মুসলিম ফুটবলারদের হাত ধরে ফ্রান্সে কমেছে ইসলামভীতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলার সুযোগ এখনও হয়ে উঠেনি। ২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া তুরস্ক শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েছিলো। এটাই মুসলিম প্রধান দেশগুলোর বিশ্বকাপে সেরা অর্জন।

অবশ্য মুসলিম দেশগুলো ফাইনালে না গেলেও ফাইনালে খেলার সুযোগ হয়েছে অনেক মুসলিম ফুটবলারের। সে তালিকায় ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, ফ্রাঙ্ক রিবেরি ও করিম বেনজেমা যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন জার্মানির মেসুত ওজিল ও সামি খেদিরা।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফ্রান্স দলের দুই ধর্মপ্রাণ মুসলিম খেলোয়াড় মাঠে আনন্দ প্রকাশ করেন সিজদা দিয়ে। পল পগবা ও জিবরিল সিদিবে ওই উদযাপন মুসলিম দর্শক ও ভক্তদের মনে অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে।

বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের ফুটবল দলে সাতজন মুসলিম খেলোয়াড় ছিলেন। এই সাত খেলোয়াড়সহ অন্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল ফ্রান্স।

ট্রফি জেতার এক সপ্তাহ পরও ফ্রান্সে বিশ্বজয়ের আনন্দ চলছে। ফরাসি নাগরিকরা বলছেন, এটা আমাদের জাতীয় জীবনের অনেক বড় অর্জন। এটি প্রমাণ করেছে, একসঙ্গে কাজ করলে অনেক বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব।

একটি বিশ্বকাপ জয় অনেক সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে ফ্রান্সে। তার মধ্যে অন্যতম হলো- দেশটিতে অহেতুক মুসলিমভীতি কমেছে। অভিবাসীদের দেশপ্রেম নিয়ে উঠা প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। দেশপ্রেমের প্রশ্নে তারা (অভিবাসী ও মুসলিম) উত্তীর্ণ।

/uploads/files/rzP2zkXukmQdOppqhYbGjdNcNev4AU4xiAGs8q80.jpeg

রাশিয়ায় বিশ্বকাপে যাওয়া ২৩ সদস্যের ফরাসি স্কোয়াডের ১৫ জনই ছিলেন আফ্রিকান এবং আরবের অধিবাসী। যারা উন্নত জীবনের খোঁজে ইউরোপে এসেছিলেন। মজার বিষয় হলো- এদের বেশিরভাগই আবার মুসলিম। যে দেশে মুসলিম শরণার্থীদের আশ্রয়দানের বিরুদ্ধে এত বিদ্রোহ চলছে- এই ১৫ খেলোয়াড় সেই আগুনে পানি ঢেলে দিলো কাপ জিতে। এখন তারা ফ্রান্সের জাতীয় বীর। তাদের নিয়ে গর্ব করে ফ্রান্সের আসল অধিবাসীরা।

পল পগবা তো বলেই দিয়েছেন, ‘আজকের ফ্রান্স নানা রঙে রাঙানো। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অবস্থান করছে। তারা সবাই মিলে ফ্রান্সকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। আমরা সবাই ফ্রান্সকে অনুভব করি, হৃদয় দিয়ে ধারণ করি। আমরা খুব খুশি এবং গর্বিত জাতীয় দলের এই টি শার্টটি পরতে পেরে।’

ফ্রান্স দলের মুসলিম খেলোয়াড়রা হলেন-

পল পগবা: ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল এবং ইংলিশ লিগের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মাঝ মাঠের খেলোয়াড়ের পিতা-মাতা আফ্রিকার দেশ গিনি থেকে ফ্রান্সে অভিবাসন গ্রহণ করেন। পগবা ফ্রান্সে ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ধার্মিক হিসেবে পগবার বেশ সুনাম রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে পগবা উমরা পালন করে রাশিয়া এসেছেন। ফাইনালে তিনি একটি দৃষ্টিনন্দন গোলও করেছেন।

আদিল রামি: ১৯৮৫ সালে ফ্রান্সের কর্সিকায় মরোক্কান পিতা-মাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন ফ্রান্সের রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড়। ফ্রান্সের জাতীয় দল ছাড়াও বর্তমানে তিনি ফরাসি ফুটবল ক্লাব মার্সেইয়ের পক্ষে খেলছেন।

জিবরিল সিদিবে: সেনেগালের বংশোদ্ভুত রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড় ১৯৯২ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দল ছাড়াও বর্তমানে তিনি মনাকো ফুটবল ক্লাবের পক্ষে খেলছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি মনাকোর পক্ষে লিগ ওয়ান শিরোপা জয় করেন।

বেনজামিন মেনদি: ফ্রান্সের রক্ষণভাগের এই খেলোয়াড়ের পরিবার তার জন্মের পূর্বেই অভিবাসী হয়ে ফ্রান্সে আসেন। ফ্রান্সেই তিনি ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ইংলিশ লীগে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলছেন।

এনগোলো কান্তে: ১৯৯১ সালে প্যারিসে জন্মগ্রহণকারী ফ্রান্সের মধ্যমাঠের এই ফুটবলারের পরিবার মালি থেকে ফ্রান্সে অভিবাসন করেন। ২০১৫ সালে তিনি লিচেস্টার সিটির পক্ষে ক্লাবটির ইতিহাসের প্রথম প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ইংলিশ ফুটবল দল চেলসির পক্ষে খেলছেন।

/uploads/files/MUOfM6TD9MwQ2T7oYg3Cd2PmmtCMq6wcOvBzHKHs.jpeg

নাবিল ফেকির: আলজেরীয় বংশোদ্ভুত আক্রমণভাগের এই ফুটবলার ১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের লিওনে জন্মগ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি ফরাসি ফুটবল ক্লাব লিয়নের হয়ে খেলছেন।

উসমান ডেম্বেলে: ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল এবং স্পেনীয় ফুটবল দল বার্সেলোনার আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়ের পিতা মালি থেকে আগমন করেন। অন্যদিকে তার মা একইসঙ্গে মৌরিতানিয়া ও সেনেগালীয় বংশোদ্ভুত। ১৯৯৭ সালে উসমান ফ্রান্সের ভেরননে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি জার্মান ডিএফবি-পকাল লীগে ব্রুসিয়া ডর্টমন্ডের হয়ে শিরোপা জয় করেন। এছাড়া ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জয় করেন।

১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মূল কারিগর ছিলেন জিদান। তিনিও আলজেরীয় বংশোদ্ভুত মুসলিম। তিনি আলজেরিয়ার ফুটবল দলে সুযোগ না পেয়ে ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা করে নেন এবং ফাইনালে দুই গোল করে প্রথবারের ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ এনে দেন। তিনি শুধু ফ্রান্সই নন, সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন।

ফ্রান্সের এবারের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই তারকার শরীরেও বইছে মুসলিমের রক্ত। তার বাবা উইলফ্রাইড ক্যামেরুন থেকে ফ্রান্সে চলে আসেন। বিয়ে করেন আলজেরিয়ার মেয়ে ফাইজা লামারিকে। বাবা খ্রিস্টান কিন্তু মা ফাইজা মুসলিম। বাবার ধর্মান্তরিতের কথা শোনা গেলেও সেটা সত্য নয়। আর মা পারিবারিকভাবেই মুসলিম। তাই কিলিয়ান এমবাপ্পের ধর্ম নিয়ে কিছুটা মতান্তর রয়েছে। নিও ফাইনালে একটি গোল করে ফুটবল রাজা পেলের কীর্তিতে ভাগ বসান।

-আল জাজিরা অবলম্বনে

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে জনপ্রতি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় সরকারিভাবে এ হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদুল হক খান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে যেতে পারবেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ করার সুযোগ পাবেন।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুন হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যেতে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর জন্য ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

;

'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস‘ রজব



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী জীবনধারা ও সংস্কৃতিতে রজব মাসের ফজিলত অপরিসীম, মর্যাদা অতুলনীয়। রজব মাস হলো আমলের মৌসুম এবং রমজানের প্রস্তুতিকাল। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অশেষ দয়া ও করুণায় মুসলিম উম্মাহর সামনে হিজরি ১৪৪৪ সনের পবিত্র রজব মাসের সূচনা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’, যার অর্থ 'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস'। রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’। আর রজব মাসের পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’।

রজব মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসের উল্লেখ সর্বজনবিদিত। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

রজব মাসের মর্যাদার আরও মর্যাদা এজন্য যে, এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)

রজব মাস মুসলমানদের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের অধিকতর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে এই দোয়া পড়তেন, যা তিনি তাঁর উম্মতকেও শিখিয়েছেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলিত একটি মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের রমজানের জন্য প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উল্লেখিত হয়েছে।

রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)

রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। রজব মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি।

সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের কর্তব্য, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। যথাযথ আমল করা। পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

;

পবিত্র শবে মেরাজ ১৮ ফেব্রুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) শুরু হবে হিজরি সনের রজব মাস। সেই অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস শুরু হবে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মিরাজ উদযাপিত হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

ফারসি ‘শব’ এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’ এর অর্থ- ঊর্ধ্বারোহণ। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন।

;

লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে তুরাগতীরে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত



এসএম জামাল, ইজতেমার ময়দান থেকে, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ইজতেমার মাঠে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী এতে ইমামতি করেন।

বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।


শুক্রবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা ওসমানের আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

আজ জুমার পর সংক্ষিপ্ত বয়ান করবেন কাকরাইলের শুরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, আসরের পর বয়ান করবেন মাওলানা সাদ সাহেবের মেঝ ছেলে মাওলানা সাঈদ বিন সাদ কান্দলভী, মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভী।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ইজতেমা ময়দানকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ময়দানের আশপাশে ৭ হাজার ৫৩৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম পর্বে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবারও ঠিক আগের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট থাকবে।

বাস, ট্রাক, ট্রেন বা পায়ে হেঁটে টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে আসছেন। মানুষের এ স্রোত এখনও অব্যাহত রয়েছে। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। 

 

;