Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে এমপিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে এমপিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি
সংসদ অধিবেশন ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীর ফাইল ছবি
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

শর্ত সাপেক্ষে এমপিওভুক্তিতে নারাজ সংসদ সদস্যরা। প্রত্যেক এমপির জন্য দুই-চারটা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমরা নির্বাচনে আগে কথা দিয়েছিলাম এমপি হলে স্কুল এমপিওভুক্ত করে দেব। কিন্তু আজকে যখন বিশেষ ব্যবস্থায় এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে, এতে স্বচ্ছতা আসছে সত্য। কিন্তু শর্ত আরোপ করছেন। এই শর্ত কার ওপর আরোপ করছেন? যে শিক্ষক ২০ বছর ২১ বছর বেতন ছাড়া পাঠদান করছেন, তার ওপর কি শর্ত চলে?

তিনি বলেন, স্থানীয় সমাজসেবক দুই-তিন বিঘা জমি দান করেছেন। নিজের টাকা দিয়ে ঘর করে দিয়েছেন। সেখানে শর্ত প্রয়োগ করে সেটাকে এমপিওভুক্তির বাইরে দিচ্ছেন। আমরা এলাকায় ভোট চাইব কিভাবে? তাই শর্ত শিথিল করে প্রত্যেক এমপিকে যেন একটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তারা যেন দুই-চারটা প্রতিষ্ঠানকে তাদের এলাকায় এমপিওভুক্ত করতে পারে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরো বলেন, বিরাজনীতিকরণের দিকে যাওয়া যাবে না। রাজনীতিবিদদের আরো ক্ষমতায়ন করতে হবে। ওয়ার্ড মেম্বার থেকে এমপি পর্যন্ত যখন ক্ষমতায়ন হবে, তখনই সেই দেশে রাজনীতি ভালো হবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সদ্যসমাপ্ত শেষ ধাপের ভোটগ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, উপজেলা ভোটের অধিকাংশ উপজেলায় ভোট কাস্টিং হয়েছে ১৮ শতাংশ। ক্ষমতার অপপ্রয়োগের কথা বাদই দিলাম। একটা নির্বাচনে ১৮ শতাংশ ভোট কাস্ট হচ্ছে কেন? কারন, রাজনীতিবিদদের ক্ষমতায়ন কমে যাচ্ছে। মানুষ বলছে কেন রাজনীতিবিদদের ভোট দেব? ভোট দিয়ে কী হবে? তারা তো আমাদের উপকার করতে পারবে না। এই ট্রেন্ড থেকে ফিরে আসা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে ধন্না দেওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মন্তব্য করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় টিকবে কিভাবে?

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বাজেট আমাদের স্বর্গেও নিয়ে যাবে না আবার নরকেও ফেলে দেবে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, এতে তারল্য সঙ্কট বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন :

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বেশ সুদৃঢ়।'

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত অবহিতকরণ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসডিজি বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

স্পিকার বলেন, 'এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসডিজির সঙ্গে সংসদ সদস্যগণকে অধিক সম্পৃক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, যা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।'

এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী মিশন গৃহীত পদক্ষেপসমূহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

'২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস' সম্পর্কিত অপর এক আলোচনায় স্পিকার বলেন, 'ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলায় এজলাসে খুন

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলায় এজলাসে খুন
সংসদ ভবন, ছবি: সংগৃহীত

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই এজলাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কোন বিভাগ বা কারা এর জন্য দায়ী, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে তদন্ত প্রতিবেদনও দিতে বলেছে কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে বলেছে সংসদীয় কমিটি। এদিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনই মতামত প্রকাশ করার সময় আসেনি বলেও কমিটিকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে তদন্ত শেষে জনসন্মুখে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে, আইনের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি শামসুল হক টুকু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে খুনের ঘটনায় আমরা খুবই দুঃখিত। এজন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত করে দেখবে কারা দায়ী। আমি সাংঘাতিকভাবে বলেছি—অন্য জায়গায় একটি দুর্ঘটনা আর আদালতে দুর্ঘটনা একভাবে দেখলে চলবে না। এটা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোর্টের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুর্বলতা আছে কিনা, তদন্ত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। ভালো করে তদন্ত করে এর কারণ নিরূপণ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই আদালতে খুন হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে বিচারকের সামনে এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌসের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও ঘাতক মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং দুজনই একটি হত্যা মামলার আসামি। নিহত ফারুক কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার অহিদ উল্লাহর ছেলে। ঘাতক হাসানের বাড়িও একই এলাকায়। ঘটনার পর হাসানকে আটক করা হয়েছে।

সম্প্রতি বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও কমিটির বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে এজেন্ডার বাইরে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। যেহেতু হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা নিয়ে কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রিফাত হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনো এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় আসেনি। অপরাধী যেই হোক তার পরিচয় জনসাধারণের সামনে উন্মুক্ত করা হবে, আইনের মুখোমুখি করা হবে।

এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। কেউ মাদকের বিষয়ে কোন আপস করবে না এমনটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। এছাড়া মাদক নির্মূলকাজে আনসার ভিডিপিকে কাজে লাগানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নের নিমিত্ত ‘মাদকাসক্ত শনাক্তকরণ ডোপ টেস্ট প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকালে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করা হবে।

কমিটি রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করে।

কমিটি’র সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. আফছারুল আমীন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।

এছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র