ইতিহাসের গল্পে সত্যের নির্যাস



তাহমিদ হাসান
গল্প কথায় ইতিহাস ও লেখক।

গল্প কথায় ইতিহাস ও লেখক।

  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস আসলে এক প্রকারের গল্পই। তবে তা সাহিত্যের কল্পনাপ্রসূত গল্প থেকে আলাদা। কারণ, ইতিহাসের গল্পের শরীরে মিশ্রিত রয়েছে সত্যের নির্যাস। ইতিহাসের গবেষণা কাঠামোর ভেতর থেকে সাধারণ পাঠকদের জন্য মূল গল্পের চুম্বক অংশটুকু তুলে এনে উপস্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম তাঁর 'গল্প কথায় ইতিহাস' গ্রন্থে।

..........

বইয়ের নাম: গল্প কথায় ইতিহাস

লেখক: ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম

ধরন: ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১ টি

...........

কঠিন ইতিহাসকে সহজবোধ্যভাবে জানার জন্য খুব কম সংখ্যক বইয়ের তালিকার মধ্যে এটি অন্যতম। লেখকের উপস্থাপনা মুগ্ধ করার মতো, যা এক কথায় অসাধারণ উপস্থাপনা। লেখক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামে ১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ হতে স্নাতক সম্মান, স্নাতকোত্তর এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ থেকে এম ফিল  ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬-২০২০ সাল  পর্যন্ত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো- ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে বাংলার সংবাদপত্রের ইতিহাস, সংবাদপত্র ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়, আমাদের বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ- জাপান সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য।

করোনাকালে ২০২২ সালে অমর একুশে বইমেলায় তাঁর প্রকাশিত 'গল্প কথায় ইতিহাস' বইটি পাঠকদের মনে জায়গা করে নেয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস চর্চার বিষয়টি নিতান্তই কম। 'গল্প কথায় ইতিহাস' বইটিতে লেখক সহজ ও সাবলীনভাবে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পাঠকদের উদ্দ্যেশ্যে তুলে ধরেছেন। বইটির মধ্যে বিরক্তি ও দুর্বোধ্যতা পরিহার করে লেখক ইতিহাস বিমুখী পাঠকদের জন্য উপহার দিয়েছেন তাঁর অসাধারণ কৃতি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখছিলেন, " সহজ কথা কইতে আময় কহ যে/সহজ কথা যায় না বলা সহজে।"

সহজ কথা হয়তো সত্যিই উপস্থাপন করা যায় না, তাই সহজে কোনো কিছু আমাদের তুলে ধরা কঠিন হয়ে যায়। বিষয়ের বাইরে গিয়ে একেবারে নতুন কিছু তৈরি করা বা গড়ে তোলা মোটেও সহজ কাজ নয়। কিন্তু 'গল্প কথায় ইতিহাস' বইয়ে লেখক ইতিহাসের মতো কঠিন জ্ঞানচর্চাকে সহজেই উপস্থাপন করেছেন। লেখক যেন তাঁর অসাধারণ কৃতির মাধ্যমে রবি ঠাকুরের এই দুই লাইন মিথ্যে প্রমাণিত করেছে।

রুজভেল্ট বলেছিলেন, "যে ব্যক্তি ইতিহাস সম্পর্কে যত বেশি জানে, সে ভবিষ্যতের জন্য তত বেশি প্রস্তুত।" একজন ইতিহাস বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমাকে নির্ভর করতে হয় ইতিহাস সমৃদ্ধ বইগুলোর উপর। সেই বইগুলো পড়ার পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান সমৃদ্ধ স্থানগুলো ভ্রমণের কথা থাকলেও  বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা আর হয়ে উঠে না। তাই একজন ছাত্র হিসেবে গতানুগতিক বই পড়ে নাম, সাল, স্থান রসকষহীন ভাবেই মনে রাখতে হয়।

কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম স্যার ধরাবাধা নিয়মকে ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। গল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্র সৃষ্টি করে ইতিহাসের কঠিন বিষয়গুলোকে খুব সহজে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। ইতিহাস বিমুখী কোনো পাঠক যদি 'গল্প কথায় ইতিহাস' বইটি পাঠ করে তাহলে তাঁর বিরক্তিবোধ তৈরি না হয়ে নতুন কিছু জানার আগ্রহ জন্মাবে।

'গল্প কথায় ইতিহাস' বইটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান যেমন- মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, বরেন্দ্র অঞ্চলসহ মোঘল সম্রাটদের কাহিনী, রবী ঠাকুরের জমিদারি, পর্তুগীজদের ইতিহাস, সাতচল্লিশের দেশভাগ নিয়ে ২২ টি ভাগে সজ্জিত

লেখক দাদু ও নাতি এই দুই চরিত্রের মাধ্যমে কিভাবে যুগের হিসাব করা হয় সেটি উল্লেখ করেছে। অতীত যুগগুলোকে তুষার যুগ, ধাতুর যুগ, লোহার যুগ বলে সময়টাকে নির্ধারণ করা হয়, সেটি চরিত্র দুইটির কথোপকথনের  মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আবার এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে ইতিহাস জানার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মুদ্রা সম্পর্কে গল্প দিয়ে পাঠকদের জানার পথকে সহজ করে তুলেছেন।

লেখক ভ্রমণকাহিনীর মতো গল্প দিয়ে বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় থেকে সপ্তম অধ্যায়ের মধ্যে পুন্ড্রনগরীতে একদিন, প্রাচীন পুন্ড্রনগরী ও মহাস্থানগড়, প্রত্ন নিদর্শন গোকুল মেধ, ইতিহাসের গল্পে করতোয়া নদী, পাহাড়পুরের গল্প, বরেন্দ্রভূমির দেশে, বাদল স্তম্ভলিপি শিরোনামে ইতিহাস-ঘেরা স্থানগুলোর সকল তথ্য গল্প ও কথোপকথনের আকারে সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। যা অন্যান্য ইতিহাস বই থেকে মুখস্ত করা ছাড়া বুঝার উপায় থাকে না। কিন্তু লেখক তাঁর বইয়ে ফুটন্ত ইতিহাস যেন পাঠকদের উপহার দিয়েছে। বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়ার সাথে সাথে পাঠকের পরবর্তী পৃষ্ঠার ইতিহাস পড়ার জন্য প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়।

এদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর পাশাপাশি লেখক ওপারে অর্থাৎ ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা শাসক সুলতানা রাজিয়ার সমাধিতে বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমে দিল্লির সুলতানী আমলের তাৎকালীন শাসনব্যবস্থা ও সিংহাসন আরোহণ নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয় উল্লেখ করেছেন। দিল্লির সুলতান ইলতুতমিশের চার সন্তানের মধ্যে তিন জন ছেলে ও একজন মেয়ে ছিলেন। সকল সন্তানের মধ্যে পিতা ইলতুতমিশের পর তাঁর কন্যা সুলতানা রাজিয়াকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। এই সিংহাসন আরোহণের ইতিহাস ও সুলতানা রাজিয়ার সমাধির করুণ ও বেহাল দশাগুলো লেখক 'গল্প কথায় ইতিহাস' বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

বইয়ের এগারো থেকে তেরো অধ্যায়ে লেখক বাবর,  হুমায়ুন,  মোঘলদের প্রশাসন সম্পর্কে পাঠকদের জ্ঞানচর্চার বিষয়টি সহজ করে তুলেছেন। বাবর কিভাবে ভারত জয় করলেন, হুমায়ুন কিভাবে শেরখানের কাছ থেকে হারানো রাজ্য ফিরে পেলেন এবং মোঘলদের রাজ্য পরিচালনার যে প্রশাসন কাঠামো, তা সুন্দরভাবে বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন।

'গল্প কথায় ইতিহাস' বইটিতে লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ,  শাহাজাদপুর ও পতিসরের গল্প তুলে ধরে পাঠকের মনে দোলা দিয়েছেন। একজন রবীন্দ্রপ্রেমী পাঠক এই বইটি পড়ে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানকে প্রসারিত করতে পারবেন।

সতেরো থেকে একুশ অধ্যায়ে আত্রাইয়ের গান্ধি আশ্রম, বাংলায় পর্তুগিজদের ইতিহাস, বাড়ির কাছে আরশি নগর,  পঞ্চাশ টাকার নোটের বাঘা শাহী মসজিদ,  ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে, এইসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক গান্ধি আশ্রম ভ্রমণের সময় উত্তর বাংলার বন্যা দুর্গত এলাকায় তাৎকালীন রাজনেতাদের সহযোগিতা ও বন্যা পরবর্তীতে চরকার মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরতা ত্যাগ করে স্বনির্ভর হবার প্রচেষ্টার দিকগুলোও উপস্থাপন করেছেন। পর্তুগিজদের ইতিহাস নিয়ে লেখক ভারত উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমন ও ভারতীয় সংস্কৃতিতে পর্তুগিজদের জীবন ব্যবস্থার মিশ্রণ যেভাবে শুরু হয়, তার সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। সুলতানি আমলের স্থাপনা, সুফি সাধক, দরবেশ এবং ঢাকার হারিয়ে যাওয়া মসলিন কাপড়ের গৌরবের দিকটা পাঠকদের মাঝে তুলে ধরেছেন তিনি চমৎকারভাবে।

বইটির শেষ অধ্যায়ে লেখক ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক ভারত-পাকিস্তান দুইটি নতুন দেশ তৈরির মধ্য দিয়ে ভারত ভাগের সময় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। এই অধ্যায়ে দেশভাগ নিয়ে বিভিন্ন গুণীব্যক্তির অভিজ্ঞতার পাশাপাশি লেখক ও কবিদের উপন্যাস, কবিতার কথাও আলোচনা করা হয়েছে।

বইটি পড়ে আমার বিন্দুমাত্র অনাগ্রহ তৈরি হয়নি। একজন লেখক বই প্রকাশ করার সময় চেষ্টা করেন যেন পাঠক খুব সাচ্ছন্দ্যে বইটি উপভোগ করতে পারেন। লেখক চাইলেই বইয়ের মধ্যে থাকা ছবিগুলো রঙিন করে ছাপাতে পারতেন। এতে করে শুধু ইতিহাসের শিক্ষার্থী নয়, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হতো।

 

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;