Alexa

আগুনমাখা মেয়ে আর ছাইমাখা ছেলে

আগুনমাখা মেয়ে আর ছাইমাখা ছেলে

ছবি: বার্তা২৪

যৌনতা বা মিলন আসলে ভালোবাসার হওয়া উচিত, যদিও সেটা এখন হিংসার অংশ ফলে তা সম্পর্কিত বহু কিছুই সেই হিংসার ধারাকে টিকিয়ে রাখে। লক্ষ্মী আগরওয়াল (দিক্সিত)–এর কথা আশা করি সকলেই জানেন। এমন যোদ্ধা আর সাহসী মেয়ের সংখ্যা নিতান্তই বিরল,তাই স্বাভাবিক নিয়মেই সে আজ আলোকিত।

২০০৫ সাল, যখন তার মাত্র ১৫ বছর বয়স, তার মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে গুন্ডা নামক ক্রিমিনাল ও তার সঙ্গি। পরে তাদের জেল, শাস্তি সবই হয়েছে কিন্তু তার জন্য লড়তে হয়েছে তীব্র। যাদের কিনা ফাঁসি হওয়া উচিত তাদের উপযুক্ত শাস্তির জন্যও লড়তে হয়েছে! জানি এবং মানি যে সম্পূর্ণ ভাল সমাজ কখনো গঠিত হবে না। জানি না, সে কিসের ভারসাম্য রক্ষিত হয় এরূপ সমান ভাল মন্দ দিয়ে। হয়ত দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভাইরাসের আক্রমণের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে খারাপ ভালদের সহাবস্থান! তবে এই হীন মানসিকতাগুলো কোন যুক্তিতে একটা আপেক্ষিক সভ্য নামক সমাজে স্থান পেতে পারে বলে মানি না।

বাবা-মা , সংসারী সুস্থ মানুষেরা কেন এটাও ভাবতে পারেন না যে মুখ বুজে তারা যা কিছুকে প্রশ্রয় দিচ্ছে অন্যের বেলায়, সেই সমাজই তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য ভবিষ্যতে গঠিত হয়ে থাকবে।একটি মেয়ে একটি ছেলের মুখ পুড়িয়ে দিয়েছে কটা শোনা যায় আমি জানি না, কিন্তু একটি ছেলে এরকম করেছে এ তো অজস্র।

আমি লিঙ্গ বিভাজনের কথা বলছি না কিন্তু এটা তো সত্যি এখানে পরিবারের একটা ভূমিকা রয়েছে। কিছুদিন আগে নির্দেশক রোহিত শেট্টি একটি শো’তে বলেছেন, এগুলো যার করেন তাদের পরিবারও সমান দোষী , অনেকটাই সহমত। একটা চূড়ান্ত ইনসিকিওর ক্রিমিনাল মনস্ক মানুষ এইভাবনায় আসে যে উল্টোদিকের মেয়েটিকে সে কোনো অংশে নিয়ন্ত্রণে বা হারাতে পারবে না ফলে এই নোংরা, ভীরু, বিকৃত পথ সে অবলম্বন করে। এমনকি যারা এই কথা মুখেও আনে, না করলেও তারা নিশ্চয় মস্তিষ্কে এই ভাবনা পোষণ করে। সে সেই কাজটি ঘটায়নি বলে আমরা তাকে সমাজে লালন করি।

এই প্রাসঙ্গিকতা এখানে আনলাম কারণ এই কথা বলে মেয়েদের ভয় দেখানো হয়। এদের শাস্তি নয় নাই দেওয়া হল কিন্তু সমাজে কত গর্হিত কথা তারা এনেছে এটা তাদের বোঝানো কিম্বা কোনো রিহাবে নিয়ে কাউন্সিলিং কতটা জরুরি সেটা ভুলে আমরা তাদের পোষণ করি। আসলে আমরা তো হিপোক্রিট, বেঁচে থাকার সতর্কতায় আমরা কারসিনোজেনিক খাবার খেয়ে কেমোর জন্য ঘুরে বেড়ায় । এই পৃথিবীতে ফুল,শিশু আর মেয়েদের মুখ শান্তির অংশ, আমরা মানুষ নামক বিখ্যাত পশু তা নষ্ট করি এবং পরে সদর্পে আলচনা করি ।

এই ধ্যাততেরিকা সমাজে আমরা কাকতালীয় ঝান্ডা হাতে নিয়ে প্রতিদিন ঘুরছি । আমাদের চারিদিকে এক একটি জ্বলন্ত প্রতিমা ভেসে ভেসে উঠছে আর ছাই চুরি করে ক্রিমিনাল গুলি পালিয়ে যাচ্ছে। তবু আমরা রোজ রাতে ক্রিম মেখে ঘুমোব আর সকালে পাউরুটি বাটার সমেত এক একটি আগুন খেয়ে নেব। আগুন খেয়ে ইদানিং ভাল পেট ভরে আমাদের---

আপনার মতামত লিখুন :