ধারাবাহিক উপন্যাস ‘রংধনু’-৫



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

[পঞ্চম কিস্তি]

ম্যারির হাত থেকে ক্যাভিনের পাণ্ডুলিপি নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা কর্তা উইলিয়াম জন নিজের আনন্দ আড়াল করতে পারলেন না। “তার মতো একজন মেধাবী লেখকের বই প্রকাশ করতে পারা আমাদের জন্য সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। তোমার যদি সুযোগ হয়, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ দিও।”

ম্যারি ভদ্রতার হাসিতে মাথা নাড়েন। কাজ শেষে তিনি চলে আসার কথা বলতেই উইলিয়াম রে রে করে উঠেন। “লেখককে তো আর পাচ্ছি না। লেখকের প্রতিনিধিকে অন্তত এক কাপ কফি অফার করা প্রকাশন হিসাবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” কোনো কথা না বলে ম্যারি এবার বেশ শব্দ করে হেসে ফেলেন। চট করে উইলিয়াম নিজে গিয়ে কফি বানিয়ে ডেস্কে ফিরে এলেন।

করিৎকর্মা প্রকাশক কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আগেই পাণ্ডুলিপির পাতা উল্টাতে শুরু করেছেন। তার চোখ ঝলমল করছে উচ্ছ্বাসে। তিনি কফির কথা যেন ভুলেই গেলেন। কয়েক মিনিট বাদে বিস্ময়াভিভূত দৃষ্টিতে পাণ্ডুলিপি থেকে মুখ তুললেন তিনি। ততক্ষণে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া কফিটুকু এক চুমুকে পান করে তিনি শুধু বললেন, ‘ওয়ান্ডারফুল’।

পাণ্ডুলিপিটি ম্যারি পড়েন নি। ফলে এর চমৎকারিত্ব সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল নন। চলে আসার অপেক্ষায় তিনি চুপ করে বসে আছেন। আর তখনই ম্যারিকে চমকে দিয়ে উইলিয়াম অকল্পনীয় একটি প্রস্তাব দিলেন,

‘তোমাকে একটা অনুরোধ করছি, তুমি না করতে পারবে না।’

‘কি অনুরোধ?’

ম্যারির কণ্ঠে বিস্ময়। কিন্তু উইলিয়ামের গলা নির্বিকার,

‘এই পাণ্ডুলিপি তোমাকে সম্পাদনা করতে হবে?’

‘আমি?’

আঁতকে উঠেন ম্যারি। উইলিয়ামের কথাগুলো তিনি ঠিক বুঝতে পারেন না।

“তুমি জানো, আমরা প্রতিটি পাণ্ডুলিপি একজন রিভিউয়ার কাম সম্পাদককে দিয়ে পড়িয়ে তারপর বই আকারে প্রকাশ করি। একজন লেখক যত সতর্কই হোন, মানুষ হিসাবে ছোট-খাট ভুলের ঊর্ধে থাকেন না। সম্পাদক সেগুলো দেখেন। আর সম্পাদক হন তিনিই, যিনি লেখক সম্পর্কে ও তার লেখা সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল। ক্যাভিনের জীবন ও সৃষ্টিকর্মের ক্ষেত্রে তোমার চেয়ে যোগ্য আর কেউ আছে বলে আমি মনে করি না।”  

ম্যারিকে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে উইলিয়াম একটি চুক্তিপত্রের কপি এনে তাতে ম্যারির স্বাক্ষর নিলেন। ম্যারি জানেন, সম্পাদনার কাজটি অ্যাকাডেমিক সার্কেলে অত্যন্ত মর্যাদার। আর্থিক সম্মানীর টাকাটাও বেশ মোটা অঙ্কের। এসব মাথায় এলেও তিনি ভাবলেন আরেকটি বিষয়। উইলিয়ামকে যদি সম্পাদনার বিষয়টি না করা হয়, তাহলে নিজেকে ও ক্যাভিনকে ছোট করা হবে। ম্যারির অসম্মতি জানানোকে অনেকেই ভুল বুঝতে পারেন। ভাবতে পারেন, ছাড়াছাড়ি হয়েছে বলে ক্যাভিনের বইটি সম্পাদনা করতে রাজি হয়নি ম্যারি। অতএব, কথা না বাড়িয়ে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে ম্যারি চলে আসেন। আসার আগে পাণ্ডুলিপির ফটোকপি ম্যারির হাতে ধরিয়ে দেন উইলিয়াম।

লাইব্রেরিতে এসে মিসেস ন্যান্সির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ম্যারি। তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। নিজে বইয়ের তাক থেকে সম্পাদনা ও রিভিউ সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বই বেছে এনে ম্যারিকে পড়ার জন্য দিয়ে বলেন, 

“শোন, সুযোগ সব সময় আসে না। কাজটিকে তুমি প্রফেশনালি গ্রহণ করবে। আমি চাই তোমার ক্যারিয়ারের আরেকটি এভিনিউ ওপেন হোক। এডিটর ও রিভিউয়ার হিসাবে গ্রহণযোগ্য কাজ দেখাতে পারলে তোমার পেশাগত জীবনের দিগন্ত আরো প্রসারিত হবে।”

ম্যারি ভেবে দেখেন, উইলিয়াম বা ন্যান্সি উভয়ের তার শুভার্থী। তারা ম্যারিকে একটি প্রোডাক্টিভ কাজের দিশা দিচ্ছেন। ম্যারি নিজেও বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতার প্রকোষ্ঠ থেকে বের হতে কাজে মগ্ন থাকাটাকেই একমাত্র মুক্তির পথ বলে বিশ্বাস করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ক্যাভিনের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার কাজকে তিনি গভীর মনোযোগ, পরিপূর্ণ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সম্পন্ন করবেন।

পাণ্ডলিপি নিয়ে কাজ শুরুর আগে ক্যাভিনের প্রকাশিত বইগুলো নিয়ে বসেন ম্যারি। বইগুলো অনেকবার পড়েছেন তিনি। কোনো কোনো বই বা অধ্যায়ের প্রথম পাঠকও তিনি। বাগানের পাইন গাছের নিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্যাভিন তার লেখা পড়ে শুনিয়েছে। তিনি মুগ্ধ হয়ে শুনেছেন। এবার তিনি সম্পাদকের নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিতে ক্যাভিনের বইয়ের পাতা উল্টালেন। হাতে নিলেন নোটবই। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো টুকে রাখবেন তিনি।

ক্যাভিনের বইগুলো দিন সাতেক একটানা রিভিউ করে ম্যারি কয়েকটি পয়েন্ট লিখে নিলেন। মোটে চারটি বই লিখেছে ক্যাভিন। কিন্তু প্রতিটি বই-ই গভীর গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও পড়াশোনার ফসল। ক্যাভিন তার বই লেখার কাজকে বলতো ‘প্রজেক্ট’। কোনো বিষয় নিয়ে লেখার আগে প্রচুর পড়াশোনা করতো ক্যাভিন। তারপর সরেজমিনে সেসব বিষয়ে জানতে বেশ কয়েক দিনের জন্য চলে যেতো সাবজেক্টের কাছে। বইগুলোতে তারপর তাত্ত্বিক ও ফলিত বিষয়ে চমৎকার সংশ্লেষ ঘটাতো ক্যাভিন। এ রকম একজন সিরিয়াস লেখকের বই পড়ার লোকও কম। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের লোকজনই মূলত তার বইয়ের পাঠক।

ম্যারি যতদূর সম্ভব ক্যাভিনের লেখার স্টাইল, বিশ্লেষণের পদ্ধতি, যুক্তির ধরণ ইত্যাদি নোট করলেন। ম্যারি জানেন, ক্যাভিন বহু বছর ধরে ভ্রাম্যমাণ। স্থায়ী অফিস বা লাইব্রেরি ওয়ার্ক করার সুযোগ কমই পেয়েছে বেচারা। ফলে তথ্য বা বিবরণের কিছু কমতি ও অসঙ্গতি থাকা স্বাভাবিক। ম্যারি সম্পাদক হিসেবে এসব অসম্পূর্ণতার দিকগুলো খেয়ার করার উপর গুরুত্ব দিলেন এবং ক্যাভিনের এই বইটিও যেন আগের বইগুলোর মতো মানসম্পন্ন হয়, সেটা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হলেন।

ক্যাভিন এবারের বইটি লিখেছে রুশ দেশ নিয়ে। প্রধানত রুশীয় সাহিত্য, সংস্কৃতি, লোককথার মাধ্যমে রাশিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গতিশীলতার প্রবণতাগুলো খুঁজে বের করাই ক্যাভিনের উদ্দেশ্য। বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বর্তমান রাশিয়ার সঙ্গে অধুনা-লুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের তুলনা করা। ম্যারি লাইব্রেরি থেকে রাশিয়া সংক্রান্ত একগাদা বই সংগ্রহ করলেন। প্রয়োজনে ক্রসচেক বা কোনো তথ্য সংযুক্ত করার ইচ্ছা আছে তার। তিনি সর্বান্তকরণে প্রত্যাশা করেন, ক্যাভিনের বইটি নির্ভুল ও সমৃদ্ধ আকারে প্রকাশিত হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছাক।             

পাণ্ডুলিপি হাতে পাওয়ার এক মাস পর ম্যারি সম্পাদনার কাজে হাত দিলেন। প্রকাশনা কর্তা উইলিয়াম আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, দুই মাসের মধ্যে পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করে দিতে হবে। ততদিনে আর্টিস্ট প্রচ্ছদ তৈরি করবেন। তারপর কম্পোজ, টাইপসেটিং, লেআউট, মেকাপ, করে সর্বমোট চার মাসের মাথায় বইটি তিনি প্রকাশ করতে চান। মাঝে একদিন তিনি ম্যারিকে ফোনে জানান যে, ক্যাভিনের বইয়ের প্রিঅর্ডার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে এবং তাতে বেশ সারা পাওয়া যাচ্ছে।

ম্যারি ঠিক করেছেন, সারা দিন তিনি লাইব্রেরির কাজ ও ক্যাভিনের বইটির জন্য রাশিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পড়াশোনা করবেন। তারপর বিকেলে বাসায় ফিরে সন্ধ্যার পর থেকে কয়েক ঘণ্টা বইটির সম্পাদনার কাজগুলো করবেন। ম্যারি তার মাকে ভীষণ অবাক করে দিয়ে বাগানে পাইন গাছের নিচে একটি অস্থায়ী আস্তানা তৈরি করলেন। ছোট্ট টি টেবিল ও চেয়ার সাজালেন সেখানে। টেবিলে রাখলেন একটি টেবিল ল্যাম্প, টিপট ও পানির বোতল। সঙ্গে কিছু কাগজ ও লেখা সংশোধনের জন্য বিভিন্ন রঙের কলম।

এসব উদ্যোগের সময় ম্যারির মনে একটি সন্দেহ দোলা দিয়েছে। এতোসব আয়োজন তিনি করছেন কাকে ভালোবেসে? সম্পাদনার কাজকে? নাকি ক্যাভিনকে? উত্তরহীন প্রশ্নের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়েই গভীর মমতায় ম্যারি পাণ্ডুলিপির পাতায় নজর দিলেন। এতোদিন শুধু পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদটি দেখেছেন তিনি। মূল লেখার প্রথম লাইন পড়ে ম্যারি বিদ্যুৎপৃষ্ট হলেন যেন। ক্যাভিন লিখেছেন,

“রুশ দেশে অনেক লেখক। প্রতিটি লেখকের কল্পনায় তৈরি হয়েছে অনেক নায়িকা। আমার বাস্তব নায়িকা ম্যারি,  যে থাকে মার্কিন মুলুকে। রুশ দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে আমি আমার নায়িকা ম্যারিকে খুঁজবো।”

এই প্রথম ম্যারি টের পেলেন, কখনো কখনো একটি মাত্র লাইন কোনো মানুষকে আমুণ্ডু নাড়িয়ে দিতে পারে।

[পরবর্তী কিস্তি আগামী শুক্রবার]

আরো পড়ুন: ধারাবাহিক উপন্যাস ‘রংধনু’-৪

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;