Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সন্ত্রাস-যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সংসদে প্রস্তাব পাস

সন্ত্রাস-যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সংসদে প্রস্তাব পাস
সংসদ অধিবেশন, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় হামলা, ফেনীর নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যাসহ সন্ত্রাসী ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সংসদ, সরকার ও নাগকিরদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

এ বিষয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ধর্মের নামে বিশ্বে রক্তের হোলিখেলা চলছে। বাংলাদেশেও সামাজিক অবক্ষয় ঘটিয়ে সরকারের ব্যাপক অর্জনকে ম্লান করার ষড়যন্ত্র চলছে। কঠোর আইন করে জঙ্গিবাদসহ যৌন নিপীড়ক ও সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসিসহ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এসব বন্ধ হবে না।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাতে প্রায় চার ঘণ্টা সাধারণ আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস করা হয়। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি দল, বিরোধী দল, গণফোরাম ও বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন।

আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা, ফখরুল ইমাম, বিএনপি’র হারুনুর রশিদ, সরকারি দলের মেহের আফরোজ চুমকি প্রমুখ।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইষ্টাচার্চের মসজিদ, শ্রীলংকার গীর্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এসব সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে প্রস্তাব আনেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

১৪৪ (১) বিধিতে আনীত প্রস্তাবে বলা হয়- ’বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ ও শ্রীলঙ্কায় গীর্জা, হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় সংসদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির নাতি জায়ান চৌধুরীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা ও আহত করা এবং ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় গভীর ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং এ সকল সন্ত্রাস যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, সারাবিশ্ব আজ আক্রান্ত। গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। বিএনপি-জামায়াত আমলে এদেশে জঙ্গিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। হলি আর্টিজানের ঘটনার পরে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। পৃথিবীতে প্রায় আট বিলিয়ন জনসংখ্যা। আমরা যারা মুসলিম দেশের নাগরিক, তাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। কারা এই জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস, তালেবান, আল-কায়দা সৃষ্টি করেছে? আন্তর্জাতিক বিশ্ব এখন একটা অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু শান্তির দেশ বাংলাদেশ, আমরা সকল সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারতে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ নির্দেশ দিয়েছে। শিক্ষকরা হলেন বাবার মতো। ছাত্ররাও শিক্ষকদের পিতার মতো শ্রদ্ধা করতো। কোথায় সেই দিন হারিয়ে গেছে? নুসরাত ঘটনার পরও অনেক জায়গায় শিশুরা নির্যাতনের শিকার কীভাবে হয়? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এতো বিশাল উন্নয়নকে আমরা ম্লান করে দিতে পারি না। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এমন একটা আইন করতে হবে, যাতে এক বা দেড় মাসের মধ্যে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। বাংলাদেশের ভেতরেও ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করার জন্য দেশে এসব অপকর্ম ঘটানো হচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা গেলে এসব বন্ধ হবে।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ধর্মের নামে পুরো বিশ্বে যেন রক্তের হোলি খেলা শুরু হয়েছে। ধর্মের নামে একে অপর জনকে পুড়িয়ে হত্যা করছে, গুলি ও বোমা মেরে হত্যা করছে। নিউজিল্যান্ডে এক নরঘাতক অসংখ্য নামাজ আদায়রত মুসলমানদের হত্যা করেছে। শান্তির দেশ শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে বোমা মেরে শত শত মানুষকে হত্যা করা হলো। শিশু জায়ানের ছবি দেখে গোটা দেশের মানুষ ব্যথিত হয়েছে। এসব জঙ্গিরা কোন বেহেশতের স্বপ্ন দেখে? জঙ্গির লাশ মা-বাবারা নেয় না। ধর্মের নামে একজন মুসলমান খ্রিস্টানকে হত্যা করছে, একজন খ্রিষ্টান মুসলমানদের হত্যা করছে, বৌদ্ধরা মিয়ানমারে লাখ লাখ মুসলমানকে নির্যাতন করে দেশ ছাড়া করেছে। ধর্মের নামে সারাবিশ্বে মনুষ্যত্ব ও মানবিকতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে বিশ্বকে রুখে দাঁড়াতে হবে। নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো। কোনো কালক্ষেপণ নেই, সমস্ত খুনি, যৌন নিপীড়কদের দ্রুত বিচার করে সবাইকে ফাঁসি দিতে হবে। ধর্ষক, জঙ্গিদের বিচার অতীতের মতো করতে পারলে সামাজিক অবক্ষয় অবশ্যই বন্ধ হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশ আজ নিরাপদ নয়। নিরাপদ করতে হলে বৈশ্বিক সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন। শ্রীলঙ্কায় জায়ানসহ ৪৫ জন শিশু ধর্মের নামে হিংসার বলি হলো। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ইহুদি কেউই এ হিংসা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহারের ফলেই সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী আক্রমনের ঘটনা ঘটে। নুসরাত হত্যা কেবল একটি সাধারণ অপরাধের ঘটনা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি যেখানে নারী ভোগের বস্তু। এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা ইউটিউবে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়ায়, নারীর নামে অশ্লীল বক্তব্য দেয়, তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে আনুন। নারী সুরক্ষা আইনকে জোরদার করুন।

আপনার মতামত লিখুন :

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘে স্পিকার

নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য: জাতিসংঘে স্পিকার
জাতিসংঘের প্যানেল আলোচনায় স্পিকার শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিকভাবে লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকল্পে গৃহীত প্লাটফর্ম 'প্লানেট ৫০-৫০' অর্জনের জন্য নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের 'টেকসই বিশ্বের জন্য লিঙ্গসমতা ও নারী নেতৃত্ব' শিরোনামে অনুষ্ঠিত লিঙ্গসমতা বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, 'ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার এবং ইতোপূর্বে যে কথা বলা হয়ে ওঠেনি তা বলতে হবে। আর সে সময় এখনই। আসুন, আমাদের প্রতিশ্রুতিসমূহকে বাস্তবে রূপ দেই। আসুন, বাধা হিসেবে যে কাঁচের দেওয়াল রয়েছে তা ভেঙে ফেলে লিঙ্গসমতা অর্জনের পথ মজবুত করি। আসুন, প্লানেট ৫০-৫০ অর্জন করি, যা আজ সময়ের দাবি।'

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সংসদ নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতাও নারী। নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৫০টি আসন। আর ২৩ জন নারী সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। সামরিক বাহিনী, প্রশাসন, পুলিশ, আইন ও বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের নারীরা কাজ করছেন। দেশে ৪০ লাখেরও বেশি নারী তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছে, যা লিঙ্গসমতার উজ্জ্বল উদাহরণ।'

সরকারি খরচে ৫ জন করে হজে পাঠাতে পারবেন কমিটির এমপিরা

সরকারি খরচে ৫ জন করে  হজে পাঠাতে পারবেন কমিটির এমপিরা
সংসদ ভবন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এমপিরা তাদের পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে এবার সরকারি খরচে হজে পাঠাতে পারবেন।

কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতিসহ ১০ জন সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ সরকারি খরচে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে ৫০ জন হজ করার সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে কমিটি থেকে জানানো হয়। অর্থাৎ কমিটির একেকজন এমপির মনোনীত পাঁচজন করে হজে পাঠানোর কার্যক্রম শেষ। তাদের মধ্য থেকে এখন পর্যায়ক্রমে হজে যাবেন।

বৈঠক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিটির সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানের ৭৪টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৭৬টি ফ্লাইটে মোট ৫৪ হাজার ৭৬৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এ বছর এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী হজ করবেন। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করবেন ছয় হাজার ৯২৩ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন, ওয়ার্কিং মেম্বর ৫০০ জন। এদের মধ্যে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ভিসা হয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছয় হাজার ৪৬৯ জনের, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭০ হাজার ১৫৯ জনের। আর ওয়ার্কিং মেম্বরদের মধ্যে ৪৪৮ জনসহ মোট ৭৭ হাজার ৭৬ জনের ভিসা হয়েছে।

এ বছর হজ সংক্রান্ত বিভিন্ন দল গঠন করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রতিনিধি দল, ২৪৯ সদস্য বিশিষ্ট হজ চিকিৎসক দল, ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট হজ প্রশাসনিক দল, ৫৮ সদস্য বিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ দল, ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কারিগরি দল ও ১১৮ সদস্য বিশিষ্ট হজ সহায়ক দল গঠন করা হয়েছে। দলগুলো থেকে প্রথম পর্যায়ে ১৭১ জন সদস্যকে এরই মধ্যে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। তাদের সবাই সরকারি খরচে হজ করবেন।

তবে এ বছর হজ সহায়তাকারী হিসেবে মালি, গাড়িচালকসহ যারা সংশ্লিষ্ট নন এমন লোকদের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ায় চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠলেও কমিটিতে এসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

এ বিষয়ে কমিটি সভাপতি মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু অন্যান্য আলোচনা করার পর আর সময় হয়নি। এবার হজ সহায়তাকারী হিসেবে মেডিকেল টিমে দেখা গেছে মালি, গাড়ি চালক, পাচক গেছেন। বিষয়টি ঠিক হয়নি। মেডিকেল টিমের অনেকেই ছিলেন, যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্য থেকে নেওয়া যেত। এটা আসলে কেউ না কেউ ঢুকিয়েছেন। যেহেতু তারা চলে গেছেন, এখন তো আর কিছু করার নেই। আগামীতে যেন এমন না ঘটে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।’

সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনায় কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের পাঁচজন করে হজে যাওয়ার সুযোগেই খুশি নাকি বাস্তবিক অর্থেই হজ ব্যবস্থাপনায় খুশি। তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে বলেন, ‘চিকিৎসকদের জায়গায় অন্যদের পাঠানো ঠিক হয়নি।’

কমিটি সূত্র জানায়, এবার ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালকের তত্ত্বাবধানে সব হজযাত্রী এবং হজ গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে দেওয়া স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত তিন হাজার ১৩৯ জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে, হজ অফিস ঢাকায় হজ সংক্রান্ত হেল্পডেস্ক এবং কলসেন্টার (০৯৬২৬৬৬৭০৭০) চালু রয়েছে। হজযাত্রীরা হজ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন- এসএমএস’র মাধ্যমে ফ্লাইটের তথ্য, টিকা সংক্রান্ত তথ্য ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে তথ্য জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় ৪ জুলাই, শেষ ফ্লাইট হবে ৫ আগস্ট। আর হজ শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরতি প্রথম ফ্লাইট হবে ১৭ আগস্ট এবং শেষ ফ্লাইট ১৫ সেপ্টেম্বর।

মো. হাফেজ রুহুল আমীন মাদানীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, এইচ এম ইব্রাহিম, জিন্নাতুল বাকিয়া, মোসা. তাহমিনা বেগম এবং রত্না আহমেদ অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র