Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শেক্সপিয়ার: বিশ্বসাহিত্যের অপরাজেয় সম্রাট

শেক্সপিয়ার: বিশ্বসাহিত্যের অপরাজেয় সম্রাট
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শুধু ইংরেজি সাহিত্য নয়, তাবৎ বিশ্বসাহিত্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখকের মর্যাদা উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছাড়া আর কাউকে দেওয়া সম্ভব হয় না। রেকর্ডবুক বলছে, তিনি অল-টাইম বেস্ট সেলার। তার লেখা পড়েছেন চার বিলিয়ন মানুষ। বিশ্বের প্রতিটি জীবিত ভাষায় অনুদিত হয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি শেক্সপিয়ারের সঙ্গে মিশে আছে বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস।

গ্রামীণ ইংল্যান্ডের অ্যাভনের কবি বলা হয় শেক্সপিয়ারকে। আর গ্রীষ্মের এপ্রিল মাসটি যেন পুরোটাই তাঁর। ২৬ এপ্রিল (১৫৬৪ সাল) তাঁর জন্মদিন আর ২৩ এপ্রিল (১৬১৬) মৃত্যুদিন। মাত্র ৫২ বছরের জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিধি পেরিয়ে তিনি হয়ে আছেন বিশ্বসাহিত্যের অপরাজেয় সম্রাট।

শেক্সপিয়ারের নাম শুনলেই এক ধূসর যুগের কথা ভেসে ওঠে মনে। সেই রানি এলিজাবেথের রাজত্ব, বিশ্বব্যাপী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, শেষ-মধ্যযুগের ইউরোপ, গ্লোব থিয়েটার, আর সেই স্ট্র্যাটফোর্ড গ্রাম। শেক্সপিয়ারের মতো অন্য কেউই পরিণত হতে পারেননি ইংরেজ জাতির আইকনে।

শেক্সপিয়ারের যুগ পেরিয়ে পথ চলতে চলতে প্রায় অর্ধ-সহস্র বছরেরও বেশি সময়কাল অতিক্রান্ত হয়েছে। তার রচনার প্রেক্ষাপট, আখ্যান, পাত্র-পাত্রীরা হারিয়ে গেছে অতীত ইতিহাসের অতল গর্ভে। তথাপি ৪৫৬তম জন্মদিনেও মনে হয় তিনি বড়ই জীবন্ত ও খুবই প্রাসঙ্গিক।

২৩ এপ্রিল তারিখে সারা পৃথিবী তার জন্মদিনে মেতে উঠে। কালজয়ী কবি ও নাট্যকারকে স্মরণ করে অবিস্মরণীয় রচনাসমূহের মাধ্যমে। ফিরে যায় ওথেলো, ম্যাকবেথ, কিং লিয়ার, জুলিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি, রোমিও-জুলিয়েট কিংবা ভেনিসের চরম নিষ্ঠুর ইহুদি সুদখোর শাইলকের আমলে।

'দ্য ফিনিক্স অ্যান্ড দ্য টার্টল'-এর কবি পরিণত হন বিশ্ববাসীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক সম্পদে। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত অক্সফোর্ড বুকস্টোরের চা বারের ঘেরাটোপ ডিঙিয়ে সেক্সপিয়ার হয়ে যান বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বা ওয়ার্ল্ড ইনটেলেকচুয়াল প্রোপার্টি।

জন্মের এতো শতাব্দী পরেও চলছে শেক্সপিয়ারের কৃতিত্ব ও অবদান নিয়ে গবেষণা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে ইংরেজি প্রবাদ-প্রবচন-বাগধারায় শেক্সপিয়ারের অবদান নিয়ে কাজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গবেষণার হাত ধরে জানা যাচ্ছে অনেক তথ্য। ‘Bedroom’, ‘lonely’, ‘excitement’, ‘addiction’, ‘eyeball’-এর মতো অসংখ্য শব্দ যেমন আমরা শেক্সপিয়ারের কাছ থেকে উপহার পেয়েছি, তেমনই “wild goose chase”, “green eyed monster”, “seen better days”, “apple of my eye”-এর মতো বাগধারা কিংবা “Better a witty fool than a foolish wit”, “What is past is prologue”, A fool thinks himself to be wise, but “a wise man knows himself to be a fool” -এর মতো প্রবাদও আমরা পেয়েছি শেক্সপিয়ারের হাত ধরেই।

উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ইংল্যান্ড ও বিশ্বের নানা দেশে আয়োজিত হয় ‘দ্য শেক্সপিয়ার ফিস্ট’। ডাইনিং টেবিলে উঠে আসে এমন সব পদ, যেগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে শেক্সপিয়ারের সৃষ্টি করা বিখ্যাত সব চরিত্রগুলোর থেকে। যেমন: ব্যাংকো’জ ব্যাংকোয়েট, ওফেলিয়া’জ ইংলিশ গার্ডেন স্যালাড, হ্যামলেট’স ম্যাডনেস চকো মাফিনস, পোর্শিয়া'জ পেস্ট্রি এবং আরও অনেক সুস্বাদু সব খাবার। এই মহৎ সাহিত্যিককে স্মরণ করে ভুরিভোজের সঙ্গে সঙ্গে চলে মননচর্চা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো- বিশ্ববরেণ্য উইলিয়াম শেকসপিয়ারের জন্মদিন এতো আয়োজন করা হলেও তার জন্মের সঠিক তারিখ ও জীবনীর অনেকটাই অস্পষ্ট। তবে ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ, সেন্ট জর্জ’স ডে-এর দিনে তার জন্মদিন পালন করার প্রথা রয়েছে।

তার পিতা জন শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন সফল গ্লোভার ও অল্ড্যারম্যান। মা মেরি আরডেন। শেক্সপিয়ার মাত্র ১৮ বছর বয়সে অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিবাহ করেন। অ্যানির গর্ভে শেক্সপিয়ারের তিনটি সন্তান হয়েছিল।

১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি অভিনেতা ও নাট্যকার হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। লর্ড চেম্বারলেইন’স ম্যান নামে একটি নাট্যকোম্পানির তিনি ছিলেন সহ-সত্ত্বাধিকারী। এই কোম্পানিটিই পরবর্তীকালে কিং’স মেন নামে পরিচিত হয়।

কিন্তু ১৬১৩ সালে তিনি হঠাৎ নাট্যজগৎ থেকে সরে আসেন এবং লন্ডন থেকে স্ট্র্যাটফোর্ডে ফিরে যান। তিন বছর বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

শেক্সপিয়ারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নথিভুক্ত তথ্য বিশেষ পাওয়া যায় না। তার চেহারা, যৌনপ্রবৃত্তি, ধর্মবিশ্বাস, এমনকি তার নামে প্রচলিত নাটকগুলো তারই লেখা নাকি অন্যের রচনা তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।

শেক্সপিয়ারের পরিচিত রচনাগুলোর অধিকাংশই মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৫৮৯ থেকে ১৬১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। তাঁর প্রথম দিকের রচনাগুলো ছিল মূলত মিলনান্তক ও ঐতিহাসিক নাটক। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে তার দক্ষতায় নাট্যসাহিত্যের এই দু’টি ধারা শিল্পসৌকর্য ও আভিজাত্যের মধ্যগগণে উঠেছিল।

১৬০৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানত কয়েকটি বিয়োগানৃত নাটক রচনা করেন। জীবনের শেষ পর্বে তিনি ট্র্যাজিকমেডি রচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। এই রচনাগুলো রোম্যান্স নামেও পরিচিত। ঐতিহাসিক ঘটনা ও চরিত্র নিয়েও তিনি অসাধারণ নাটক উপহার দিয়েছেন।

১৬২৩ সালে প্রকাশিত শেক্সপিয়ার রচিত নাট্যসাহিত্যের সমগ্র বা ফোলিও প্রকাশিত হলে তাঁর ৩৬টি নাটক কমেডি, হিস্ট্রিক্যাল ও ট্র্যাজেডি শ্রেণিতে স্থান পায়। তবে পরবর্তী কালের গবেষকগণ তার কয়েকটি নাটককে রোমান্টিক শ্রেণিভুক্ত করেন। তাঁর হেমলেট, ওথেলো, কিং লিয়ার, ম্যাকবেথ, মার্চেন্ট অব ভেনিস, দ্য টেমপেস্ট, জুলিয়াস সিজার, এন্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা, মেজার ফর মেজার ইত্যাদি ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তির পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

সমকালে শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন সম্মানিত কবি ও নাট্যকার। রোম্যান্টিকেরা তার রচনার চরম গুণগ্রাহী। ভিক্টোরিয়ানরা রীতিমতো তাকে পূজা করতেন, যা ছিল চারণপূজা (bardolatry)।

আজও তার নাটক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত। সারা বিশ্বের নানা স্থানের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা আঙ্গিকে তার নাটকগুলো মঞ্চস্থ ও সাহিত্যের ক্লাসে ব্যাখ্যাত হয়ে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র