Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

শাহরিয়ারের বদলি গ্রহণযোগ্য ছিল না: প্রধানমন্ত্রী

শাহরিয়ারের বদলি গ্রহণযোগ্য ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/ ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বড় বড় জায়গায় হাত দিলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হঠাৎ কিছু পত্রিকা লেখালেখি শুরু করে দেয়। যে যাই লেখে, লেখুক। আমরা দেখব সঠিক কিনা। রমজান মাসে আমি দেশে ছিলাম না। তখন একটি ঘটনা ঘটে।’

গত রমজান মাসে আড়ং-এর জরিমানা করায় ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি মোটেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিই। আমি বলেছি, তাকে ঐ দায়িত্বে আরও দিতে হবে।’

সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর করতে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিসহ সকল স্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোনো দেশের আর্থিক উন্নতি ঘটলে কিছু ক্ষেত্রে টাউট বাটপার বা বিভিন্ন ধরনের সুযোগসন্ধানী লোক সৃষ্টি হয়। তাদের দমন করা শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সম্ভব না, এটা সামাজিকভাবেও করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের সমাজের বিভিন্ন মানুষ যেমন শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্টজন জনপ্রতিনিধি আছেন, তাদের বলব প্রত্যেক এলাকায় একটা কমিটি করুন। এ ধরনের কোনো অন্যায় করতে দেখলে কেউ যেন প্রশ্রয় না দেয়।’

বুধবার (১২ জুন) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি কোনো ধরনের অপরাধের সাথে আমাদের দলের কেউ সম্পৃক্ত থাকে আমি তাদেরকেও ছাড় দিচ্ছি না, ছাড় দেব না। আর অন্য কেউ যদি করে, তারা তো ছাড় পাবেই না। শাসনটা ঘর থেকেই করতে হবে, তাই করছি। আইন-শৃঙ্খলার কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে, জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560346534725.jpg

তিনি বলেন, ‘খুব নামিদামি জায়গায় যেকোন খারাপ কিছু হবে না বা তাদের মালিকরাও তো এই গ্যারান্টি দিতে পারবেন না। অর্থশালী সম্পদশালী হলেই তাদের হাত দেওয়া যাবে না, তাদের অপরাধ অপরাধ না, এটা তো হয় না। অপরাধী সে অপরাধীই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘুষ যে গ্রহণ করবে আর ঘুষ যে দেবে, উভয়ই অপরাধী, দুইজনকেই ধরা হবে। শুধু ঘুষ নিলে তাকে ধরা হবে, তা নয়। যে দেবে তাকেও ধরা হবে। কাজেই যে দেবে ও নেবে উভয়ই অপরাধী। অপরাধের যারা উস্কানিদাতা তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে চাই।’

এর আগে রওশন আরা মান্নানের একটি প্রশ্ন সঠিক হয়নি বলে বাদ দিতে বলেন সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম। এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নটা আমি ভালমতো দেখেই গ্রহণ করি। সংস্থার কেউ কেউ দুর্নীতিবাজ বলে জনশ্রুতি আছে, কথাটা একেবারে মিথ্যা না। আর সবাই তো ধোয়া তুলসিপাতা না। কেউ বলতে পারবেন না, সবাই ১০০ ভাগ সৎ।’

‘দুর্নীতি দমনই বলেন আর খাদ্য নিরাপত্তা অধিদফতর বলেন সব ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন এমন অনেক বড় জায়গা আছে, যেখানে হাত দিলেই মনে হয় হাতটা পুড়ে যাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানে যারা অপরাধ ধরতে যায়, তারাই যেন অপরাধী হয়ে যায়, আর কিছু পত্রিকা আছে সাথে সাথে লেখালেখি শুরু করে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে সঠিক তথ্য জেনে সেটা করার বিষয়ে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রেল দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে নয়, বললেন মন্ত্রী

রেল দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে নয়, বললেন মন্ত্রী
সংসদ অধিবেশন ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন | ফাইল ছবি

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনা সেতু ভেঙে ঘটেনি বলে সংসদে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। সংসদে বিরোধী পক্ষের দুই সংসদ সদস্যের ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবির প্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী বলেন, কোনো দুর্ঘটনাই কাম্য নয়। ২০১৪ সালের পরে দেশে এই প্রথম কোন রেল দুর্ঘটনা ঘটল।

তিনি বলেন, বলা হয়েছে—সেতু ভেঙে রেল দুর্ঘটনা হয়েছে। এটি সঠিক নয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন মৌলভীবাজার থেকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতাম মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার ঘটার পর রোববার রাতেই রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে যান। এখানে পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর যেহেতু সেখানে ব্রিজ ছিল সেই ব্রিজ থেকে দুটি বগি পড়ে গেছে। মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার সময় এটা চালু হয়েছে।

রেলমন্ত্রী আরো বলেন, ইতিমধ্যেই আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ করা হয়েছে। এটা সত্য যে, দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনগুলো সংস্কার হয়নি। বিগত সরকারগুলো এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকার প্রত্যেক এলাকার মিটারগেজ লাইন ডাবল গেজ লাইনে রূপান্তর করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে এড়ানো যায় তা দেখা হবে।

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা

তামাকের জন্য প্রতিবছর ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা
সংসদে সাবের হোসেন চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, 'শুধু তামাকের কারণে দেশে মারা যায় এক লাখ ৬১ হাজার ২৫৩ জন। যা মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ। আর তামাকের জন্য দেশে প্রতিবছর ক্ষতি হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।'

সোমবার (২৪ জুন) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব বলেন।

তিনি বলেন, 'মোট বাজেটের এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট, সেখানে কেন আমরা তামাকে ছাড় দিচ্ছি। তামাক কোম্পানিকে শুধু তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় দিচ্ছি। প্রতিটি সিগারেটের ওপর মাত্র ৫০ পয়সা কর বসাই তাহলে মোট রাজস্ব আয় হবে চার হাজার কোটি টাকা। তাহলে কেন আমরা তামাককে ছাড় দিচ্ছি।'

এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'দেশে ধনী ও দরিদ্রের মাঝে যে বৈষম্য তা থেকে যাচ্ছে। আয়ের মধ্যে এ বৈষম্য বাড়ছে আর সম্পদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বাড়ছে। আমরা যদি এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে আমাদের যে অর্জন, সেটা টেকসই করতে পারব না। আরও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়, জিডিপি বাড়ছে কিন্তু আমাদের বেকারত্বের হার কমছে না। এখনো বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এখানে যেটা উদ্বেগের কারণ সেটা হলো শিক্ষিত বেকার। যারা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছে তাদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি, কিন্তু যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করেছে তাদের হার কিন্তু ২ দশমিক ৭ শতাংশ। যারা শিক্ষিত তাদের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ যত বেশি শিক্ষিত হচ্ছে ততটা তার বেকার থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এটা কখনো আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।'

তিনি আরও বলেন, 'সময় এসেছে বেকার ভাতা করার। যারা বেকার রয়েছে তাদের যদি আমরা ভাতা দিতে পারি তাহলে তাদের হতাশা দূর হবে। তারা মনে করছে, তারা সমাজ ও দেশের জন্য বোঝা, এর থেকে তাদের বের করে আনতে পারি। বর্তমানে যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বেকার, তাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৮ হাজার (পরিসংখ্যান ব্যুরো), তাদের যদি বেকার ভাতা দিই তাহলে আসবে ২ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা বেকার ৪ লাখ ৫ হাজার, তাদেরকে যদি আমরা ৭৫০০ করে বেকার ভাতা দিই তাহলে খরচ হবে সব মিলিয়ে খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। দেশের ১০ লাখ বেকারকে একটা ছাতায় আনতে পারব।'

এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'আমরা শিক্ষায় মাত্র জিডিপির ২.৫ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছি। কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামে জানিয়েছি জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করব। এখন যে মিসম্যাচটা আছে, আমাদের শিক্ষা খাতটা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দেখা।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র