‘খেলাপিদের বিরুদ্ধে শূন্যসহিষ্ণুতা প্রয়োগের এখনি সময়’



আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক, বার্তা২৪.কম
‘খেলাপিদের বিরুদ্ধে শূন্যসহিষ্ণুতা প্রয়োগের এখনি সময়’

‘খেলাপিদের বিরুদ্ধে শূন্যসহিষ্ণুতা প্রয়োগের এখনি সময়’

  • Font increase
  • Font Decrease

ঋণ খেলাপি-কর খেলাপি ও দেশ থেকে টাকা পাচারকারীদের আইনের প্রাতিষ্ঠানিক আওতায় নিয়ে একটা সিগন্যাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, অর্থনীতি যখন চাপের মধ্যে তখন এসব খেলাপিদের বিরুদ্ধে শূন্যসহিষ্ণুতা প্রয়োগের এখনই সময়।

বার্তা২৪.কম-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। কথা বলেছেন পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম।

বার্তা২৪.কম: সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে?

অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান: অবশ্যই সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা একটা ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থসামাজিক সূচক আছে, সেসবের মধ্যে তার একটা প্রতিফলন আমরা দেখছি। সেটা আমাদের মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের সিচুয়েশনস, টাকার মূল্যমানের প্রবণতা, বিদেশি বিনিয়োগ, ঋণ প্রবাহ কিংবা রিজার্ভের কারণে আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা; সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিচালনার ক্ষেত্রে অক্টোবরে তো নেগেটিভ হয়ে গেছে, নভেম্বরেও সুবিধার না। সব ধরনের সূচকই একটা চাপের মধ্যে আছে। সুতরাং সেদিক থেকে অবশ্যই এসবের অভিঘাত পড়ছে জীবনযাত্রার মান, কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি-এগুলোর উপরে তার একটা নেতিবাচক প্রভাব তো পড়ছেই। সুতরাং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা একটা ঝুঁকির মধ্যে আছে।

বার্তা২৪.কম: বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতের অংশীজন ও সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগকে আপনি কিভাবে দেখেন-

অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান: কিছু কিছৃ পদক্ষেপ তারা নিচ্ছে। প্রথম কথা হলো সংকটের কারণটাকে যদি কেবলমাত্র কোভিড পরবর্তী উত্তরণ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বলা হয় যে এটি বাহির থেকে আসছে আমার মনে হয়; তাহলে সম্পূর্ণ গল্পটা বলা হবে না। আমাদের নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই বাইরের ফ্যাক্টরগুলি আরও জেঁকে বসেছে। আমরা অনেকদিন ধরে বলছি, আমাদের টাকা অতিমূল্যায়িত আছে, এটাকে গ্রাজুয়্যাললি অবমূল্যায়িত করেন; তখন বলা হলো-মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে। আমরা বললাম যে আমাদের রেমিটেন্স এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়বে, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং তার ফলে এটা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে। আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতিকে আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনা, শুল্ক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি  দিয়ে সামাল দিতে হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে আমরা অনেক বিলম্ব করেছি, ডলারের দাম ৮৬ টাকা অনেক দিন ধরে রেখেছি, এরপর এক লাফে এখানে ১১০-১১১ টাকা হয়েছে, যখন নাকি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি শেষ পর্যন্ত বাড়লই। এসব বিষয়গুলি যেমন আছে-তেমনি দেশ থেকে অনেক টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে;  আমরা বলছি অনেকদিন ধরে, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দিয়ে এগুলো  মোকাবেলা করুন। বাজারের মধ্যে একধরণের একচেটিয়াকরণ হচ্ছে-এগুলোকে মোকাবেলা করুন। বাজার ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সাশ্রয়ীভাবে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন- এগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন ধরণের দুর্বলতার কারণে আমরা ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছি। ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছি, অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছি। যেহেতু আমাদের সমস্যাটা ভেতরে, সেহেতু সমাধানটাও ভেতরেই খুঁজতে হবে-সেটাই হলো এখন মূল উদ্দেশ্য। এখন বাইরে জ্বালনি আর চিনি ছাড়া সবকিছুর দাম কমেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে তো বাড়ছেই। ইনফ্লেশন কমার তো কোনো লক্ষণ নেই। আর এখন ইনফ্লেশন যদি কিছু কমেও সেটি উপরের স্তরে; ১০০ টাকারটা ১০ শতাংশ বেড়ে ১১০ হয়েছে, তারপরে ইনফ্লয়েশন ১০ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ কমলো তার মানে ১১০ টাকারটা ১৮ হলো, তাতে তো আমার কোনো স্বস্তি নেই, ভিত্তি অলরেডি উপরে উঠে গেছে। সুতরাং এইখানে আমাদের এখন চেষ্টা করতে হবে যাতে ব্যালেন্স অব পেমেন্টটা আরেকটু বেটার করা যায়। রেমিট্যান্স  ইনফরমাল চ্যানেলে চলে গেছে। একে ফরমাল চ্যানেলে আনতে হবে। ঋণ খেলাপি, কর খেলাপি, দেশ থেকে টাকা পাচারকারী-এদের সবাইকে আইনের প্রাতিষ্ঠানিক আওতায় নিয়ে একটা সিগন্যাল দেওয়ার সময় আসছে। শূন্য সহিষ্ণুতার কথা আমরা বলি, এই শূন্য সহিষ্ণুতা প্রয়োগের এখনই সময়, অর্থনীতি যখন একটা চাপের মধ্যে আছে। সবদিক থেকে আমার মনে হয়, অর্থনৈতিক চাপের উৎকর্ষতা, সুশাসন, শূন্য সহিষ্ণুতা, ঋণখেলাপি, করখেলাপি, হুন্ডি চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে, যাতে করে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিনিয়োগ তার আগের জায়গায আসে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমাদের বিনিয়োগকারীরাও যাতে উৎসাহ পায় । একটা পেইনপুল প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে আরেকটা ভারসাম্যে আসতে হলে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রয়োগ করে আমাদের সংস্কার করা দরকার, বাংলাদেশব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইউনিটগুলোর মাধ্যমে বিদ্যমান যেসব আইন আছে তা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে ভোক্তা অধিদপ্তর, কমপিটিশন অধিদপ্তর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে পেইনপুল প্রসেসের মধ্য দিয়ে আমরা আরেকটা ভারসাম্যে পৌঁছে যাবো।

বার্তা২৪.কম: স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্ষমতার জায়গাটি কতটা দেখাতে পারছেন?

অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান: বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে রাইট ডাইরেকশনে-তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমরা দেখেছি ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপরে বিভিন্নভাবে (তাদের) স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে, তাদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো হয়েছে। নতুন আইন পাস হলো পার্লামেন্টের শেষ মূহুর্তে, তাতে দেখলাম পরিচালক পদে নয় বছরের জায়গায় ১২ বছর থাকার সুযোগ রাখা হয়েছে। সেন্ট্রাল ব্যাংককে তো স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে । মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি নীতির জন্য যেটা করার দরকার, বিশেষ করে ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে-এসবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কিছু দরকারি পদক্ষেপ তারা নিচ্ছেন কিন্তু সেটা আরও শক্তিশালী করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও বুঝতে হবে যে স্বাধীনভাবে যেসব সংস্থাকে কাজ করতে দিলে সেখানে তার জন্য ভালো হবে। তাদের নিজেদের স্বার্থে এটা করা উচিত। কারণ যদি ন্যায্যতার ভিত্তিতে আমরা যদি অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন করতে চাই তাহলে বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো ভালো কিন্তু আমার মনে হয় আরও একটু দ্রুততার সঙ্গে নিতে হবে। এক্সচেঞ্জ রেট-ইন্টারেস্ট রেটকে দ্রুততার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

বার্তা২৪.কম: আমরা জ্ঞান ও তথ্য ভিত্তিক সমাজের কথা বলি সেখানে অর্থনীতির সংকট নিয়ে যেসব গণমূখি গবেষণা হয়, সেসব গবেষণাকে সরকার বা সংশ্লিষ্টরা কতখানি অগ্রাধিকার দেন-

অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আমার মনে হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এটা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হয়ে গেছে-ক্রয় ক্ষমতার নিরিখে; এরকম একটা অর্থনীতি চালাতে গেলে অবশ্যই একটা জ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে আমার মনে হয় না সেটার অনুধাবনটা আছে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে, জ্ঞানভিত্তিক কথাবার্তা বললে আবার অনেকের পছন্দ হয় না। যারা এগুলো নিয়ে চর্চা করেন, যাদের বুদ্ধিমত্তা-মেধা আছে সেটা দিয়ে তারা পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু দেখা যায় এসব পরামর্শকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে নেওয়া হয়। আমার মনে হয় এটা ভালো কোনো লক্ষণ না। সমাজের যত জ্ঞানভিত্তিক আলাপ-আলোচনা হবে, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করবেন; সেটা তো তাদের ম্যান্ডেট, কিন্তু গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনার স্পেস থাকতে হবে। তখন সেখান থেকে তারা বেছে নিতে পারবেন, কোনটা তাদের জন্য সবচেয়ে  ভালো। কা্রণ রাজনৈতিক বিচার বিবেচনা করেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটা কি আমরা বুঝি না? কিন্তু গঠনমূল সমালোচনার প্রতিও শ্রদ্ধা থাকা উচিত বলে আমার মনে হয়।

   

সোনার দাম ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে কমল ৮৪০ টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই দফা বাড়ানোর পর এবার কমানো হলো সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে ভরিতে ৮৪০ টাকা কমিয়ে ১ ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৮ টাকা। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ৬৫ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

শ‌নিবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আজ বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৭ হাজার ১৯৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ৬৫ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। আর ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৪ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৭ হাজার ৮৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৩৮৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৮০১ টাকা। যা সেদিন সন্ধ্যা ৭ টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

চলতি বছর এ নিয়ে ৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। আর ২০২৩ সালে দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ২৯ বার।

;

ময়মনসিংহে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা সম্মেলন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা সম্মেলন

ময়মনসিংহে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ময়মনসিংহ জোনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে কর্মকর্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জিএম মোহা. গিয়াস উদ্দিন কাদের।

ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ময়মনসিংহ জোনপ্রধান মো. আনিসুল হক। সম্মেলনে ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. খলিলুর রহমান ও মো. আব্দুল জলিল এবং সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এম শহীদুল এমরানসহ প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী, ময়মনসিংহ জোনের অধীন শাখাসমূহের প্রধানগণ, উপ-শাখা ইনচার্জগণ, সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

;

বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল



রাকিব হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল

বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সয়াবিন তেল

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ভোজ্য তেলের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক-ভ্যাট) প্রত্যাহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু, ভোজ্য তেলের ‘যৌক্তিক মূল্য’ নির্ধারণ করে দিলেও তা মানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায় নির্ধারিত মূল্যের চাইতেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। দাম নেবার কারণ জানতে চাইলে দায়সারা উত্তর ব্যবসায়ীদের।

গতকাল (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

সংবাদ সম্মেলনে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ৮১৮ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দাম দুই টাকা কমিয়ে ১৪৭ টাকা করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বাজারে গিয়ে দেখা গেছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের কোন তোয়াক্কা করছে না দোকানীরা।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও লিটার প্রতি ১৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা করে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা বিক্রি করার কথা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে। তবে ভিন্ন চিত্র ছিলো ৫ লিটারের বোতলজাত তেলের দামে। সরকারের বেঁধে দামের চাইতেও প্রতি ৫ লিটারের বোতলে ১৮ টাকা কম মূল্যে ৮০০ টাকা করে বিক্রি করছেন দোকানীরা।

সরকারের বেঁধে দামে তেল বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে রাব্বি ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী লুতফুর রহমান বার্তা২৪.কম’কে বলেন, গতকাল কি ঘোষণা হইছে তেলের দাম কমছে নাকি বাড়ছে তা ভালো করে জানিনা। তবে শুনছি ফেছবুকে টিভিতে। আমাদের দোকানে যে তেল আছে তা আগের দামে কেনা। তাই আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন তেল আসলে আবার নতুম দামে বিক্রি করবো। খোলা তেলে ১৮ টাকা বেশি নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ যে বললাম আগের দামে কেনা। আমি তো নতুন দামের চাইতে ৫ লিটারের বোতলে ১৮ টাকা কম নিচ্ছি এখনো। কিন্তু খোলা তেল আমার আগের দামে কেনা তাই ১৮ টাকা বেশি নিতেছি। দাম বৃদ্ধির ঘোষণা এলে যতো দ্রুত দাম বাড়ে কিন্তু দাম কমানোর ঘোষণা এলে কমেনা কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বড় বড় পাইকারদের কাজ। তারা সিন্ডিকেট করে। কিন্তু আমাদের এমন সুযোগ নেই। আমরা এক দুই টন মাল সর্বোচ্চ কিনি। কখনো আরও কম কিনি।

আরেক ব্যবসায়ী খাদিজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মোসলে উদ্দিন বলেন, ৫ লিটারের তেলের বোতলে যে দাম ৮০০ টাকা দেয়া সেই দামে বিক্রি করছি। এছাড়া এক লিটারের বোতলের দাম ১৬৩ টাকা দামে বিক্রি করছি। তবে খোলা তেল আমার কেনা ছিলো ১৬৩ টাকা করে তাই আমি ১৬৪/১৬৫ টাকা দামে বিক্রি করতেছি। খোলা তেল ১৪৭ টাকা সরকার নির্ধারণ করছে কিন্তু সেটা কি ভালো নাকি মন্দা জানিনা। যে দামে কিনি তার থেকে এক দুই টাকা বেশি দামে বিক্রি করি।

একটি সিকিউরিটি গার্ডের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আলতাফ হোসেন। তার কাছে খোলা তেল কতো নিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৬৫ টাকা নিলো। খোলা তেলে দুই টাকা কমে ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানেন কিনা প্রশ্ন করলে আলতাফ হোসেন বলেন, ভাই এসব খবর দিয়ে তো কোন কাজ হয়না। দাম বাড়লে তখন ব্যবসায়ীরা পারলে আরও বাড়িয়ে নেয়। অথচ কমলে তিন মাসেও দাম কমার খবর থাকেনা। আপনার সামনেই তো বেশি নিলো কিছু করার আছে বলেন? আমি এক লিটার তেল নিতে আসছি। এখন এদের সাথে কি দাম নিয়ে ঝগড়া করবো।

আরেকজন ক্রেতা সজিব মোল্লা বলেন, বাজারে সব কিছুর দাম বাড়ে তবে খোলা তেলের দাম কমাইছে শুনে ভালো লাগলো। তবে দুই টাকা দাম কমায় তার প্রভাব আসলে বাজারে পরেনি। তাছাড়া লোক দেখানো বাজার মনিটরিং করে বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কখনো সম্ভব না। একদিকে ব্যবসায়ীদের উপর ট্যাক্স বসাইবেন। জরিমানা করবেন আবার বলবেন দাম কমাইতে তারা কিভাবে দাম কমাবে। জীবনে শুনছেন কোনকিছুর দাম বাড়লে তা আবার কমে সহজে।

;

শিশুখাদ্য সেরেলাক ও নিডোতে উচ্চমাত্রায় চিনি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নেসলের শিশুখাদ্য সেরেলাক ও নিডোতে উচ্চমাত্রার চিনির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা পাবলিক আই ও ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের করা গবেষণায় এ তথ্য মিলেছে। শিশুদের খাবারে যাতে চিনি যুক্ত করা না হয় এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানদণ্ড পরীক্ষায় কোনো ধরনের ক্ষতিকারক বিষয় সামনে আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া বিএসটিআই’র পক্ষ থেকেও একই কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্য কোম্পানি নেসলে বেশ কয়েকটি দেশে শিশুদের জন্য তৈরি করা দুধ ও সিরিয়াল পণ্যগুলোতে বাড়তি চিনি ও মধু যুক্ত করে, যা স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক নীতিমালার লঙ্ঘন। নেসলের শিশুখাদ্যে বাড়তি চিনি যুক্ত করার আইন লঙ্ঘনের এই ঘটনা কেবল এশিয়ান, আফ্রিকান এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে নেসলের শিশুখাদ্য সেরেলাক থেকে একজন শিশুকে একবার যে পরিমাণ খাবার পরিবেশন করা হয়, তাতে প্রায় ৩ দশমিক ৩ গ্রাম বাড়তি চিনি উপস্থিতি আছে।

পাবলিক আই বলছে, নেসলে সুইজারল্যান্ডে বাজারজাত করা তাদের পণ্য সেরেলাকে বাড়তি কোনও চিনি ব্যবহার করে না। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোতে সেরেলাকে বাড়তি চিনি যুক্ত করে তারা।

এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ভারতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। নেসলের শিশুখাদ্য পণ্যের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গবেষণায় পাওয়া ফল একটি বৈজ্ঞানিক প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া যুগান্তরকে বলেন, খাদ্যে ভেজাল কিংবা দূষণের কারণে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সব সময় ব্যবস্থা নিয়ে আসছে। এক গবেষণায় নেসলের দুটি পণ্য সেরেলাক ও নিডোতে উচ্চমাত্রার চিনির উপস্থিতির কথা বলা হচ্ছে। এটা আমরা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। বিএসটিআই’র মানদণ্ডে পরিমাপ করব। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা সামনে এলে বা অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্য দুটি বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সুপারিশ করব। এছাড়া মামলা করারও সুযোগ আছে।

এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নেসলে ইন্ডিয়ার একজন মুখপাত্রর সঙ্গে কথা বলেছে। ওই মুখপাত্র বলেছেন, তারা গত পাঁচ বছরে নেসলের শিশুখাদ্যে যোগ করা চিনির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়েছে। এছাড়া আরও কমিয়ে আনার বিষয়ে তারা পণ্যগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ভারতে নেসলের ১৫টি সেরেলাক শিশুখাদ্য থেকে একটি শিশুকে একবার যে পরিমাণ খাবার দেওয়া হয় তাতে গড়ে প্রায় ৩ গ্রাম চিনি থাকে। একই পণ্য জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যে বিক্রি করা হচ্ছে বাড়তি চিনি ছাড়াই। অন্যদিকে ইথিওপিয়া ও থাইল্যান্ডে এই চিনির পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই সূত্র জানায়, এটি অন্য দেশের তৈরিকৃত পণ্য। তবে এগুলো আমাদের দেশের মানদণ্ড অনুযায়ী এক নাও হতে পারে। সেরেলাক ও নিডো যদি দেশের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী মান ঠিক রেখে পণ্য তৈরি করে তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যেহেতু একটি প্রতিবেদনে ক্ষতির বিষয়টি এসেছে, তাই এই বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে দেখা হবে। যদি কোনো ক্ষতিকারক কিছু থাকে, তাহলে পদক্ষেপ নেব।

;