Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে শাস্তি বাস্তবায়নের দাবি নাসিমের

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে শাস্তি বাস্তবায়নের দাবি নাসিমের
সংসদে নাসিম, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, 'পলাতক খুনিদের এনে শাস্তি বাস্তবায়ন করা হোক। খুনিদের দণ্ড কার্যকর করা হোক। দ্রুত যেন শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়। দীর্ঘদিনের বিষয়টি মীমাংসা হওয়া উচিত। এই বিষয়ে কী করা হয়েছে, সংসদে জানাতে অনুরোধ করব।'

বুধবার (১২ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অফ অর্ডারে তিনি এ দাবি জানান।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'নোটিশ দিয়েছিলাম, ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার পর কয়েকজন খুনি স্বঘোষিত কিলার, দীর্ঘদিন বিচারের বাইরে ছিল। মোস্তাক, জিয়াউর রহমান সেই বিচার বন্ধ করেছে সামরিক অধ্যাদেশ জারি করে পাস করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ওই বিলম্বিত প্রলম্বিত বিচারটি করেছিলেন। খুনিদের অনেককে গ্রেফতার করে তাদের বিচার হয়েছিল। যদিও বিচার কার্য বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত যখন ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে তখন এই খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে। এই সংসদে খুনি রশিদকে বিরোধী দলের আসনে বসানো হয়েছিল, বিএনপি-জামায়াতের সময় এই সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল।'

তিনি বলেন, 'অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে। নূর, রশিদসহ অনেকেই পলাতক আছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এখানে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই খুনিরা বিদেশ থেকে চক্রান্ত করছে। একটি নির্বাচিত সরকার উৎখাত করার জন্য বার বার চক্রান্ত করেছে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে বার বার ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য চক্রান্ত করা হয়। পরবর্তীকালে এক এগারো করে প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়।'

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'আমেরিকা-কানাডা মানবাধিকারের কথা বলে, লন্ডন-চায়না মানবতার কথা বলে। নূর স্বঘোষিত খুনি, রশিদ দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি, কী করে বাইরে থাকে, চিহ্নিত করা হয়েছে তাদেরকে, বার বার বলা হয়েছে, তারা ফিরে আসে না কেন? শুধু তাই না লন্ডনে দণ্ডিত পলাতক আসামি বসে আছে, একই লক্ষ্যে বসে আছে। খুনি এবং এদের একই লক্ষ্য, নির্বাচনে বানচাল করে অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনা। কী কারণে আজকে কয়েক যুগ হয়ে গেলেও এই খুনিকে প্রত্যাবর্তন করা যাচ্ছে না, কেন?'

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, 'তারা কীভাবে বিদেশে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আছেন, আইন মন্ত্রী আছেন, এই পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে শাস্তি বাস্তবায়ন করা হোক। খুনিদের জন্য দণ্ড কার্যকর করা হোক।'

আপনার মতামত লিখুন :

জিয়া মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, স্বীকার করলেন বিএনপি’র হারুন

জিয়া মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, স্বীকার করলেন বিএনপি’র হারুন
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি’র সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ, পুরনো ছবি

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: এত দিন সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে বলা হচ্ছিল, এই দেশে মদ-জুয়ার লাইসেন্স দিয়েছে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এমনকি কয়েক দিন আগে বাজেট বক্তৃতায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তবে এবার সেই কথা স্বীকার করলেন খোদ বিএনপি’র সংসদ সদস্য ও যুগ্ম মহাসচিব মো. হারুনুর রশীদ।

তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমান মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, কিন্তু মদের লাইসেন্স কি মুসলমানদের জন্য? তার এই কথায় মদের পক্ষে সাফাই গাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। মতিয়া চৌধুরীর সেদিনের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, জিয়াউর রহমান মদের লাইসেন্স দিয়েছেন, কিন্তু মদের লাইসেন্স কি মুসলমানদের জন্য? তখন মদের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলা হয়েছে। আবার ভেতরে বলা হয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সমমর্যাদা, সমঅধিকার নিশ্চিত করবে। এই দেশে সাওতালরা তাদের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে মদ্যপান করেন, ডোমরা মদ পান করেন, সুইপাররা পান করেন। এখানে বিদেশি কর্মীরা রয়েছেন, যাদের মদ লাগত।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, যে সমস্ত মদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, কোথাও কি দেখাতে পারবেন ওই লাইসেন্সের মধ্যে মুসলমানদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে? মদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল শর্ত স্বাপেক্ষে। শর্ত না থাকলে আমরা অনেকেই মদ পান করে সংসদে চলে আসতাম। তখন কোনো আইন ছিল না মদ বন্ধ করার। কেউ যদি মদ পান করে সংসদে প্রবেশ করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাহিনী আমাদের ধরে নিয়ে তার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ক্ষমতায় তো আছেন বিশ বছর ধরে। জিয়াউর রহমানের করা আইনটা কেন আপনারা বাতিল করে দেন না? এটা সংশোধন করেন না?

একাদশ সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তোলেন হারুনুর রশীদ। বলেন, যে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এই সংসদ নির্বাচনে আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি, পরের দিন গণনা। যে কারণে এই পার্লামেন্টকে বলা হচ্ছে, মধ্যরাতের পার্লামেন্ট। নির্বাচনে ভোটাররা প্রতারিত-অপমানিত হয়েছেন। স্বচ্ছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা! যখন চুরি তরে তখন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চুরি করে, কারণ ধরা পড়লে উত্তম মধ্যম পড়বে, তাই সতর্ক। যে কারণে বলা হয়, চোরের দশ দিন গেরস্তের একদিন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশতি প্রতিবেদনের রেফারেন্স দিয়ে ভোটের অনিয়মের কথা তুলে ধরেন বিএনপির এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ ভোটের ফলাফল সঠিকভাবে প্রকাশ করা, আমরা কি বলতে পারি, ৩০ ডিসেম্বর ইসি সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে? নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ, অযোগ্য। কোনো সদস্য নেই, কেউ বলবে না এই কথা অসত্য।

হারুনুর রশীদ বলেন, এই সরকারের আমলে গত ১০ বছরের নিখোঁজ হয়েছে প্রায় ১২০০ মানুষ। গুম ও ক্রস ফায়ারের শিকার কতজন হয়েছেন, তা আমি জানি না।

‘অনেক মন্ত্রী বলেন, বিএনপি রাস্তায় দাঁড়াতে পারে না। আজকে বিএনপির কত নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন? বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন? এর হিসেব চাইলে আমি স্পষ্ট দেব। আজ বিএনপি মহাসচিবের নামে ৮৪টি মামলা! অবাক লাগে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গায়েবি কোনো মামলা নেই, সাবেক স্পিকার জমির উদ্দীন সরকারের বয়স ৮৪ বছর, খন্দকার মাহবুবরের বয়স ৮৪ বছর, আজকে তারা নাকি হাতিরঝিলে বসে বোমা তৈরি করেছেন, নাশকতায় লিপ্ত ছিলেন! এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে হয়।’ 

‘স্বারষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গায়েবী মামলা বলে কিছু নেই। আমি স্বরাষ্ট্রন্ত্রীকে বলবো আপনি একটা তদন্ত কমিটি করে দেন। গত দশ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কম করে হলেও ৯০ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। এই ৯০ হাজার মামলার মধ্যে অধিকাংশই ভুয়া। প্রায় ২৫ লাখ নেতাকর্মী আসামি হয়েছে। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাদের গ্রেফতার করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আজকে আমাদের সংকট থেকে বেরিয়ে অসতে হবে। আজকে জাতীয় যে কৌশল তৈরী হয়েছে, এখানে কৌশলের কথা নয়। সংসদ নেতাকে পথ বের করতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু পরিবারের হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন দিয়ে হত্যকাণ্ডের বিচার বন্ধ করা যায় না। আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, ৭৫ সালের হত্যকাণ্ডের বিচার যারা বন্ধ করেছিল, সেটা সম্পূর্ণ কোরআনের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, এই সরকার অদ্ভুত সরকার। কিছু দিন আগে মহাজোটে ভোট করলেন। ভোট করার পরে এখানে মহাজোটের শরিকদের বিরোধী দলে বসিয়ে দিলেন। আজকে মহাজোটের শরীকদের চেহারা কিন্তু মলিন, এটা হয় না। ছয় মাস আগে একসাথে কাজ করলাম, একসাথে ঘর করলাম, এখন আপনি বলছেন বিরোধিতা করতে, এটা কি হয়?

বিএনপি নেতা বলেন, আমরা নির্বাচনে গিয়েছি, এই নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন দেখিনি। এ নির্বাচনে আমাদের ২২ জন প্রার্থী গ্রেফতার হয়েছেন, প্রায় ৪০ জন প্রার্থী আহত হয়েছেন। অতীতের কোনো নির্বাচনে এমন হয়নি। বালিশ-কাণ্ডের বালিশ মাসুদ বুয়েটের ছাত্র ছিল না, ভিপিও ছিল না। আর বিএনপির একজন ভিপি রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের গুরু দায়িত্ব পালন করবে, এটা কি সম্ভব?

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ হচ্ছে

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ হচ্ছে
সংসদ অধিবেশন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্লট উন্নয়ন ও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি জানান, বিভিন্ন উৎসের অর্থায়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় এ সংক্রান্ত ৪১টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য মো. আফজাল হোসেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের বেগম হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে গণপূর্তমন্ত্রী জানান, যেসব সংসদ সদস্যের ঢাকায় প্লট বা ফ্ল্যাট নেই তারা আবেদন করলে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হবে।

তিনি আরো জানান, রাজউকের আওতাধীন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাট বর্তমানে অবরাদ্দকৃত অবস্থায় রয়েছে। সংসদ সদস্য ক্যাটাগরিতে সঠিক আবেদনকারীদের অনুকূলে ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ করা হবে।

জাসদের সদস্য বেগম শিরীন আখতারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিএনবিসি ২০১০ এর বিধি-বিধান প্রতিপালন করা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল দফতর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক।  বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট থাকে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্মাণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকায় পরিত্যাক্ত সরকারি বাড়ির মধ্যে ‘ক’ তালিকার বিক্রয়যোগ্য পরিত্যাক্ত বাড়িগুলো শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের অনুকূলে বরাদ্দ ও বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র