Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

সেই বাড়িটা- শেষ অংশ

সেই বাড়িটা- শেষ অংশ
ছবি: বার্তা২৪
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

অনামিকা দাঁড়িয়ে আছে। অনামিকা যেন একটু অন্যরকম। গম্ভীর গলায় বলে, ‘একা একা ঘুমিয়ে পড়লি?’ নেহা অবাক চোখে বলে, ‘একসঙ্গেই তো শুলাম । তুই কী করে বাইরে গেলি? আমি কিছু বুঝছি না। বাড়িটা ঠিকঠাক মনে হচ্ছে না। একবার মনে হল দেয়ালের তাকে কেউ পা দোলাচ্ছে। তারপর তোকে ডাকতে গিয়ে দেখলাম তুই নাই’। অনামিকা বলে, ‘তোর ট্রমা এসেছে খুনটার পর থেকে। তুই আমাকে ছাড়াই শুয়েছিলিস। এবারে আয় শুয়ে পড়ি।’

নেহা আবার দরজা বন্ধ করে, সব ভালো করে দেখে দু’জনে ঘুমোতে যায়। চোখ লাগতে না লাগতেই নেহা দেখে পাশে সত্যি অনামিকা নেই। আর সমস্ত ঘরের জানলা, দরজা সব খোলা। নেহা বিধ্বস্ত হয়ে যায়, নিজেকে পাগল পাগল লাগে। নেহা বুঝতেই পারে তারা কোনো ভুল জায়গায় এসে গেছে। যাকে পাগলি ভেবেছিল সে কী আদৌ পাগলি? ভাবতে থাকে নেহা।

এদিকে, একটা টিভির ঝিগঝিগ আওয়াজ শুনতে পায়। যেন পাশের ঘরে কেউ টিভি দেখছে। তাহলে কী অনামিকা উঠে টিভি দেখতে গেল? ভাবতে ভাবতে নেহা খাটিয়া থেকে আস্তে আস্তে নামে। বাইরের আলো এসে পড়েছে হালকা করে ঘরের মধ্যে। সত্যিই পাশের ঘরে টিভি চলছে। খুব বমি বমি পায় নেহার যেন সে তার অস্তিত্বটা চিনতে পারছে না! তবু নিজেকে নিয়ে দরজার ফাঁকে গিয়ে চমকে যায় নেহা। তার দিকে পিঠ করে তিনজন মেয়ে ওই বেঞ্চিতে বসে টিভি দেখছে। আর টিভিতে কিছুই হচ্ছে না।

নেহা মোবাইলের আলো জ্বালাতেই তিনজন একসঙ্গে পেছন ফেরে। নেহার সারা শরীর ভারী হয়ে যায়! নেহা দেখে, তার দিকে তাকিয়েছে অনামিকা, সেই পাগলিটা আর সে নিজেও। চিৎকার করতে করতে নেহা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছুটতেই থাকে, ছুটতেই থাকে। অনেক দূরে এসে সেই কয়েকটা বাড়ির সামনে এসে পড়ে। বাইরে থেকে দেখা যায় আলো জ্বলছে, পর্দা ঝুলছে, বাড়িটার। দরজায় গিয়ে বার বার টোকা মারার পর এক ভদ্রস্থ মহিলা তাকে দরজা খোলে।

নেহা তাকে কিছুটা ঘটনা বললে তিনি নেহাকে শান্ত হতে বলেন। নেহা এরপরে ওই বাড়ির বাথরুমে যায়। বাথরুম থেকে ঘরের মেঝেতে পা দিয়ে নেহা চমকে যায়। নেহা বুঝতে পারে ‘সী ইজ ট্র্যাপড বাই’। নেহা আবারও চিৎকার করতে থাকে। নেহা যে বাড়িতে এসেছে আসলে সেটা আগের বাড়িটাই।

পরদিন সকালে একটি ট্রাক যাওয়ার সময় দেখা যায় দুটি মেয়ে মাথা থেকে রক্ত পড়ে রাস্তায় মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সম্ভবত গত রাতে ট্যাক্সিটা কোনো গাছে লেগে এই দুর্ঘটনা হয়ে তারা মারা গেছে। রাস্তা থেকে একটু দূরে একটা পোড়ো বাড়ির সামনে তাদের চটি, ব্যাগ পড়ে আছে। সবাই বলে এই বাড়িতে ঘুতু পাগলি নামে এক পাগলের আত্মা ঘুরে বেড়ায়। কী ঘটনায় , কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল কেউ জানেনা। শুধু তার বেঁচে থাকাকালীন সে যে এই বাড়িতে থাকত সেটা আশেপাশের লোকরা জানে। লোকজন জড়ো হতে থাকে দুটি মেয়ে মানুষের মৃতদেহ ঘিরে। লোকে নানারকম কথা বলতে থাকে... বলতেই থাকে...

সেই বাড়িটা’ এই গল্পটি আজ সমাপ্ত হল। আগামী রোববার আরও একটি গল্প আপনাদের জন্য থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান মারা গেছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান মারা গেছেন
একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

রিজিয়া রহমানের ছেলে আবদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন তার মা। রক্তের সংক্রমণের কারণে ঈদের পরদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  

উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে বাদ আসর রিজিয়া রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মিরপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান তার ছেলে।

১৯৩৯ সালে কলকাতার ভবানীপুরে রিজিয়া রহমানের জন্ম। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন।

সাহিত্যের নানা শাখায় পদচারণা থাকলেও ষাটের দশক থেকে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, রিজিয়া রহমানের মূল পরিচিতি ঔপন্যাসিক হিসেবে। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান রিজিয়া রহমান। চলতি বছর তাকে একুশে পদক প্রদান করে সরকার।

তার উল্লেখযোগ্য গন্থগুলো হলো: অরণ্যের কাছে, শিলায় শিলায় আগুন, অগ্নিস্বাক্ষরা, ঘর ভাঙা ঘর, উত্তর পুরুষ, ধবল জোৎস্না, সূর্য সবুজ রক্ত, রক্তের অক্ষর, বং থেকে বাংলা, অলিখিত উপাখ্যান, একাল চিরকাল, হে মানব মানবী, হারুন ফেরেনি, উৎসে ফেরা।

টনি মরিসন : কৃষ্ণাঙ্গ সাহিত্যের নায়িকা

টনি মরিসন : কৃষ্ণাঙ্গ সাহিত্যের নায়িকা
টনি মরিসন

সদ্য প্রয়াত টনি মরিসন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগেই সুবিখ্যাত। বিগত আশির দশকে বিশ্ব সাহিত্যের আলোচিত লেখকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। অবহেলিত কৃষ্ণাঙ্গ এবং সেই কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে অধিকতর অবহেলিত নারী সমাজের একজন সদস্য রূপে তিনি যখন পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন, তখন সবাই সচকিত হয়ে তাকিয়ে ছিলেন তার দিকে। তার উত্থান হয়েছিল আফ্রো-আমেরিকান সাহিত্য ঘরানার নায়িকার মতো।

ক্লো আর্ডেলিয়া উওফোর্ড থেকে তিনি হয়েছিলেন টনি মরিসন। জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১ আর মৃত্যু ৫ আগস্ট ২০১৯ সাল। ৮৮ বছরের জীবনের পুরোটা সময়ই তিনি কাটিয়েছেন আমেরিকায় অভিবাসন গ্রহণকারী কৃষ্ণ নাগরিকদের আইডেনটিটির সন্ধানে। তাদের শেকড় আর আধুনিক কালের জীবন সংগ্রামের প্রপঞ্চ প্রাধান্য পেয়েছে টনি মরিসনের লেখায়।

একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার, সম্পাদিকা ও বিশ্বখ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস প্রফেসর ছিলেন তিনি। তার উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য হলো মহাকাব্যিক রীতি, তীক্ষ্ণ কথোপকথন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ চরিত্রায়ন। তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশ পায় ১৯৭০ সালে, নাম ‘দ্য ব্লুয়েস্ট আই’। অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে টনি মরিসনের ‘সুলা’ (১৯৭৩), ‘সং অব সলোমন’ (১৯৭৭) এবং সবচেয়ে আলোচিত ‘বিলাভেড’ (১৯৮৭) অন্যতম।

১৯৮৮ সালে মরিসন তার ‘বিলাভেড’ উপন্যাসের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার এবং আমেরিকান বুক এওয়ার্ড বিজয়ী হন। এই গ্রন্থ ও পুরস্কারের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব সাহিত্যের আলোচনায় চলে আসেন এবং তার নাম নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় আসতে থাকে। মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৯৩ সালে তিনি সাহিত্যের নোবেল পুরস্কারটি অর্জনও করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565276118367.jpg
◤ নোবেল প্রাইজ গ্রহণ করছেন টনি মরিসন ◢


টনি মরিসন নোবেল পেয়েছেন নোবেল কমিটির পুরস্কার কাঠামোর ধ্যান-ধারণা ভেঙে। কারণ, পুরস্কারদাতা আলফ্রেড নোবেল তার উইলে বলে গিয়েছিলেন, এই পুরস্কার যিনি পাবেন, তাকে অবশ্যই আদর্শিক কিছু করে দেখাতে হবে। প্রথমদিককার নির্বাচকমণ্ডলী তার কথাগুলোকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন গোঁড়াভাবে। তাই তারা শুধুমাত্র আদর্শিক দিকটিই চিন্তা করেছেন। অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক, যারা হয়তো বড় কোনো আদর্শের জন্ম দিতে পারেনি, তারা নোবেল পুরস্কার পায়নি। সাহিত্যে স্মরণীয় হলেও আদর্শের প্রশ্নে পুরস্কার না দেওয়ার নীতির জন্য নোবেল পুরস্কার বহুবারই বিতর্কিত হয়েছে।

যে কারণে লিও তলস্তয়, হেনরিক ইবসেনের মতো সাহিত্য ব্যক্তিত্ব কিংবদন্তিতুল্য হয়েও নোবেল না পাওয়ায় নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস কলঙ্কময় হয়েছে। অবশ্য পরবর্তীকালে পুরস্কারের নির্বাচকরা আরো উদার হয়েছেন। আদর্শিক নয় বরং কার সাহিত্য সকল যুগে মানুষের আবেগের ইন্ধন যোগাবে অর্থাৎ কোনটি অমরত্ব অর্জন করবে তার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হচ্ছে বিজয়ীদের। যে কারণে এমন অনেকে পুরস্কার পেয়েছেন যারা অতটা জনপ্রিয় বা পরিচিত নন, কিন্তু সাহিত্যে অভিনবত্ব ও সৃষ্টিশীলতার জন্য খ্যাত। এ তালিকায় ১৯৯৭ সালে নোবেল প্রাপ্ত দারিও ফো এবং ২০০৪ সালের পুরস্কৃত এলফ্রিদে ইয়েলিনেক-এর নাম করা যায়। টনি মরিসন তেমনই একজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565276370185.jpg

◤ এলফ্রিদে ইয়েলিনেক┇দারিও ফো ◢


সাহিত্যকে আদর্শবাদের কাল্পনিক আখ্যান তৈরির জায়গা থেকে সরিয়ে টনি মরিসন নিরেট বাস্তবের পটভূমিকায় নিয়ে আসেন। আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ জাতিসত্তার জীবন ও সংগ্রাম তিনি তুলে আনেন নিউইয়র্কের পথে পথে হেঁটে, কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত হার্লেম এলাকার তস্য গলির ভেতর থেকে। আমেরিকান তথা বিশ্ব সাহিত্যে ‘ব্ল্যাক ভয়েজ’কে জায়গা করে দিতে তার রয়েছে অনবদ্য অবদান। আফ্রিকান কমিউনিটিকে আধুনিক সাহিত্যে প্রতিস্থাপনের কষ্টকর কাজে টনি মরিসনের গভীর অনুসন্ধানের তুলনা মেলা ভার।

প্রবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত যে ১১৫ জন সাহিত্যিক নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুইজন নোবেল প্রত্যাখান করেন। অনেকে ধারণা করেছিলেন টনি মরিসন হবেন পুরস্কার প্রত্যাখ্যানকারী তৃতীয় জন। এমনটি হলে তিনি নাম লেখাতেন রুশ সাহিত্যিক বরিস পাস্তেরনাক ও ফরাসি পণ্ডিত জ্যাঁ পল সার্ত্র’র সাথে।

বরিস পাস্তেরনাক ১৯৫৮ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের চাপে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনার ছয় বছর পর ১৯৬৪ সালে জ্যাঁ পল সার্ত্র এই পুরস্কারে ভূষিত হলেও তিনি তার পূর্ববর্তী সকল সরকারি সম্মাননার মতো এই পুরস্কারও প্রত্যাখ্যান করেন। আফ্রিকান সাহিত্যিকদের অবমূল্যায়ন এবং আফ্রো ইস্যুগুলোকে অবহেলার অভিযোগে টনি মরিসন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করতে পারেন বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। কারণ টনি মরিসন সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন সাহিত্যে কালো মানুষদের অধিকার ও ন্যায্য আসনের দাবিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565276228836.jpg

◤ বরিস পাস্তেরনাক┇জ্যাঁ পল সার্ত্র ◢


তবে টনি মরিসন ও আরো অনেকের মনোভাবের কাছে নতি স্বীকার করে নোবেল পুরস্কার রক্ষণশীল মূলনীতি থেকে সরে এসেছে। আদর্শবাদের নামে ইউরোপীয়-প্রধান ভাষার সাহিত্যকে পৃষ্ঠপোষকতা করার একচ্ছত্র মনোভাব নোবেল কমিটিকে ছাড়তে হয়েছে। পৃথিবীর প্রায়-সকল দেশের সাহিত্যের প্রতি তাদের নজর দিতে হচ্ছে। লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মিশর, তুরস্ক, বেলারুশের সাহিত্য প্রতিভাকেও নতজানু হয়ে সম্মান জানাতে হচ্ছে।

১৮৩৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে জন্মগ্রহণকারী রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল জীবনে অনেকগুলো উইল করে গিয়েছিলেন, নোবেল পুরস্কার এর মধ্যে অন্যতম। ১৮৯৪ সালে তিনি একটি বফর লোহা ও ইস্পাত কারখানা ক্রয় করেন, যেটিকে পরবর্তী সময়ে একটি অন্যতম অস্ত্র তৈরির কারখানায় পরিণত করেন। তিনি ব্যালিস্টিক উদ্ভাবন করেন, যা সারা বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াবিহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তার ৩৫৫টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি জীবদ্দশায় প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিনামাইট।

১৮৮৮ সালে তিনি তার উদ্ভাবিত যুদ্ধাস্ত্রের মাধ্যমে মৃতদের তালিকা দেখে বিস্মত হন, যা একটি ফরাসি পত্রিকায় তাকে ‘এ মার্চেন্ট অব ডেথ হু ডেড’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। যেহেতু নোবেলের ভাই লুডভিগও মারা যায়, ফলে এই নিবন্ধটি তাকে ভাবিয়ে তোলে এবং খুব সহজেই বুঝতে পারেন ইতিহাসে তিনি নিকৃষ্টরূপে স্মরণীয় হতে চলেছেন। যা তাকে বারবার উইল পরিবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করে।

ফলে নোবেল তার জীবদ্দশায় অনেকগুলো উইলের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষটি রচনা করেন মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে ২৭ নভেম্বর ১৮৯৫ সালে। প্যারিসে অবস্থিত সুইডিশ-নরওয়ে ক্লাবে রচিত হয় এই উইল। বিস্ময় ছড়িয়ে দিতে নোবেল তার সর্বশেষ উইলে উল্লেখ করেন, তার সকল সম্পদ পুরস্কার আকারে দেওয়া হবে তাদেরকে, যারা রসায়ন শাস্ত্র, পদার্থ বিদ্যা, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে ‘বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে’ কাজ করবেন। একজন বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক হয়েও তিনি ‘বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে’ কাজ করতে পারেননি, যারা তা করেছেন বা করবেন নোবেল তাদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করে গেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/08/1565276474241.jpg

◤ আলফ্রেড নোবেল ◢


নোবেল তার মোট সম্পদের (৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা) ৯৪ শতাংশ এই পাঁচটি পুরস্কারের জন্য উইল করেন। ২৬ এপ্রিল ১৮৯৭ সালের আগ পর্যন্ত সন্দেহপ্রবণতার জন্য নরওয়ে থেকে এই উইল অনুমোদন করা হয়নি। নোবেলের উইলের সমন্বয়কারী রগনার সোলম্যান ও রুডলফ লিলজেকুইস্ট পরে নোবেল ফাউন্ডেশন তৈরি করেন, যা নোবেলের প্রদত্ত সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১৮৯৭ সালে নোবেলের উইল অনুমোদন হবার সাথে সাথেই নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নামক একটি সংস্থা তৈরি করা হয়। অতি শীঘ্রই নোবেল পুরস্কার দেবার অন্যান্য সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। নোবেল ফাউন্ডেশন কিভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে তার একটি নীতিমালায় পৌঁছায় এবং ১৯০০ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন নতুনভাবে একটি বিধি তৈরি করে, যা রাজা অস্কার কর্তৃক জারি করা হয়। ১৯০৫ সালে সুইডেন ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধন বিলুপ্ত হয়। তার পর থেকে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি শুধুমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবং সুইডেনের প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য পুরস্কারগুলো প্রদানের দায়িত্ব পায়।

আলফ্রেড নোবেলের যুদ্ধাস্ত্র ছাপিয়ে তার পুরস্কার তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে। মেরি কুরি, টনি মরিসন এবং আরো শত শত পণ্ডিত, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক এই পুরস্কার গ্রহণ করে ১০ ডিসেম্বর ১৮৯৬ সালে ৬৩ বছর বয়সে তার নিজ গ্রাম স্যান রিমোতে মৃত্যুবরণকারী আলফ্রেড নোবেলকে বাঁচিয়ে রেখেছেন ইতিহাসের পাতায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র