চট্টগ্রামে পর্যটন-বান্ধব হোটেল ব্যবসার পথিকৃৎ হোটেল আগ্রাবাদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
হোটেল আগ্রাবাদের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এমপিকে ক্রেস্ট প্রদান করছেন এমডি এইচ এম হাকিম আলী।

হোটেল আগ্রাবাদের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী এমপিকে ক্রেস্ট প্রদান করছেন এমডি এইচ এম হাকিম আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

তিনদিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সূবর্ণ জয়ন্তী পালন করেছে হোটেল আগ্রাবাদ। হোটেল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও কৃষ্টিভিত্তিক খাদ্য ও পণ্য মেলা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, পুরস্কার বিতরনী, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, অতিথি আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

চট্টগ্রামের প্রথম পাঁচ তারকা হোটেলটির সূবর্ণ জয়ন্তীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মাহবুব আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাকৃতিক বৈচিত্র, পাহাড়, নদী, সমুদ্রকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় করতে চট্টগ্রামকে বহুমূখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে  তুলছে। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সম্প্রসারনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কর্ণফুলি টানেল, এয়ার পোর্ট হতে দেওয়ান হাট এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ, দোহাজারী হতে ঘুমধুম রেল সম্প্রসারণ, বিমান বন্দরের আধুনিকায় ও সম্প্রসারণ, আউটার রিং রোড, বায়েজিদ লিংক রোড, চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করবে। বাড়বে দেশী বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আনাগোনা। তাই আরো অধিক হারে আন্তর্জাতিকমানের হোটেল মোটেল গড়ে তোলা প্রয়োজন। কেবলমাত্র সরকারী উদ্যোগে পর্যটনকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। সরকার নীতিমালা তৈরী করবে, পরিকল্পনা প্রনয়ন করবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে  হোটেল আগ্রাবাদ চট্টগ্রামের হোটেল-মোটেল ব্যবসার পথিকৃৎ হয়ে কাজ করছে এবং আগামীতেও করবে বলে আমার বিশ্বাস।


মন্ত্রী আরো বলেন, চট্টগ্রামের সৌন্দর্য আদিকাল থেকেই বিদেশি পরিব্রাজক ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। ইবনে বতুতা, হিউয়েন সাং, ভাস্কো দা গামা চট্টগ্রামের সৌন্দর্যের টানে অনেক দুর থেকে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে  এ ভারতীয় উপমহাদেশ ও চট্টগ্রামে এসেছে। পর্তুগীজরা ব্যাবসা বাণিজ্য করতে এসে চট্টগ্রামের পরিবেশের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এখানে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান চট্টগ্রামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের পর্যটনকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে এর বাস্তবায়ন আর এগোয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সকল স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছন্দ্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয়। এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে দিন দিন আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক পত্রিকা আজাদী’র সম্পাদক এম. এ মালেক তাঁর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে হোটেল আগ্রাবাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। রেডক্রিসেন্ট এর কার্যক্রম হোটেল আগ্রাবাদ থেকে পরিচালিত হতো। একসময় হোটেল আগ্রাবাদ ছিল চট্টগ্রামের মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো এক ব্যাপার। এই হোটেলের ইছামতি হল রুম থেকে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক বিকাশে অনেক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রদূত, সরকারী উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রি, এমপি, দেশী-বিদেশে খেলোয়ার, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা চট্টগ্রামে এলে হোটেল আগ্রাবাদেই অবস্থান করেছেন।


হোটেল আগ্রাবাদ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এম হাকিম আলী বলেন, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা সম্বলিত হোটেল আগ্রবাদ প্রতিষ্ঠা করা ছিল মরহুম আলহাজ্ব সবদার আলীর একটি সাহসী ও দুরদর্শী পদক্ষেপ। কঠিন ও গৌরবময় পথচলায় যারা এ হোটেলের পাশে ছিলেন সকলের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রাণময় শুভেচ্ছা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের পরিচালক ও এফবিসিসিআইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি ড. মনোয়ারা হাকিম আলী, এফবিসিসিআইএ’র পরিচলক ড. মুনাল মাহাবুব।

এছাড়া সাবেক মহিলা সাংসদ সাবিহা মুছা, সিডাব্লিউ সিসিআই এর প্রথম সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তাফা, হোটেলের এজিএম হাসানুল ইসলাম, মানব সম্পদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান, রুম ডিভিশন ম্যানেজার রায়হান কায়সার, সিনিয়র ফুড এন্ড বেভারেজ ম্যানেজার মনিরুল আলম সরকার, সিনিয়র হিসাব ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন, ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার এ.কে এম শাহরিয়ার, সেলস এন্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মোরশেদুল আলমসহ চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ইউরোপে পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ২০২১ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রফতানি বাজারে আবারও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, ২০২০ সালে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে তৃতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা ২০২২- এ দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানিতে ভিয়েতনামের অংশ ২০২০ সালের ৬.৪০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৫.৮০ শতাংশে নেমে গেছে।

বৈশ্বিক আরএমজি বাজারে বাংলাদেশের অংশ অবশ্য ২০২০ সালে ৬.৩০ শতাংশ থেকে গত বছর ৬.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই অনুপাত ২০১৯ সালে ৬.৮০ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬.৪০ শতাংশ।

ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আরএমজি রফতানি দৃঢ়ভাবে বেড়েছে এবং বার্ষিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। ২০২০ সালে, এই রফতানি একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছিল এবং ভিয়েতনামের আরএমজি রফতানির ৭ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশে ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।

বৈশ্বিক পোশাক রফতানি বাজারে ২০১০ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৪.২০ শতাংশ, তখন ভিয়েতনামের অংশ ছিল ২.৯০ শতাংশ।

চীন ২০২০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রফতানি বাজারে দেশটির অংশ ৩১.৬০ শতাংশ থেকে গত বছরে ৩২.৮০ শতাংশে উন্নীত করে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে।

ডব্লিউটিও-র প্রকাশনা অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরএমজির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব রফতানিকারক। সুতরাং, প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ব আরএমজি রফতানিকারক দেশ এবং ভিয়েতনাম চতুর্থ।

ইইউ-এর সম্মিলিত রফতানি পরিসংখ্যান দেশভিত্তিক আলাদা করা হলে, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শীর্ষ রফতানিকারক হবে। তুরস্ক এবং ভারত পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে, তারপরে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং পাকিস্তান।

ডব্লিউটিও-র পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শীর্ষ ১০ পোশাক রফতানিকারকের বার্ষিক মোট রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০ সালের ৩৭৮ বিলিয়ন থেকে একটি বড় উত্থান। এই মূল্য ২০১৯ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়েছিল।

;

আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক



নিউজ ডেস্ক বার্তা২৪.কম ঢাকা
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাত

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছন গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) 'বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ অর্জন করেছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে `প্রাইভেট কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশন) ক্যাটাগরি’-তে ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাবিব হাসনাতের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার অর্জনের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই অর্জন ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার স্বীকৃতি। গ্রাহকগণের আস্থা-ই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

;

রেমিট্যান্স ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ নভেম্বরে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের জন্য নগদ ভর্তুকি বাড়ানোর পর নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নভেম্বরে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ধরে)।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার। এরপর রেমিট্যান্স প্রবাহ ওঠানামা করলেও গত অক্টোবরে রেমিট্যান্স আগের ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম এসেছিল।

গত অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২১ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। তবে চলতি নভেম্বর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১ সালের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধপথে প্রবাসী আয় ধারাবাহিক কমছে। অর্থনীতির অন্যতম এ সূচকটির নেতিবাচক গতি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধপথে রেমিট্যান্স আনতে বিভিন্ন শর্ত শিথিল, চার্জ ফি মওকুফসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তারপরও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নভেম্বরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে— তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১২৮ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। বিগত সময়ের মতো এবারও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। নভেম্বরে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এরপরেই রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের অবস্থান। ব্যাংকটির মাধ্যমে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ১ লাখ ডলার, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রেমিট্যান্স বাড়া‌তে উদ্যোগ

বিদেশি এক্সচেঞ্জের হাউজের মতো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালেও প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা পাবেন প্রবাসীরা। আগে যা ছিল ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া এখন থেকে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না। সব‌শেষ গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ছাড়া এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রণোদনা বাড়ার পরও সর্বশেষ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে বড় পতন হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক তিন বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

;

শিগগির সুদহার সীমা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই: গভর্নর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখনই এটি প্রত্যাহারের সঠিক সময় নয় বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, আমরা একটি ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি। সুদের সীমা প্রত্যাহার করা হবে, কিন্তু এখন এটি প্রত্যাহার করার সঠিক সময় নয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই ভোক্তা ঋণের সুদের হার শিথিল করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার শক্তিকে তা নির্ধারণ করতে দেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনই কোনো আমদানি বিধিনিষেধ আরোপ করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র কিছু বিলাসবহুল আইটেমের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

;