Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অর্জন করেছেন যিনি নাইটহুড, নোবেল প্রাইজ ও দুশমনি

অর্জন করেছেন যিনি নাইটহুড, নোবেল প্রাইজ ও দুশমনি
আলফ্রেড কনোফ


  • Font increase
  • Font Decrease

ভাষান্তর মঈনুস সুলতান

লেখক পরিচিতি বিদ্যাধর সূর্যপ্রাসাদ নাইপলের জন্ম ১৯৩২ সালে ক্যারিবিয়ানের ত্রিনিদাদ নামক একটি দেশের চাগুয়ানাস বলে অখ্যাত এক শহরে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুনিয়া জোড়া সুনামধন্য এ লেখকের পিতামহ উত্তর প্রদেশের গোরখপুর থেকে শ্রমিক হিসাবে ত্রিনিদাদে অভিবাসি হন। অনেকগুলো সফল উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ ইত্যাদি ছাড়াও নাইপল একাধিক ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা। তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে তিনি তৃতীয় বিশ্বের যে বসবাস-অনুপযোগী চালচিত্র এঁকেছেন তা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। তাঁর কিছু লেখায় ইসলাম ধর্মকেও উপস্থাপন করেছেন নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁর ‘হিন্দুত্ববাদ’ বা হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন, এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে ‘ক্রিয়েটিভ প্যাসন’ বা সৃজনশীল আবেগ বলে অভিহিত করে তিনি অত্যন্ত বিতর্কিত হন।

যদিও নাইপল বেশ কয়েকবার ভারতে ফিরে এসে গোরখপুরের কাছাকাছি তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটা সনাক্ত করতে চেষ্টা করেন—তারপরও তাঁর ভারতকে নিয়ে লেখা গ্রন্থ, ‘এন এরিয়া অব্ ডার্কনেস্’ তার পিতৃপুরুষের স্বদেশ সম্পর্কে বিষোদগারে পূর্ণ।

ব্যক্তিগত জীবনে একসময় নাইপল প্যাটরিশিয়া হেইল বলে এক ইংরেজ শিক্ষয়িত্রীর সাথে ৪১ বৎসর বিবাহিত ছিলেন। এ মহিলার সাথে বিবাহিত থাকাবস্থায় নাইপল মার্গারেট মারি বলে বিবাহিতা আরেক এ্যংলো-আর্জেন্টিনিয়ান নারীর সাথে ভ্রমণ করতে ভালোবাসতেন। নাইপল তাঁর বইগুলো রচনার জন্য তাঁর স্ত্রী প্যাটরিসিয়া হেইলের সক্রিয় সহায়তার ওপর ছিলেন নির্ভরশীল। তবে প্রায়শ তিনি মার্গারেট মারির প্রতি তাঁর ভালোবাসার উল্লেখ করে, এমনকি রূপজীবীদের প্রতি তার যৌন মিলনের কথা বাগাড়ম্বর করে বলে বেড়িয়ে প্যাটরিশিয়াকে মানসিকভাবে পীড়া দিতে পছন্দ করতেন। ব্রেস্ট ক্যানসারে প্যাটরিসিয়া হেইলের মৃত্যুর দু’মাস পর নাইপল দু’বার তালাকপ্রাপ্ত পাকিস্তানী সাংবাদিক নাদিরা খানুম আলভীকে বিবাহ করেন। ২০১৮ সালের ১২ অগাস্ট, লন্ডনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (অনুবাদক)

১৯৯৮ সালে পল থেরেক্স ‘স্যার ভিবিয়া’স্ শ্যোডো’ বলে ত্রিনিদাদে জন্ম গ্রহণকারী লেখক ভি, এস নাইপলকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ জীবনের বন্ধুত্বের সূত্রে একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। নাইপলের চরিত্রে মজ্জাগত বর্ণবাদ, অহমিকা ও কিপ্টেমি এবং তাঁর প্রথমা স্ত্রীর প্রতি নির্মমতা প্রভৃতি রকমারি বিষয়ের উন্মোচনের কারণে সমঝদার মহলে এ বইটির আইসকিউব দেওয়া সাবধানে মিশ্রিত ককটেল বলে পরিচিতি রয়েছে। এ গ্রন্থ প্রকাশের পাক্কা এক দশক পর বাজারে আসলো প্যাটরিক ফেঞ্চের ‘দ্যা ওয়ার্ল্ড এ্যাজ ইট্ ইজ্’ নামক নাইপলের জীবনীগ্রন্থ। খোদ নাইপলের অনুমোদিত এ জীবনী গ্রন্থের সুদর্শন ভলিয়মটির জ্যাকেট রুপালি ও কৃষ্ণ বর্ণে রঞ্জিত; যার মলাটে দন্তহীন নাইপল ফোকলা হাসিতে জুতার ফিতা বাঁধছেন। এ বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টালেই পাঠক মোকাবেলা করবেন—নাইপলের এক কালের জানি দুশমন থেরেক্স সাহেবের জবানী থেকে উদ্ধৃতি, ‘এ সব কেচ্ছা কেলেঙ্কারির কিছু কি আমার জানতে বাকি আছে?’ এবং এ মন্তব্যের সাথে সাথেই শুরু হয় অনভিপ্রেত অর্গানের বাদ্য ঝংকার। পাঠক ভাবেন, ৫৫০ পৃষ্ঠার নুতন জীবনী গ্রন্থের কেচ্ছার কিসতি বেয়ে তারা সাবলীলভাবে পাড়ি দেবেন এ লেখকের সমাজ বিচ্ছিন্ন, কখনো কুৎসিত জীবন যাপনের প্রবাহমান দরিয়া। সুসংবাদ হচ্ছে যে, তরুণ ব্রিটিশ সাংবাদিক ফ্রেঞ্চ সাহেব তাঁর রচনায় উদ্দিষ্টের জীবনের কুৎসিত তথ্যসমূহ প্রকাশে মোটেই পিছপা হননি। কিন্তু আরো জাঁকালো খবর হচ্ছে—এ বইটি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অত্যন্ত কৌতূহলী ৭৬ বৎসর বয়স্ক একজন নামজাদা জিন্দা লেখকের জীবন-তথ্য; অনেক দিন পর বাজারে এ ধরনের বই আসলো কিন্তু।

যেসব লেখক সচরাচর জীবনী রচনা করে থাকেন তাদের মধ্যে প্যাটরিক ফেঞ্চ সাহেবকে একজন বিরল প্রতিভা বলে মান্যগণ্য করা হয়ে থাকে। তাঁর নো-ননসেন্স টাইপের খাঁটি লেখক বলে পরিচিতি আছে। তাঁর বর্ণনা এ্যয়সা প্রাণবন্ত যে—এখানে নাইপলের সম্পাদক ফ্রান্সিস উইন্ডহাম সম্পর্কে তাঁর এবারতের একটি নজির পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। “লোক নন্দিত, নির্জনতাপ্রিয় ও বেয়াড়া স্বভাবের উইন্ডহাম বাস করেন তার জননীর সাথে। তার মা ভারী কাচের চশমা চোখে স্থূল পাছায় বিচিত্র বর্ণের—সম্ভবত ছালার টাটে তৈরি ট্রাউজার্স জড়িয়ে যখন থড়বড়িয়ে হাঁটেন, তখন মনে হয়, তার শরীর রূপান্তরিত হচ্ছে জল ও স্থল উভয় ভূভাগে বিচরণকারী বৃহৎ ব্যাঙে।”

এ গ্রন্থের অস্তিত্বের জন্য অবশ্যই নাইপলের তারিফ করতে হয়। ফেঞ্চ সাহেবের ভাষ্যানুযায়ী—নাইপল সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, ‘লিখতে হলে অতি অবশ্যই লেখা উচিৎ সত্যিকারের সৎ জীবনী।’ ‘এবং জীবদ্দশায় এ ধরনের খোলামেলা রাখঢাকহীন জীবনী প্রকাশের অনুমতি দিয়ে তিনি একই সাথে বিনয় ও নার্সিসাস প্রবণ আত্মপ্রেমের প্রর্দশনী করেছেন।’ ভি, এস নাইপল ফেঞ্চ সাহেবকে এ গ্রন্থ মুসাবিদা করার জন্য ব্যক্তিগত মোহাফেজখানা ব্যবহারের অধিকার দিয়েছেন। এমনকি তাঁকে পড়তে দিয়েছেন তাঁর পয়লা স্ত্রীর সংগ্রহ করা জার্নালগুলো—যা তিনি কখনো নিজেও পড়ে দেখেননি। এ বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি হলে পর ভি, এস নাইপলকে সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে পড়ে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়; তিনি কোনো প্রকারের অদল বদলের জন্য চাপ দেননি। এ বই লেখার আগেভাগেই ফ্রেঞ্চ সাহেব ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে—তিনি ছেলেখেলায় মাতেন নি। এ বইয়ের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় নানা রকমের আন্তর্জাতিক সব সামাজিক ইস্যুতে নাইপলের মতামতকে তুলে ধরতে গিয়ে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় তাঁর বরাত দিয়ে লিখেছেন যে, “আফ্রিকার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে বিপর্যয়ের সামিল, ফরাসিরা জাতি হিসাবে ধাপ্পাবাজ এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিকরা বাদরের তূল্য।” সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের তারিফ করার পরিবর্তে নাইপল এ মতবাদকে সচরাচর তফাৎ যেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর চেয়ে চেহারা-সুরতে কালো মানুষদের গাত্রবর্ণ নিয়ে ঠাট্টা মশকরাও করে থাকেন। এমনকি যেসব জাতি অতীতে উপনিবেশবাদীদের দ্বারা নিপীড়িত হয়েছে, তিনি তাদের বর্তমানে ব্যর্থতার জন্য দোষারোপ করতেও পিছপা হন না। এসব বিষয়ে ফেঞ্চ সাহেবের মতামত হচ্ছে ‘একজন সফল অভিবাসি লেখক হিসাবে নাইপলের এ ধরনের মতামতকে অনেক পাঠকই বেঈমানী হিসাবে বিবেচনা করে থাকেন।’

এসব তথ্য প্রকাশ করে সাথে সাথে ফেঞ্চ সাহেব কিন্তু পাঠককে নাইপলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন ব্যাপক দৃষ্টিকোণ থেকে। অত্যন্ত জটিল এ ব্যক্তিত্ব ১৯৯০ সালে নাইটহুড খেতাবে ভূষিত হন। তাঁর নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি ঘটে ২০০১ সালে। অসাধারণ কিছু গ্রন্থ রচনার সাথে সাথে এ একাকিত্ব বিলাসী জিনিয়াস, যৌনভাবে অসংযত, উস্কানীমূলক চরিত্রের অধিকারী, বিতর্কিত এ চিন্তাবিদ কিভাবে উপনিবেশবাদের মতো প্রতিক্রিয়াশীল মতামতকে আঁকড়ে ধরে থাকেন, ফেঞ্চ সাহেব তারও খানিক হাদিস দলিল পাঠকের দরবারে হাজির করেন।

বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপলের জন্ম হয় ১৯৩২ সালে ত্রিনিদাদের অত্যন্ত দরিদ্র এক ভারতীয় পরিবারে। তিনি যখন ১৯৬১ সালে ‘অ্যা হাউস র্ফ মিঃ বিসওয়াস্’ লিখেন, তখন তাঁর অসহায় পিতা সাইনবোর্ডের সস্তা চিত্রকর—আধখিচড়ে সাংবাদিক মশাই ছিলেন তাঁর প্রেরণার উৎস। তবে পরবর্তী জীবনে তাঁর অত্যন্ত সপ্রতিভ জননী নাইপলের ‘উজ্জ্বল, নিশ্চিত, জবরদস্ত ও খানিকটা ঠাট্টা মশকরায় উচ্ছল’ সাহিত্য-স্বরকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। ১৮ বৎসর বয়সে বৃত্তি পেয়ে নাইপল অক্সফোর্ডের ইউনিভারসিটি কলেজে পাড়ি জমান। সে থেকে তিনি কিন্তু আজ অব্দি বাস করছেন বিলাতে। ১৯৫৭ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্যা মিস্টিক ম্যাসুর’ প্রকাশিত হয়। ফেঞ্চ সাহেবের ভাষায় “যেভাবে বাঘের বাচ্চা তার প্রথম শিকারকে নিয়ে আসে গুহায়—সেভাবে নাইপল তাবৎ রিভিউ ঘেঁটে প্রশংসাগুলোর সংক্ষিপ্তসার কপি করে পাঠান তার জননীর কাছে।” এ বইয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে নারীদের সাথে নাইপলের সহবৎ ও সুরত লীলার বৃত্তান্ত। তাঁর কিছু কিছু এবারত এ্যয়সা রগরগে যে, পড়তে পড়তে পাঠকের ইচ্ছা হয় হাত দিয়ে চোখের পাতা ঢাকতে। নজির স্বরূপ—প্যাটরিসিয়া হেইল বলে এক কালের এক তরুণী নায়িকার সাথে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি হাজির করা যেতে পারে। দৈহিক স্পর্শের উষ্ণতায় উত্তপ্ত যৌন সংযোগের পরপর নাইপল তাকে প্রস্তাব দেন। যদিও তাঁদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর, জটিল ও ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু—তাঁরা আইনত বিবাহিত থাকেন ১৯৯৬ সাল অব্দি। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে নাইপল প্যাটরিসিয়ার সমালোচনা করতেন নির্দয়ভাবে; এবং হর হামেশা পতিতাদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতেন। এ সময় তিনি মার্গারেট মারি বলে এক যুবতীর সাথে দীর্ঘস্থায়ী দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। মাঝে মধ্যে মার্গারেটকে তিনি বেদমভাবে প্রহারও করতেন। মার্গারেট কখনো সখনো নাইপলকে আনন্দ দেওয়ার জন্য ডাকযোগে পাঠাতেন—“লেবু রঙের কাউবয় হ্যাট্ কিংবা নীল রোদ চশমা পরা উত্থিত শিশ্নের বিশাল সব ড্রয়িং।” নাইপল যখন তাঁর ভ্রমণকাহিনী সমূহের জন্য নানা দেশে গবেষণা করে বেড়ান; তখন অভিসার প্রবণ মার্গারেট প্রায়শ তাঁর সন্নিধ্যে আসতেন। তবে প্যাটরিসিয়া যেন ভেসে থাকতেন ছায়ামূর্তির মতো সমস্ত কিছুর আবডালে। নাইপল কখনো কিন্তু তাঁর কথা কোথাও ঘূণাক্ষরেও উল্লেখ করেননি। পরবর্তী জীবনে প্যাটরিসিয়া যখন ব্রেস্ট ক্যানসারে মৃত্যু পথযাত্রী, নাইপল ক্রোধান্বিত হন মহিলার দ্রুত মৃত্যু হচ্ছে না দেখে। ততদিনে তিনি যে তাঁর বর্তমানের স্ত্রী নাদিরাকে বিয়ে করার জন্য উস্কে আছেন।

নাইপল তাঁর মানসে ধারণ করেন তীব্র বর্ণবাদ; এবং তাঁর সাহিত্যিক সফলতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য লেখকদেরও এ মতবাদে উৎসাহিত করে। নাইপলের সাথে নোবেল প্রাইজ বিজয়ী ক্যারিবিয়ান কবি ড্রেক ওয়ালকটের কাজিয়া বিবাদ ও দুশমনীর বিষয়টি ফেঞ্চ সাহেব সবিস্তারে বয়ান করেন। কৃষ্ণাঙ্গ কবি ওয়ালকট একবার সওয়াল করেছিলেন—নাইপল যে কালো গাত্রবর্ণের মানুষদের বিরুদ্ধে নোংরা সব বিষোদগার করে বহাল তবিয়তে ভাসছেন সুনামের জোয়ারে—তাঁর কি হিম্মত হবে ইহুদিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য করতে?

এ বইয়ের শেষ অধ্যায়গুলো নাইপলের বিচিত্র ব্যবহারের বর্ণনায় ভরপুর। পাঠক জানতে পারেন—তিনি কিভাবে একবার বিলাতের ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে মার্গারেট থ্যাচারের সাথে ভোজসভায় প্রথাবিরুদ্ধ চক্রবক্রা পোশাকে হাজির হয়েছিলেন, অথবা অত্যন্ত উন্নাসিকভাবে পরিবেশিত খাদ্যদ্রব্য নাপছন্দ্ করে বিষিয়ে তুলেছিলেন বিলাতের প্রধান মন্ত্রীর দফতরের পরিবেশ।

‘মোদ্দা কথা হচ্ছে—একজন লেখককে কিন্তু তাঁর গ্রন্থে খুঁজে পাওয়ার উপায় নেই, তিনি মূলত বেঁচে থাকেন তাঁর কিংবদন্তীতে।’ ভি, এস নাইপল তাঁর জটিল জীবনের কিংবদন্তী প্রকাশ করে অবশ্যই হিম্মতের পরিচয় দিয়েছেন। এ জীবনীগ্রন্থ একজন পাঠককে তাঁর রচিত চমৎকার সব বইগুলো সত্ত্বর পড়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করে। সাথে সাথে পাঠক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এই ভেবে যে—নাইপল তার প্রতিবেশী, বন্ধু বা বাড়িওয়ালা নন বলে। আর শেষ কথা হচ্ছে—অনেক কুৎসিত কদাকার চরিত্রের লোকও কিন্ত চমৎকার সব বই পুস্তক লিখে থাকতে পারেন। এ প্রসঙ্গে খোদ নাইপলের বক্তব্য হচ্ছে, ‘মানুষ আমাকে নিয়ে কী ভাবে—এসব ব্যাপারে আমি তেমন একটা পরোয়া করি না।’

* লেখাটি নিউইয়র্ক টাইমসের ১৮ নভেম্বর, ২০০৮ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

জমিলার দেশ কিরঘিজস্তানে

জমিলার দেশ কিরঘিজস্তানে
ছবি. লেখক

সেই যে কবে সুকুমার রায় লিখেছিলেন না—“পুলিশ এলে ডরাই না আর, পালাই নে আর ভয়ে, আরশোলা কি ফড়িং এলে থাকতে পারি সয়ে।”—আমি কিন্তু তেমন নই। আরশোলা আর ফড়িংকে সয়ে নিলেও, পুলিশকে আমি ষোল আনা ডরাই। তাই কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেক শহরের আব্দুররাহমানিভ স্ট্রিটে চলার সময়ে যখন দুজন পুলিশ দু দিক থেকে আমাকে ঘিরে ধরে, আতঙ্কিত না হয়ে পারি না। তাদের সাথে আছেন সাদা পোশাকের আরো দুজন পুলিশ। আমাকে তারা এমনভাবে চারদিক থেকে বেষ্টন করে দাঁড়ালেন, চাইলেও সেই চক্রব্যূহ ভেদ করে ভোঁ দৌড় দেবার কোনো উপায় নেই। মুখে তাই সরল একটা অপাপবিদ্ধ অভিব্যক্তি নিয়ে তাদের জেরার অপেক্ষায় সেখানে দাঁড়িয়ে যাই। এ অঞ্চলে শুনেছি পুলিশ খুব একটা সততানিষ্ঠ নয়, তাই আমাকে পাকড়াও করে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে কোনো পয়সা দাবি করে কিনা, সেরকম একটা সন্দেহও মনে উঁকি দেয়। তো সেই দলে থাকা একমাত্র নারীসদস্য আমার সমস্ত ভুল ভাঙিয়ে আশ্বস্ত করে জানালেন, তারা আসলে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কিছুদিন হলো এই বিশেষ বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কাজ নেই তেমন। ট্যুরিস্ট যেমন কম, তার চেয়েও কম অপরাধের মাত্রা। ফলে ইনাদের একপ্রকার মাছি তাড়াবার অবস্থা। আমাকে দেখে এই দলটির আগ্রহ হয়েছে আমার কাছ থেকে দু চারটি কথা জানবার। এই যেমন কোথা থেকে এসেছি, কদিন থাকব, কেমন লাগছে বিশকেক, কোথায় কোথায় যাবার পরিকল্পনা আছে, এই সব আরকি। সবশেষে তাদের অভিলাষ হলো, আমার সাথে একটি ছবি তুলবেন। বেশ, তুলুন। ভেতরে ভেতরে বেশ উৎফুল্ল বোধ করছি ততক্ষণে। কোথায় ভেবেছিলাম উৎকোচ দাবি করা অসৎ পুলিশ, আর শেষে কিনা আবিষ্কার করলাম সদালাপী বন্ধুভাবাপন্ন ভিন্ন ধরনের পুলিশ, তাই অবাক আর উৎফুল্ল না হয়ে উপায় আছে?

আজ এখানে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া। ছেড়ে ছেড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকালও এমনই ছিল। তবে বৃষ্টির তেজ ছিল আরো বেশি। তার মাঝেই এয়ারপোর্ট থেকে আসতে হয়েছে। সে-নিয়ে বেশ রকমের ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। বিশকেকের এয়ারপোর্ট মূল শহর থেকে বেশ দূরে, প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের পথ। গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা দু লেনের মন্থর পিচঢালা পথ ধরে সেখানে পৌঁছাতে হয়। আমি এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিইনি। ভূতুড়ে জনমানবহীন সেই এয়ারপোর্টের বাইরে আসতেই দেখা পেয়েছিলাম ‘মারসুতকা’র, যেটি আদতে হলো ভাড়ায় খাটা মাইক্রোবাস। ভাড়া ট্যাক্সির দশ ভাগের এক ভাগ। যদিও যাত্রীবোঝাই হবার জন্যে অপেক্ষা করতে হলো বেশ খানিকটা সময়। এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই ঝুমবৃষ্টি। বৃষ্টির ভারি পর্দাকে উপেক্ষা করে জোরসে ওয়াইপার চালিয়ে শম্বুকগতিতে মারসুতকা ছুটে চলে। মিনিট পনের পথ আসার পর দেখি দু পাশটা প্রায়ান্ধকার। ঝুপ করেই যেন নেমে এসেছে বিদায়ীবেলার সন্ধ্যা। আর সামনের রাস্তায় এপাশের মাঠ উপচিয়ে তীব্র গতিতে জল ছুটে যাচ্ছে উল্টো দিকের মাঠের দিকে। এর মাঝ দিয়ে গাড়ি ছোটালে জলের স্রোতে কলার ভেলার মতো ভেসে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। আমাদের ড্রাইভার বিশাল এক সিডার গাছের কোণে গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে পরিস্থিতির ব্যাপকতা কিছুটা বুঝে নেবার চেষ্টা করে। ওখানেই আমরা আটকে থাকি বেশ কিছুক্ষণ। কিছুটা শঙ্কা জাগে, যদি বৃষ্টি আর না থামে? যদি জলের তোড় এসে পৌঁছায় এ গাড়ি অবধি, তাহলে? আশেপাশে গ্রামের কিছু চাষিবাড়ি ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ছে না। এখানে বিপদে পড়লে সাহায্য করবার কেউ এগিয়ে আসবে কি?

বৃষ্টি থেমেছিল শেষ অবধি, সেই সাথে মন্থর হয়েছিল প্লাবনের তেজ। কিন্তু এতসব ডামাডোলে আমরা যখন আলাতু বাজারের কোণে এসে পৌঁছাই, ততক্ষণে চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এখান থেকে আমার হোটেল যে কোন দিকে, কিংবা কত দূরে, কিছুই ধারণা নেই আমার। কিছুটা ক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। মাথার উপরের বুড়ো ওক গাছ থেকে টপ টপ করে ঝড়ে পড়ে বিকেলের বৃষ্টির জমে থাকা ফোঁটাগুলো। পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময়ে হঠাৎ এক যুবক দাঁড়িয়ে যায়। আমার অবস্থা আঁচ করতে পেরে নিজ থেকেই বলে, ‘ট্যাক্সি খুঁজে দেব তোমায়?’ আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলি। ছেলেটি পকেট থেকে ফোন বার করে দ্রুত কিছু টেপাটেপি করে জানায়, ‘মিনিট পাঁচেকের ভেতরেই ট্যাক্সি এসে পড়বে। ততক্ষণ আমি তোমার সাথে আছি। আমি এখানকার টিভি স্টেশনে গ্রাফিক্সের কাজ করি। আজ আমার বিকেলের শিফটে কাজ ছিল। ফেরার সময়ে দূর থেকে দেখলাম, তুমি এখানে সুটকেস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো। তাই ভাবলাম, তোমার হয়তো কোনো সাহায্য প্রয়োজন।’ অজানা একটি দেশে এমন একজন অপরিচিত জনের কাছ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাত পেয়ে মুহূর্তেই মনটা ভালো হয়ে গেল।

আলাতু স্কয়ারের কোণের দিকটায় টিউলিপের বাগান। সকালের বৃষ্টির ফোঁটা লুকিয়ে আছে আধবোজা টিউলিপের জঠরে। সেই সাথে আশেপাশে ফুটে আছে বেশকিছু ধবধবে সাদা ড্যাফোডিল। টিউলিপের বাগানের পেছনেই আইরিশ পাব। তবে সকালের দিক বিধায় পাবের দরজাটি বন্ধ। আর বাগানের শেষপ্রান্তে গোয়ালঘরের মতো দেখতে টিনের চালের লম্বা বারান্দা। বিশাল সেই চাতালে দুজন মাত্র মানুষ নানা আকারের পেইন্টিং এনে ঝুলিয়ে রাখছেন। বিক্রির উদ্দেশ্যে। অবাক হয়ে খেয়াল করি, সেসব পেইন্টিংয়ের মাঝে লেনিন যেমন আছেন, তেমনি বেঁচে আছেন স্তালিনও। কিরঘিজ রমণীদের বেশ কিছু চিত্রকর্ম আছে। তবে তাদের অনেকটিতে শিল্পী নেত্রদানপর্ব সমাপ্ত করেননি। সেটি কোনো ধর্মীয় কারণে কি? এর আগে তাসখন্দে পরিচয় হওয়া একজন চিত্রশিল্পী তেমন একটি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এখানে সেসব আলোচনা সম্ভব নয়। কারণ, যে দু যুবক ছবিগুলো চটের ছালা থেকে বের করে ঝুলিয়ে রাখার কাজ করছে, তাদেরকে মূল চিত্রকর বলে মনে হয় না। আর তাছাড়া ওরা মহাব্যস্ত। এই যে আমি খুঁটিয়ে ছবিগুলো দেখছি, এর মাঝে কিন্তু একবারও তারা জিজ্ঞেস করেনি, আমি কোনো সম্ভাব্য ক্রেতা কিনা। অতঃপর তাদেরকে ছুটোছুটিতে ব্যস্ত রেখে আমি মূল স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যাই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563705573218.jpg

কংক্রিটে ঢাকা বিশাল উন্মুক্ত সেই স্কয়ারটিকে অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছে উঁচু বেদিতে ঘোড়া ছুটিয়ে চলা এক বীর। এই বীর পৌরাণিক কাব্যগ্রন্থ ‘মানাস’-এ উল্লিখিত বীর। এই কিরঘিজ দেশটির নানা ক্ষেত্রে মানাস-এর উজ্জ্বল উপস্থিতি। এদের এয়ারপোর্ট, এমনকি জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার নামও মানাস। দূরদেশের রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করে কী করে বিজয়ীর বেশে ফিরেছিলেন সেই বীর, সেটি-ই কাব্যের ছন্দে শত শত বছর ধরে পঠিত হয়েছে ধূসর স্তেপের দেশ কিরঘিজস্তানে।

আজ উদ্দাম হাওয়াকে উপেক্ষা করে স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানটিতে বেশ কিছু লোকের সমাগম। তারা মুগ্ধ হয়ে দেখছে সামরিক বাহিনীর কসরত। তাদের দু দিকে ব্যান্ড দলের বাদ্যের তালে তালে নাচছে স্কুলের একদল কিশোর কিশোরী। কিশোরদের মাথায় ঐতিহ্যবাহী কিরঘিজ টুপি—কালপাক। তাদের কয়েক জনার হাতে স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র কমুজ। ত্রি-তার বিশিষ্ট কমুজ দেখতে অনেকটা গিটারের মতোই, তবে আকারে অনেক ছোট আর শীর্ণ। সেনা আর সেই স্কুলের কিশোর কিশোরীদের সাজ সাজ রব দেখে বোঝা যাচ্ছে, সামনের কোনো এক দিনে হয়তো উৎসব পালনের ঘটা আছে। তাই প্রস্তুতি হিসেবেই এই মহড়া। আমি নিজেও হাওয়া উপেক্ষা করে কিছুক্ষণ শিশুদের মহড়া দেখি।

এই স্কয়ারটির পেছন দিকে একটি সবুজ উদ্যান। নাম—দুবভি পার্ক। সে উদ্যানের সমুখেই আকাশের দিকে উদ্বাহু হয়ে সপ্রতাপে দাঁড়িয়ে আছেন লেনিন। মধ্য এশিয়ায় টিকে থাকা একমাত্র লেনিন-ভাস্কর্য। বাকিগুলোকে অনেক আগেই ধনতন্ত্রের আগমনের মধুলগ্নে সমূলে উৎপাটন করা হয়েছে। কিন্তু এখানকার এরা সমাজতন্ত্র থেকে মুক্তি নিলেও বোধকরি অতীত স্মৃতিকে এক ঝটকায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি। এমনকি স্বাধীনতার বেশ কিছুকাল পর অবধি লেনিন ভাস্কর্যটি স্কয়ারের সম্মুখ চত্বরেই ছিল। এই কিছু বছর আগে ওটিকে সরিয়ে এনে স্থান দেওয়া হয় ভবনের পেছন দিকে। লেনিনের প্রতি মানুষের মায়ামোহ এখনো যে কিছুটা টিকে আছে, তার আরেক প্রমাণ হলো—ভাস্কর্যের বেদিতে পড়ে থাকা গোলাপ আর টিউলিপের ম্লান গুচ্ছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563705392582.jpg

লেনিন ভাস্কর্যের উল্টোদিকের সেই পার্কটির একটি বেঞ্চে গিয়ে বসি। বাঁ ধারে কিরঘিজ নারীর প্রমাণ সাইজের ভাস্কর্য। মধ্যবয়েসি এক নারী। মাথায় হেঁসেলের পাতিলের মতো দেখতে প্রথাগত মেয়েলি কিরঘিজ টুপি—এলিশেক। প্রায় দশ হাত দীর্ঘ সূতি কাপড় পাগড়ির মতো করে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় এ টুপি। তবে বিশাল সাইজের এই কেশাচ্ছাদনকারী পরে হাঁটতে এযাবত কোনো নারীকে এ শহরে দেখিনি। হয়তো গাঁ গ্রামে এখনো এর কিছু চল থাকতে পারে। তবে পাথরের বেদির উপর সেই স্মিতহাস্যময়ী নারীর ভাস্কর্যটি দেখে আমার হঠাৎ জমিলার কথা মনে হয়। প্রখ্যাত সাহিত্যিক চিঙ্গিস আইৎমাতভ সৃষ্ট অমর চরিত্র—জমিলা। বলা চলে, জমিলার গল্পের মাধ্যমেই এই কিরঘিজ দেশটির সাথে আমার পরিচয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জমিলার স্বামী মায়ের কাছে বৌকে রেখে ফ্রন্টে যায়। সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে উপনীত জমিলার সঙ্গী হয়ে থাকে বালক বয়সের দেবর। এর মাঝেই গ্রামের সমবায় ফার্মে কাজের জন্যে ডাক পড়ে তার। গ্রামের পুরুষরা যেহেতু সবাই যুদ্ধে, তাই সমর্থ নারীরা শস্যভাণ্ডার না সামলালে ফ্রন্টের সৈনিকদের মুখে খাবার জুটবে কী করে? জমিলা কাজে যোগ দেয়, সাথে বন্ধুর মতো লেগে থাকে সেই দেবরটি। এর মাঝেই সেখানে উদয় হয় জমিলার সমবয়েসী আরেক যুবক। জমিলা আর সেই যুবক দুজনেই একে অপরের প্রতি নৈকট্য অনুভব করে। আর সেভাবেই কাহিনী গড়ায়। ছোট গল্প। কিন্তু কী গভীর তার আকুতি! কিরঘিজ গ্রামীণ সমাজের সেই সময়কার চিত্রকে যেন জমিলার জীবনের কাহিনীর মধ্যদিয়েই আইৎমাতভ উপস্থাপন করেছেন আমাদের সামনে। আমি সেই ভাস্কর্যটির দিকে তাকিয়ে ভাবি—তুমিই কি তবে গিরিপথ পেরিয়ে গ্রাম ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরে দূর দেশে পালিয়ে যাওয়া সেই জমিলা?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563705311264.jpg

ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটা অব্যাহত থাকায় চায়ের তেষ্টা জেগে ওঠে। আমি রাস্তা পেরিয়ে স্কয়ারের উল্টোদিকে যাই। ওদিকটাতে বেশ কিছু ক্যাফে-বেকারির দোকান আছে। বলা চলে, এ রাস্তাই শহরের সবচেয়ে বনেদি এলাকা। খুব বেশি দূর হাঁটতে হয় না। অল্প দূরেই লোহার দরজা ঘেরা মেট্রো পাব নজরে আসে। সেটির বাইরে চক বোর্ডে লেখা—‘তুমি+আমি+কফি= আনন্দ’। যদিও আমার ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, আমি আছি, কফিও হয়তো থাকবে, কিন্তু কোনো ‘তুমি’ নেই। তাই আনন্দের সঙ্কুলান হবে কিনা, জানি না। তবুও অনন্যোপায় না থাকায় সেই দশাতেই ভেতরে ঢুকতে হয়। ভেতরটা গুমোট অন্ধকার। বাইরের দরজার সাথে মিল রেখেই চারধারে ছড়ানো লোহার টেবিল চেয়ার। সড়কের দিকে মুখ করা জানালাগুলো ঘোলাটে কাচে ঢাকা। দেয়ালে টানানো নোটিশ বোর্ডে লেখা—টেবিল ছেড়ে উঠে গেলে মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন। কোণের দিকটিতে বার। তবে সেটি বোধ করি জমজমাট হয়ে ওঠে আঁধার নামার পর। এই ভর দুপুরবেলায় কেই-বা এখানে মদ গিলতে আসবে? ওয়াটার এগিয়ে এলে আমি চায়ের অর্ডার করে পাশের টেবিলের দিকে তাকাই। সেখানে মাঝবয়েসী দু মার্কিন ভদ্রলোক আলাপ করছেন। নিচুস্বরে কথা বলায় তাদের আলাপন আমি ডিকোড করতে পারি না। ভাবতে থাকি এরা কি কোনো কনট্রাক্টর? একথা ভাবছি, কারণ, ঠিক এই মুহূর্তে না হলেও কয়েক বছর আগ অবধি এই বিশকেক শহরটিতে আনগোনা ছিল বিপুল সংখ্যক মার্কিনীর। নাইন ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হলে তারা কিরঘিজস্তানের মানাস এয়ারপোর্টে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বানাবার জন্যে জায়গা চেয়ে বসে। চরম অর্থনৈতিক মন্দা চলতে থাকা কিরগিজস্তানের পক্ষে সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তারা রাজি হয়ে যায়। সেই থেকে বিমান বাহিনীর লোক, তাদেরকে কেন্দ্র করে সাপ্লায়ার কোম্পানি ইত্যাদি নানা সংস্থার কাজ করা বিপুলসংখ্যক লোকেদের মচমচে পয়সায় গড়ে ওঠে এ এলাকার হোটেল, ডিস্ক, পাব, আর ক্যাফেগুলো। তবে কয়েক বছর আগে ক্ষমতায় আসা নয়া কিরঘিজ সরকারের চাপে মার্কিন বিমান বাহিনী এখানকার ঘাঁটিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিদেয় নিলে মাথায় হাত পড়ে এ এলাকার ব্যবসায়ীদের। তারা সরকারের কাছে আর্জি জানায়—ফিরিয়ে আনুন আবার সেই মার্কিনীদের। নয়তো আমরা চলব কী করে? তাদের এই উদ্বিগ্নতার হেতুটা আমি বুঝি। এ পর্যন্ত বিশকেক শহরের নানা পথে হেঁটে যতদূর বুঝেছি, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরুবার পর এখানকার নতুন কোনো শ্রীবৃদ্ধি হয়নি। বিদ্যুৎচালিত যে সরকারি বাসগুলো রাস্তায় চলছে সেগুলো রঙচটা, লক্কড়-ঝক্কর মার্কা। রাস্তায় এখানে-ওখানে খানাখন্দ। রাজধানীর পাড়াগুলো শ্রীহীন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা উষর, চাষাবাদ-অনুপযোগী। খনিজ সম্পদের মধ্যে আছে একটি ছোট সোনার খনি। ভারি শিল্প নেই বললেই চলে। সে কারণেই দেশটির বিপুল জনগোষ্ঠী কাজের সন্ধানে ছুটে যায় রাশিয়ায়। অর্থনীতির এমন একটি ত্রিশঙ্কু অবস্থায় মার্কিন ঘাঁটির প্রস্থানে তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিচলিত না হয়ে পারেনি। তবে ঘাঁটিটি গুটিয়ে নিলেও সব কর্মকাণ্ড হয়তো পুরোপুরি বিদেয় নেয়নি। কিছু কনট্রাক্টর, কিছু ফড়ে দালাল হয়তো এখনো রয়ে গেছে। অদূরের টেবিলে ভুঁড়ি ঠেকিয়ে বসা সেই দুই মার্কিনী তেমন কেউ কিনা কে জানে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563704741206.jpg

ওয়েটার চা এনে রেখে যায়। চায়ের প্লেটে দুধবিহীন লিকার চায়ের পাশে রাখা থাকে মুসুম্বির কয়েকটি টুকরো। আমি সেই টুকরো দুটোকে চায়ে ভাসিয়ে দিই। সেই সাথে ভাবতে থাকি—দুপুরের খাবারটা সারা যায় কোথায়? খাবার নিয়ে এ অঞ্চলে বেশ হুজ্জতে পড়েছি। ইংরেজি জানা লোক এখানে নেই বললেই চলে। সবজি চাইলে এনে দেয় মাংস, আর মাংস চাইলে এনে দেয় সবজি। যেটা বুঝলাম, নিজের ইচ্ছেমতো খাবার চাইলে এ দেশে আসবার আগে টুকিটাকি রুশ শিখে আসাটা বাধ্যতামূলক। ও হ্যাঁ, এরা কিন্তু এখনো রুশ ভাষাকেই ধরে রেখেছে। আর এদের বর্ণমালাও সিরিলিক বর্ণমালা।

কফি পান শেষে আমি এগলি-ওগলি হেঁটে হায়াত রিজেন্সি হোটেলটা খুঁজতে থাকি। না, এ গরিব বান্দার সেখানে ওঠবার মতো সামর্থ্য নেই। আমি আসলে ওটি খুঁজছি, কারণ এর ঠিক পেছনেই নাকি কিরঘিজ জাতীয় নাট্যশালা। সেখানে যাবার কারণ আছে। সকালে হোটেলের খাবার ঘরে প্রাতরাশ সারার পর বেরিয়ে আসার সময়ে শুনছিলাম ম্যানেজার মেয়েটি কাকে যেন বলছে—আজ এখানে বিরাট অপেরা কনসার্ট হবার কথা। ভিয়েনা থেকে এদ্রিয়ান আর হাইদেমারিয়া নামক দুজন স্বনামধন্য শিল্পী আসবেন। সাথে থাকবে স্থানীয় বাদ্যযন্ত্রীদের একটি দল। তারা বাজাবেন—পিয়ানো, চেলো, ভায়োলিন আর বাস। অপেরা শিল্পীরা কিন্তু অনেক সময় গানের সুরের সাথে কোনো একটি অভিনয়ও মঞ্চস্থ করেন। অনেকটা আমাদের গীতিনাট্যের মতো। তবে ভিয়েনা থেকে আসা অপেরা শিল্পীরা কেবলই গাইবেন, অভিনয়ে অংশ নেবেন না। এর আগে ভিয়েনায় গিয়ে পথেঘাটে এই অপেরা কনসার্টের টিকিট বিক্রি হতে দেখেছি। সিনেমা হলের সামনে দাঁড়িয়ে ব্ল্যাকে টিকেট বেচা দালালদের মতোই ওখানকার থিয়েটারগুলোর আশেপাশের রাস্তায় আছে বেশ কিছু টিকেটবিক্রেতা। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের নিমিত্তে তাদের অনেকের পরনে পুরনো আমলের ঝলমলে পোশাক। এমন কয়েকজনের কাছে টিকেটের মূল্য শুনে আমার একেবারে অক্কা পাবার দশা হয়েছিল। প্রায় দেড়শ ইউরোর নিচে ভালো কোনো টিকেটই নেই। তাই অপেরা কনসার্টের তীর্থস্থল ভিয়েনায় অবস্থানকালে সেটির সুধা আস্বাদন আর সম্ভব হয়নি। তবে সেখানকার শিল্পীরা এখানে এসে অনুষ্ঠান করায় আমি অনুমান করি—টিকেটের মূল্য হয়তো তেমন একটা আকাশচুম্বী হবে না। ম্যানেজার মেয়েটিকে কোথা থেকে টিকেট কাটা যায়, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে সে কিছুটা তাগিদের কণ্ঠে জানায়, “আজ রাতের এই শো যদি ধরতে চাও, তাহলে তোমাকে দুপুরের মধ্যে গিয়ে টিকেট কেটে আসতেই হবে। শোয়ের ঠিক আগে ওখানে টিকেট পাবে না।” মেয়েটির সেই কথাকে আমলে নিয়েই আমার এই নাট্যশালা খুঁজতে পথে নামা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563705117000.jpg

গথিক স্থাপত্যে নির্মিত বিশাল সেই নাট্যশালাটি দু গলি পরেই পেয়ে যাই। চূড়োতে এখনো নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে যাওয়া তারাটি দেখেই বোঝা যায়, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের এই ভবনটি সোভিয়েত সময়ের অবদান। সামনের বারান্দায় উঠে দেখি, সেখানে এসে প্রতিফলিত হচ্ছে ভেতরের প্যাসেজে জ্বলতে থাকা ঝাড়বাতির আলোকছটা। সেই আলোর রেখা অনুসরণ করে ভেতরে যাবার মুখে কাঠের ভারি দরজাটির হাতলে চাপ দিই। কিন্তু সেটি আমার প্রত্যাশাকে প্রত্যাখ্যান করে। আমি বুঝে যাই, সন্ধ্যের আগে এই দোর খুলবার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাহলে টিকেট পাব কোথায়? নাকি এতটা পথ এসে আশাহত হয়ে ফিরে যেতে হবে? সেই সময়ে খেয়াল করি, বারান্দার একেবারে শেষ প্রান্তে দু পাল্লার জানালা। একটি পাল্লা খোলা, অপরটি বন্ধ। মুখে হাসি ফুটে ওঠে আমার, টিকেটের একটা বন্দোবস্ত হয়তো হয়ে গেল।

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে
হুমায়ূন আহমেদ

 

তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র