন অন্যতম রোলমডেল। অপরজন হচ্ছেন কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি-সিএসআর এর পরিচালক মাইকেল জোন্স বে। টেকসই কর্পোরেট ব্যবস্থার চ্যাম্পিয়ন বলা হয় তাকে।

ডেইজি গ্যালাগার আরও বলেন, ভীষণ ভিন্নরকম এই তিনটি মানুষকে পুরষ্কৃত করতে পেরে আমরা নিজেরা গর্বিত বোধ করছি।

বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদ তাদেরই একজন। যিনি ১৯৮০'র দশকের শেষভাগে উচ্চশিক্ষা লাভে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে সেখানে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজ কৃতিত্বে তিনি অর্জন করেছেন মূলধারার একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গৌরব।

এর আগে পুরষ্কার ঘোষণার পর ডব্লিউজিইএস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস বলেন, আজিজ আহমদের মতো ব্যক্তিত্বকে নোভা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করতে পেরে ডব্লিউইজিএস গর্ববোধ করছে। আজিজ আহমদ একজন প্রভাবক ও গেম চেঞ্জার, বলেন রবার্ট গ্যালাগার। 

আজিজ আহমদ তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সুবিধা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এশিয়া ইউরোপ, আমেরিকার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রয়েছে তার কার্যক্রমের বড় বিস্তৃতি। এই মানুষগুলোর জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কোডার্সট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের দেওয়া হচ্ছে বিশ্বমানের আইটি দক্ষতা। আর তার মাধ্যমেই তারা অর্জন করতে পারছেন বিশ্ববাজার থেকে আইটি খাতে কাজের সুযোগ। 

তরুণ সমাজ, বিশেষ করে নারীরা যারা একটু সাচ্ছন্দের জীবনের সন্ধানে সংগ্রাম করে যাচ্ছে তারাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য, বলেন আজিজ আহমদ। শিক্ষার্থী-প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তির কিছু সফট-স্কিল দিতে পারলেই তারা বিশ্ববাজার থেকে কাজ খুঁজে নিয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা। আমরা তাদের কাছে প্রশিক্ষণের উপযোগী টুলসগুলো সহজলভ্য করে দিতে পারছি, দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিতে পারছি, যা হয়তো তাদের নাগালের মধ্যে ছিলো না। কিন্তু সামান্য সুযোগই তাদের করে তুলতে পারে বিশ্বমানের দক্ষ কর্মী, যার প্রমাণ আমরা আমাদের উদ্যোগসমূহের মধ্য দিয়ে পেয়েছি, বলেন এই ফিলানথ্রপিস্ট আইটি উদ্যোক্তা। কেবল বাংলাদেশেই এরই মধ্যে ৬০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে আইটি দক্ষতা দিয়েছে কোডার্স ট্রাস্ট, জানান তিনি।

কেবল উদ্যোক্তাই নন, আইটি খাতে বিশ্ববরেণ্য একজন থিংকট্যাঙ্ক ও সুবক্তা হিসেবেও রয়েছে আজিজ আহমদের সুনাম। ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিসের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সেখানে আলোচনা করেছেন ডিজিটাল যুগে সাধারণের জন্য ভালো কি হতে পারে তা নিয়ে। বেলজিয়ামে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি কথা বলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অর্থবহ ব্যবহার ও নীতি কর্মকাঠামো নিয়ে। গুয়াতেমালায় সেন্ট্রাল আফ্রিকান কনফারেন্সে প্রযুক্তির অগ্রসরতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেছেন। ডেভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামেও তিনি প্যানেলিস্ট হিসেবে আইটি খাতে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন বিশ্বের অন্যান্য থিংকট্যাংকের সঙ্গে।

পুরষ্কার নেওয়ার পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ সিম্পোজিয়ামে মাস্টারক্লাস কিনোট স্পিকার হিসেবে আজিজ আহমদ কথা বলেন, টেকসই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে।

উপস্থাপনায় তিনি জোর দেন আজিজ আহমদ বলেন, প্রযুক্তি যতটা এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে সাথে মানুষের এগিয়ে যাওয়াটাও সমানভাবে জরুরি। সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অগ্রসরতার পাশাপাশি আমরা কিছু অপরাধপ্রবণতাও দেখতে পাচ্ছি এই জগতে। সাইবার অপরাধের একটি তালিকা উপস্থাপন করে তিনি বলেন, এই অপচেষ্টাগুলো থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।

অতীতে যে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই ডব্লিউইজিএস নোভা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে টেকসই কর্মসূচি গ্রিনওয়ার্কসের জন্য সিটি অব ফিলাডেলফিয়া। যার পুরস্কার গ্রহণ করেন সিটি মেয়র মাইকেল নাটার। রিও ডি জেনেরিওতে টেকসই কর্মসূচির জন্য দেশ হিসেবে এই পুরষ্কার পায় ব্রাজিল, কর্পোরেট লিডারশিপের জন্য পুরস্কার পেয়েছে তিশমান, ডিওডব্লিউ, জনসন কন্ট্রোলস, উদ্ভাবনী পণ্য ও প্রযুক্তির জন্য পেয়েছে ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিন ও শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি স্মার্ট হাউজের জন্য এই পুরস্কার পান। সাসটেইনেবল ডিসি প্ল্যান তৈরির জন্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এই পুরস্কারে ভূষিত হয়, যা গ্রহণ করেন এর মেয়র ভিনসেন্ট গ্রে। ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ককাস এই পুরস্কার পায় তাদের আরবান ফুড হাবের জন্য। যা গ্রহণ করেন এর ডিন সাবিন ও'হারা। শহুরে কৃষির একটি মডেল তৈরি করেছিলো এই বিশ্ববিদ্যালয়।   

সিম্পোজিয়ামে ডব্লিউজিইএস সেইসব মানুষের সমাগম ঘটায় যারা বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় দক্ষ, নীতিনির্ধারক, ক্রেতা, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও চিন্তক।

বিভিন্ন মাস্টার লেকচার, কেসস্টাডি ও ইন্টারঅ্যাকশনের মধ্য দিয়ে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই প্রচেষ্টাসমূহের বাস্তবায়নে প্রযোজনীয় শিক্ষা ও তথ্য বিনিময় করা হয় এই সিম্পোজিয়ামে।

অন্যান্য বছরের মতো এবছরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চমাপের বহুমূখি প্রতিভার অধিকারী বক্তাদের আমন্ত্রণ জানায় ডব্লিউজিইএস। বক্তারা তাদের উপস্থাপনায় বাস্তবভিক্তিক কেসস্টাডি, টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ অতিমারি পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা কথা বলেন নিরাপদ ভবন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, জলবায়ূ, ক্লিন এনার্জি ও টেকসই অর্থায়ন, গ্রিড বিদ্যুতায়ন, সাইবার সিকিউরিটির সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা, পরিষ্কার পানির সুষ্ঠু সমাধান, সঠিক বিনিয়োগ, পরিবহণ ও ক্লিন এনার্জি কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাসমূহের পূর্বাভাস নিয়ে।

কর্মসূচির মূল নেতৃত্বে ছিলেন ডব্লিউইজিএস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জর্জ রবার্টস। গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনার মাধ্যমে দিনভর আলোচনাকে যারা সম্মৃদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন, ইউএস জেনারেল সার্ভিসেস এডমিন্সট্রেশনের প্রধান সাসটেইন্যাবিলিটি অফিসার, ফেডারেল হাই পারফরম্যান্স গ্রিন বিল্ডিংস কার্যালয়ের পরিচালক কেভিন ক্যাম্পস্রোয়ার,  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী প্রধান সাসটেইন্যাবিলিটি অফিসার এন্ড্রু নক্স,  ওয়াশিংটন এক্সিকিউটিভ ক্লাইমেট চেঞ্জ কাউন্সিলেন চেয়ারম্যান ও ক্লাইমেট উপদেষ্টা স্টেফেন অ্যাম্ব্রোস,  ইউএস এয়ারফোর্সের পরিবেশ বিষয়ক সাবেক সহকারী সেক্রেটারি ও জ্যেষ্ঠ জ্বালানি নির্বাহী, জেনারেশনস অ্যাডভাইজরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইলিয়াম এন্ডারসন,  ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট কলাম্বিয়ার আরবান সাসটেইন্যাবিলিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের কলেজ অব এনভায়রনমেন্টর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ও প্রতিষ্ঠাতা ডিন ড. স্যাবিন ও'হারা,  ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স এমবিডিএ'র ব্যবসা উন্নয়ন কার্যালয়ের ব্যবসা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজর রন উবা,  ক্যাপিটাল অ্যাকসেস অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেট এর সিনিয়র অ্যাডভাইজর ব্লক চেইন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিশেষজ্ঞ জন রবার্ট বাগুইডি, রুবিক্স লাইফ সায়েন্সেস এর প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী ড. রেগিনাল্ড সুইফট, সাসটেইনেবল অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট স্ট্রাটেজিস ডব্লিউ জিআই ইনকর্পোরেটেড এর পরিচালক গ্যারি লরেন্স, ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস ও কোডার্সট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা আজিজ আহমদ, জিজিডব্লিউ ইনক. এর প্রতিষ্ঠাতা সিইও ডেইজি গ্যালাগার, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিকভারি, কন এডিসনের পরিচালক মাইকেল জোনস-বে, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাবস-এর মেরি রজার্স, সাসট্যাপ এলএলসি'র কো-ফাউন্ডার ভার্জিনিয়া গিবসন, আইএমএমআই'র প্রেসিডেন্ট সেলেস্টে উয়ান্ডার, ডিসি আরচেঞ্জেলস ইনভেস্টর গ্রুপ'র প্রেসিডেন্ট ড্যান লোয়াগ প্রমুখ।

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌ ইতালির আনন্দ ভ্রমণ



মিনহাজ হোসেন, ইতালি থেকে
কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌র আনন্দ ভ্রমণ

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌র আনন্দ ভ্রমণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মহিলা সংস্থা ইতালির আয়োজনে গ্রীষ্মকালীন আনন্দ ভ্রমণ রোম থেকে শত কিলোমিটার দূরে লাগো দি বোলসেনায় এ আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সকলেই আনন্দে মেতে ওঠেন। প্রবাসে ক্লান্তির শেষ মুহূর্তে বিনোদনের রঙে মন রাঙিয়ে তোলেন সবাই। এ যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরা বাংলাদেশ।

বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে মহিলা সংস্থার ইতালির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি রওশন আরার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মাসুদা আক্তারের পরিচালনায় আয়োজিত আনন্দ ভ্রমণে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নারী নেত্রী ও সুলতানা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী সুলতানা লিপি,‌ তিবুরতিনা সমাজ কল্যাণ সমিতি ইতালির সভাপতি মনির হোসেন, বাংলাদেশ প্রবাসী ক্রিস্টান মহিলা সমিতির সভাপতি রূপালী গোমেজ,‌পল্লী বালা সংঘের সভাপতি ফরিদা রহমান,‌ লন্ডন থেকে আগত মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি আমিন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেশমা আমিন,‌বিশ্ব সংগীত কেন্দ্র রুমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী জাকারিয়া, গ্রত্তোসেলনে সমাজ কল্যাণ সংঘের মোঃ শাহিন, যুব উন্নয়ন ব্যবসায়ী সমিতি উপদেষ্টা হক শহিদুল্লাহ,‌‌ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফরোজা আক্তার ডেইজি, আতিকুর রহমান রাসেল, জামাল আহমেদ, মামুন আহমেদ, মুরাদ আহমেদ, ফারুক আহমেদ কন্ঠশিল্পী রত্না বশাক, মোঃ মশিউর রহমান, সাংবাদিক শাহীন খলিল কাওসার, আখি সীমা কাউসার, মিনহাজ হোসেনসহ মহিলা সংস্থা ইতালির অধিকাংশ সদস্যরা ও আঞ্চলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,‌ ব্যাবসায়িক ও‌ নারী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আনন্দ ভ্রমণ সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মাসুদা আক্তার বলেন, প্রতি বছর আমরা মহিলাদের উদ্যেগে এ আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করে থাকি। প্রবাসে ব্যস্ততার মাঝে একটু বিনোদন খুজঁতেই এ আয়োজন।


এসময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি রওশনআরা বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণে আনন্দ ভ্রমণ করতে পেরেছি। তাই সবার কাছে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এতে ভুলত্রুটি থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করবেন। এবং‌ আগামীতেও এরকম আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রবাসে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের মাঝে যেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারি এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে রাফেল ড্র, শিশু কিশোরদের দৌড় প্রতিযোগিতা, বড়দের হাড়িভাঙ্গা, মহিলাদের বালিশ খেলা ও রোমের স্থানীয় বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শেষে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

;

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের একমাত্র দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠান। এ সময় শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা। ক্রীড়া সংগঠক ও ফুটবল প্রেমী, আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠের পর তাঁর স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের কর্মময় ও বর্ণিল জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

রাষ্ট্রদূত তাঁর স্বাগত বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নির্ভীক, বীরোচিত অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দেশ গড়ার কাজে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি ১৫ আগস্ট কালরাতের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবল জাগরণে শেখ কামালের অগ্রণী ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করেন। ঢাকা থিয়েটার ও স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে একজন শিল্পানুরাগী এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে শেখ কামালকে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রদূত শহীদ শেখ কামালের কর্মময় জীবন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল তরুণকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

;

ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন



প্রবাস ডেস্ক
ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল রোববার (২৪ জুলাই) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের 22 boulevard Ornano 75018-এ সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।

প্যারিসের সুপরিচিত বাংলাদেশ ফার্ণিচারের স্বত্ত্বাধিকারী মিয়া মাসুদ, দেশ জিএসএম'র সিইও মো. আবদুর রব এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সের (বিসিএফ) এমডি নূর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন 'প্যারি-টেক'র স্বত্ত্বাধিকারী মীর সাজ্জাদ আহমেদ জয় ও আপেল মাহমুদ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনার পর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সফলতা কামনা করা হয়।

প্যারি-টেকের স্বত্ত্বাধিকারী মীর সাজ্জাদ আহমেদ জয় বলেন, প্রবাসী যারা ফ্রান্সে আছেন তাদের অনেকের যথাযথ দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। দক্ষতা না থাকায় তাদের অনেককে কম আয়ের কাজ বেছে নিতে হয়। মোবাইল রিপারেশন একটি সম্মানজনক পেশা এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে অনায়াসে ভাল রেমিট্যান্স উপার্জনের সুযোগ আছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে 'প্যারি-টেক' আধুনিক ও সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ সেন্টার চালু করেছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ শেষে যে কেউ যার যার মতো কর্মসংস্থান করে নিতে সক্ষম হবেন।

;

স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’

স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ঈদের দুই দিন মঙ্গলবার (১২ জুলাই) স্পেনের মাদ্রিদের একটি পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্রিত হয়ে ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানী মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী পিরামিডস পার্কে দেশটিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘ঈদ আনন্দ’ উৎসব।

মাদ্রিদের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে ঈদের পরের দিনে অনুষ্ঠিত এ ঈদ উৎসব এবং মিলন মেলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলামীন মিয়া, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উপদেষ্টা এস এম আহমেদ মনির, ইনসাফ সুমন ভূঁইয়া সুমন, ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী, খুলনা বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি স্পেনের সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা সাইফুল মুন্সী ইকবাল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন প্রমুখ।

রাজধানী মাদ্রিদ ও এর আশেপাশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ‘ঈদ আনন্দ’ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রুবেল সামাদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই ঈদ আনন্দ উৎসবে বাংলাদেশে অবস্তানরত সংগঠনের সভাপতি মো. শাহ আলম টেলিকনফারেন্সে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি শেখাতে সহায়তা করবে। তিনি প্রবাসে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির তার বক্তব্যে সকলকে এক ও অভিন্ন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও নিজেদের উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এমন একটি মিলনমেলা আয়োজন করায় তিনি ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ঈদ পুনর্মিলন যেন আমাদের প্রবাসীদের ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। আমরা যেন প্রবাসে থেকেও দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি, দেশকে আরও ভালোবাসতে পারি।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের মহিলা সম্পাদিকা সাবান রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় এই ঈদ আনন্দ উৎসবে ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইন স্পেনের নেত্রবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বাক্কার, সহ সভাপতি নাফিজ মামুন, আব্দুস সাত্তার,আরজু মিয়া, সদস্য হাবিবুর রহমান, আলামিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ছিল বাংলাদেশি খাবারের ব্যাপক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে করে তুলেছিল আনন্দময়। সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল প্রবাসের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বাঙালি কমিউনিটির অনেকেই সপরিবারে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ফলে ঈদ পুনর্মিলনীটি পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলন মেলায়। দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও অভিভাবকদের ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য আগত অতিথিদেরকে বাঙালিয়ানায় ঈদের আনন্দ উৎসবে মাতিয়ে রাখে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা একে অন্যের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে স্বদেশে স্বজনদের ছেড়ে দূর দেশে আসা প্রবাসীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। অনেক স্বদেশিকে একসঙ্গে পাওয়ায় তাদের কাছে এ মিলনমেলা পরিণত হয়েছিল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। প্রবাসের শত ব্যস্ততার মাঝে এই উৎসব সবার জীবনে নিয়ে আসে নতুন করে পথচলার উদ্দীপনা। নতুন করে ভালোবাসতে শেখায় দেশ ও দেশীয় সংস্কৃতিকে। এমনটাই বলছিলেন অংশগ্রহণকারীদের অনেকে।

;