Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা
সংসদে সাবের হোসেন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, 'শুধু তামাকের কারণে দেশে মারা যায় এক লাখ ৬১ হাজার ২৫৩ জন। যা মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ। আর তামাকের জন্য দেশে প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।'

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব বলেন।

তিনি বলেন, 'মোট বাজেটের এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট, সেখানে কেন আমরা তামাকে ছাড় দিচ্ছি। তামাক কোম্পানিকে শুধু তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় দিচ্ছি। প্রতিটি সিগারেটের ওপর মাত্র ৫০ পয়সা কর বসাই তাহলে মোট রাজস্ব আয় হবে চার হাজার কোটি টাকা। তাহলে কেন আমরা তামাককে ছাড় দিচ্ছি।'

এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'দেশে ধনী ও দরিদ্রের মাঝে যে বৈষম্য তা থেকে যাচ্ছে। আয়ের মধ্যে এ বৈষম্য বাড়ছে আর সম্পদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বাড়ছে। আমরা যদি এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে আমাদের যে অর্জন, সেটা টেকসই করতে পারব না। আরও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়, জিডিপি বাড়ছে কিন্তু আমাদের বেকারত্বের হার কমছে না। এখনো বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এখানে যেটা উদ্বেগের কারণ সেটা হলো শিক্ষিত বেকার। যারা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছে তাদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি, কিন্তু যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছে তাদের হার কিন্তু ২ দশমিক ৭ শতাংশ। যারা শিক্ষিত তাদের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ যত বেশি শিক্ষিত হচ্ছে ততটা তার বেকার থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এটা কখনো আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'

তিনি আরও বলেন, 'সময় এসেছে বেকার ভাতা করার। যারা বেকার রয়েছে তাদের যদি আমরা ভাতা দিতে পারি তাহলে তাদের হতাশা দূর হবে। তারা মনে করছে, তারা সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা, এর থেকে তাদের বের করে আনতে পারি। বর্তমানে যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বেকার, তাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৮ হাজার (পরিসংখ্যান ব্যুরো), তাদের যদি বেকার ভাতা দিই তাহলে আসবে ২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা বেকার ৪ লাখ ৫ হাজার, তাদেরকে যদি আমরা ৭৫০০ করে বেকার ভাতা দিই তাহলে খরচ হবে সব মিলিয়ে খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। দেশের ১০ লাখ বেকারকে একটা ছাতায় আনতে পারব।'

এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'আমরা শিক্ষায় মাত্র জিডিপির ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামে জানিয়েছি জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করব। এখন যে মিসম্যাচটা আছে, আমাদের শিক্ষা খাতটা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দেখা।'

আপনার মতামত লিখুন :

ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

ফের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হওয়ায় সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক, ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সেফ জোন সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যগণকে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে আগস্ট মাসকে শোকের মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

বৈঠকে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং নিরীহ মানুষকে রক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত যে সকল বাংলাদেশি দালাল চক্র অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তারা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

এদিকে নানা আয়োজনের পরেও শেষ মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে না পারায় কমিটিতে হতাশা প্রকাশ করার পাশাপাশি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি ও মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত এনজিওদের কার্যক্রম মনিটরিং এর ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যেসহ বিভিন্ন দূতাবাসে ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিক বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের হয়রানিরোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বর্তমান অর্থবছরে বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সফল ও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয় ও ফেরত না যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মো. আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন) অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক, মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খোরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তরুণদের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষা জরুরি

তরুণদের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষা জরুরি
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এক কর্মশালায় স্পিকার শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

দেশের তরুণ সমাজকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, 'দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাই নারী ও শিশুকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের তরুণ সমাজকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরি।

এ সময় তিনি তরুণদের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগাতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, 'কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামূলক আলোচনা সংশ্লিষ্টদের জানার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। নতুন সংসদ সদস্যবৃন্দের অবহিতকরণের জন্য কর্মশালা আয়োজনের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর প্রতি সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় ব্যাপকভাবে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।'

এ সময় তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করতে এসপিসিপিডি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

স্পিকার বলেন, 'মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ল্যাকটেটিং ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, পুষ্টি কার্যক্রম এবং মা ও শিশু সহায়তা কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।'

এ সময় তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যুব উন্নয়ন ও মাতৃ স্বাস্থ্য উন্নয়নে সংসদ সদস্যগণকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসপিসিপিডি'র প্রকল্প পরিচালক এম এ কামাল বিল্লাহ।

কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম। মুক্ত আলোচনা সেশন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।

কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ. ফ. ম রুহুল হক, অ্যারোমা দত্ত এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল হক। কর্মশালায় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র