ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-৬



মাহফুজ পারভেজ
ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-৬

ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-৬

  • Font increase
  • Font Decrease

[ষষ্ঠ কিস্তি]

"আমার নাম ক্যাভিন। আমি মার্কিন দেশের বাসিন্দা, যে দেশ এক সময় ছিল রাশিয়ার ঘোরতর শত্রু। আমার পূর্বপুরুষের ভিটা ভূমধ্যসাগরের তীরে, রুশ ও মার্কিন দেশের মাঝখানের একটি দেশে। কিন্তু আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা মার্কিন দেশে। জন্ম থেকেই জেনেছি রুশরা গণতন্ত্রের শত্রু, আমাদের মিত্র নয়। তবু আমি রুশ দেশকে ভালোবেসেছি প্রধানত তাদের সাহিত্যিকদের জন্য।"

মহান সাধক ও মরমী কবি জালালউদ্দিন বলখি রুমির একটি কথা ক্যাভিন সুযোগ পেলেই বলতো। কথাটি ম্যারি কানে এখনো বাজে, "What you seek is seeking you."

আসলেই তো, "আপনি যা খুঁজছেন তা আপনাকেই খুঁজছে", রুমির এই কথাটি ক্যাভিনের ক্ষেত্রে শতভাগ সত্য। ম্যারি নিশ্চিত, ক্যাভিন যেমন রুশ দেশের আত্মার অন্বেষণ করছে, সেদেশও ক্যাভিনকে খুঁজছে। সেইসব আত্মান্বেষী কথায় ভরপুর ক্যাভিনের বইটি।

ক্যাভিন লিখেছে আত্মজীবনীর শৈলীতে, বইয়ের সূচনার লাইনগুলো:

এক সময়ের বিশাল সোভিয়েত ইউনিয়নের বড় অংশ আজকের রাশিয়ার মাত্র ছয় জন নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পেলেও পুরস্কার পেতে পারতেন আরও অনেক সাহিত্যিক। রাজনৈতিক কারণে নোবেল পাওয়া ও না-পাওয়া রুশ সাহিত্যিকের তালিকাটি দীর্ঘ। এ কথা বলার কারণ হলো, 'রুশরা বিশ্বের সবচেয়ে পড়ুয়া জাতি' হিসেবে স্বীকৃত। আমি এই সত্যের স্বীকৃতি দিচ্ছি।

আমার বক্তব্যের দৃষ্টান্ত নিন। রুশ দেশের ইভান বুনিন (১৯৩৩), বরিস পাস্তারনাক (১৯৫৮), মিখাইল শলোখভ (১৯৬৫), আলেক্সান্দার সোলজেনিৎসিন (১৯৭০), জোসেফ ব্রডস্কি (১৯৮৭) এবং সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ (২০১৫) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

রুশ লেখকদের মধ্যে এমন আরও বহুজন আছেন, যারা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অথচ তারা নোবেল পুরস্কার পাননি। যেমন তাদের মধ্যে লিও তলস্তয় (১৮২৮-১৯১০) এবং ম্যাক্সিম গোর্কি ( ২৮ মার্চ ১৮৬৮-১৮ জুন ১৯৩৬) অন্যতম।

'মা' উপন্যাসের জন্য গোর্কি বিশ্ববিশ্রুত। রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অন্যতম সাহিত্য প্রতিভা গোর্কির অবস্থান রুশ ও বিশ্ব সাহিত্যে অসামান্য; অবদান অপরিসীম। গোর্কির প্রসঙ্গে আলোচনাকালে আমরা দেখতে পাব সুপ্রাচীন রুশ সাহিত্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ দিগন্তরেখা।

আধুনিক রুশ সাহিত্যের গোড়াপত্তন হয় মধ্যযুগে, যদিও রুশদের রয়েছে প্রাচীন মহাকাব্য, লোককথা, রূপকথা ও ইতিবৃত্ত।

রুশ আধুনিক সাহিত্যের আলোকিত যুগ বলে গণ্য করা হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরবর্তীকালকে। বিশেষত ১৯৩০-এর দশকের শুরুর দিকে রুশ সাহিত্যের সুবর্ণ যুগ শুরু হয়। এ সময় কাব্যিক প্রতিভা ভাসিলি ঝুকভ্‌স্কি ও পরে তাঁর দ্বারা প্রভাবিত আলেক্সান্ডার পুশকিন কাব্যচর্চায় নেতৃত্ব দেন।

এ সময়ে গদ্যও বিকাশ লাভ করে, যার পুরোধা ছিলেন 'প্রথম মহান রুশ ঔপন্যাসিক' নামে প্রসিদ্ধ নিকোলাই গোগোল। পরবর্তীতে আসেন ইভান তুর্গেনেভ, যিনি ছোটগল্প ও উপন্যাসে আলোড়ন আনেন। তারপর গোর্কি, লেভ তলস্তয়, ফিওদর দস্তয়ভস্কি প্রমুখ লেখক রুশ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

আন্তন চেখভ উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ছোটগল্পে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে অন্যতম প্রধান নাট্যকার হয়ে ওঠেন। মায়াকভ্স্কি নব্য বাস্তবতা নিয়ে কাজ করেন। তার রচনা 'ওড টু দ্য রিভলূশন ও লেফট মার্চ' (১৯১৮) কাব্যে নতুনত্ব নিয়ে আসে।

নিকোলাই অস্ত্রভস্কি'র 'কাক' উপন্যাসে তাঁরই কষ্টদায়ক জীবনীচিত্র ধারণ করা হয়েছে। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র পাভেল কর্চাগিন রুশ সাহিত্যের এই 'তরুণ বীর'-এর প্রতিচ্ছবি, যে রাজনীতিতে তার জীবন উৎসর্গ করে তার দুঃখগুলো অতিক্রম করে। উপন্যাসটিতে সারা বিশ্বের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা ছিল, যা রাশিয়ার স্বদেশপ্রেমী যুদ্ধে গতিশীল ভূমিকা পালন করে।

সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতা যখন রুশ সাহিত্যের প্রধান উপজীব্যে পরিণত হয়, তখন তার নেতৃত্ব দেন গোর্কি। তিনি ছিলেন সে সময়ের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, যিনি তার কালজয়ী 'মাত' (মা) উপন্যাস এবং 'দ্য এনেমিস' নাটক দিয়ে এই ধারার ভিত্তি স্থাপন করেন।

গোর্কির আত্মজীবনীমূলক ত্রয়ীতে সমাজের দরিদ্রতর স্তর থেকে তাঁর রাজনৈতিক বিবেকের উন্নয়নের উত্থান বিবৃত হয়েছে। তাঁর উপন্যাস 'দ্য আর্তামানভ বিজনেস' (১৯২৫) ও নাটক 'এগর বুলিশভ' (১৯৩২) রুশ সামন্ত শ্রেণির পতনকে চিত্রায়িত করে।

গোর্কি সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতাকে 'পৃথিবীর পুনঃগঠনরত জনগণের বাস্তবতা' বলে উল্লেখ করেন। গোর্কির সাহিত্যকর্ম রাশিয়ার সাহিত্যিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি পরিণত হন 'সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সাহিত্যিক ভাষ্যকার'-এ।

গোর্কি নামে সমধিক পরিচিত হলেও এটি তার নাম ছিল না। তার মূল নাম আলেক্সেই ম্যাক্সিমোবিচ পেশকভ। তিনি নিজেই তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম রূপে নির্ধারণ করেন 'গোর্কি', যে রুশ শব্দটির অর্থ তিক্ত বা তিতা। সমাজের অন্যায় ও অসঙ্গতিকে তিক্ত ও কঠোরভাবে আঘাত করতেন বলেই তিনি নিজের এমন নাম ধারণ করেন।

অদ্ভুত জীবন ছিল গোর্কির। রুশ দেশের নিঞ্জি নভগরদ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি পিতৃমাতৃহীন হন। অথচ এই এতিম ছেলেটির ছিল অদম্য সাহস। ১৮৮০ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি তার দাদীমাকে খুঁজতে গৃহত্যাগ করেন। আবার তিনিই ১৮৮৭ সালে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যখন তার বয়স ১৯ বছর।

এমন নানান ঘটনাবলির পর গোর্কি এক সময় পূর্ণ বাউণ্ডুলে ও সংসারত্যাগী মানুষের কাতারে নিজের নাম যুক্ত করেন। চিরকালের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পায়ে হেঁটে সমগ্র রাশিয়া ভ্রমণ করেন। আহরণ করেন মানুষ, প্রকৃতি, সমাজ ও জনপদ সম্পর্কে সরাসরি আহরিত বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাঁর লেখাগুলোতে রয়েছে সেইসব বাস্তবতা ও বিচিত্র অভিজ্ঞতার বিচ্চুরণ।

একটুু দেরিতে সাহিত্যসাধনা শুরু করেন ম্যাক্সিম গোর্কি। তার সর্বপ্রথম রচনা 'মাকার চুদ্রা'। রুশ কথাসাহিত্যে তাঁর অমর উপন্যাস 'মা' ১৯০৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। রুশ ভাষায় লিখিত এই উপন্যাসটি পরবর্তী একশত বছরে পেরিয়েও সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও পঠিত হয়ে চলেছে।

উপন্যাসটি বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এবং উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হল পাভেল ও তার মা। বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের পাশাপাশি 'মা' উপন্যাসের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে।

কালজয়ী 'মা' উপন্যাসের জন্য গোর্কি রুশ সমাজতান্ত্রিক সাহিত্যের অন্যতম আইকন আর বিশ্বসাহিত্যের স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব রূপে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

প্রথম অধ্যায় শেষ করার আগে আগে ক্যাভিনের লেখা সমাপ্তিজ্ঞাপক লাইনগুলো ম্যারির বুকে তীরের মতো বিদ্ধ হয়। ক্যাভিন লিখেছে:

“আমি বলেছি, রুশ দেশে আমি আমার নায়িকা ম্যারিকে খুঁজবো। পাঠক, এতো কথা আমি এজন্যই লিখেছি। তার কারণ, আমার প্রেমিকা ম্যারি একজন সত্যিকারের মা। আমার সন্তান টমাসের মা। এবং তার বাবাও। স্বপ্নে আমি ম্যারির সঙ্গে প্রায়ই কথা বলি। আমি সব সময়ই তাকে একটি কথা বলি, বিশ্বজনীন মায়ের মতো আমার অভাব তুমি আমার সন্তানকে বুঝতে দিও না।”

পরবর্তী কিস্তি আগামী শুক্রবার।

আরও পড়ুন: ধারাবাহিক উপন্যাস ‘রংধনু’-৫

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;