Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ন্যাম ভবনের বাসায় কত মধু?

ন্যাম ভবনের বাসায় কত মধু?
উপরের সারিতে কৃষিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী , নিচের সারিতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং পরিবেশ উপমন্ত্রী।
শাহজাহান মোল্লা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা হয় সরকারের পক্ষে। সংসদ সচিবালয় থেকে প্রত্যেক এমপির জন্য নাখালপাড়া ও মানিকমিয়া এভিনিউয়ে অবস্থিতি ন্যাম ভবনে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। এমপিদের চাহিদার ভিত্তিতে সংসদ সচিবালয় এই বাসা বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। যতদিন তিনি সংসদ সদস্য থাকবেন ততদিন পরিবার নিয়ে ওই বাসাতেই থাকবেন। তবে কেউ যদি বাসা বরাদ্দ না নেন তাতেও কোন আপত্তি নেই সংসদ সচিবালয়ের।

আর যখন সংসদ সদস্যগণ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়ে যান তখন তাদের ঠিকানা হয় মন্ত্রিপাড়ায়। মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া এমপিগণ তাদের পূর্বের বাসা ছেড়ে উঠবেন মন্ত্রী হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া নতুন বাসায়। দশম সংসদের অনেক সদস্যই একাদশ সংসদেরও সদস্য। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপিরা। একাদশ সংসদ গঠনের পর মন্ত্রিসভায় যাদের নাম উঠেছে ন্যাম ভবনে তাদের নামে পূর্বের বরাদ্দকৃত বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা। সরকার গঠনের ৭ মাস হতে চলল এখনো ন্যাম ভবনের বাসা দখলে রেখেছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী।

সংসদ সচিবালয় থেকে বাসা ছাড়ার জন্য কয়েক দফা নোটিশ দিয়েও কাজে আসেনি। তাই শেষ পর্যন্ত অভিযোগ গেছে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সদ্য শেষ হওয়া তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন ১১ জুলাই সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় নাম উল্লেখ না করে ন্যাম ভবনে বাসা দখল করে থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের ভৎসনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী ওইসকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ন্যাম ভবনের বাসা যদি এতই ভাল লাগে তাহলে মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে দিন, এখানে চলে আসুন। আর আপনাদের বাসা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের ড্রাইভার, পিয়ন, আত্মীয় থাকার জন্য না। বাসায় যারা থাকেন না তারা বাসা ছেড়ে দেন।”  

ওইদিনের সভার পর অনুসন্ধান করে দেখা গেছে ২ মন্ত্রী, ৪ প্রতিমন্ত্রী ও এক উপমন্ত্রী ন্যাম ভবনের বাসা দখলে রেখেই মন্ত্রিপাড়ার বাসাতে থাকছেন। তাদের মধ্যে দুইজন আবার সেদিনের পর ন্যাম ভবনের বাসা ছেড়ে গেলেও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বুঝিয়ে না দিয়েই চলে গেছেন। যে কারণে ওই দুইজনের বাসা এখনো তাদের দখলে রয়েছে মর্মে কাগজে রয়েছে। এ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে কথা উঠেছে ন্যাম ভবনের বাসায় কত মধু যে মন্ত্রিপাড়ার বাসা পাওয়ার পরেও তারা বাসা ছাড়ছে না। অনেকে আবার বলছেন আমি থাকব দেখি কি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563352664638.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ন্যাম ভবনের বাসায় আসলে ওই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের মধ্যে অনেকেই থাকেন না, কেউ কেউ মাঝে মাঝে দুই একদিন আসেন, আবার চলে যান। ওই বাসায় মূলত তাদের আত্মীয়রা থাকেন।

মন্ত্রিপাড়ার বাসা থাকা সত্ত্বেও ন্যাম ভবনের বাসা দখলে থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন-কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, এর বাইরে নবনিযুক্ত নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা তার নামে ন্যাম ভবনে বরাদ্দকৃত বাসা এখনো তিনি বুঝে নেননি। যেহেতু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তাই সেই বাসায় আর হয়ত উঠবেন না।

এদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ন্যাম ভবনের বাসায় নিজে থাকেন না। তাদের আত্মীয়রা ওই বাসায় থাকেন। আর নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী দুই দিন আগে ন্যাম ভবনের বাসা ছেড়ে গেলেও এখনো তারা সংসদ সচিবালয়কে তাদের সেই বাসা বুঝিয়ে দেননি। আর সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেখতে চান শেষ পর্যন্ত কি হয়।

অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ন্যাম ভবনের বাসাতেই থাকার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। আর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যও তার ন্যাম ভবনের বাসাতে মাঝে মাঝে আসেন, অন্য সময় খালিই থাকে।

এ বিষয়ে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, সংসদ নেতার নির্দেশে আমরা ওইসকল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের নোটিশ করব, আগেও করিছি, এবার চূড়ান্ত নোটিশ। মন্ত্রীদের মধ্যে যারা বাসা ছাড়বেন না তাদের কাছ থেকে ভাড়া কেটে রাখা হবে। আশা করছি, তারা বাসা ছেড়ে দেবেন।  

আপনার মতামত লিখুন :

দশম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা

দশম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা
জাতীয় সংসদ, ছবি: সংগৃহীত

দেশের যুব সমাজকে কর্মমুখী করে তোলার জন্য ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এজন্য কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা নামক তিনটি বই প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে সিলেবাসের কাজ শেষ হয়েছে। এই বই তিনটি ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে। ইতোমধ্যে বইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২০২১ সাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এ কে এম শাহাজাহান কামাল, ফজলে হোসেন বাদশা, মো. আবদুস সোবহান মিয়া ও গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি বৈঠকে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষা ধারার (বিদ্যালয় ও মাদরাসা) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সাল থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক কোর্স চালু করার লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এ পর্যন্ত কয়েকটি সভা করেছে। নবম-দশম শ্রেণির (বিজ্ঞান/মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা) শাখায় কারিগরি শিক্ষার বই বাধ্যতামূলক করার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সিলেবাস তৈরির জন্য প্রাথমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২ মে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম)-এর সভাপতিত্বে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাক বৃত্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক কোর্স চালু করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বই সম্পাদনের কাজ চলমান আছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগের বৈঠকে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষায় কর্মমুখী শিক্ষা চালুর সুপারিশ করেছিলাম। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অগ্রগতি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হবে। এজন্য কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা ১, ২ ও ৩ নামক তিনটি বই প্রণয়নের জন্য সিলেবাস তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে প্রতিটি শ্রেণিতে প্রতি বছরের জন্য নির্ধারিত সিলেবাস শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় কিনা তা মনিটরিং করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু ৮ সেপ্টেম্বর
জাতীয় সংসদ ভবন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন কার্যসূচি শুরু হচ্ছে। বুধবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সংবিধানের ক্ষমতাবলে এই অধিবেশনের আহ্বান করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন তিনি।

এর আগে গত ১১ জুন একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় তথা বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই অধিবেশন গত ১১ জুলাই শেষ হয়। এই অধিবেশনে গত ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়, যা গত ৩০ জুন পাস হয়।

আরও পড়ুন: বাজেট অধিবেশন শেষ

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র