Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে  

সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে   
সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের স্পিকার মি.তান চুয়ান জিনের সঙ্গে পার্লামেন্টস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর/ছবি: বার্তা২৪.কম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করেছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাজেটে নারী ও শিশুদের জন্য মন্ত্রণালয় ভিত্তিক আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ সময় স্পিকার অনুন্নত অবস্থা থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ায় সিঙ্গাপুরের কথা স্মরণ করে বলেন, সিঙ্গাপুরের এই উন্নয়ন বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে।

বুধবার (২৯ মে) সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের স্পিকার মি.তান চুয়ান জিনের সঙ্গে তার তাঁর পার্লামেন্টস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্পিকার একথা বলেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা সংসদীয় চর্চা, ব্যবসা-বাণিজ্য, রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ডিজিটাল রুপান্তর ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার বলেন, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, দু’দেশের সংসদ সদস্যদের সফর ও অভিজ্ঞতার বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নেতৃত্ব ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার যুগোপযোগী পরিকল্পনা ও নীতি বাস্তবায়নের ফলে সকল ক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের অর্জন অনন্য।

ড. শিরীন শারমিন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ৫০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রয়েছে-- যা নির্বাহী বিভাগের কাজে অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। কমিটির সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পরিবর্তে একজন সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে সংসদীয় চর্চায় নবঅধ্যায় সূচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদে ৩০০জন সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং ৫০জন সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিত হন - - মর্মে তিনি সিঙ্গাপুরের স্পিকারকে অবহিত করেন।

স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক চর্চায় বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে । তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশের প্রবৃদ্ধির হার ৮.১  শতাংশ, দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। সরকার জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করেছে- - যেখানে নারী ও শিশুদের জন্য মন্ত্রণালয় ভিত্তিক আলাদা বাজেট রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনুন্নত অবস্থা থেকে আজ সিঙ্গাপুর উন্নত দেশ- - যা বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে । নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশও উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের, ২০২৪ সালে পরিপূর্ণভাবে উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মি. তান চুয়ান জিন বলেন, বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিজিটাল রুপান্তরের বিকল্প নাই। তিনি বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় মি.তান চুয়ান জিন সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের কার্যক্রম সম্পর্কে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অবহিত করেন।

স্পিকার বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্থাপিত ০৫ (পাঁচ) দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ। এ সময় মি.তান চুয়ান জিন রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

এ সময় সংসদ সদস্য আ, ফ,ম রুহুল হক, মো. ইসরাফিল আলম, মীর মোশতাক আহমেদ রবি, আশেক উল্লাহ রফিক, আয়েশা ফেরদাউস, ওয়াসিকা আয়েশা খান, অ্যারোমা দত্ত, নাহীদ ইজহার খানসহ সিঙ্গাপুর পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা, অভাব নেই ত্রাণের

বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা, অভাব নেই ত্রাণের
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের বন্যা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। তবে বন্যা প্রলম্বিত হলেও সরকারের ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে সংসদ ভবনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার বন্যা প্রলম্বিত হতে পারে এমন একটি আশঙ্কা আমাদের রয়েছে। তবে বন্যা প্রলম্বিত হলেও ত্রাণ সামগ্রীর কোনো অভাব হবে না। আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে বলেছি বন্যার কারণে একজন মানুষও যেন কষ্টে না থাকে না খেয়ে কেউ কষ্ট না করে সেই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় কমিটির যে সকল সদস্য ফ্রি আছেন তারা যেন মন্ত্রণালয়ের কাজে সহযোগিতা করতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় যান এবং বন্যার্তদের সহযোগিতা করেন।

এছাড়া দেশের অধিকাংশ কালভার্টের অবস্থা অত্যন্ত করুন। বেশিরভাগই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে বলে কমিটিকে জানানো হয়। এসব কালভার্ট মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন), মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং কাজী কানিজ সুলতানা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বেশ সুদৃঢ়।'

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত অবহিতকরণ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসডিজি বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

স্পিকার বলেন, 'এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসডিজির সঙ্গে সংসদ সদস্যগণকে অধিক সম্পৃক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, যা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।'

এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী মিশন গৃহীত পদক্ষেপসমূহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

'২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস' সম্পর্কিত অপর এক আলোচনায় স্পিকার বলেন, 'ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র