Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

'সুবর্ণরেখা': নদী ও মানুষের আখ্যান

'সুবর্ণরেখা': নদী ও মানুষের আখ্যান
ড. মাহফুজ পারভেজ
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নদী আর মানুষের জীবন চলে সমান্তরালে। হাত ধরাধরি করে এই যুগলযাত্রা উৎকীর্ণ হয় ইতিহাসের পাতায়। মানুষের ইতিবৃত্তে তাই নদীর আখ্যান বড়ই প্রাসঙ্গিক। বিশেষত গাঙ্গেয় বদ্বীপময় বিশাল বাংলায়নদী ও মানুষ কথা বলে একই সুরে।

'পদ্মা নদীর মাঝি', 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'তিস্তা বৃত্তান্ত' প্রভৃতি উপন্যাস আসলে নদীবাহিত মানুষেরই উপাখ্যান। বাংলাদেশের কবি ও কথাকারগণ নদী আর মানুষকে কখনোই আলাদা করে দেখেননি। নদীর কালস্রোতের ধারাক্রমেই বিবৃত করেছেন মানবজীবন ও মননের আখ্যান।

নদীবহুল পূর্ববঙ্গের তুলনায় বাংলার পশ্চিমাংশের অপেক্ষাকৃত কম নদীময়তার কারণে সেখানকার সাহিত্যে নদী ও মানুষের কথা ও কাহিনী স্থান পেয়েছে স্বল্পই। তবুও সাম্প্রতিক সময়ে 'সুবর্ণরেখা' নদীটিকে কেন্দ্র করে উন্মোচিত হয়েছে এক অজানা জনপদ ও জনজীবনের ভাষ্য।

'সুবর্ণরেখা' নামে আগে একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন স্মরণীয় পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। ছবির মূল উপজীব্য ছিল ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং উদ্বাস্তু, ছিন্নমূল মানুষের মর্মন্তুদ আর্তি। শেকড়-ছেঁড়া উন্মূল মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামী আর্তনাদ শোনা গেছে শিল্পিত সিনেমাটিতে।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা ছুঁয়ে যাওয়া বৃহৎ বঙ্গের প্রান্তিক নদী 'সুবর্ণরেখা' নিয়ে গবেষণা বা আখ্যান রচিত হয়েছে কমই। তালসারি নামক স্থানে বঙ্গোপসাগরে পতিত নদীটির নামের মধ্যেই রয়েছে স্বর্ণের স্পর্শ। সোনার মতো চকচক করে এই নদীর বালি, যা ছেঁকে পাওয়া যায় স্বর্ণালী উপাদান।

অসংখ্য জাতি, উপজাতি বসবাস করে 'সুবর্ণরেখা' নদীর তীরে তীরে। সোনা সংগ্রহ, মৎস্য আহরণ তাদের উপজীবিকা। বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হুডু জলপ্রপাত ছাড়াও তামা খনি ও স্বাস্থ্যকর নিবাসের জন্য খ্যাত ঘাটশিলা অঞ্চল 'সুবর্ণরেখা'র তীরে অবস্থিত। 'সুবর্ণরেখা'র তীর ঘেঁষে আরও রয়েছে গ্রামীণ ও আদিবাসী জনপদের অকৃতিম বহুবিচিত্র সংস্কৃতি।

'সুবর্ণরেখা': নদী ও মানুষের আখ্যান
'সুবর্ণরেখা' নদী, ছবি: সংগৃহীত

 

'সুবর্ণরেখা' নদী তীরে, উৎস থেকে মোহনায়, কত জনপদ, জনজীবন আর কত শত পরিবার বসতি গড়েছে, তার ইয়াত্তা নেই। এমনই এক পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা, বিবর্ধিত ও আলোড়িত এক আশ্চর্য আখ্যান বলেছেন দলিত সাহিত্যিক নলিনী বেরা। তার এই আশ্চর্য আখ্যানের অভিনবত্ব মনোযোগ কেড়েছে বোদ্ধা পাঠকদের।

পশ্চিমবঙ্গের নামকরা প্রকাশনা সংস্থা প্রবর্তিত 'আনন্দ পুরস্কার ১৪২৫' পেয়েছে নলিনী বেরা রচিত উপন্যাস 'সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা’, যাতে মানবজীবনের মেলবন্ধনে নদীর উপাখ্যান উন্মোচিত করা হয়েছে।

আনন্দ পুরস্কার ১৪২৫- এর দৌড়ে ছিল তিনটি বই: দীপেশ চক্রবর্তীর ‘মনোরথের ঠিকানা’, সন্মাত্রানন্দের ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ এবং নলিনী বেরার ‘সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা’। অবশেষে ১৪২৫ সালের আনন্দ পুরস্কার পেলেন সাহিত্যিক নলিনী বেরা নদীস্পর্শী মানুষ ও জনপদের শিল্পিত পরিব্রাজনের মাধ্যমে।

নদীর মতোই মানুষও জীবনের অন্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে কোথা থেকে কোথায় যে পৌঁছে যায়, তা সে নিজেও জানে না। উৎস থেকে মোহনায় এসে সমুখে শান্তি পারাবার দেখে ধাবমান মানুষের মধ্যে স্থিরতা আসে, মানুষের মনে পড়ে শেকড়ের কথা। মানুষের জীবনে সমূহ গতি ও পেছনে ফেরার টানের বিপ্রতীপে এক অনিবার্য দ্বৈরথ চলতেই থাকে।

'সুবর্ণরেখা': নদী ও মানুষের আখ্যান
নলিনী বেরা ও তার রচিত উপন্যাস, ছবি: সংগৃহীত

 

ফলে মানুষ শেকড়ের খোঁজে ফিরতে চায় স্মৃতি-বিস্মৃতির পথ বেয়ে তার অতীত সরণীর প্রত্ন-ইতিহাসে ও আত্মপরিচয়ের বৃত্তে। যে আইডেনটিটি ভিত্তিক ইতিহাস চর্চা থেকে উঠে আসে প্রান্তিক জনপদের কাহিনি, সাম্প্রতিককালে যা 'সাবল্টার্ন ইতিহাস' নামে চর্চিত। অন্ত্যজ ও প্রান্তিক মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির অন্বেষণে নৃবিজ্ঞান এ পথে চলছে আজকাল, নলিনী বেরা সে পথেই 'সুবর্ণরেখা' নদী ধরে খুঁজেছেন মূলস্রোতের বাইরে অবস্থিত মানবগোষ্ঠীর যাপিত জীবনের যাবতীয় প্রপঞ্চ ও পরিচিতি।

১৯৫৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ৬১ বছরের প্রাচীন আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্তিতে নলিনী বেরা নানা কারণে ও বিষয় বৈচিত্র্যে ব্যতিক্রমী। তার আগে বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন, প্রমথনাথ বিশী, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আবুল বাশার, জয় গোস্বামী, আনিসুজ্জামান প্রমুখ লেখক সম্মানিত হয়েছেন আনন্দ পুরস্কারে। এই তালিকায় নলিনী বেরার নাম আলাদাভাবে চিহ্নিত থাকবে বাংলার প্রান্তিক নদী 'সুবর্ণরেখা' ও সেই নদী তীরের মানবমণ্ডলীর বিভাময় জীবনালেখ্য চিত্রণ-কৃতিত্বের সঙ্গত কারণে।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র