সব সাহিত্যই এক অর্থে গূঢ় রূপকথা



মৌ কর্মকার
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবিকার তাগিদ, মানুষের জীবনযাত্রার প্রকৃতির পরিবর্তন অথবা যুগের প্রয়োজনে সংসারের সবাই বিশেষ করে মা-বাবা দুইজনই চাকরি কিংবা বিভিন্ন কাজে রত। করছেন নিজ নিজ কাজ। বাসায় বসে একাকী  শিশু বাচ্চাটি। বিষয়টি আপনার নজরে পড়েছে কি? যদি না পড়ে তাহলে কিছু রূপকথার গল্প পড়ে আসুন! দেখতে পাবেন নাগরিক জীবনের এ ব্যস্ত বাস্তবতার চিত্র যেন আমাদের রূপকথার জগতকেই নির্দেশ করছে। সেই রাজকন্যার গল্প, একাকিত্বকে সঙ্গী করে বেড়ে উঠছিল যে। সে যেন আমাদের ফ্লাটে বন্দি এই শিশু বাচ্চাটিই। আমরা যদি গ্রিক রূপকথার একটি গল্প লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায়—

‘এক দেশে ছিল এক ছোট্ট রাজকন্যা। কিন্তু রাজকন্যার মনে বড় দুঃখ ... তাঁর কোনো বন্ধু নেই! বিশাল রাজপ্রাসাদের চৌহদ্দীর ভিতরেই সারাটা দিন কাটে রাজকন্যার। কত দাস-দাসী... কত পাইক-পেয়াদা!... কিন্তু রাজকন্যার কোনো সাথী নেই, কোনো বন্ধু নেই... মনের সুখ-দুঃখের দুটো কথা বলে সময় কাটানোর কেউ নেই! তাইতো রাজকন্যার মনটা খুব ভার! রাজপ্রাসাদের ভিতরে ছিল খুব সুন্দর একটা বাগান। সেই বাগানে কত নাম না জানা গাছ... কত ফুল! কিন্তু ফুলের বাগানেও রাজকন্যার ভালো লাগত না.... তাঁর কোনো বন্ধু নেই যে! একদিন রাজকন্যা দেখতে পেল... সেই বাগানের এক কোণায় ফুটে রয়েছে একটা চমৎকার ছোট্ট ঘাসফুল। ছোট্ট ঘাসফুলটিকে রাজকন্যার মনে ধরল!...’

গল্পের শেষ পর্যায়ে হয়তো রাজকন্যার বন্ধু হয়ে গেল সেই ঘাসফুল। কি? এই গল্পের সাথে আমাদের বর্তমান সময়ের শিশুদের মিল পাওয়া যায়? এই ঘাসফুলটির জায়গায় বর্তমানে আমরা যদি কম্পিউটার বা মোবাইলের কথা বলি তাহলে কি খুব ভুল হবে? গল্পটিতে রাজকন্যার সবই আছে—বিশাল রাজপ্রাসাদ, দাসদাসী, নেই শুধু একজন বন্ধু।

আধুনিক জীবনের ব্যস্ত নগরীতে শিশুরা  সারাদিন বাসায় একা একা কম্পিউটারে সময় কাটায়। উপরের  রূপকথার গল্পের রাজকন্যার ঘাসফুল বন্ধুর মতোই বর্তমানে শিশুরা বন্ধু হিসেবে খুঁজে নিয়েছে কম্পিউটারকে। দিনের এক দীর্ঘ সময় মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয় অনেক শিশু-কিশোর। রাজকন্যার জীবনও অনেকটা এরকমই ছিল। তবে রাজপুরীতে থাকার কারণে  প্রেক্ষাপটটি একটু ভিন্ন হতে পারে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বর্তমানে দুরন্তপনার  শৈশবের কোনো উচ্ছলতা নেই, একাকিত্বকে সঙ্গী করে বেড়ে উঠছে  শিশু-কিশোররা। যে কারণে একাকিত্ব, মানসিক কষ্ট—এসব শুধু বড়দেরকেই নয়, দেখা যাচ্ছে শিশুদের ক্ষেত্রেও। অতিরিক্ত পড়াশোনা, খেলাধুলার অভাব, বিভিন্ন পারিবারিক সমস্যা শিশুদের ওপরও প্রভাব ফেলে এবং তারা একাকিত্বে ভোগে। মানসিক চাপের মধ্যে বড় হতে থাকে। এতে প্রভাব পড়ে একাকী শিশুর শৈশবে।

এখন বলতেই পারেন, রূপকথার গল্পের সাথে বাস্তব জীবনকে কি জন্য তুলনা করছি। সেক্ষেত্রে বলতেই হয়, একটু লক্ষ্য করে দেখুন তুলনা করার আগেই রূপকথার রাজকন্যা আর ফ্লাটের বন্দি শিশুর জীবন কিভাবে মিলে যাচ্ছে। একটু লক্ষ্য করুন!

ড. বরুণকুমার চক্রবর্তীর ‘বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতি কোষ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে—‘রূপকথা মূলত ঐতিহ্যবাহী রচনা। কথাগুলোকে আপাতভাবে অবাস্তব, অর্থহীন, উদ্ভট মনে হলেও এগুলোতে এমন এক সার্বজনীন আবেদন আছে, যা সহজেই পাঠককে টানে।’ এখন প্রশ্ন করা যায়, কেন টানে? নিশ্চয়ই আমাদের জীবনের সাথে মিল আছে তাই টানে। তাইতো? রফিকউল্লাহ খান বলেছেন—‘লোকজীবনের রোম্যান্সলোকের বিচিত্র ভাণ্ডার অবলম্বন করেই অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জন্ম নেয় রোম্যান্টিক ন্যাশনালিজম। ঐতিহ্য সন্ধানের সূত্রে লোককথার গভীর তলে একেকটা জাতি পেয়ে যায় তাদের আত্ম-আবিষ্কারের ভূমিতল। যেখানে রাজপুরীও যেন বাস্তবসত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। লোকমুখের কথা গ্রহণ করা হয়, লেখ্য পাঠকলায়। তাতে অনেক ‘ইমেজ’ অপ্রতুলভাবে ফুটে উঠে, রোমাঞ্চরস সঞ্চারিত হয়, দেশজ স্মৃতি-সত্তার পরিচয়  প্রদীপ্তি হয়। সাহিত্যে যুক্ত হয় স্বতন্ত্র আনন্দের অভিমুখ।’ ( কালি ও কলম, জুলাই ৩১, ২০১৮) আসলেই কিন্তু তাই, রূপকথা  তুচ্ছ করে না কিছুই, বরং রাষ্ট্রিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক বেষ্টনীকে প্রাচুর্যময় করে তোলে। ভ্লাদিমির প্রপ, মিখাইল বাখতিন, ক্লোদ লেভি স্ত্রাউসের তত্ত্ব,  পোস্ট-কলোনিয়াল ব্যাখ্যায়  অথবা তুলনামূলক পদ্ধতির মাধ্যেমেও আমরা রূপকথার রাজপুরী ও রাজকন্যার সাথে আধুনিক রাজপুরীরূপী ফ্লাট ও ফ্লাটে বন্দি শিশুর জীবন নিয়ে আলাদা একটি পাঠ আলোচনা করতে পারি। উপরের গল্পে ও আলোচনায় রাজকন্যার সাথে শিশুর জীবনের মিল পাওয়া গেছে বলে মনে হয়!  এবার রাজপুরী নিয়ে আলোচনা করা যাক।

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রূপকথা সম্পর্কে  বলেছিলেন ‘জাতির আশায় স্বপ্নের ভাষায় অভাবনীয় সত্য সাহিত্য হচ্ছে রূপকথা।’ (ঘোষ, ২০০৭) এই সত্যতার প্রমাণ আমরা পেয়ে যাই ঠাকুর মার ঝুলির ‘ঘুমন্তপুরী’ গল্পে—

‘আর অমনি রাজপুরীর চারিদিকে পাখি ডাকিয়া উঠিল, দুয়ারে দুয়ারী আসিয়া হাঁক ছাড়িল, উঠানে হাতি ঘোড়া ডাক ছাড়িল, সিপাই তরোয়াল ঝনঝন করিয়া উঠিল; রাজদরবারে রাজা জাগিলেন, মন্ত্রী জাগিলেন, পাত্র জাগিলেন হাজার বচ্ছরের ঘুম হইতে, যে যেখানে ছিলেন, জাগিয়া উঠিলেন লোক লস্কর, সিপাই পাহারা, সৈন্যসামন্ত তীর-তরোয়াল লইয়া খাড়া হইল। সকলে অবাক হইয়া গেলেন, রাজপুরীতে কে আসিল!’ (ঘুমন্তপুরী)

অথবা আমরা যদি রুশ উপকথার একটি গল্প লক্ষ্য করি—‘বহুকাল আগে, ছিল এক রাজপুরী। সেখানে ছিল রাজা, রানী, রাজপরিবার, রাজদরবার, প্রজাকুল—সবাইকে নিয়ে হাসিখুশি এক রাজ্য। বিরাট ঝলমলে রাজপ্রাসাদ, হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, বিরাট সৈন্যবাহিনী, দেশজুড়ে ছড়ানো অজস্র সম্পদ। রাজার ছিল ঝকমকে এক রাজপুত্তুর...’ (রুশ উপকথার গল্প)

রূপকথার ঘটনাবলি অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর হলেও ঘটনামূলে এবং পাত্র-পাত্রীর নামের সঙ্গে অনেক ঐতিহাসিক সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। উপরের ঠাকুরমার ঝুলির ‘ঘুমন্তপুরী’ গল্প এবং রুশ উপকথাটি যেন তারই প্রমাণ। গল্প দুটি একটি আদর্শ রাজপুরীর চিত্র আপন মহিমায় অঙ্কন করে তুলেছে। রাজপুরীটি গঠিত হয়েছে রাজা, রানী, রাজপরিবার, প্রজাকুল, রাজপ্রাসাদ, হাতিশালা, ঘোড়াশালা, বিরাট সৈন্যবাহিনী ও রাজপুত্তুরের মাধ্যমে। এছাড়াও রূপকথার গল্পে রাজপুরী রাজ ভাণ্ডার, সুন্দর বাগান, দেবী আরাধনার ঝলমলে মন্দির, শুকপাখি/ স্বর্ণপাখি ইত্যাদি উপাদান সমন্বয়ে গঠিত হয়। এখানে রূপকথার রাজপুরীর যে বর্ণনা পাওয়া গেছে তাতে রাজপুরীর সুন্দর এক রেখাচিত্র অঙ্কন করা যায়।  যায় কি?


https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/09/1536494320626.jpg
রূপকথার রাজপুরী

বর্তমানে আমাদের ফ্লাট বাসাগুলোর চিত্রও কিন্তু ঠিক এরকমই। ছোট এক বাসা যেখানে আছে ছোট বাগান, পুকুরের জায়গায় আছে সুইমিংপুল বা বাথটাব, হাতিশালা বা ঘোড়াশালার জায়গায় খাঁচায় বন্দি পাখি বা একুরিয়ামে বন্দি মাছ, শুকপাখির জায়গায় কম্পিউটার বা মোবাইল।

জগতের সেরা রূপশিল্পী পিকাসো বলেছেন—‘তুমি যা কিছু কল্পনা করতে পারো তাই সত্যি।’ আবার প্রিয় কবি ইয়েটস গল্পকারদের সম্পর্কে বলেছেন—‘তাহলে চলো আমরা গল্প বানিয়েরা, প্রাণে যা চায় নির্ভয়ে শুনিয়ে যাই। সবকিছু আছে সবকিছুই সত্যি।’ (আনন্দবাজার পত্রপত্রিকা, সংখ্যা :  ৩০ মে, ২০১৫) তাহলে আরকি! আমাদের কল্পনা বা স্বপ্নই যদি বাস্তবতাকে তুলে ধরতে পারে তাহলে বাস্তবতা থেকে আমাদের কল্পনাই শ্রেয়। তাইতো? সব মিলিয়ে বলতে গেলে সব সাহিত্যই এক অর্থে গূঢ় রূপকথা। যা আমাদের সামনে আমাদেরই বাস্তবতাকে তুলে ধরে।

সহায়ক গ্রন্থ
১. ঠাকুর মার ঝুলি, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, ২০১১।
২. দক্ষিণারঞ্জন রচনাসমগ্র (দ্বিতীয় খণ্ড), দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, মিত্র ও ঘোষ, ১৯৬১, কলকাতা।
৩. বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতি কোষ, ড. বরুণকুমার চক্রবর্তী, কলকাতা, ২০০৪।
৪. আখ্যানতত্ত্ব ও চরিত্রায়ণ, রফিকউল্লাহ খান, চারুলিপি প্রকাশন, ২০১১।
৫. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ও তাঁর ঠাকুরমার ঝুলি, বিশ্বজিৎ ঘোষ, ২০০৭, ঢাকা।
৬. আনন্দবাজার পত্রিকা,  অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, ৩০ মে, ২০১৫।
৭. কালি ও কলম, সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা, আবুল হাসনাত, জুলাই ৩১, ২০১৮।

একুশে গ্রন্থমেলায় অঞ্জন আচার্যের গল্পগ্রন্থ ‘বাতাসের তলোয়ার’



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হলো কবি ও গল্পকার অঞ্জন আচার্যের তৃতীয় গল্পগ্রন্থ ‘বাতাসের তলোয়ার’।

বইটি প্রকাশ করেছে বিদ্যাপ্রকাশ। ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা।

এরআগে ২০১৭ সালে ‘দেশ পাবলিকেশন্স’ থেকে লেখকের প্রথম গল্পের বই ‘ঊনমানুষের গল্প’ এবং ২০২২ সালে ‘বিদ্যাপ্রকাশ’ থেকে দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘চক্রব্যূহ’ প্রকাশিত হয়, যা ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়।

বিদ্যাপ্রকাশের প্রকাশক মজিবর রহমান খোকা বলেন, “অঞ্জন আচার্য এ সময়ের একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। তার লেখা বরাবরই নিরীক্ষামূলক ও ভিন্নধর্মী। কোনো সস্তা চটকদার জনপ্রিয়তার পেছনে ছোটা মানুষ তিনি নন। অঞ্জন হলেন লম্বা রেসের ঘোড়া। সমহিমায় সাহিত্য অঙ্গনে দীর্ঘ দিন থাকতে এসেছেন তিনি। সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক যাবতীয় প্রাসঙ্গিক অসঙ্গতি অঞ্জনের লেখায় শৈল্পিকভাবে ফুটে ওঠে। এ বইয়ের গল্পগুলোতেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।”

বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অঞ্জন আচার্য বলেন, “প্রতিটি জীবনই আলাদা! আঙুলের ছাপের মতো আলাদা। তবুও মিলে যায় অন্য কারো সঙ্গে। যেভাবে মিল থাকে অচেনা কারো চেহারার আদলে। তবে যার যার মতো অন্যরকম। সাদা পাতায় সবাই কষে যায় নিজের জীবনের নকশার অঙ্ক। ফলাফল কখনো মেলে, কখনো-বা থাকে অসমাপ্ত। বইয়ের গল্পগুলোও তেমনই। রিপুতাড়িত মানুষের জীবনের রসায়ন-আখ্যান। তারই সমীকরণ মেলানোর প্রাণান্ত চেষ্টা। তারপরেও কোথাও নিষ্পত্তি নেই। তাই বলে সব গল্পই কি অমীমাংসিত? না, সেটাও নয়। সমাপ্তি-দাঁড়ির পর বাকিটুকু টেনে নেবেন পাঠকেরা। হয়তো ‘কোথাও মায়া রহিয়া গেল’।”

অঞ্জন আচার্য আরও বলেন, “বইটিতে অন্তর্ভুক্ত ১৫টি গল্পের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনাই কাল্পনিক। কোনো দেশের কোনো মানুষের বা বাস্তব কোনো ঘটনার সঙ্গে যদি এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়, সেটা নিতান্তই কাকতালীয়।”

‘বাতাসের তলোয়ার’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায় বিদ্যাপ্রকাশের স্টলে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, স্টল নং: ৩০৭—৩১০), বাংলাবাজারের বিদ্যাপ্রকাশের নিজস্ব শো-রুমে এবং অনলাইন বুকশপগুলোতে।

অঞ্জন আচার্যের এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ৫টি: জলের উপর জলছাপ (শুদ্ধস্বর), আবছায়া আলো-অন্ধকারময় নীল (বিজয় প্রকাশ), তুমুল কোলাহলে কুড়াই নৈঃশব্দ্য (অনুপ্রাণন প্রকাশন), নামহীন মৃত্যুর শিরোনাম (অনুপ্রাণন প্রকাশন), স্বপ্নের চোখে ঘুম (বেহুলাবাংলা)।

গল্পগ্রন্থ ৩টি: ঊনমানুষের গল্প (দেশ পাবলিকেশন্স), চক্রব্যূহ (বিদ্যাপ্রকাশ), বাতাসের তলোয়ার (বিদ্যাপ্রকাশ)। গবেষণা-প্রবন্ধ গ্রন্থ ১টি: রবীন্দ্রনাথ : জীবনে মৃত্যুর ছায়া (মূর্ধন্য)। গবেষণাগ্রন্থটি সংশোধিত ও পরিমার্জিতরূপে পশ্চিমবঙ্গের আত্মজা পাবলিশার্স প্রকাশ করে ‘রবির জীবনে মৃত্যুশোক’ নামে।

জীবনীগ্রন্থ ২টি: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (কথাপ্রকাশ), একই বই আত্মজা পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয় ‘আমি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামে, আমিই অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (উৎস প্রকাশন)। প্রবন্ধগ্রন্থ ১টি: কথাপ্রসঙ্গে যৎসামান্য (অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি)। এছাড়া দুই বাংলার লেখক-প্রকাশক-সম্পাদক-চিত্রশিল্পীদের একটি ডিরেক্টরি সম্পাদনা করেন ‘সংযোগ-সূত্র’ (দ্যু প্রকাশন) নামে।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ এখন পর্যন্ত অঞ্জন আচার্য পেয়েছেন ‘শতকথার শতগল্প সেরা লেখক ২০১৮’, ‘অনুপ্রাণন লেখক সম্মাননা ২০২২’, ‘বামিহাল তরুণ লেখক সাহিত্য পুরস্কার ২০২২’, ‘ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) লেখক সম্মাননা ২০২২’।

;

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারজানা করিম। পেশাগত জীবনে তিনি বহুদিন ধরেই সংবাদ উপস্থাপনা করছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতার সঙ্গে জড়িত ফারজানা করিম। লিখেছেন শতাধিক কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পাখি পৃথিবী'।

প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। জলকণা , না বলা কথা, মী , শূন্যতা , ভালোবাসার আড়ালে, জলে ভাসা পদ্য , শেষ বিকেলের আলো, দূরে কোথাওসহ বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশ হয় তার। এবারের বইমেলাতেও শোভা পাবে তাঁর নতুন এক গ্রন্থ। নাম- বিচ্ছিন্ন কবিতারা। আসছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে,২১ নম্বর প্যাভিলিয়ন। পাওয়া যাবে ১০ তারিখ থেকে।

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে ফারজানা করিম লিখেন, এবারে কাজের ভিড়ে আমার কবিতাগুলো বেশ কষ্ট পেয়েছে। ওদের শরীরে হাত দিয়েছি , ওদের ঠিকঠাক গড়ে নিয়েছি বেশ কষ্ট করে। আচ্ছা ওরা তো আমার সন্তান। ওদের কে কি আমি মানুষের ভালোবাসার পাত্র করে গড়ে তুলতে পারলাম শেষ পর্যন্ত? ছেড়ে দিলাম আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। তাঁরাই আলোচনা সমালোচনা করে নাহয় ঠিক করে নেবেন। বিচ্ছিন্ন কবিতারা আপনাদের ছোঁয়ার অপেক্ষায় প্রিয় পাঠক। দেখা হবে বইমেলায় যদি বেঁচে থাকি।

উল্লেখ্য, ফারজানা করিমের জন্ম ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা সবই চট্টগ্রামে। পড়ালেখা শেষ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া থেকে। ২০০৩ সাল থেকে এখন অবধি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

;

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;