Alexa

হায়রে খারাপ মানুষ

হায়রে খারাপ মানুষ

ছবি: বার্তা২৪

খারাপ ছেলে বা খারাপ মেয়ে বলতে যদি কিছু ভাবা যায়।

খারাপ ছেলে বা খারাপ মেয়ে মানে, খারাপ মানুষের ধারণায় আমরা কিছু নির্দিষ্ট জিনিস রাখি যেমন যাদের স্থিতিস্থাপকতা নেই, পলিগ্যামি, মাতলামো, যত্রতত্র ভারসাম্য নষ্ট করার প্রবণতা আছে-- অথচ আমরা জানি এগুলোর চেয়েও ভয়ঙ্কর জিনিস পৃথিবীতে ঘটিয়ে ফেলার চরিত্র বিদ্যমান তবে আমি এটা বলতে চাইছি না যে এগুলো ভাল গুণ।

আসলে এগুলো গুণ-দোষের চেয়েও কীভাবে প্রকাশিত হয় তার ওপরে এর জাত নির্ভর করে। আসলে উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশিত অর্থাৎ সেখানে যদি প্রভাব বা পরিকল্পনা এবং অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক এবং অপরাধপ্রবণ না হয়ে থাকে তবে সেটা ব্যক্তির খারাপ হওয়ার চিহ্ন না হওয়াই উচিত। এবার কথা হচ্ছে তাহলে এই অস্বচ্ছ মনোভাবকে আমরা কোন পর্যায়ে ফেলব, ফেলব এই পর্যায়ে যেখানে ব্যক্তি তার চরিত্র বা অস্বচ্ছতাকে অন্য মানুষের মধ্যে আরোপ করবে না, করলে সেটা অবশ্য খারাপ এবং অপরাধ।

যেমন ধরুন কেউ বলছে, আমি নেশা করি, আমি বহু সম্পর্কে বিশ্বাসী। এই উন্মুক্ত বাক্যের মাধ্যমে সে স্বচ্ছ ফলে তার জীবন এবং তার সঙ্গে জড়িত জীবনের একটি সমসংস্থ বেগ থাকছে ফলে সচেতন মুহূর্ত তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ধরুন, এই সকলকে এক ব্যক্তি মনে মনে খারাপ ভেবে অন্যের থেকে লুকিয়ে নিজের ভেতরে পোষণ করে সেই অস্বচ্ছতা অন্যের ওপরে প্রয়োগ করছেন তখন তা অপরাধের জন্ম দিচ্ছে এবং এটা একটা ভীরুতা থেকে উদ্ভূত বিপদ। ফলে এই ঘনায়মান মুহূর্ত একাধিক মানুষের জীবনে ও সমাজে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি আনে কারণ যা জ্ঞাত নয় তার আগমন আকস্মিক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ!

এখন যদি ছদ্মরূপ ধারণ করে খাদ্য জোগাড় করি ও খাদ্য জোগাড়ের পর পুরোনো রূপে ফিরি তবে তা অসৎ উদ্দেশ্য, নিজেকে লুকানো এবং এটা ঠিক বিড়ালপূর্ণ মৎসদোষ কারণ ম্যাঁও ম্যাঁও থেকে চুরিটা বেশ আকস্মিক ব্যাপার! চার্লস বুকাওস্কির জীবন আপাতভাবে বেগতিক ছিল কিন্তু তা বেশ স্পষ্ট ছিল! যেখানে অস্পষ্টতা স্পষ্টতাকে খেয়ে নেয় তা খারাপ।

বুকাওস্কি জুয়া খেলতেন, রেসের মাঠে যেতেন। বলতেন, ঘোড়ার রক্তের সঙ্গে তার রক্ত দৌড়োয় বলে মনে করতেন। এটা নাকি তাকে লেখাত, মানে লেখাকে দুধ দিতেন। মা যেমন শরীরের বিনিময়ে শিশুর দুধও জোটান কিন্তু এই অংশও তো আছে নিজেকে দুধ দেওয়ার জন্য লেখাকে বেঁচে দেওয়া সেখানে ছিছিকার দিতে হয় বৈকি!

আপনার মতামত লিখুন :