‘বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজস্ব সম্প্রসারণে আরও বেশি নজর দিতে হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির নেতারা

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদে দেশের পঞ্চাশতম বাজেটের প্রস্তাবনা পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) বিকেলে বাজেট প্রস্তাবনার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির নেতারা বলেছেন, বাজেট বাস্তবায়ন, ঘাটতি মেটানো এবং রাজস্ব আদায় ও সম্প্রসারণে আরও বেশি নজর দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) সন্ধ্যায় ডিসিসিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চেম্বারের নেতারা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি যখন কোভিড-১৯ এ বিপর্যস্ত, এই কঠিন সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ এ প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৭.২% ও ৫.৩%। এই সময়ে এরূপ অগ্রগতিমূলক ও অর্জনযোগ্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আমাদের মাঝে আশার সঞ্চার করছে। কোভিডকালীন সময়ে বাংলাদেশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.২% অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে সারাবিশ্বে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ। তাই এ ধরনের উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে উত্তরণ ঘটাতে হবে যা অনেকাংশে চ্যালেঞ্জিং। তবে বাজেটে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বৃদ্ধিকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় ডিসিসিআই।

বিশেষত আয়কর ও ভ্যাট হার হ্রাস, গ্রস রিসিট, গবেষণা এবং আমদানি কাঁচামালের উপর অগ্রিম কর হ্রাস করা, স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাছাড়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সময়োপযোগী। তবে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঘোষিত সরকারি সহায়তা সহজতর উপায়ে ব্যবসায়ীদের প্রদান করা গেলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘোষিত বাজেট সহায়ক হবে বলে ডিসিসিআই মনে করে। পাশাপাশি, অর্থনৈতিক ক্ষতি যথাযথভাবে নিরূপণ করে প্রণোদনা প্যাকেজের পরিমাণ ও আওতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করেছে। বর্তমান বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি ও অর্থায়ন একটি চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে করোনা সংক্রমণ রোধ করা এবং সবার জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও এটি একটি ব্যয়বহুল বাজেট, এর মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের আর্থিক প্রণোদনা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি ও জনগণকে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় বরাদ্দে উদ্যোগ থাকার কারণে জীবন জীবিকার ভারসাম্য রক্ষায় এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হয়েছে বলে ডিসিসিআই বিশ্বাস করে। তবে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তাই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছে ঢাকা চেম্বার।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের আয়তন ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা যা বিগত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১১.৯৫% বেশি এবং মোট জিডিপির আকার দাঁড়াবে আনুমানিক ৩৪৫.৬ বিলিয়ন ডলার। মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯.৬৩% বেশি। তাই এই অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের জন্য করের আওতা বাড়ানো, অনাদায়ী কর আদায়, জেলা শহরের রাজস্ব আদায় বাড়ানো, স্বচ্ছতা ও কর প্রদান প্রক্রিয়ায় অটোমেশন প্রয়োজন। বেসরকারি বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখতে বিদ্যমান করদাতাদের উপর নতুন করে করের বোঝা আরোপ না করে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। সেভিংস সার্টিফিকেট, সমবায় নিবন্ধন, পোস্টাল সেভিংস এর ক্ষেত্রে ই-টিন বাধ্যতামূলক করায় কর সংগ্রহের আওতা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

নতুন বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ৬.২%। সাধারণত ঘাটতি বাজেট ৫% হয়ে থাকে, যা গত বছর ৬.১% ছিল। তাই করোনাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে এই ঘাটতি বাজেট সহনশীল বলে ঢাকা চেম্বার মনে করে, যা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় হতে পারে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ঘাটতি বাজেট পূরণে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নিবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা কোটি টাকা যা বিগত অর্থবছরে সংশোধিত ঘাটতি বাজেটের ঋণের তুলনায় ১৪.৮১% কম।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এ অর্থবছরে লিস্টেড ও নন-লিস্টেড কোম্পানির ২.৫% করপোরেট কর হার হ্রাস করা হয়েছে। এই ব্যবসা বান্ধব উদ্যোগের জন্য ডিসিসিআই সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তবে করপোরেট কর হার পর্যায়ক্রমে আরও হ্রাস করা প্রয়োজন যাতে কোভিড পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি, বাজেটে নতুন শিল্পে যেমন: হোম অ্যাপলায়েন্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ওয়ান পার্সন কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার ২৫% র্নিধারণ করা হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, তবে পর্যায়ক্রমে এই কর হার আরও কমানোর জোর দাবি জানাচ্ছি তাতে করে ক্ষুদ্র ও ছোট বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে।

বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে হোম এপ্লায়েন্স সামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি, সিমেন্ট, স্টিল, ইলেকট্রনিক ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

করোনাকালীন সময়ে বিশ্বব্যাপী রফতানি চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, তাই রফতানিমুখী পোশাক শিল্প, চামড়া, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতপণ্য এবং ঔষধ পণ্যসমূহের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর অব্যহতি যৌক্তিককরণের পাশাপাশি আমদানিকৃত ফল ও সবজিতে ৫% হারে কর বাড়ানো হয়েছে তা হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়।

এসএমইর প্রতিষ্ঠানের মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ১% কর ছাড় দেওয়া হবে। সিএমএসএমই খাতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজের মত আরও বড় আকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা উচিত। একইসাথে এসকল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় বাধাসমূহ দূর করে তা সহজীকরণ করা প্রয়োজন। সকল সিএমএসএমইদের মাঝে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে একটি সিএমএসএমই ন্যাশনাল ডাটাবেজ প্রণয়ন ও সিএমএসএমই’র সংজ্ঞা পুনঃসংজ্ঞায়ন করা দরকার।

ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ বাজেটের ঘাটতি ব্যয় মেটাতে আর্থিক খাতের উপর নির্ভরতা তৈরি করবে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণপ্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ব্যতীত বিকল্প অর্থ সংস্থানের জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রস্তাব করছি।

ব্যক্তি শ্রেণি উদ্যোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য সর্বনিম্ন টার্নওভার কর হার ০.৫% থেকে ০.২৫% করা হয়েছে যা উদ্যোক্তা সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রসংশনীয়। অটোমোবাইল শিল্পের সম্প্রসারণে ২০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হবে যা অটোমোবাইল (থ্রি হুইলার ও ফোর হুইলার) শিল্পের বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৩% এবং তা ২৫% অর্জনের লক্ষ্যে এই খাতের ঋণ প্রবাহ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

এবারের বাজেটে অধিক খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ ব্যবস্থা ও বীজ প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন এবং সারে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে যা আমাদের দেশের খাদ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ডিসিসিআই বিশ্বাস করে।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় টিকাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পণ্য ও ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ২০০-২৫০ বেডের হাসপাতাল করার উদ্যোগ গ্রহণকারীদের ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে, ঢাকা চেম্বার আশা করে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ এবং করঅবকাশ স্বাস্থ্যখাতের চলমান অবকাঠামোগত অবস্থানের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।

আগস্টের ১০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৮১ কোটি ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের আগস্ট মাসের ১০ দিনে দেশে ৮১ কো‌টি ৩০ লাখ (৮১৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯৬ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, ডলারের বাজার প্রায় প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এখন এক ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে ব্যাংক ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা দিচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। সব মিলিয়ে ১০০ টাকার মতো। এদিকে খোলা বাজারে টাকার দরপতন হয়েছে ব্যাপকভাবে। খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১১৯ থেকে ১২০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলার সংকট কাটাতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগস্ট মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড গড়বে। তবে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার এবং খোলা বাজারে ডলারের দামের পার্থক্য কমাতে পারলে এর সুফল প্রবাসী আয়ে পড়বে।

গত জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন, স্থানীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। জুলাইয়ে তার আগের মাস জুনের চেয়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার বেশি এসেছে। জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছর জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

;

খেলাপি ঋণের রেকর্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লাগাম ছাড়িয়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা গত বছরের জুনের তুলনায় ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে খেলাপির পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তারা জানান, চলমান করোনা মহামারির মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় অনেক গ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।

মহামারি করোনার কারণে ২০২০ সালে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পরে এই বিশেষ সুবিধা তুলে নেওয়ায় খেলাপি ঋণের বাড়তে থাকে। যার ফলে ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

তাদের মতে, ঋণগ্রহীতারা এখন আগের ও চলমান কিস্তি একত্রে পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন, যার কারণে অনেকেই খেলাপি হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।

;

সাউথইস্ট ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা, ৮% নগদ, ৪% বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আলমগীর কবির, এফসিএ, চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য পরিচালকগণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংকের ২৭তম (ভার্চ্যুয়াল) বার্ষিক সাধারণ সভা পরিচালনা করেন।

আলমগীর কবির, এফসিএ, চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য পরিচালকগণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংকের ২৭তম (ভার্চ্যুয়াল) বার্ষিক সাধারণ সভা পরিচালনা করেন।

  • Font increase
  • Font Decrease

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ২৭তম (ভার্চ্যুয়াল) বার্ষিক সাধারণ সভা গত ১১ই আগস্ট বৃহস্পতিবার, সকাল ১১ টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ব্যাংকের সম্মানিত চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, এফসিএ সভাপতিত্ব করেন। সভায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন ব্যাংকের সম্মানিত ভাইস চেয়ারপারসন মিসেস দুলুমা আহমেদ ও পর্ষদের পরিচালকবৃন্দ মিসেস জোসনা আরা কাশেম, মো: আকিকুর রহমান, ম. মনিরুজ জামান খান (প্রতিনিধি পরিচালক: বে লিজিং এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড), মোঃ রফিকুল ইসলাম (প্রতিনিধি পরিচালক: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিঃ), মিস আঞ্জুমান আরা সাহিদ (প্রতিনিধি পরিচালক: সিঙ্গেল ক্লিক আইটি সলিউশন (প্রাঃ) লিঃ), স্বতন্ত্র পরিচালকবৃন্দ সৈয়দ সাজেদুল করিম এবং মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। সভায় আরও সংযুক্ত ছিলেন কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. কামাল হোসেন এবং কোম্পানী সচিব এ.কে.এম. নাজমুল হায়দার।

ব্যাংকের সম্মানিত উদ্যোক্তাগন এবং বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারগন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভার প্রারম্ভে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে “জাতীয় শোক দিবস ২০২২” উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপনকল্পে সভার সভাপতি এবং ব্যাংকের সম্মানিত চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, এফসিএ সহ অংশগ্রহণকারী সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল সহ পরিবারের সকল শহীদ সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এম. কামাল হোসেন ২৭তম (ভার্চ্যুয়াল) বার্ষিক সাধারণ সভায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডারদের স্বাগত জানান এবং ২০২১ সালে ব্যাংকের পরিচালন ফলাফলের উপর আলোকপাত করেন। তিনি ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং কৌশলসমূহ উপস্থাপন করেন যা ব্যাংকের পরিচালনগত দক্ষতা ও সম্পদের গুনগত মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তিনি ২০২১ সাল থেকে চলমান কোভিড-১৯ এর কারনে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতিসমূহ উত্তরণে সরকার কর্তৃক ঘোষিত নীতিমালার আলোকে ব্যাংকের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনায় যে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

সভায় ব্যাংকের পরিচালন ফলাফল, ভাল পরিচালন প্রসূত মুনাফা ও ব্যবসায়ে উত্তম প্রবৃদ্ধি অর্জনের উপর আলোকপাত করা হয়। সভায় প্রকাশ করা হয় যে, ব্যাংক বিগত ২০২১ সালে ৮,৬৭১. ১২ মিলিয়ন টাকা (সম্মিলিত) পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ব্যাংকের আমানতের পরিমান ৩৭৬,৭০০.৭৭ মিলিয়ন টাকা, মোট সম্পদের পরিমান ৪৯৫,৮৪১.৯৬ মিলিয়ন টাকা, শেয়ার প্রতি আয় ১.৫০ টাকা (সম্মিলিত), শেয়ার প্রতি নীট সম্পদ মূল্য ২৫.২২ টাকা (সম্মিলিত) এবং শেয়ার প্রতি নীট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ১৭.৮৯ টাকা (সম্মিলিত)। ২০২১ সালে ব্যাংকের মূল্য-আয় অনুপাত ছিল ১০.৭৫ গুন। ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে ব্যাংকের মূলধন ও রিজার্ভের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৪১,৩২৭.০৭ মিলিয়ন টাকায়। ব্যয় দক্ষতার ভিত্তিতে সাউথইস্ট ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে অন্যতম শীর্ষস্থানে অবস্থান করে। ২০২১ সালে ব্যাংকের আয় অনুপাত ব্যয় ছিল ৪০.৯০% এবং কর্মচারী প্রতি মুনাফা অর্জিত হয় ০.৫৯ মিলিয়ন টাকা ও শাখা প্রতি মুনাফা অর্জিত হয় ১২.৭০ মিলিয়ন টাকা।

ব্যাংকের ২৭তম (ভার্চ্যুয়াল) বার্ষিক সাধারণ সভায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত শেয়ারহোল্ডারগনের সর্বসম্মত ভোটে ৮% নগদ লভ্যাংশ ও ৪% বোনাস লভ্যাংশ এবং ২০২১ সালে সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসমূহ অনুমোদিত হয়।

ব্যাংকের সম্মানিত চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, এফসিএ, তাঁর ভাষণে ব্যাংকের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সর্বাতœক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য পরিচালকবৃন্দ এবং শেয়ারহোল্ডারগণের উছ¡সিত প্রশংসা করেন। ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রেখে তিনি ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার মান ও মুনাফাবৃদ্ধির জন্য শেয়ারহোল্ডারদের পাঠানো সুচিন্তিত ও গঠনমূলক পরামর্শসমূহ বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ অনলাইনের মাধ্যমে তাঁদের মূল্যবান প্রশ্ন ও মতামত প্রেরন করেন। তাঁরা চমৎকার পরিচালন ফলাফল, স্থিতিশীল লভ্যাংশ ঘোষনা এবং তথ্য-সমৃদ্ধ, সমন্বিত এবং আকর্ষনীয় বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২১ প্রকাশের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

;

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতার বিষয়ে জনগণের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা তুলে ধরার জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন। 

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বিস্তারিত জানান।

বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরইমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসির চেয়ারম্যান প্রেসে বিস্তারিত বলেছেন। ওটাই জাস্ট মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও কমবে কি না- জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এগুলো নিয়ে তো ওনারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যে আবার ব্যাখ্যা দেবেন। আজ বলে দেওয়া হয়েছে, কারণ এটি একটি টেকনিক্যাল বিষয়। 

তিনি বলেন, স্বল্প পরিসরে আমি ব্যাখ্যা দিলে অনেক প্রশ্ন আসবে, উত্তরও হয়তো দেওয়া যাবে না। এজন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে বলে দেয়া হয়েছে। তাদের আবার ব্রিফিং করতে বলা হয়েছে। 

সরকার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে কি না- জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এগুলো তাদের ব্রিফিংয়ে সব ক্লিয়ার করবেন। আজ মূলত তারা পুরো ক্যাবিনেটকে ব্রিফ করেছেন। ক্যাবিনেট কোনো ওপিনিয়ন দেয়নি, বলে দিয়েছে- জ্বালানি মন্ত্রণালয় যাতে বিষয়টি পরিষ্কার করে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য।

;