বুয়েটে ছাত্রলীগের আলোচনা সভা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজনীতি নিষিদ্ধ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সেমিনার হলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়াতে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে এ সভায় শুরু হলে, সভা শুরুর পরপরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

প্রোগ্রাম শেষে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাল মাহমুদ বিক্ষু্ব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম নয়। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্য দোয়ার প্রোগ্রাম। এসময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সমস্বরে বলে উঠেন, তাহলে ছাত্রলীগের ব্যানারে কেন? আপনারা বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবেও করতে পারতেন!

আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা রাজনৈতিক সভা নয় বরং বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়ার সভা বলে দাবি করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে চান, ছাত্রলীগের ব্যানারে কেন। এটা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় এবং কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, শোক দিবসের কোনো অনুষ্ঠান করলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করবে। কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হবে না।

রাত ৯টায় প্রেস ব্রিফিং করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৯৭৫ সালের এই মাসের ১৫ তারিখ বাঙালি হারায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার আদর্শ অনুসরণ করেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে গড়ে তুলতে আমরা নিরন্তর কাজ করে চলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় নিরাপদ এবং সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করা সকল শিক্ষার্থীর মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, যেই ছাত্ররাজনীতি একসময় দেশের ক্রান্তিলগ্নে অগ্রগণ্য ভূমিকা রেখেছিল, পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করে জন্ম দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের, সেই ছাত্ররাজনীতি আজ ক্ষমতার অপব্যবহারে কলুষিত।

তারা আরও বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে নিরীহ শিক্ষার্থীদের বারবার প্রাণ ঝরেছে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অপকর্মে। সবশেষ ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নৃশংস অত্যাচারে আবরার ফাহাদ নিহত হন। এর প্রতিবাদে বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও আজ ১৩ আগস্ট সেমিনার হল বুয়েট অডিটোরিয়াম কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েটের সাবেক নেতৃবৃন্দদের আয়োজনে একটি ব্যানার দেখা যায়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, গত ২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলে আরিফ রায়হান দিপের স্মৃতিফলকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ৮ জুন সাবেকুন নাহার সনি’র স্মৃতিফলকে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে ব্যানার টানানো হয়। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠনের বারবার নিজেদের উপস্থিতি জানিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পাওয়ায় বুয়েট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এমন কার্যক্রমের ব্যাপারে বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্তৃপক্ষের অবস্থান এবং সুস্পষ্ট জবাব আশা করছি।

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বলা যায় তারা আমাদের থেকে অনুমতি নিয়েছে, আবার নেয়নি। অনুমতি নেওয়ার সময় জানিয়েছে, তারা সাবেক শিক্ষার্থী, পুনর্মিলনী করবে ক্যাম্পাসে। সে কারণে আমরা অনুমতি দেই। আমরা যদি জানতাম তারা বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তাহলে অনুমতিই দিতাম না। তাই শিক্ষার্থীদের বিক্ষুব্ধ হওয়ার অধিকার আছে।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলোতে চ্যাম্পিয়ন ঢাবি



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলোতে চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলোতে চ্যাম্পিয়ন ঢাবি

  • Font increase
  • Font Decrease

‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গণে বন্ধুত্ব’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ২ দিনব্যাপী ওয়াটার পোলো ও সাঁতার প্রতিযোগিতা ২০২২-২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ও সাঁতার প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছে।

প্রতিযোগিতা শেষে গত শুক্রবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটার পোলো কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজের সভাপতিত্বে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. অসীম সরকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহজাহান আলীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলসহ অংশগ্রহণকারী দলসমূহকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে।

;

জাবিতে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে শোকজ



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলের গণরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

বেগম সুফিয়া কামাল হলের ১ম বর্ষের (৫০ তম ব্যাচ) ছাত্রীদের ২৯ আগস্ট করা এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২৭ আগস্ট বেগম সুফিয়া কামাল হলের ৪৯তম ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রী রাত ১১টায় গণরুমে এসে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন ও তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মানসিক নির্যাতন করেন। পরদিন তাদের অনেকের টিউটোরিয়াল পরীক্ষা আছে বলা সত্ত্বেও রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত তাদের র‍্যাগ দেওয়া হয়। এছাড়া ৪৯তম ব্যাচ (২য় বর্ষ) ব্যতীত অন্য কোনো সিনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথাবার্তা না বলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে ঘটনার সঙ্গে মুখ্যভাবে যুক্ত হিসেবে ৪৯তম ব্যাচের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের আশা, পরিসংখ্যান বিভাগের লাভলী, দর্শন বিভাগের রিফা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শাহরিন সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় ।

র‍্যাগিংয়ের সময় অভিযুক্তরা প্রশাসনের কাছে এগুলো বলে কিছুই হবে না, আমরাই প্রশাসন চালাই বলে ভুক্তভোগীদের হুমকি দেয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে আইআইটি ৩য় বর্ষের (৪৮তম ব্যাচ) সাবরিনা সিদ্দিকী অদিতি গণরুমে যেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের বিষয়টা বাইরে না জানানোর পুনরায় হুমকি দিয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।

র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে অভিযুক্ত ৪৯তম ব্যাচের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের আশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আর এটার জবাবদিহিতা আপনার কাছে করতে বাধ্য নয়। এ ব্যাপারে প্রশাসন কথা বলবে। এরপর আপনি নিউজ করার থাকলে কইরেন।

দর্শন বিভাগের রিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এরকম কিছুই করিনি এবং সম্পৃক্ত নই। আমাকে মিথ্যে অভিযোগে অভিযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে। আপনি তদন্ত কমিটির কোন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য বেগম সুফিয়া কামাল হলের হাউজ টিউটর সহকারী অধ্যাপক তাজউদ্দীন বলেন, তদন্ত চলমান আছে। কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা রয়েছে যার কারণে দেরি হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে শিগগিরই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,যেদিন মিটিংয়ে বসার কথা ছিল ওই দিন আমাদের দুইজন সহকর্মী ব্যস্ত থাকায় মিটিংটা হয়নি।

;

ফেসবুকে হাহা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে মারামারি, আহত ৫



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফেসবুকে হাহা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে মারামারি, আহত ৫

ফেসবুকে হাহা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে শেকৃবিতে মারামারি, আহত ৫

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গনীতি এবং জুনিয়র তোলা নিয়ে ফেসবুক পোস্টে হাহা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাতজুড়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সিরাজউদ্দৌলা আবাসিক হলের ঢাকা অঞ্চল এবং কুমিল্লা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়। এসময় ঢাকা অঞ্চলের ২১ ব্যাচের রাকিব, ওয়ালিদ সহ চারজন এবং কুমিল্লা অঞ্চলের রোফি ওসমানি নামের একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

২০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতজুড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মারামারি এবং ঝামেলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা একে অপরকে অভিযুক্ত করে এবং শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বলে উল্লেখ করে।

শেরেবাংলা নগর থানার এসআই সাব্বির আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে গণরুমে মারামারির ঘটনায় দুইপক্ষেরই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ঘটনা, সেখানকার প্রক্টর ঘটনাটি জানেন। তিনিই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনা স্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘জুনিয়র তোলা নিয়ে মূলত ঢাকা এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মধ্যে ঝামেলা অনেক আগে থেকে। জুনিয়র তোলা নিয়ে ফেসবুকে কুমিল্লা অঞ্চলের ২১ ব্যাচের কয়েকজন পোস্ট দিলে সেই পোস্টে হাহা রিয়েক্ট দেয় ঢাকা অঞ্চলের ২১ ব্যাচের মুশফিক, এনামুল হাসনাত সহ অনেকে। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে জেলা বন্টন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির সময় সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যায়ে চলে যায়। এসময়ে দুই অঞ্চলের পাঁচজনের অধিক মারাত্মক ভাবে আহত হয়।’

পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় গেলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের সহকারী প্রোভোস্ট, হলের ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর হারুন উর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘নবাব সিরাজুদ্দৌলা হলে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এই বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত আছি, রাতে হলের প্রোভোস্ট, সহকারী প্রোভোস্ট ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। আমরা আজ রাতে বসব যদি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রয়োজন হয় করব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিব। তবে দুই পক্ষের কেউই লিখিত কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে দেয় নি।থানায় তারা অভিযোগ দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা অবগত না’।

;

'শিল্পিত জীবনের জন্য মহৎ সাহিত্য প্রাণসঞ্চারক'



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চবি আবৃত্তি মঞ্চের দ্বাবিংশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বার্তা২৪.কম

চবি আবৃত্তি মঞ্চের দ্বাবিংশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, ড. মহীবুল আজিজ বলেছেন, "শিল্পিত জীবনের জন্য মহৎ সাহিত্য প্রাণসঞ্চারক আর আবৃত্তি মানুষকে দীপিত করে।"

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির জয়নুল আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আবৃত্তি মঞ্চের দ্বাবিংশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং চতুর্বিংশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, "জীবনকে ভালোবাসে বলেই মানুষ জীবনের সৌন্দর্যের জন্য প্রাণিত হয় সাহিত্যের নানা শাখার স্পর্শে। তরুণ প্রজন্মকে নৈরাশ্য থেকে আলোর পথে চালিত করতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে জীবনচেতনার অপরিহার্য অংশে পরিণত করা অপরিহার্য।"

চবি আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি সোহান আল মাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের প্রধান উপদেষ্টা মাছুম আহমেদ, উপদেষ্টা জেবুন নাহার শারমিন, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট ও জোটভুক্ত সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।

আবৃত্তি মঞ্চের অনুষ্ঠান সম্পাদক শাকিল আহমেদের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর চতুর্বিংশ প্রমিত উচ্চারণ, উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। কথামালা পর্বে অনুভূতি ব্যক্ত করেন আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি, আবৃত্তি মঞ্চের উপদেষ্টাবৃন্দ, বন্ধু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও চবি আবৃত্তি মঞ্চের সদস্যরা।

আমন্ত্রিত অতিথি ও বন্ধু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত গবেষক গীতা দত্ত, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, প্রণব চৌধুরী, মিলি চৌধুরী, বনকুসুম বড়ুয়া, আলী প্র‍য়াস, পুনম দত্ত, ইকবাল হোসেন জুয়েল সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চতুর্বিংশ কর্মশালার সম্মানিত প্রশিক্ষকবৃন্দের হাতে প্রশিক্ষক সম্মাননা তুলে দেন। প্রশিক্ষক সম্মাননা গ্রহণ করেন সঙ্গীত ভবন চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ কাবেরী সেনগুপ্তা, চবি দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাছুম আহমেদ, চবি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমিন মুস্তারী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান, শিক্ষক ও সংবাদ উপস্থাপিকা রেখা নাজনীন ও আবৃত্তিশিল্পী প্রবীর পাল, আবৃত্তিশিল্পী ও উপস্থাপক জেবুন নাহার শারমিন।

পরে চতুর্বিংশ প্রমিত উচ্চারণ, উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালা'র মূল্যায়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের সভাপতি সোহান আল মাফি'র সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি ঘটে।

;