Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান: প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান: প্রধানমন্ত্রী
সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদ নেতা ওই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা শান্তি চাই, সমৃদ্ধি চাই। এখানে আমার দুঃখ লাগে ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে কিছু মানুষকে ধর্মান্ধ করে ফেলা হয়। তাদেরকে ব্যবহার করা হয়। তাদের ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করা হয়। আমার এখানে একটা প্রশ্ন জাগে যারা নিরীহ মানুষ হত্যা করে চিন্তা করে যে তারা বেহেস্তে যাবে, এটা কিভাবে চিন্তা করে? মানুষ হত্যা মহাপাপ। আর যারা নিরীহ মানুষ হত্যা করে তারা কিভাবে বেহেস্তে যাবে?'

সংসদ নেতা বলেন, 'অবাক লাগে কিছু সম্পদশালী ধনী পরিবার উচ্চ শিক্ষিত পরিবার ব্যবহার হচ্ছে। আমি জানি না যারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তারা কিভাবে এভাবে ধর্মান্ধ হয়ে যায়। আমরা চাই এই ধর্মান্ধতা থেকে মানুষ মুক্তি পাক। আর যারা শিক্ষা দিচ্ছে তাদের বলব, আগে আপনারা যান এবং বেহেস্তে গেলেন কি না সেটা আগে জানান তারপর আমরা যাব সেটা অন্তত বলা উচিত। তারপরেও আমাদের সর্তক থাকতে হবে। দেশবাসীকে সর্তক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোথাও কিছু দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।'

আপনার মতামত লিখুন :

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘে স্পিকার

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘে স্পিকার
জাতিসংঘের প্যানেল আলোচনায় স্পিকার শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিকভাবে লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকল্পে গৃহীত প্লাটফর্ম 'প্লানেট ৫০-৫০' অর্জনের জন্য নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের 'টেকসই বিশ্বের জন্য লিঙ্গসমতা ও নারী নেতৃত্ব' শিরোনামে অনুষ্ঠিত লিঙ্গসমতা বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, 'ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার এবং ইতোপূর্বে যে কথা বলা হয়ে ওঠেনি তা বলতে হবে। আর সে সময় এখনই। আসুন, আমাদের প্রতিশ্রুতিসমূহকে বাস্তবে রূপ দেই। আসুন, বাধা হিসেবে যে কাঁচের দেওয়াল রয়েছে তা ভেঙে ফেলে লিঙ্গসমতা অর্জনের পথ মজবুত করি। আসুন, প্লানেট ৫০-৫০ অর্জন করি, যা আজ সময়ের দাবি।'

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সংসদ নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতাও নারী। নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৫০টি আসন। আর ২৩ জন নারী সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। সামরিক বাহিনী, প্রশাসন, পুলিশ, আইন ও বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের নারীরা কাজ করছেন। দেশে ৪০ লাখেরও বেশি নারী তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছে, যা লিঙ্গসমতার উজ্জ্বল উদাহরণ।'

সরকারি খরচে ৫ জন করে হজে পাঠাতে পারবেন কমিটির এমপিরা

সরকারি খরচে ৫ জন করে  হজে পাঠাতে পারবেন কমিটির এমপিরা
সংসদ ভবন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এমপিরা তাদের পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে এবার সরকারি খরচে হজে পাঠাতে পারবেন।

কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতিসহ ১০ জন সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ সরকারি খরচে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে ৫০ জন হজ করার সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে কমিটি থেকে জানানো হয়। অর্থাৎ কমিটির একেকজন এমপির মনোনীত পাঁচজন করে হজে পাঠানোর কার্যক্রম শেষ। তাদের মধ্য থেকে এখন পর্যায়ক্রমে হজে যাবেন।

বৈঠক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ৭৪টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৭৬টি ফ্লাইটে মোট ৫৪ হাজার ৭৬৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এ বছর এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী হজ করবেন। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করবেন ছয় হাজার ৯২৩ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন, ওয়ার্কিং মেম্বর ৫০০ জন। এদের মধ্যে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ভিসা হয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছয় হাজার ৪৬৯ জনের, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭০ হাজার ১৫৯ জনের। আর ওয়ার্কিং মেম্বরদের মধ্যে ৪৪৮ জনসহ মোট ৭৭ হাজার ৭৬ জনের ভিসা হয়েছে।

এ বছর হজ সংক্রান্ত বিভিন্ন দল গঠন করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল, ২৪৯ সদস্য বিশিষ্ট হজ চিকিৎসক দল, ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রশাসনিক দল, ৫৮ সদস্য বিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ দল, ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কারিগরি দল ও ১১৮ সদস্য বিশিষ্ট হজ সহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। দলগুলো থেকে প্রথম পর্যায়ে ১৭১ জন সদস্যকে এরই মধ্যে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। তাদের সবাই সরকারি খরচে হজ করবেন।

তবে এ বছর হজ সহায়তাকারী হিসেবে মালি, গাড়িচালকসহ যারা সংশ্লিষ্ট নন এমন লোকদের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ায় চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠলেও কমিটিতে এসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

এ বিষয়ে কমিটি সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু অন্যান্য আলোচনা করার পর আর সময় হয়নি। এবার হজ সহায়তাকারী হিসেবে মেডিকেল টিমে দেখা গেছে মালি, গাড়ি চালক, পাচক গেছেন। বিষয়টি ঠিক হয়নি। মেডিকেল টিমের অনেকেই ছিলেন, যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্য থেকে নেওয়া যেত। এটা আসলে কেউ না কেউ ঢুকিয়েছেন। যেহেতু তারা চলে গেছেন, এখন তো আর কিছু করার নেই। আগামীতে যেন এমন না ঘটে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।’

সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনায় কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের পাঁচজন করে হজে যাওয়ার সুযোগেই খুশি নাকি বাস্তবিক অর্থেই হজ ব্যবস্থাপনায় খুশি। তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে বলেন, ‘চিকিৎসকদের জায়গায় অন্যদের পাঠানো ঠিক হয়নি।’

কমিটি সূত্র জানায়, এবার ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালকের তত্ত্বাবধানে সব হজযাত্রী এবং হজ গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে দেওয়া স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত তিন হাজার ১৩৯ জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে, হজ অফিস ঢাকায় হজ সংক্রান্ত হেল্পডেস্ক এবং কলসেন্টার (০৯৬২৬৬৬৭০৭০) চালু রয়েছে। হজযাত্রীরা হজ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন- এসএমএস’র মাধ্যমে ফ্লাইটের তথ্য, টিকা সংক্রান্ত তথ্য ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে তথ্য জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় ৪ জুলাই, শেষ ফ্লাইট হবে ৫ আগস্ট। আর হজ শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরতি প্রথম ফ্লাইট হবে ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, এইচ এম ইব্রাহিম, জিন্নাতুল বাকিয়া, মোসা. তাহমিনা বেগম এবং রত্না আহমেদ অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র