Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিষধর

বিষধর
রেহানা বীথি/ছবি: বার্তা২৪
রেহানা বীথি


  • Font increase
  • Font Decrease

সেদিন ছিলো মধ্য বৈশাখের ঝাঁ ঝাঁ এক দুপুর। সবুর মিয়া খালি গায়ে ঘাড়ে গামছাটা ফেলে উঠোন পেরিয়ে চলে গেলো বাড়ির পেছনে। ইচ্ছে তার, গায়ে যদি পুকুরপাড়ের নিম, বরুণ আর ওই ঘন পাতায় ছাওয়া কাঁঠালগাছের ঝিরিঝিরি হাওয়া লাগে একটু। যা গরম পড়েছে! বিশাল ভুঁড়িসমেত এই পাহাড়ের মতো দেহখানা ঘামে চুপচুপে সারাক্ষণ। যদি পুকুরপাড়ের ঠাণ্ডা হাওয়ায় শুকায় সেই ঘাম। কিন্তু তা আর হলো না। সবুর মিয়ার চুপচুপে ঘামে ভেজা শরীর নতুনভাবে ঘামতে লাগলো কুলকুল করে। সেই ঘামে পরনের লুঙ্গিখানাও যেন ভিজে গেলো। মনে হলো, লুঙ্গি বেয়ে ঘাম ঝরঝর করে পড়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার পায়ের তলার মাটি। কিন্তু তা কি করে হয়? শুধু ঘামেই পায়ের তলার মাটি ভিজে কাদা হয়ে গেলো? এ প্রশ্ন মনে জাগতেই যেন হুশ হলো তার। ভালো করে খেয়াল করে বুঝতে পারলো, ঘাম নয়... কখন যেন পেচ্ছাবই করে ফেলেছে সে। হ্যাঁ, হ্যাঁ... লোকমুখে শুনেছিলো বটে সবুর মিয়া, ভয়ে, আতঙ্কে মানুষের পেচ্ছাব পায়খানাও হয়ে যায়। তাহলে কিনা তারও!

এখন কথা হলো, এত ভয়, এত আতঙ্ক তার হলো কেন? প্রচণ্ড গরমে গা ঘামছিলো বটে, তবে মনটা তো তার বেশ ফুরফুরাই ছিলো। নাহ্, কোনো বিষয়ে একবারও তো আনচান করেনি তার মন! কিংবা কোনো দুশ্চিন্তার রেখা ভাঁজ ফেলেনি কপালে। তাহলে? হঠাৎ কী এমন হলো, যার কারণে ঘাম তো ঘাম, সে একেবারে পেচ্ছাবই করে ফেললো? আর তারপর এই যে দিন দশেক পার হয়ে গেলো, এতটুকুও তো কমলো না সেই সেদিনের আতঙ্ক! বরং বেড়েই চলেছে দিন দিন। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে সেই আতঙ্ক, যে মনে হচ্ছে ওই আতঙ্কই একধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে তার। তাই যদি না হবে, তাহলে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার পরেও কেন বার বার সবার অগোচরে উঁকি দিচ্ছে বাড়ির কান্টার ওই মজা পুকুরপাড়ে? তাজ্জব ব্যাপার বটে! নানা কিসিমের নেশা থাকে মানুষের, কিন্তু আতঙ্কের নেশা? জেনে বুঝে আতঙ্কিত হতে চাওয়ার নেশা? সে বোধহয় একমাত্র সবুর মিয়ারই আছে। আর এই নেশার কারণে কেমন যেন ঝিম মেরে গেছে সে। থেকে থেকে চমকেও উঠছে, দীর্ঘ দীর্ঘ শ্বাসও ফেলছে। আট ছেলেমেয়ের মা করিমন নেসা, যে কিনা তার বউ। যতন করে সে যখন পানের খিলি সাজিয়ে ধরছে মুখের সামনে, মুখটা কেমন যেন তিতা তিতা আর বিস্বাদ লাগে তখনও। বউটার পান খাওয়া রঙিলা ঠোঁট দু'টো যে এই বুড়া বয়সেও কত সুন্দর লাগে, সেটা আর চোখেই পড়ে না তার। যৌবন বয়সের মতো বউয়ের লজ্জা লজ্জা হাসিমুখটা দেখে হঠাৎই তার মনে উদয় হয় সেই দুপুরের আরেকটা হাসিমুখ। সে মুখ কোনো মানুষের নয়, মুখটা একটা সাপের। কালো কুঁচকুঁচে, কিলবিল করে ছুটে চলা একটা সাপ। ফনা তোলে না তাকে দেখে, শুধু হাসে।

জলজ্যান্ত দু'টো মানুষকে একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে দেয়া চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু সবুর মিয়া কেমন করে যেন করে ফেলেছিলো সে কাজটা। যদিও কাজটা করতে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা ভাবনা করে অনেক বুদ্ধি খরচ করতে হয়েছিলো। জীবনে ওই একবারই সে চরম বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলো। যার কারণে বাকি জীবনটা তার এমনভাবে বদলে গেলো, যে বদলের কথা সে কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি। যার ঠিকমতো পেটের ভাত জুটতো না, ছিলো না সমাজে মান সম্মানের ছিটেফোঁটা, চুরি চামারি করার কারণে দেখতে পারতো না মা বাপও। সেই সবুর কিনা দেখতে দেখতে হয়ে গেলো সবুর মিয়া! গাঁয়ের দশজন মান্যি করে, উঠতে বসতে সালাম দেয় এখন তাকে, সে তো তার সেদিনের সেই বুদ্ধির জোরেই! সেই বছর চল্লিশ আগে যদি সে অমন বুদ্ধির পরিচয় না দিতো, হয়তো অভাবে জর্জরিত হয়ে এতদিনে সে এই সাধের দুনিয়া ছেড়ে চলেই যেতো ওপারে। কিন্তু তা হয়নি। সবুর সেদিন জীবনের মোক্ষম সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে সবুর মিয়া..... গাঁয়ের মোড়ল। সুখে সম্পদে উপচে পড়ছে তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ ওই সাপ? কিলবিল করে চলতে চলতে মাথাটা সবুর মিয়ার দিকে ঘুরিয়ে অমন করে হাসছে কেন সে? যে পুকুরপাড়ে এত বছর ধরে পুঁতে রাখা আছে তার সুখ সম্পদের রহস্য, ঠিক সেই পুকুরপাড়ে, ঠিক ওই জায়গাটাতেই রোজ ওই সাপ আসে কোত্থেকে? আসে তো আসে, তাকে দেখে হাসে কেন? সাপ কি হাসে কখনও? দেখে তো মনে হয়, এতবছর ধরে পুঁতে রাখা গোপনীয়তার সব রহস্য সাপটার জানা। সত্যিই কি তাই? একথা মনে হতেই আবারও ঘেমে ওঠে সবুর মিয়া। টপ টপ করে পড়ে তার ঘাম পাকা দাড়ি বেয়ে।

চল্লিশ বছর আগের সেই মাটিচাপা দেয়া ঘটনার পর কোনোদিন পুকুরপাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করেনি সবুর মিয়া। পাঁচ কাঠা ভিটের ওপর ছনের চাল দেয়া মাটির কুঁড়ে, আর কুঁড়ের পেছনে ছোট্ট পুকুর, কিছু গাছপালা, এই ছিলো তার সম্পদ। ধীরে ধীরে ভিটেতে ওঠে দালান, চকচকে হয় তার জীবন। কিন্তু পুকুরের পাড় আগাছায় ঢাকা। ভিটেয় যখন দালান ওঠে, তখন রাজমিস্ত্রিরা চেয়েছিলো বটে, ঘাটটা ইট সিমেন্টে বাঁধিয়ে দিতে। কেন যেন হায় হায় করে উঠেছিলো সবুর। রাজমিস্ত্রিদের কাছে সে ছিলো এক আচানক ব্যাপার। কেন লোকটা অমন হায় হায় করে উঠলো? পুকুরঘাট বাঁধানো এমন কি খারাপ কাজ! যাই হোক, সবুরের তখন টাকার দেমাগ। গাঁয়ের যেসব লোকজন তাকে কোনোদিন গ্রাহ্যই করেনি, তারা এগিয়ে আসে তাকে দেখে দু'টো কথা বলার জন্য। মুখে কিছু না বললেও, হাবেভাবে বলতে চায় তারা, তোমার উন্নতির রহস্য কি সবুর মিয়া? গঞ্জে বড় দোকান, ভিটেতে ঘরের পর ঘর, ক্যামনে কী? এসব প্রশ্ন তাদের মনে খেলা করে সবসময়, কিন্তু বলে না তারা কিছু। জানে তারা, সবুর এখন বড়লোক, তার টাকার জোর বেজায় এখন। ওসব বলে তাকে খামোখা বিরক্ত করা কেন? তারচেয়ে তারা মনোযোগী হয় সবুরের বিয়ে দিতে। মাথার উপর কোনো বটবৃক্ষের ছায়া নেই যে সবুরের, গাঁয়ের লোকের একটা দায়িত্ব আছে না? দেখে শুনে বিয়ে ঠিকও করে ফেলে তারা। সবুরও রাজি। হবে না? করিমন নেসার রাঙা বেদানার মতো চেহারা চোখে যে নেশা ধরায়। বিয়ে হলো সবুরের। একে একে ছেলেপুলেতে ভরে যেতে লাগলো ঘর। পুকুরপাড়ে পুঁতে রাখা রহস্য দিন দিন ঢেকে গেলো ঘন জঙ্গলে। অব্যবহারে টলটলে পুকুর হয়ে গেলো মজা পুকুর। কেউ যায় না ওই জঙ্গলের মধ্যে তেমন। শুধু সবুর মিয়াই মাঝে মধ্যে যায় কাঠের একটা টুল হাতে করে। গিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ। ওই সেদিন.... সেই ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে যেমন গিয়েছিলো!

সেই দুপুরের পর হঠাৎ করেই যেন সত্যি সত্যি একটা বৃদ্ধ মানুষে পরিণত হলো সবুর মিয়া। তার একদিন আগেও নিজেকে কখনও বুড়ো ভাবেনি সে। বুকের ভেতর যে দপদপা তেজ ছিলো, হঠাৎ করেই কেমন যেন মিইয়ে গেলো তা। দিনরাত সবসময় চোখে ভাসে ওই সাপ, আর তার ঘাড় ঘুরানো হাসিটা। করিমন নেসা সুধায় তাকে,
-- আপনের কী হইলো? পাহাড়ের মতো ওই দেহে বয়স তো ছাপ বসাইবার পারে নাই এতদিন। হঠাৎ এমুন ঝিমাইয়া পড়লেন ক্যান?
একটা দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে জবাব দেয় সবুর মিয়া,
-- কিছু না গো বউ! কিচ্ছু হয় নাই আমার! খালি কইজাডায় কেমুন জানি অস্থির অস্থির লাগে। আইচ্ছা বউ, তুমি কি কুনুদিন কুনু সাপরে হাসবার দেখছো?
-- হায় আল্লাহ্, কী কন আপনে! মাথাডা কি খারাপ হইলো আপনের? সাপে হাসবো কেমুন কইরা? অবলা জীব, না পারে হাসতে, না পারে কথা কইতে। খোদা তালা তো কেবল মানুষরেই দিছে সেই ক্ষমতা। কথা কওনের, হাসোনের, বুদ্দি কইরা কাম করনের। এই জন্যেই তো মানুষ আল্লাহ্ তায়ালার সেরা জীব।
-- হ বউ, ঠিকই কইছো তুমি। মানুষ হইলো সেরা জীব। আমরা হইলাম আল্লাহ্ তায়ালার এক নম্বর বান্দা। আমাগোরে কেউ হারাইতে পারবো না। সাপ তো দূরের কথা!

করিমন নেসা ভাবনায় পড়ে, তার স্বামীর হইলোডা কী? সাপ সাপ করে ক্যান?
বিছানায় গা এলিয়ে চোখ বুঁজে আছে দেখে আর কিছু বললো না করিমন নেসা। না জানি কি দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে লোকটা, ঘুমাক একটু। এই বয়সেও ধকল তো কম যায় না। গঞ্জের এতবড় দোকান, এত জমিজিরাত, সবকিছুর হিসাব তো তাকেই রাখতে হয়। পোলারা তো বউ বাচ্চা নিয়া ঘুরণ ফিরোনেই ব্যস্ত। বাপের টাকার মর্ম বোঝে না তারা। খালি উড়ানোর ধান্দা। সিনেমা দেখা, আইজ এই মেলা তো কাইল সেই মেলা। নিত্যনতুন জামাকাপড়। আর খাওনের কী ঠাঁট! গাঁ কি আর গাঁ আছে এখন? টিভির চ্যানেল ঘুরাইয়া বিদেশি সব রান্না-বান্না দেইখা মুখস্ত কইরা রাখে পোলার বউরা। কিসব টক-মিষ্টি মিশাইয়া মুরগি রান্ধে, ভাজেও মচমচা কইরা। মাছের কাঁটা বাইছা হাত দিয়া চটকাইয়া মশলা মুশলি দিয়া আঙুলের মতন লম্বা বানায়। সেইগুলারে আবার বিস্কুটের গুঁড়ায় গড়াইয়া ভাইজ্জা ভাইজ্জা খায়। ক্যান, মাছ এমনি রাইন্ধা খাওন যায় না? যত্তসব! এত কষ্টে তৈরি বাপের সায় সম্পত্তি ওরা যেন ঘুরে ফিরে খেয়েই শেষ করে দেবে। ভয় হয় করিমন নেসার, বাপটা চোখ বুঁজলে সব উইড়া যাইবো না তো! সম্পত্তি ধইরা রাখোনের যোগ্যতা তো চাইর পোলার এক পোলারও হইলো না এতদিনেও! মাইয়ারা তো পরের ঘরে। অরা আর কী করবো! বাপের সম্পত্তি তো পোলারাই বাড়ায়। তার স্বামী সবুর মিয়ার কিছুই তো ছিলো না। নিজের বুদ্ধি দিয়ে, খাটনি দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেছে সব। শুনেছে সব করিমন নেসা স্বামীর কাছে। সেই মানুষটাই আজ অস্থির? হবে না কেন? নিশ্চয়ই ছেলেদের উড়নচণ্ডি ভাব দেখে মনে মনে সে খুব কষ্ট পায়। হয়তো মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। তাই হয়তো কয়েকদিন ধরে তার এমন অস্থিরতা আজ প্রকাশ পেলো এমন উল্টোপাল্টা কথায়! কে জানে!

আহারে, একটু চোখ বুঁজছে লোকটা, বুজুক!বোধহয় ঘুমাইয়াই পড়ছে, ঘুমাক... একটু ঘুমাক!
বাড়ির পেছন দরজাটা একহাতে ঠেলে খুলে ফেললো সবুর মিয়া। আরেক হাতে তার ছোট্ট কাঠের টুল। একটু বসবে সে পুকুরপাড়ে। না, আজ গরম নেই। আকাশের পূব থেকে দক্ষিণ, পুরোটা জুড়ে ঘনকালো মেঘ। ঝড় আসবে বোধহয়। বসে বসে মেঘ দেখবে সে। দেখবে কেমন করে সেই মেঘ পাক খেয়ে খেয়ে ঝড়ে রূপ নেয়। তার বুকের ভেতর যে ঝড় বইছে ক'দিন ধরে, তেমনটাই কী? দেখবে সে।

বসে আছে সবুর মিয়া। মাথার ওপর মেঘেঢাকা আকাশ। কালো। সেই কালো মিশে গেছে মজা পুকুরটার পানিতে। পুকুরের পানি এখন আরও মিশমিশে, অন্ধকার। হঠাৎ কটমট করে শব্দ হলো নিম গাছটার ডালে ডালে। কচি কচি পাতাগুলো কেন যেন অযথাই ঝরে ঝরে পড়তে লাগলো গাছতলায়। বাঁকানো বরুণ গাছের সাদা সাদা ফুলগুলো থেকে মাতাল মাতাল গন্ধ ভেসে আসছে। সেই গন্ধ শুঁকছে একটা সাপ। কালো, চকচকে তার গা। কিলবিলে লেজটা নড়ছে এমনভাবে যেন সাপটা গাছ থেকে নামবে এখনই। সবুর মিয়া স্থির, ঠিক যেন পাথর। সাপটা মুখ তুললো ফুল থেকে। ঘাড় ঘুরিয়ে এমন করে হাসলো সবুর মিয়ার দিকে তাকিয়ে, যেন ফুলের গন্ধে মোহিত সে। সড়সড় করে নেমে আসতে লাগলো বাঁকানো বরুণ গাছ বেয়ে। তারপর হঠাৎ যেন মিলিয়ে গেলো হাওয়ায়।
কোথায় গেলো...... কোথায় গেলো?

নড়ে উঠলো পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড়গুলো। সবুর মিয়া নেশাগ্রস্তের মতো তাকিয়ে আছে ওদিকে। ওই তো.... ওই তো সাপটা! কিন্তু ওর পাশে ওটা কে দাঁড়িয়ে? ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙ, পরনে ধূতি পাঞ্জাবি!
-- কে... কে ওটা? কে তুমি?
-- আমারে চিনবার পারো নাই সবুর? ভালো কইরা দেখো তো!
-- চিনি না, চিনি না তোমারে! কে তুমি?
-- আশ্চর্য, আমারে ভুইলা গ্যালা! কেমুন কইরা ভুললা তুমি আমারে, আমার বিশ্বস্ত সহচর! ভুইলা গ্যালা, পুকুরপাড়ে পুঁইতা রাখছো তুমি আমার ভালোবাসা, আমার বিধবা বউরে? আমার পোলারে?
-- কই? আমি কিচ্ছু পুঁতি নাই! ক্যান পুতুম। কী পুতুম!
-- আমি সব জানি সবুর। এই অনিল কর্মকাররে তুমি মিছা কথা কইয়া পার পাইবা না। তুমার বাপে মরার আগে হাতে পায়ে ধইরা আমার দুকানে তুমারে কামে রাখবার কইছিলো। তার কথা ফেলবার পারি নাই। আজীবন কাম করছে তুমার বাপ আমাগো দুকানে। মরণের সময় তার কথা ফেলি ক্যামনে? তাই তো তুমার মতো বজ্জাত পোলারে কামে রাখছিলাম। চুরি চামারি করবার ধরছিলা তুমি। ধরা পইড়া মাইর খাইতা মাইনষের কাছে। তুমার বাপ মনে করছিলো আমার দুকানে থাকলে ভালা হইয়া যাইবা তুমি। তুমার মা'টাও তুমার কুকর্মের ব্যথা সইয্য করবার না পাইরা ধুইকা ধুইকা মইরা গেলো। একটাই পোলা ছিলা কিনা মা বাপের। কিছুদিন তো মনে হইতো ভালা হইয়া গেছো তুমি। বিশ্বাস করতে শুরু করছিলাম তুমারে। সেজন্যেই তো সোনাদানা রাখছিলাম বিশ্বাস কইরা। কিন্তু কই? ভিতরে ভিতরে তুমি সেই বজ্জাতই রইয়া গেছিলা। বুঝবার পারি নাই আমি, হায় রে!
-- কে কইছে তুমারে, ভালা হই নাই আমি! জানো, এখন গাঁয়ে আমার কত সম্মান? সবাই আমারে সবুর মিয়া কইয়া ডাকে। মোড়ল আমি গাঁয়ের। আমার কত সম্পত্তি জানো তুমি?
-- জানুম না ক্যান? আমি আমার দুকানের সমস্ত সোনা, রূপার গয়না আর টাকা পয়সা তুমার কাছে জমা রাইখা ভারত পালাইলাম। আমার বাবা কাকারা আগেই গেছিলো সেই দ্যাশে। মুক্তিযুদ্ধ যখন খুব জোরদার তখনও আমি দ্যাশ ছাইড়া যাইবার চাই নাই। কিন্তু আমার পোলা মাইয়া আর বউয়ের মুখের দিকে চাইয়া যাইতে রাজি হই। না গেলে তো পাকিস্তানীরা পাখির মতো গুলি কইরা মারতো।
অবশ্য যাইয়াও কী লাভ হইলো? পথেই গুলি খাইলাম আমি। বউরে কইলাম, তুমার কাছে সব আছে। টাকা পয়সা, গয়নাগাটি সব। যদি কুনুদিন দ্যাশ স্বাধীন হয়, আইসা সবুরের কাছে সব পাইবা।
-- আসে নাই তো তুমার বউ! আসলে তো দিয়াই দিতাম সব।
-- আসে নাই? এক থাপ্পড়ে তুমার বাকি দাঁতগুলা ফালাই দিবো আমি। দ্যাশ স্বাধীনের সাত বছর পর পোলারে নিয়া আসে নাই সে? আইসা কত তুমার হাতে পায়ে ধরলো, তুমি দিলা না কিছুই। অস্বীকার করলা সবকিছু। পরের দ্যাশে টাকার অভাবে খুব কষ্টে পড়ছিলো বইলাই পোলার হাত ধইরা আসছিলো তুমার কাছে। দুকানের সোনাদানা কম তো ছিলো না! সেগুলা পাইলে কষ্ট লাঘব হইতো তাগো। তা না দিয়া তাগোরেই তুমি সরায়া দিলা দুনিয়া থাইকা। মাইয়াডারে মা ভাই হারা করলা? কইরা আবার মিয়া সাইজ্জা বইছো? গাঁয়ের মোড়ল! পরের ধনে মোড়ল? আমার বউ আর পোলারে খুন কইরা, কুচি কুচি কইরা কাইটা, পুকুরপাড়ে পুঁইতা রাইখা তুমি সবুর মিয়া সাজছো?

অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো অনিল কর্মকার। গায়ের লোমগুলো এক ঝটকায় দাঁড়িয়ে গেলো সবুর মিয়ার। সাপটা ততক্ষণে একেবারে তার পায়ের কাছে। ঘুরছে কিলবিল করে তার পায়ের চারিদিকে। কালো মেঘগুলো যেন আকাশ ছেড়ে নেমে এসেছে সবুর মিয়ার মাথার ওপর। প্রচণ্ড কড়কড় শব্দে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ঠিক তার মাথার ওপরেই! বাজ পড়ে ঝলসে যাবে বুঝি তার পাহাড়ের মতো দেহখানা। ওই তো অনিল কর্মকার! বিদ্রুপের হাসি হাসছে তাকে দেখে, আর বলছে.... তুমি মরবা... এইবার তুমি মরবা সবুর! কেউ পারবো না তুমারে বাঁচাইতে! যে পাপ তুমি করছো, সেই পাপ-ই তুমারে দংশন করবো সাপ হইয়া। দেখো নাই, ক্যামন কইরা হাসে সে তুমারে দেইখা? ওইডাই তুমার মরণ সবুর... ওইডাই তুমার মরণ!

আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায় সবুর মিয়ার । পা দু'টো ছুঁড়তে থাকে এদিক ওদিক। কিছুই দেখা যায় না ক্যান? এত আন্ধার ক্যান? সে কি দোযখে? মরণের পর দোযখে জায়গা হইছে তার? এখন তারে আগুনে পুড়ানো হইবো? ভাবতেই যেন সারাশরীরে আগুনের ভয়াবহ তাপ অনুভব করলো সে। ছুটে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে সিথানে রাখা চর্চ হাতে নিয়ে। সোজা চলে গেলো বাড়ির কান্টায়। পুকুরের পানিতে ডুব দিতে হইবো এক্ষণি, দেরি করা যাইবো না! দেরি করলে তো পুইড়া অঙ্গার হইয়া যাইবো তার দেহ!

তখন ছিলো গভীর রাত। বৈশাখের শেষ দিনের কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড়। ধীরে ধীরে রাত এগোয় ভোরের দিকে। ফজরের আজান হয়। করিমন নেসা বিছানা হাতড়ে স্বামীকে পায় না। ঘর ছেড়ে উঠোনে নামে সে। দেখে পেছনের দরজা হাট করে খোলা। কোনো এক ছেলের নাম ধরে জোরে চিৎকার করে সে। জেগে ওঠে সবাই। পায়ে পায়ে সবাই এগিয়ে যায় কান্টায়। আলো আঁধারিতে সবাই দেখে পুকুরপাড়। দেখে আর আতঙ্কিত হয়। একটা কালো কুঁচকুঁচে সাপ পেঁচিয়ে রয়েছে সবুর মিয়ার কণ্ঠনালী, কিলবিল করছে। মুখটা অল্প হাঁ হয়ে আছে সবুর মিয়ার। কাঠ হয়ে পড়ে আছে তার বিশাল দেহখানা। বোঝা যায়, প্রাণ নেই ও দেহে।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র