বিশ্বের প্রথম ব্লুটুথ ও এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তির থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার এসি আনলো ওয়ালটন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিশ্বের প্রথম ব্লুটুথ ও এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তির থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার এসি আনলো ওয়ালটন

বিশ্বের প্রথম ব্লুটুথ ও এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তির থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার এসি আনলো ওয়ালটন

  • Font increase
  • Font Decrease

 

ব্লুটুথ ও এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তির থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার এয়ার কন্ডিশনার তৈরি করলো বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। বিশ্বে ওয়ালটনই প্রথম এমন প্রযুক্তি সম্বলিত এসি নিয়ে এলো। ক্রিস্টালাইন প্রিটো সিরিজের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই এসি গ্রাহকের রুমের আয়তন অনুযায়ী ১.৫ টন থেকে ১ টন এবং পৌনে এক টনে রূপান্তর সুবিধা রয়েছে। ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নান্দনিক ডিজাইনের কালো রঙের এসিটি রিমোটের পাশাপাশি ব্লুটুথের মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করতে পারবেন গ্রাহক। এতে আরো রয়েছে এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তি। যা বাতাসে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম।

রোববার (৭ আগস্ট, ২০২২) রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসের অডিটোরিয়ামে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই এসি উন্মোচন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও গোলাম মুর্শেদ।

সে সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম সরকার, এমদাদুল হক সরকার, ইভা রিজওয়ানা নিলু ও হুমায়ূন কবীর, ওয়ালটন প্লাজা ট্রেডস-এর সিইও মোহাম্মদ রায়হান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এস এম জাহিদ হাসান, ফিরোজ আলম, আরিফুল আম্বিয়া, ড. সাখাওয়াৎ হোসেন ও আমিন খান, এসির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) তানভীর রহমান, ডেপুটি সিবিও সন্দীপ বিশ্বাস প্রমুখ।

ওয়ালটন এসি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের প্রধান আরিফুল ইসলাম জানান, ক্রিস্টালাইন প্রিটো সিরিজের এই এসিতে রয়েছে থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার টেকনোলজি। অর্থাৎ ১.৫ টন বা ১৮ হাজার বিটিইউ পার আওয়ার এর এই এসিটি প্রয়োজন মতো রুম সাইজ অনুসারে রিমোট বা স্মার্টফোনের সাহায্যে রূপান্তর করা যায় এক টন বা ১২ হাজার বিটিইউ পার আওয়ার এবং পৌনে এক টন বা ৯ হাজার বিটিইউ পার আওয়ার এসিতে। এক্ষেত্রে প্রচলিত ১ টন এসির তুলনায় ওয়ালটনের কনভার্টেড এক টন এসিতে ২০.১৮ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। আর প্রচলিত পৌনে এক টন এসির তুলনায় ওয়ালটনের কনভার্টেড পৌনে এক টন এসিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ৩০.৫৩ শতাংশ।

তিনি জানান, ওয়ালটনের নতুন এসিটিতে আরো রয়েছে এয়ার প্লাজমা প্রযুক্তি। যা বাতাসে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে ঘরে স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে। ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার টেকনোলজি সম্পন্ন এই এসিতে ব্যবহৃত হয়েছে পরিবেশবান্ধব আর-৩২ রেফ্রিজারেন্ট। যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিশ্বকে নির্মল রাখে। এর ফোরডি এয়ার ফ্লো টেকনোলজি মুহূর্তের মধ্যে ঘরের প্রতিটি কোনায় স্বাস্থ্যকর বাতাস পৌঁছে দেয়। টার্বো কুল প্রযুক্তি নিমেষেই রুমকে ঠান্ডা করে।

ওয়ালটনের ক্রিস্টালাইন প্রিটো সিরিজের এসিতে অন্যতম সংযোজন ব্লুটুথ প্রযুক্তি। এরফলে ইন্টারনেট ছাড়াই ব্লুটুথের মাধ্যমে স্মার্টফোন থেকে এই এসি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রিমোট ব্যবহারের দরকার পড়ে না।

ওয়ালটন এসির সিবিও তানভীর রহমান বলেন, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি উৎপাদনে দক্ষ ও মেধাবী প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে ওয়ালটনের রয়েছে শক্তিশালী রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন টিম। তাদের নিয়মিত গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে ওয়ালটন এসিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবন। সম্প্রতি আমরা ৫.৫ স্টার রেটিংয়ের উপমহাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি বাজারে ছেড়েছি। এছাড়াও, বিশ্বের প্রথম অফলাইন ভয়েস কন্ট্রোল এসি তৈরি করেছে ওয়ালটন। এবার আমরা গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এলাম বিশ্বের প্রথম ব্লুটুথ ও এয়ার প্লাজমা এবং থ্রি ইন ওয়ান কনভার্টার প্রযুক্তির এসি।

তিনি বলেন, ক্রেতাদের আস্থা ও ভালোবাসায় ৩২ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে দেশের এসি বাজারে শীর্ষে রয়েছে ওয়ালটন। ভষ্যিতেও এসি ক্রেতাদের জন্য সর্বাধুনিক ফিচার ও প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসবো আমরা।

জানা গেছে, এক বছরের রিপ্লেসমেন্টের পাশাপাশি ইনভার্টার এসির কম্প্রেসরে ১০ বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি দিচ্ছে ওয়ালটন। আন্তর্জাতিকমানের ওয়ালটন এসি ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। নগদ মূল্যের পাশাপাশি ওয়ালটন এসি কিস্তি এবং ইএমআই সুবিধায় কেনার সুযোগ রয়েছে।

এসির গ্রাহকদের দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় সারা দেশে ওয়ালটনের রয়েছে ৭৯টি সার্ভিস সেন্টার। পাশাপাশি সার্ভিস পার্টনারদের মাধ্যমে দেশব্যাপী এসি গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে ওয়ালটন। এদিকে ওয়ালটনের দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী এবং টেকনিশিয়ানগণ প্রতি ১০০ দিন পর পর এসি ক্রেতাদের ফ্রি সার্ভিস দিচ্ছেন।

শ্রীকাইল নর্থ ১ অনুসন্ধান কূপে দ্বিতীয় ধাপের খনন শুরু



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শ্রীকাইল নর্থ ১ অনুসন্ধান কূপে দ্বিতীয় ধাপের খনন শুরু

শ্রীকাইল নর্থ ১ অনুসন্ধান কূপে দ্বিতীয় ধাপের খনন শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্রীকাইল নর্থ-১ অনুসন্ধান কূপে দ্বিতীয় ধাপের খনন শুরু হয়েছে। গ্যাস আবিষ্কারে সফল হলে দৈনিক ১০-১৫ এমএমএসসিএফ গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেন খনন কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ। পরিদর্শনকালে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

দেশীয় গ্যাসের উত্তোলন ও অনুসন্ধানে কাজ জোরদার করছে সরকার। ২০২২-২০২৫ সালের মধ্যে পেট্রোবাংলা মোট ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাপেক্স এ বছরের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে শ্রীকাইল নর্থ -১ অনুসন্ধান কূপ খননের কার্যক্রম শুরু করে।

ইতিমধ্যে কূপটির ১৮২ মিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খনন সংশ্লিষ্ট মালামাল ও তৃতীয় পক্ষীয় সেবা সংগ্রহপূর্বক ২৪ সেপ্টেম্বর কূপ খননের ২য় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কূপটির গভীরতা হবে ৩৫'শ মিটার, টিভিডি থাকছে ১০০ মিটার।

খনন কাজে বাপেক্সের নিজস্ব রিগ বিজয়-১২ ব্যবহার করা হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে (২০২২) কূপটির খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে প্রসেস প্লান্ট স্থাপনের প্রয়োজন হবে না, গ্যাস গ্যাদারিং পাইপ লাইন নির্মাণ করে তা নিকটবর্তী প্রসেস প্লান্টের (৫/৬ কিলোমিটার. দূরে অবস্থিত প্রসেস প্লান্ট) মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ২০১২ সালে আবিস্কৃত শ্রীকাইল (কুমিল্লা) গ্যাস ফিল্ডের ৩টি কূপ দিয়ে দৈনিক (২৩ সেপ্টেম্বর ) ৪২ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

;

সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল আকিজ প্লাস্টিকস



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল আকিজ প্লাস্টিকস

সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল আকিজ প্লাস্টিকস

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের শিল্পখাতের উৎপাদন শিল্পে অসামান্য অবদান এবং বিশ্বমান বজায় রেখে পণ্য উৎপাদন করার স্বীকৃতি স্বরূপ “বেস্ট প্লাস্টিক ম্যানুফ্যাকচারার ইন বাংলাদেশ” ক্যাটাগরিতে সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২২ অর্জন করেছে আকিজ প্লাস্টিকস লিমিটেড।

আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান সেখ নাসির উদ্দিন, সিআইপি গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ রাজধানীর প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান-এর কাছ থেকে এই অ্যাওয়ার্ডটি গ্রহণ করেন। আকিজ প্লাস্টিকস - হাউসহোল্ড, আসবাবপত্র, ইউপিভিসি পাইপস এবং ফিটিংস এর পণ্যগুলো উৎপাদন করে থাকে।

একইসাথে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেখ নাসির উদ্দিন, সিআইপিকে সাউথ এশিয়ান পার্টনারশিপ সামিট-এর “হল অফ ফেম”-এ স্থান দিয়ে সন্মানিত করা হয়।

উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ আকিজ জুট মিলস লিমিটেড ধারাবাহিকভাবে একাধিকবার জাতীয় রফতানি ট্রফি অর্জন করেছে। এছাড়াও, ২০১৭ সাল হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ পাট-সুতা রফতানিকারক ও সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বর্ণ পদক অর্জন ও সর্বোচ্চ সন্মানে সন্মানিত করা হয়।

সেখ নাসির উদ্দিন বলেন, এ অর্জনে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যকে আমরা বিশ্বমানের করে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আকিজ গ্রুপ সবসময়ই গুণগত মানে বিশ্বাস করে, তাই পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বমানের গুণগত মান বজায় রাখতে সর্বদা আপসহীন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই মহান আল্লাহ-তায়ালার প্রতি, সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই আকিজ প্লাস্টিকসের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের, যাদের নিরলস পরিশ্রমে আজকের এই অর্জন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান আকিজ প্লাস্টিকসের এই অর্জনকে দেশের জন্য একটি মাইলফলক হিসাবে অভিহিত করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

;

তিতাস গ্যাসের ঘুষ বাণিজ্যে অসহায় গ্রাহকরা



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তিতাস গ্যাস

তিতাস গ্যাস

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্যাপটিভ পাওয়ার ১০ মেগাওয়াটের বেশি হলে গ্যাস সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারপরও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) এমডির বিরুদ্ধে।

গ্যাস সংকটের কারণে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র অলস বসে থাকছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে ২৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২৫২ এমএমসিএফডি চাহিদার বিপরীতে গত গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৯৭৩.৭ এমএমসিএফডি। সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বেশিরভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থেকেছে। কোথাও কোথাও আংশিক উৎপাদন হয়েছে।

গ্যাস সংকটে কারণে ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ না দিতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোম্পানি তিতাস গ্যাস সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কাই করছে না। কোন রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই দেদারছে সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে। নারায়নগঞ্জের চৈতি কম্পোজিট টেক্সটাইল ১২.৯৩ মেগাওয়াট, টঙ্গীর স্কাই বিডি লিমিটেড ১২.২৫ মেগাওয়াট, মুন্সীগঞ্জের প্রিমিয়ার সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে ১২.৫১ মেগাওয়াটের নতুন ক্যাপটিভের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মতিন স্পিনিং মিলের লোড বাড়িয়ে ২২.০৪ মেগাওয়াট করা হয়েছে।

১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বানুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা এড়াতে একই শিল্প কারখানায় পৃথক আইডি দিয়ে সংযোগ প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। ভালুকার জামিরদিয়ায় অবস্থিত এনআর গ্রুপের কারখানায় পৃথক আইডি দিয়ে সংযোগ প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এনআর গ্রুপকে ভিন্ন তিনটি গ্রাহক সংকেত দিয়ে ২৪.৯২ মেগাওয়াট ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)। এনআরজি স্পিনিং মিলসের নামে ১৬.২৫ মেগাওয়াট, এনআরজি কম্পোজিট ইয়ার্ন ডাইন ৩.৮৭ মেগাওয়াট, এনআরজি নিট কম্পোজিট ৪.৮০ মেগাওয়াট। সবগুলোর ঠিকানা একই, অর্থাৎ ভিন্ন নাম ব্যবহার করে ওই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এতে তিতাসের যোগসাজস দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনআরজি কম্পোজিট ইয়ার্ন ডাইন ৩.৮৭ মেগাওয়াট থেকে বৃদ্ধি করে ১১.৯৪ মেগাওয়াট, এনআরজি নিট কম্পোজিট ৪.৮০মেগাওয়াট থেকে বর্ধিত করে ৬.২০ মেগাওয়াটের অনুমোদন দিতে কারচুরির অভিযোগ উঠেছে। একই কম্পাউন্ডে এনআরজি হোমটেক্স নামে আরেকটি নতুন (৭.৭৮ মেগাওয়াট) সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুলাই তারিখের বোর্ডসভায় জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স স্কয়ার এ্যাপারেলস লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত নম্বর-৩৭৯/৮৭৯০১২৬) এর ক্যাপটিভ রানে ৪৭ হাজার ৮৮৯ ঘনফুট (ঘণ্টা প্রতি) লোড বৃদ্ধি করা হয়। একই বোর্ডে মেসার্স বি. জে.বেড উইভিং লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত নম্বর ৩২২/৮৩২-০০০৯৮০) ক্যাপটিভ লোড বাড়ানো হয়। শুধু লোড বৃদ্ধি নয় গত ২৬ এপ্রিলে বোর্ডে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কো. লিমিটেড ও মেসার্স সাচ্ছান কোম্পানির (বিডি) নতুন ক্যাপটিভ সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৯ এপ্রিল ৮৮১ তম বোর্ডসভায় প্রায় ১৬টি ক্যাপটিভ সংযোগ পুনঃবিন্যাস করা হয়। শুধু এসব বোর্ডে নয়, প্রত্যেক মাসেই ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দিয়ে নতুন নজীর গড়েছেন বর্তমান এমডি। এসব সংযোগের পেছনে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তিতাস গ্যাস ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বিরুদ্ধে।

তিতাস তাদের বিদ্যমান গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধসহ নানাভাবে রেশনিং করতে হচ্ছে। ঠিক সেই সময়ে নতুন নতুন ক্যাপটিভ সংযোগের নামে এই বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাবের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখন আর অদক্ষ ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া উচিত না। জাতীয় স্বার্থে এসব ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এখানে অসাধু ব্যক্তি স্বার্থ কাজ করছে। এতে করে কেউ কেউ বিশেষভাবে লাভবান হয়ে থাকার অভিযোগ অমুলক নয়।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লাহকে ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি।

হারুনুর রশীদ মোল্লাহ চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পর তিতাসের সেবার মান তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়েনা এটা এখন ওপেন সিক্রেট। মিটার নষ্টের অভিযোগ দিলে দেখা মেলে ৬ মাস পর, আর সেই মিটার পরীক্ষা করতে বছর কেটে যাওয়ার অহরহ প্রমান রয়েছে।

শিল্পের বয়লার এবং জেনারেটর পরিবর্তন করতে হলে, তিতাসের পূর্বানুমতি আবশ্যক। কোটি কোটি টাকা খরচ করে গ্যাস সাশ্রয়ী বয়লার এনে বসে থাকলেও তা অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। জোনাল অফিস থেকেই শুরু করতে হয় ঘুষ প্রদান, প্রত্যেক টেবিলেই ঘুষ দিয়ে দিয়ে উপরে তুলতে হয় না দিলেই থমকে যায় ফাইল। এ রকম শতাধিক আবেদন এখনও বিভিন্ন জোনাল অফিসে পড়ে রয়েছে।

একজন শিল্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, কয়েক কোটি টাকা খরচ করে জেনারেটর ও বয়লার এনেছি। এরপর ২০২০ সালে আবেদন করে বসে আছি তিতাস অনুমোদন দিচ্ছে না। মেশিনগুলো পড়ে থেকেই গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনুমোদন দিতে আরও দেরি করলে, মেশিনগুলো যদি চালু না হয় তার দায় কে নেবে।  ব্যাংক কি আমার ঋণের টাকা মওকুফ করবে। নতুন বয়লার ও জেনারেটর বসানো গেলে আমারও যেমন বিল কম আসবে, তেমনি আমদানি করা চড়ামূল্যের গ্যাসও সাশ্রয় হবে। আমার মতো অনেকেই মেশিন এনে বসে রয়েছে অনুমোদন পাচ্ছে না। অথচ সরকার বারবার গ্যাস সাশ্রয়ী মেশিন ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে।

;

বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পুরস্কারের অর্থ পাচ্ছেন বিকাশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পুরস্কারের অর্থ পাচ্ছেন বিকাশে

বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা পুরস্কারের অর্থ পাচ্ছেন বিকাশে

  • Font increase
  • Font Decrease

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগীতার বিজয়ীরা তাদের পুরস্কারের অর্থ পাচ্ছেন বিকাশে। দেশজুড়ে ১২৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০০ ক্রীড়াবিদ দেশের ১৩টি ভেন্যুতে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন। বিজয়ীরা তাদের পুরস্কারের অর্থ তৎক্ষনাৎ তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাচ্ছেন কোন ঝামেলা ছাড়াই।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই আয়োজনের ডিজিটাল পেমেন্ট পার্টনার বিকাশ।


‘বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ, তারুণ্যের বাংলাদেশ’-কে প্রতিপাদ্য হিসেবে সারাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণে চলছে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর তৃতীয় আসর। প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান, এমপি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, এমপি; বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর সহ-সভাপতি নাহিম রাজ্জাক, এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন।

ফুটবল, ক্রিকেট, সুইমিং, অ্যাথলেটিক্স, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, সাইক্লিং, দাবা, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনসহ ১২টি ইভেন্টের সমন্বয়ে  নারী, পুরুষ উভয় বিভাগে চলছে এবারের আয়োজন। আসরের প্রত্যেক ইভেন্টে অংশ নেয়া প্রথম তিনজন বিজয়ীকে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক দেয়া হবে। সবচেয়ে বেশি পদকজয়ী বিশ্ববিদ্যালয় পাবে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।

;