Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

সুস্থ জাতি গঠনে মা ও শিশুর বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ

সুস্থ জাতি গঠনে মা ও শিশুর বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ
বক্তব্য রাখছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সুস্থ সবল জাতি গঠনে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সুস্থ জাতি গঠনে মা ও শিশুর বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুততর গতিতে অগ্রসর হওয়ার মূলে রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন।

বুধবার (২৪ জুলাই) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) উইন্ডি টাউন হলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতর আয়োজিত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।

স্পিকার বলেন, ‘মা ও শিশুর কল্যাণে এই কর্মসূচি মাইলফলক। মা ও শিশুর পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সুস্থ সুন্দর জাতি গঠনে মা ও শিশুর বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কর্মসূচির আওতায় ৯টি সেবাকে একীভূত করে সুবিধাভোগী মায়েদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা নিঃসন্দেহে একটি সুস্থ জাতি গঠনে সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য ০-১০০০ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময়ই তাঁর মস্তিষ্কের ও স্নায়ুর বিকাশ হয়। একারণে মায়ের গর্ভ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত ভিন্নভিন্ন ভাগে ভাগ করে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচিতে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দরিদ্র শিশু ও মায়ের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, সূচনা ফাউন্ডেশন মা ও শিশুর পুষ্টি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেছে। সকলের সমন্বিত প্রয়াস মা ও শিশুর জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) শেখ মুজিবুর রহমান এনডিসি, জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ রিচার্ড রাগান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুন নেছা ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইনুল কবীর প্রকল্পের কার্যক্রমের ভিশন ও রূপরেখার উপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার হেড অব প্রোগ্রাম রেজাউল করিম।

পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতরের 'মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও লোগো উন্মোচন করেন। উল্লেখ্য মা ও শিশু সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডাব্লিউ এফ ও)।

আপনার মতামত লিখুন :

স্বাধীনতাবিরোধীদের সরকারি ভাতার অর্থ ফেরত নেয়ার দাবি

স্বাধীনতাবিরোধীদের সরকারি ভাতার অর্থ ফেরত নেয়ার দাবি
সংসদীয় কমিটি

স্বাধীনতাবিরোধীদের সঠিক তালিকা তৈরি করার জন্য মন্ত্রণালয়কে তাদিগ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে যে সব স্বাধীনতাবিরোধী সরকারি ভাতা নিয়েছে তাদের সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে বলেছে কমিটি। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

রোববার (২৫ আগস্ট) সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব করা হয়। শুধু তাই নয়, ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য দলের যেসব এমপি ছিল তাদেরও একটি তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা চেয়েছি এবং রাজাকারদের মধ্যে যারা সরকারি ভাতা নিয়েছে তাদের সেই অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলের যারা এমপি ছিলেন তাদেরও একটা তালিকা করার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের যেসব সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধারে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয় বৈঠকে। কমিটির আহ্বায়ক শাজাহান খান। অন্য সদস্যরা হলেন—কাজী ফিরোজ রশিদ, এ বি তাজুল ইসলাম ও মইনউদ্দীন খান বাদল।

বৈঠকে আলোচনায় উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিদর্শন ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নে সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) আইনের বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সভায় একটি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে স্থায়ী কমিটির সভায় জানানো হয়। প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স শহর থেকে বিচ্ছিন্ন স্থানে নির্মাণ না করে যথোপযুক্ত স্থাণে নির্মাণের জন্য বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মইনউদ্দীন খান বাদল, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, এ বি তাজুল ইসলাম এবং কাজী ফিরোজ রশিদ অংশ নেন।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সেফ জোন সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যগণকে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে আগস্ট মাসকে শোকের মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বৈঠকে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং নিরীহ মানুষকে রক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত যে সকল বাংলাদেশি দালাল চক্র অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

এদিকে নানা আয়োজনের পরেও শেষ মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে না পারায় কমিটিতে হতাশা প্রকাশ করার পাশাপাশি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি ও মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত এনজিওদের কার্যক্রম মনিটরিং এর ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যেসহ বিভিন্ন দূতাবাসে ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের হয়রানিরোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বর্তমান অর্থবছরে বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সফল ও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয় ও ফেরত না যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র