কর্ণফূলী গ্যাসে বড়চোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছোট চোরের বিচারের



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফিরোজ খান, সফিউল আজম খান এবং এমএ মাজেদ

ফিরোজ খান, সফিউল আজম খান এবং এমএ মাজেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদসহ দুর্নীতিবাজদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার পদক্ষেপকে দায়সারা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই দফা তদন্তে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরও স্বপদে বহাল রাখার ঘটনা নজীর বিহীন বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

কেজিডিসিএল এর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সিন্ডিকেটের হোতাদের স্বপদে বহাল রেখে তাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাগরেদদের বিচার করার। যাদের বিচার করা জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারাতো তার সকল অপকর্মের সহযোগী। সাগরেদকে রক্ষা করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি অনেকটা এমন হয়েছে, বড় চোরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছোটদের বিচারের।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, এক কোম্পানি থেকে সরিয়ে অন্য কোম্পানির দায়িত্ব দেওয়াকে আমি শাস্তি মনে করি না। আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। পেট্রোবাংলা থেকে ডেপুটেশনে থাকা দুই কর্মকর্তাকে (ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদ, কোম্পানি সচিব ফিরোজ খান) আমার স্বাক্ষরে শোকজ করা হয়েছে। জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন জবাব দাখিলের সময় সীমা শেষ হয় নি।

তিনি বলেন, ডিপির (বিভাগীয় ব্যবস্থা) ক্ষেত্রে যদি কোন অনিয়ম হয়, উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা্র ব্যবস্থা রয়েছে। যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তিনিও যেমন আওতাভুক্ত, তেমনি আমারও জবাবদিহিতার জায়গা রয়েছে। অতএব কোন দিক থেকেই অনিয়মের সুযোগ নেই।

পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের কাছে প্রশ্ন ছিল, তদন্ত কমিটি সিন্ডিকেটের তথ্য প্রমাণ পেয়েছে। সেই সিন্ডিকেট প্রধানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহযোগিদের বিচারের। এ কারণে ন্যায় বিচার নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছে। জবাবে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেছেন, তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত করেছে ঠিকই। তাদেরকে কি অত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছে। তাদেরওতো বক্তব্য থাকতে পারে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। বিচারিক ব্যবস্থায় তিন দফায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমি যতদিন এই চেয়ারে রয়েছি, অনিয়ম করলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

কেজিডিসিএল সূত্র জানিয়েছে, ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ কর্মকর্তা এখনও বহাল তবিয়তে। বিশেষ করে সিন্ডিকেটের প্রধান কোম্পানি সচিব ফিরোজ খান ও অন্যতম সহযোগি জিএম সফিউল আজম খান, জিএম আমিনুর রহমান ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছেন। নিচের দিকে কয়েকজনের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত ও আইওয়াসের জন্য কয়েকজনের ডেস্ক পরিবর্তন করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্ট গুরুদন্ড হলেও দপ্তর বদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতো মহাজালিয়াতির পরও তাদের এমন আস্ফালন অন্যদের হতাশ করে। সৎভাবে কাজ করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে, চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানের।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেট্রোবাংলা কয়েক বছর ধরে শুধু তদন্তেই করে গেলো। শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে জনমনে।তারা যদি আন্তরিক হতো, প্রথম তদন্তের পরেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এখনও তাদের বহাল রেখে সঠিক বিচার আশা করা কঠিন। ওরা ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরও জালিয়াতি করতে পারে। আগেও যেভাবে রেজিস্টার কাঁটাছেড়া করেছে, আরও করতে পারে। তাই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হলে তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া জরুরি।

গত সপ্তাহে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জিএম (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোজাহার আলীকে। তার কাছে প্রশ্ন ছিল কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিযুক্তদের বিষয়ে। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমি মাত্র দু’দিন অফিস করেছি, এরপর সাপ্তাহিক ছুটি চলছে। এখনও সবকিছু জানা হয় নি।

কেজিডিসিএল’র দুর্নীতির বিষয়ে সর্বশেষ কমিটি গঠন (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২)  করা হয় পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ এর নেতৃত্বে। ৪ সদস্যের ওই কমিটি গঠনই করা হয় পরিচালকের (অপারেশন এন্ড মাইন্স) নেতৃত্বে গঠিত কমিটির রিপোর্টের ‍উপর ভিত্তি করে। আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ কমিটি তদন্তে অসংখ্য অনিয়মের পাশাপাশি কেজিডিসিএল’এ একটি সিন্ডিকেটের প্রমাণ পেয়েছেন। কমিটি তার ৩১ পৃষ্ঠার রিপোর্টে অসংখ্যা দুর্নীতির তথ্য তুলে এনেছেন। কমিটি বলেছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে পাশ কাটিয়ে নতুন সংযোগ ও পুনঃসংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এতে একদিকে নিয়মকানুন লঙ্ঘিত হয়েছে, অপরদিকে কোম্পানি তথা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বোর্ড পেপারে জালিয়াতি, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকানোসহ মহাদুর্নীতির তথ্য প্রমান পেয়েছে কমিটি।

তদন্ত কমিটি সুপারিশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদ, বিপণন উত্তর ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক (চ.দা) প্রকৌশলী সফিউল আজম খান, বিপণন দক্ষিণ ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান, জিএম (প্রশাসন) ফিরোজ খানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

কেজিডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদ এর সরকারি নম্বরে একাধিক দফায় ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

দুই ক্যাটাগরিতে ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পেল নগদ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ডিজিটাল উদ্ভাবনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ অর্জন করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ। ডিজিটাল উদ্ভাবনের পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যবসায় অনলাইন ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় মোট দুইটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে নগদ।

সম্প্রতি ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘টুওয়ার্ডস আ স্মার্ট ট্রান্সফরমেশন’ শিরোনামে ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২২’-এর আয়োজন করে ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থা মাস্টারকার্ড।

মাস্টারকার্ড জানিয়েছে, স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নে অবদান রাখা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর ১৫টি বিভাগে মোট ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান একাধিক শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছে। ২০২১–২২ সালের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এটি মাস্টারকার্ডের চতুর্থ আয়োজন।

এবারে আয়োজনে নগদ এক্সিলেন্স ইন ডিজিটাল ইনোভেশন ২০২১-২২ অর্জন করেছে। মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড বিল পেমেন্টের জন্য এই এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে নগদ। নগদ অপর পুরস্কারটি পেয়েছে এক্সিলেন্স ইন মাস্টারকার্ড বিজনেস (মার্চেন্ট) অনলাইন ২০২১-২২ ক্যাটাগরিতে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গেস্ট অব অনার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাস্টারকার্ডের সাউথ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার বিকাশ ভার্মা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামালসহ পার্টনার ব্যাংক, ফিনটেক ও মার্চেন্ট পার্টনারগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে মাস্টারকার্ড সাউথ এশিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার বিকাশ ভার্মা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে এমন সব প্রয়োজনীয় ও অভিনব ডিজিটাল পেমেন্ট সল্যুশন উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুরস্কৃত করতে পেরে মাস্টারকার্ড আনন্দিত।’

মাস্টারকার্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় নগদ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘নগদ শুরু থেকে প্রযুক্তিগতভাবে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সল্যুশন হিসেবে সবার কাছে স্বীকৃত। সেই স্বীকৃতির সাথে প্রাপ্তি হিসেবে যোগ হলো মাস্টারকার্ডের এই পুরস্কার। আমরা চাই নগদ-এর মাধ্যমে এ দেশের ব্যাংকিং খাতের বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী আর্থিক খাতে যুক্ত হোক। কারণ প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক ও সাশ্রয়ী একটি সেবা ডাক বিভাগের নগদ।’

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ যাত্রার পর থেকেই সহজ ও সাশ্রয়ী সেবা দিয়ে স্বল্প সময়েই দেশে জনপ্রিয় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এর আগে বাংলাদেশে প্রথম ই-কেওয়াইসি উদ্ভাবনের জন্য বেস্ট ইনোভেশন ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড, বিশ্ব সেরা ফিনটেক উদ্যোগ হিসেবে ইনক্লুসিভ ফিনটেক ফিফটি অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ড, উইটসা গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, ডিজিটাল বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড, ই-কমার্স মুভার অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট মার্কেটিং কমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ডসহ আরও অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে নগদ।

;

ইউনিয়ন ব্যাংকের ঝালকাঠি শাখার শুভ উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইউনিয়ন ব্যাংকের ঝালকাঠি শাখার শুভ উদ্বোধন

ইউনিয়ন ব্যাংকের ঝালকাঠি শাখার শুভ উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

শরী‘আহ ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রদানের প্রত্যয়ে ঝালকাঠিতে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড এর ঝালকাঠি শাখা শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেঝালকাঠি শাখা উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, এবং ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল ইসলাম। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ এবং ঝালকাঠির স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

 

;

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগ্রহী ওয়েলস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুলার মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং যোগান কমে আসায় নন-কটন গার্মেন্টস পণ্যের দিকে ঝুঁকেছে বিশ্ব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, ম্যান-মেড-ফাইবারের চাহিদা বাড়ছে স্থানীয় তৈরি পোশাক শিল্পে। এমন তথ্য তুলে ধরে, ঢাকায় সফররত ওয়েলসের ব্যবসায়ীদের বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন(এফবিসিসিআই)।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) অল ওয়েলস ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন মিশন, ইউকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর ইউরোপের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে রফতানি পণ্যের সিংহভাগ ভ্যালু অ্যাডিশন হতে হবে দেশেই। এক্ষেত্রে বস্ত্র শিল্প, বিশেষ করে ম্যান-মেড-ফাইবার অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হবে।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সিরামিক, আসবাবপত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ণে বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথাও জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। এসব খাতে ওয়েলসের ব্যবসায়ীদের একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। আশ্বাস দেন বিনিয়োগে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা প্রদানের।

বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওয়েলসের আগ্রহের কথা জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং চেম্বার ওয়েলসের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মি. পল স্লেভিন। তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে ওয়েলস এবং বাংলাদেশের। সব ধরণের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বেসরকারি খাতকে অংশীজন করতে উভয় সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ইন্সটিটিউটগুলোর সঙ্গে ওয়েলসের ইন্সটিটিউটগুলোর কারিগরি সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালকবৃন্দ, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, অল ওয়েলস ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন মিশিন, ইউকের অন্যান্য সদস্যরা।

;

ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী

ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাংকক হসপিটাল অফিস বাংলাদেশ আয়োজিত "ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী" বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ২৬ নভেম্বর ২০২২ শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ)-এর নেতৃত্বে থাইল্যান্ড এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে সম্মিলিতভাবে ৪৯টি নেটওয়ার্ক হসপিটাল পরিচালিত হয়। ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ)-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে, যা গুরুতর এবং জটিল অসুস্থতার জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা দেয়। বিএইচকিউ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কর্তৃক প্রত্যয়িত এবং নিউজউইক পরিচালিত ওয়ার্ল্ডস বেস্ট হসপিটাল-২০২০ জরিপে ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডের শ্রেষ্ঠতম হসপিটাল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি থাই রাষ্ট্রদূত মিসেস ‘মাখওয়াদি সুমিতমোর’ তাঁর বক্তৃতায় থাইল্যান্ডে মেডিকেল ট্যুরিজমের সুযোগ সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন। মেডিকেল ট্যুরিজমে ২২ বছরের বেশী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইঐছ-এর একমাত্র প্রতিনিধি ‘ব্যাংকক হসপিটাল অফিস বাংলাদেশ’ ধানমন্ডি, বনানী এবং চট্টগ্রামে ৩টি অফিসের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের সৌজন্যমূলক ওয়ান-স্টপ পরিষেবা প্রদান করে চলেছে।

ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টা‌রনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা ডাঃ শক্তি রঞ্জন পাল, এবং ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের পরিচালক ডাঃ ক্রিয়েংক্রাই হেংরুসামি ব্যাংকক হসপিটালের বিভিন্ন পরিষেবাসহ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে ব্যাংকক হসপিটালের অবদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ) অত্যাধুনিক কার্যকরি ওষুধ, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ ও প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ এবং থাই আতিথেয়তার সমন্বয়ে স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবার ধারায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে ।ইঐছ ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকক হার্ট হসপিটাল, ওয়াটানোসোথ ক্যান্সার হসপিটাল, ব্যাংকক ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল (নিউরোলজি এবং অর্থোপেডিকস)। স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ক্ষেত্রের বিপুল সংখ্যক বিশেষজ্ঞগণ এখানে কর্মরত রয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক হসপিটালের প্রধান কার্যালয় হওয়ায়, ইঐছ প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত হসপিটাল এবং এতে এমন কিছু অনন্য চিকিৎসা-প্রযুক্তি রয়েছে যা থাইল্যান্ডের অন্য বেসরকারি হসপিটালে পাওয়া যায় না। বছরের পর বছর ধরে থাই এবং

বিদেশী রোগীরা তাদের চিকিৎসার জন্য ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকক হসপিটালকে বেছে নিচ্ছে, কারণ এখানে একই ছাদের নীচে সমস্ত নির্ভরযোগ্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পাওয়া যায়।

ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাম - ২৫৬ স্লাইস, এমআরআই ৩.০ টেসলা, কার্ডিয়াক এমআরআই ৩.০ টেসলা, ওপেন এমআরআই ১.০ টেসলা, জটিল অ্যারিথমিয়ার জন্য কার্টোসাউন্ড, ইত্যাদি। এখানে স্মার্ট সার্জারির জন্য একটি হাইব্রিড ওটি-ও রয়েছে। (ইঐছ অল-আর্টারি বা ডাবল লাইফ সিএবিজি, দ্বিতীয় সিএবিজি অথবা রিডু সিএবিজি -এর মত সার্জারির ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়।)

ব্যাংকক ক্যান্সার হসপিটালে সঠিকভাবে ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য রয়েছে ৪র্থ প্রজন্মের এমসিটি ফ্লো পেট-সিটি, রেডিওথেরাপি এবং রেডিওসার্জারির নতুন যুগান্তকারী চিকিৎসায় ভ্যারিয়ান এজ ১ থেকে ৩দিনের মধ্যেই সার্জারি ছাড়াই (কোনও কাঁটা ছেঁড়া, রক্তপাত এবং সংক্রমণ ছাড়া) মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসা সম্ভব করে তোলে। একই সাথে বিএইচকিউ ইমিউনোথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি ও টার্গেট থেরাপির মত অত্যাধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার নেতৃস্থানীয় হসপিটাল। ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ)-এ টিউমার বোর্ড (মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞদের সমন্বযয়ে গঠিত একটি দল)-ও রয়েছে, যা প্রতিটি ক্যান্সার রোগীর সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা পর্যালোচনা এবং পথ প্রদর্শন করে।

ব্যাংকক ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল (নিউরোলজি এবং অর্থোপেডিকস) মেরদন্ডের অস্ত্রোপচারে নির্ভুলতার জন্য ও-আর্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে। গুরতরভাবে আহত রোগীদের সর্বোত্তম পরিষেবার জন্য এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিভাগীয় বিশেষজ্ঞদের একটি নিবেদিত "ট্রমা কেয়ার টিম"।

এছাড়া এখানে রয়েছে জটিল ও মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরের জন্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, যা সর্বোচ্চ সুরক্ষা রেকর্ডধারী স্কাই আইসিইউ, দক্ষ এভিয়েশন ডাক্তার এবং নার্স দিয়ে সুসজ্জিত।

ব্যাংকক একাডেমি অফ স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেডিসিন (ইঅঝঊগ) হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র ফিফা স্বীকৃত সেন্টার এবং ক্রীড়াজনিত ইনজুরির আদর্শ চিকিৎসাকেন্দ্র। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত কৌশলগুলির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে রিকভারি এবং আরও ভাল অস্ত্রোপচারের ফলাফল অর্জনের জন্য রয়েছে মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি (গওঝ), যা ক্রীড়াবিদদের উন্নত পারফরম্যান্সের সাথে পেশাদারী ক্রীড়াঙ্গনে দ্রুত ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।

ইঐছ তে সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) সম্পন্ন স্বাস্থ্যপরিষেবা, যা মেডিক্যাল ইমেজ স্ক্রিনিংয়ে সূক্ষ্মতা বজায় রাখতে চমৎকারভাবে কাজ করে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি, ইঐছ সকল

ডিপার্টমেন্টের রোগীদের টেলিমেডিসিন পরিষেবাও প্রদান করে, যার মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সময়ে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী রোগী সুলভে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন, এবং এখনও পাচ্ছেন।

এ সময় ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ) -এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর - মিঃ রাল্ফ ক্রেওয়ার, মার্কেটিং কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট মিসেস প্যাচারিন তালানন, এবং আন্তর্জাতিক বিপণন কর্মকর্তা মিসেস শিরং গুয়ান সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়াও ব্যাংকক হসপিটাল অফিস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ নীলাঞ্জন সেন, নির্বাহী পরিচালক জনাব কাজী শারহান সাইফ, এবং অপারেশন্স পরিচালক জনাব মোহাম্মদ শহিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।

;