'প্রকাশকদের উচিত সম্পাদকের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি যাচাই করা'



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

একহাতে অবিরাম অনুবাদ করছেন আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। ওরিয়ানা ফালাসি থেকে খুশবন্ত সিং, এম জে আকবর হয়ে ইতিহাস, রাজনীতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের বহু নন-ফিকশান প্রপঞ্চ বাংলাভাষী পাঠকের সামনে উন্মোচিত করেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শেষে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তার সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ ও অনুবাদ সাহিত্যের নানা বিষয়ে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ এখানে উপস্থাপিত হলো।

প্রশ্ন: এবারের বইমেলায় রাজনীতিবিদ গান্ধী ও জিন্নাহর ধর্ম বিষয়ক অবস্থান মূল্যায়ন করে এম জে আকবরের বই অনুবাদ করেছেন। বইটির মূল বৈশিষ্ট্য কি?

উত্তর: বইমেলাকে উপলক্ষ করে আমি কোনো বই অনুবাদ করি না। আমি সারা বছর কাজ করি, প্রকাশকরা মেলাকে বই প্রকাশের উপলক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। এম জে আকবরের ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট জিন্নাহ’স ইসলাম’ বইটি পাঠ করার সুযোগ হয় ২০২০ সালে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমাকে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ, ভারত বিভাজন ইত্যাদির নিবিড় পাঠ করতে হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়েও ব্যক্তিগত আগ্রহ ও সাংবাদিকতার পেশাগত কারণেই উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো, বিশেষ করে যে বিষয়গুলো আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে স্পর্শ করে, তা পাঠ করতে আগ্রহী হই। এম জে আকবর তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন, যা বিতর্কিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ। পাঠকরা বিতর্কের মধ্য দিয়ে সত্যে উপনীত হবেন - এই দার্শনিক তত্ত্বকে সামনে রেখে আমি বইটি অনুবাদ করার প্রয়োজন অনুভব করেছি।  

বইটির বৈশিষ্ট হলো, এম, জে আকবর ভারতের অখণ্ডতা গান্ধীর কাছে কেন প্রয়োজন ছিল এবং ভারত বিভাগ জিন্নাহ’র কাছে কেন মুসলিম মুক্তির সমার্থক ছিল, তা দলিলিকভাবে তুলে ধরেছেন। তার দৃষ্টিকোণ থেকে গান্ধীর ধর্মনিষ্ঠা, মানবতা ও মহত্বের বিপরীতে জিন্নাহ ছিলেন ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারকারী, ক্ষমতালোভী ও একগুঁয়ে। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, জিন্নাহ’র মগ্নতা ছিল পাকিস্তানে এবং পাকিস্তান সৃষ্টির কারণে উপমহাদেশের মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং শুধু মুসলিম অধ্যুষিত হলেই তারা চিরশান্তিতে থাকবে, এমন রাজনৈতিক চিন্তা ও দ্বি-জাতিতত্ত্ব যে ভ্রান্ত ছিল তার প্রমাণ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করার ঘটনা। তার মতে, জিন্নাহ’র সেরা সাফল্যই ছিল তার সবচেয়ে চরম ব্যর্থতা। বইটিতে আরেকটি সত্য তুলে ধরা হয়েছে যে, গান্ধী তার অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালালেও ভারতকে অখণ্ড রাখতে সফল হননি, অপরদিকে জিন্নাহ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তার রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সফল করেছেন। উভয়েই যার যার মতো ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। আমার কাছে আকবরের এ কথাগুলো বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে হয়েছে।

প্রশ্ন: কেন এর অনুবাদে আকৃষ্ট হলেন?

উত্তর: এম জে আকবরের লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় সত্তরের দশক থেকে। ভারতে বিভিন্ন মুসলিম ইস্যুর ওপর তিনি যা লিখতেন তা ভারতীয় মুসলিমদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করতো। কিন্তু আমি তার যেকোনো লেখা পাঠ করতাম। ২০২০ সালের প্রথম দিকে আমি প্রথমবারের মতো গান্ধীর ওপর এম জে আকবরের একটি নিবন্ধ অনুবাদ করি এবং সেটি  বাংলাদেশের মিডিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। লেখাটি ছিল শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিচারের শুনানি ও রায়ের ওপর এইচএলও গ্যারেটের ‘দ্য ট্রায়াল অফ বাহাদুর শাহ জাফর’ গ্রন্থের ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা। আমি আমেরিকায় বসবাস করলেও আমার অনূদিত লেখাটি বাংলাদেশের একটি সূত্রের মাধ্যমে এম জে আকবরের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। তাছাড়া খুশবন্তু সিং এর অধিকাংশ বই আমি অনুবাদ করেছি বলে আমার পরিচয় জেনে আকবর তার ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট জিন্নাহ’স বইটি অনুবাদ করার জন্য আমাকে অনুরোধ করতে বলেন। আমাকে তার অনুরোধ পৌছানো হলে বইটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সচেতন পাঠকদের পাঠ করা প্রয়োজন ভেবে আমি অনুবাদ করতে সম্মত হই।

প্রশ্ন: আগেও আপনি মুঘল ইতিহাস-ঐতিহ্য অন্বেষী বহু গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন। কেন এই বিষয় বেছে নিলেন?

উত্তর: মুঘল ইতিহাস-ঐতিহ্য বলতে আমি মূলত শুধু শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের ওপর লেখা বেশ কয়েকটি বই অনুবাদ করেছি। সামগ্রিকভাবে মুঘল শাসন অথবা অন্যান্য মুঘল সম্রাটদের নিয়ে কোনো বই অনুবাদ করিনি। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ওপর একাধিক বই অনুবাদ করেছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে ভারত বিভক্তি এবং ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতাসহ উপমহাদেশের রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থেকেই এসব বই অনুবাদ করেছি।

প্রশ্ন: কোন কোন বইয়ের অনুবাদ আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে? কেন?

উত্তর: আমি একটি বইয়ের কথা না বলে তিন সংস্কৃতির তিনটি বইয়ের কথা উল্লেখ করবো, যে বইগুলো আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। একটি খুশবন্ত সিং এর বিখ্যাত উপন্যাস 'ট্রেন টু পাকিস্তান', যার বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের ফলে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের গণ-স্থানান্তরের বা ব্যাপক ও জোরপূর্বক অভিবাসনের সিদ্ধান্তের কারণে উদ্ভুত মানবিক সংকট। এই মানবিক সংকটের মধ্যেও এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে এক শিখ যুবকের প্রণয়ের ঘটনা বইটি মূলবিন্দু। প্রেমিক যখন জানতে পারেন যে তার মুসলিম প্রেমিকাকে যে ট্রেনে তুলে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাশকতাকারীরা একটি রেলসেতুতে রশি বেঁধে দিয়েছে যাতে ট্রেনের ছাদে আরোহীরা রশির আঘাতে ছিটকে পড়ে, ট্রেনের গতিরোধ হয় এবং তারা ট্রেনের সকল মুসলিমকে হত্যা করতে পারে। নাশকতাকারীদের হাতে সে তার প্রেমিকার মৃত্যুর কথা ভাবতে পারে না। সন্ধ্যার পর ট্রেন আসার আগে সে সেতুতে ওঠে রশি কাটতে শুরু করে, নাশকতাকারীরা তাকে দেখতে পেয়ে গুলি করে। সে আহত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রশি কাটতে সফল হয়ে সে পড়ে যায়, ট্রেনটি তার প্রেমিকাকেসহ নিরাপদে পাকিস্তানে চলে যায়।

দ্বিতীয় বইটি সার্বিয়ার নোবেল বিজয়ী লেখক আইভো অ্যানড্রিচের ইতিহাস ভিত্তিক 'দ্র ব্রিজ অন দ্য দ্রিনা'। সার্বিয়া তথা বৃহত্তর যুগোস্লাভিয়া বা বলকান অঞ্চলে তিনশ’ বছরের অটোম্যান যুগে ওইসব এলাকায় তুর্কি প্রশাসন ছাড়াও তুর্কি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। সার্বিয়ার একটি নদী দ্রিনা, সেই নদীর পাশে ভিশেগ্রাদ শহরকে অপর পাশের এলাকার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করে তুর্কিরা। পার্বত্য নদীর ওপর সেতু দেশের দুই অঞ্চলের বিকাশে ভূমিকা রাখে। তিনশ’ বছর ধরে সেতুটি ছিল ভিশেগ্রাদের মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। লেখক সেতুকে কেন্দ্র করে তিনশ বছরের অটোম্যান শাসন তুলে ধরেছেন। এটি অসাধারণ এক সাহিত্যকর্ম।

তৃতীয় বইটি হচ্ছে আরবি সাহিত্যে একমাত্র নোবেল বিজয়ী মিশরের ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের 'কায়রো ট্রিলজি'। প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার তিন খণ্ডে কায়রোর একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে নিপূণভাবে। এর মধ্যে পরিবার, সমাজ, রাজনীতি সবই আছে। লেখক বইটি লিখতে ছয় বছর ব্যয় করেছেন, আমি অনুবাদ করতে চার বছর ব্যয় করেছি। ধৈর্য্য শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পাঠকের আগ্রহ টেনে রাখার মতো উপন্যাস বলে আমি অনুবাদ শেষ করতে সফল হয়েছি। 

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় অনুবাদ সাহিত্য সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

উত্তর: বাংলা ভাষায় বিভিন্ন ভাষার বই প্রচুর অনুবাদ হচ্ছে। আমার বিশ্বাস মৌলিক বই এর চেয়ে অনুবাদ প্রকাশিত হচ্ছে অনেক বেশি। আমি দেশের বাইরে থাকি বলে কার অনুবাদ কেমন তা বলা সম্ভব নয়। আমি নিজেও কতটা ভালো অনুবাদ করি তা পাঠকদের সঙ্গে আমার সরাসরি ইন্টার‌্যাকশন বা মিথস্ক্রিয়া নেই অথবা মতবিনিময় হয় না বলে বুঝতে পারি না। নিষ্ঠাবান পাঠক বা কট্টর অনুবাদ-সমালোচকের পাল্লায় পড়লে আমার অনুবাদ হয়তো আরো উন্নত হতে পারতো। আমরা যে ভাষাগুলো থেকে অনুবাদ করি, সেগুলো কোনোটাই আমাদের মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা নয়। আমি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করি, অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় কোনো বাক্যে একটি শব্দের উপযুক্ত বা যে মর্মার্থ হওয়া উচিত তা খুঁজে না পেয়ে আক্ষরিক অনুবাদ করে ফেলি, সেক্ষেত্রে পাঠক হোঁচট খাবেন। সেজন্য যারাই অনুবাদ করছেন, পাকা অনুবাদক হোক বা নতুন অনুবাদক হোক, প্রকাশকদের উচিত সম্পাদকের মাধ্যমে পাণ্ডুলিপি যাচাই করার ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন: মানসম্মত অনুবাদে ক্ষেত্রে কোন কোন বৈশিষ্ট্যকে আপনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন?

উত্তর: অনুবাদের বিষয়বস্তু কী এবং কে অনুবাদ করবেন তার ওপর নির্ভর করে মানসম্মত অনুবাদ। যিনি প্রাচীনকালের দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিষ্টটল, মিলেটাস, এপিকুরাস, ডায়োজেন, পিথাগোরাস, প্রোটাগোরাস, জেনো থেকে শুরু করে আধুনিককালের দার্শনিকদের কঠিন বই অনায়াসে অনুবাদ করবেন, তার পক্ষে উপন্যাস বা কবিতার মতো সাহিত্য অনুবাদ করা সহজ হবে না। অনুবাদের ক্ষেত্র হওয়া উচিত অনুবাদকের মন ও মনন অনুযায়ী। অনেকে থ্রিলার অনুবাদ করছেন, আমি থ্রিলার অনুবাদ করতে গেলে পুরোপুরি ব্যর্থ হবো। যেহেতু অনুবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নেই সেজন্য যিনি অনুবাদ করবেন তার উচিত নিজের ভাষার ওপর ভালো দখল থাকার পাশাপাশি যে ভাষার বই অনুবাদ করবেন শুধু সেই ভাষায় ভালো দখল থাকা নয়, বইটিতে যে সমাজ ও সংষ্কৃতি, এমনকি স্থানে বর্ণনা রয়েছে সেই সমাজ, সংস্কৃতি ও স্থান সম্পর্কে কিছুটা জানা। ‘কায়রো ট্রিলজি’ বইটি অনুবাদ করতে গিয়ে আমি দু’জন শিক্ষিত মিশরীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। একজন আমার ডেন্টিস্ট, আরেকজন ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক। জায়গার বিবরণ বা আরবি শব্দের মিশরীয় উচ্চারণ জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে একই আরবি শব্দের অর্থ অভিন্ন হলেও উচ্চারণ ভিন্ন ভিন্ন।

প্রশ্ন: মার্কিন প্রবাস জীবনে লেখালেখি করতে কেমন সুবিধা পাচ্ছেন বা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন?

উত্তর: প্রবাস জীবনে আমি নবীন হলেও বয়সে প্রবীণ। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণ রাষ্ট্র নয়। প্রত্যেককে কাজ করে জীবিকা সংস্থান করতে হয়। যারা দীর্ঘদিন কাজ করেন তারা সোস্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট নিয়ে হয়তো একটি সময়ের পর কাজ করেন না, নিজের সৃজনশীল কাজ করেন। আমাকে রুটিরুজির ব্যবস্থা করার পর অনুবাদের কাজ করতে হয়। সেজন্য বাংলাদেশে থাকতে অনুবাদে যে গতি ছিল এখানে আসার পর তা মন্থর হয়েছে। কাজের বাইরে যতটা সময় পাই, সাধ্যমত অনুবাদ করি। পরিস্থিতির চাপ উপেক্ষা করেও আমি সানন্দে আমার লেখালেখি চালিয়ে যেতে কোনো শৈথিল্যকে স্থান দিই নি আমার জীবনে, এখনো এটাই আমার মূলমন্ত্র। 

প্রচ্ছদ ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারজানা করিম। পেশাগত জীবনে তিনি বহুদিন ধরেই সংবাদ উপস্থাপনা করছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতার সঙ্গে জড়িত ফারজানা করিম। লিখেছেন শতাধিক কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পাখি পৃথিবী'।

প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। জলকণা , না বলা কথা, মী , শূন্যতা , ভালোবাসার আড়ালে, জলে ভাসা পদ্য , শেষ বিকেলের আলো, দূরে কোথাওসহ বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশ হয় তার। এবারের বইমেলাতেও শোভা পাবে তাঁর নতুন এক গ্রন্থ। নাম- বিচ্ছিন্ন কবিতারা। আসছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে,২১ নম্বর প্যাভিলিয়ন। পাওয়া যাবে ১০ তারিখ থেকে।

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে ফারজানা করিম লিখেন, এবারে কাজের ভিড়ে আমার কবিতাগুলো বেশ কষ্ট পেয়েছে। ওদের শরীরে হাত দিয়েছি , ওদের ঠিকঠাক গড়ে নিয়েছি বেশ কষ্ট করে। আচ্ছা ওরা তো আমার সন্তান। ওদের কে কি আমি মানুষের ভালোবাসার পাত্র করে গড়ে তুলতে পারলাম শেষ পর্যন্ত? ছেড়ে দিলাম আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। তাঁরাই আলোচনা সমালোচনা করে নাহয় ঠিক করে নেবেন। বিচ্ছিন্ন কবিতারা আপনাদের ছোঁয়ার অপেক্ষায় প্রিয় পাঠক। দেখা হবে বইমেলায় যদি বেঁচে থাকি।

উল্লেখ্য, ফারজানা করিমের জন্ম ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা সবই চট্টগ্রামে। পড়ালেখা শেষ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া থেকে। ২০০৩ সাল থেকে এখন অবধি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

;

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;