Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণসহ স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ সংরক্ষণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরো সোহরাওয়ার্দী এলাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলো চিহ্নিত করে তা সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি ওই এলাকায় বিদ্যমান শিশু পার্কটি আধুনিকায়ন করা হবে।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৭১ (ক) বিধিতে নোটিশ আনেন সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। নোটিশে তিনি বলেন, 'স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকরা এই ঐতিহাসিক স্থানে বাঙালি জাতির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য ঘাতক জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক নির্মাণ করেছিল।'

কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী ৭১ (ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচনা করার সুযোগ থাকে নোটিশ উত্থাপনকারীর। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে কথা বলায় বিধির বাইরে সময় বাড়িয়ে দেওয়ায় আপত্তি তোলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, 'বিধি অনুযায়ী দুই মিনিট থাকলেও বঙ্গবন্ধুর বিষয় হওয়ায় একটি বেশি সময় দিয়েছি তবে অন্য কোন বিষয়ে না।'

পরে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর কথা নিয়ে আমি আপত্তি করিনি। আমি বলেছি আগে দুইবার ৭১ বিধিতে নোটিশ দিয়ে দুই মিনিটে আলোচনা শেষ করতে পারিনি। তাই আগামীতে আমরাও যেন সুযোগ পাই। সেটা বলেছি। হয়তো বঙ্গবন্ধুর কথা বলেই সময় নেব।'

বিষয়টি নিয়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে আমরা বিশাল এক প্রকল্প নিয়েছি। সোহরাওয়ার্দীর অনেকগুলো ইতিহাস আছে। সংরক্ষিত ইতিহাস হুমকির মুখে ফেলার জন্য জিয়াউর রহমান চেষ্টা করেছিল, সেখানে শিশু পার্ক করে। যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিল সেই স্থানটা নিষিদ্ধ করেছিল এবং যেখানে পাক হানাদারবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল সেই জায়গাটা নিশ্চিহ্ন করেছিল। আমরা সেসব চিহ্নিত করেছি। আমরা দেখাব।'

তিনি আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধু যেখানে বক্তব্য রেখেছিলেন সেখানে একটা বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু (আবক্ষ মূর্তি)হবে এবং শিশু পার্কও থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শিশু পার্ক থাকবে এইজন্য যে আমাদের শিশুরা আসবে এবং এসব ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করবে এবং দেখবে। শিশু পার্ককে আরও আধুনিক করা হবে।'

মোশাররফ বলেন, 'পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঐতিহাসিক স্থানগুলো চিহ্নিত করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বেশ সুদৃঢ়।'

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত অবহিতকরণ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসডিজি বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

স্পিকার বলেন, 'এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসডিজির সঙ্গে সংসদ সদস্যগণকে অধিক সম্পৃক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, যা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।'

এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী মিশন গৃহীত পদক্ষেপসমূহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

'২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস' সম্পর্কিত অপর এক আলোচনায় স্পিকার বলেন, 'ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলায় এজলাসে খুন

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলায় এজলাসে খুন
সংসদ ভবন, ছবি: সংগৃহীত

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই এজলাসে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কোন বিভাগ বা কারা এর জন্য দায়ী, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে তদন্ত প্রতিবেদনও দিতে বলেছে কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে বলেছে সংসদীয় কমিটি। এদিকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনই মতামত প্রকাশ করার সময় আসেনি বলেও কমিটিকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে তদন্ত শেষে জনসন্মুখে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে, আইনের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি শামসুল হক টুকু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে খুনের ঘটনায় আমরা খুবই দুঃখিত। এজন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত করে দেখবে কারা দায়ী। আমি সাংঘাতিকভাবে বলেছি—অন্য জায়গায় একটি দুর্ঘটনা আর আদালতে দুর্ঘটনা একভাবে দেখলে চলবে না। এটা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোর্টের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুর্বলতা আছে কিনা, তদন্ত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে। ভালো করে তদন্ত করে এর কারণ নিরূপণ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই আদালতে খুন হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে বিচারকের সামনে এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌসের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। নিহত ও ঘাতক মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং দুজনই একটি হত্যা মামলার আসামি। নিহত ফারুক কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলার অহিদ উল্লাহর ছেলে। ঘাতক হাসানের বাড়িও একই এলাকায়। ঘটনার পর হাসানকে আটক করা হয়েছে।

সম্প্রতি বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও কমিটির বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে এজেন্ডার বাইরে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। যেহেতু হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা নিয়ে কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রিফাত হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখনো এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় আসেনি। অপরাধী যেই হোক তার পরিচয় জনসাধারণের সামনে উন্মুক্ত করা হবে, আইনের মুখোমুখি করা হবে।

এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। কেউ মাদকের বিষয়ে কোন আপস করবে না এমনটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। এছাড়া মাদক নির্মূলকাজে আনসার ভিডিপিকে কাজে লাগানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নের নিমিত্ত ‘মাদকাসক্ত শনাক্তকরণ ডোপ টেস্ট প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকালে বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করা হবে।

কমিটি রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করে।

কমিটি’র সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. আফছারুল আমীন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।

এছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র