Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ

যুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষ
ছবি: সংগৃহীত
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

পুলওয়ামার ঘটনার পর থেকে ভারতবর্ষে ও পাকিস্তানে কী হচ্ছে তা আমরা জানি! তা নতুন করে বলার কিছু নেই কিন্তু তাই নিয়ে যে যুদ্ধের পক্ষ- বিপক্ষের যে জিকির উঠেছে দুটোই অমূলক কারণ দুটো ভাবনা ক্ষেত্রেই জনগণ আসল ভাবনার বহুদূরে কেবল প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। যুদ্ধনীতি যেমন দেশকে ধ্বংস করে দেয় তেমন এই সামরিকবাহিনী দেশকে রক্ষাও করে। কোনো দলভিত্তিক একপেশে মনোভাব ভারতবর্ষের এই মুহূর্তের জন্য মোটে ঠিক নয়। যেমন ভাবনার ভিত্তি থাকা উচিত যুদ্ধ আমরা এড়িয়ে যাব একমাত্র কারণ ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল!

এবার প্রশ্ন হচ্ছে কেবল যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কী আমাদের সবরকম সমঝোতা করা উচিত? যে দেশ তথা পাকিস্তান দফায় দফায় এসে জঙ্গিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং অতর্কিতে নির্দোষ মানুষ শেষ হচ্ছে তা আমাদের কাছে মেনে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। ২রা মার্চে শহরের একটি বিশিষ্ট সংবাদপত্র সূত্রে জানা যাচ্ছে যে পাক মন্ত্রকের বিদেশ-মন্ত্রী শাহ –মাহমুদ কুরেশি নিজেই বলেছেন 'মাসুদ আজহার পাকিস্তানেই রয়েছে' অপরদিকে লাদেনপুত্র হামজা বিন লাদেনের মাথার দাম নির্ধারণ করল মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, যার ভারতীয় মূল্য ১০ কোটি টাকা।

আল-কায়দার নতুন রক্ষক হিসেবে ফিরে আসছেন এই ত্রিশ বছরের যুবক। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানাচ্ছে এর ঘাঁটিটিও সেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কোথাও। এখন এই বিষয়টিতে সত্যি তো কোনো সন্দেহ নেই পাকিস্তান জঙ্গি সংগঠনের পরিপোষক! 'মানুষ' সে যে ধর্মের যে স্থানের হোক তার মধ্যে মনুষ্যত্ব জেগে উঠতেই পারে এ কথা অস্বীকারের নয় কিন্তু তার সঙ্গে এই কথাও মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান নিজেও স্বীকার করে একটা সচেতন জীবের ক্ষেত্রেও তার পরিবেশ বিশেষ রকম প্রভাবক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/03/1551630787855.jpg

আজ যদি বারবার এই দেশে জঙ্গি আক্রমণ হয় আর আমরা যুদ্ধ এড়ানোর ভয়ে নিশ্চুপ হয়ে থাকি তাহলে সেটা শুধুমাত্র জাতীয় স্তরের কাপুরুষতা নয় এর মানে ঘরেও আমরা, পরিবেশেও আমরা বৃহত্তর ক্ষতির কথা ভেবে অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারি। এর ক্ষুদ্রতম সংস্করণ হল কোনো ডাকাত আপনাকে হুমকি দিয়ে ডাকাতি করে যে তাদের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নিলে তারা আবার হানা দেবে। আবার যেতে হানা না দেয় তাই আপনি চুপ করে যাবেন? এই ভাবনা নিয়ে আমরা দেশের নাগরিক আইনের কথা ভাবি কী! এটা তো সত্যি আক্রমণের বিরুদ্ধে উত্তর দেওয়ার জন্যই একটা দেশ তার প্রশাসন থেকে সামরিক সব জায়গা প্রতিষ্ঠা করিয়েছে।

তাহলে এটাও সত্যি আমরা যারা নেতাজি, ক্ষুদিরাম, সরোজিনী এদের জন্য প্রতিনিয়ত সম্মান বর্ষণ করি সেই সব বন্ধ করে কেবল গান্ধিবাদী হয়ে বেঁচে থাকি! গান্ধিবাদী হয়ে বেঁচে থাকার ক্ষেত্র তুলে আমি বিতর্ক সৃষ্টি করতেও চায় না কিন্তু এর মূলে আমার কথা এক জায়গায় স্পষ্ট করতে চায় আমরা কী আন্দোলনকারী , বিপ্লবীদের চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, আমরা কী চাইনি আমাদের ওপর চূড়ান্ত অরাজকতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে! তাই যেমন জীবনের ক্ষেত্রে সহ্যের সীমা অতিক্রান্ত হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়ি তেমন দেশের ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/03/1551630809283.jpg

কেউ কেউ বলবেন, আমরা তো কথা বলেই খালাস। হ্যাঁ সকলে যুদ্ধে নামতে পারবে না কিন্তু যারা ভাষায়, মননে নিজেদের প্রকাশ করেন তারা না করলে দেশের গতি, মনোভাব কিছুই প্রকাশিত হয় না। যেমন একদিক দিয়ে একথাও বলতে হয় এই যে পুলওয়ামা বাসিন্দা আদিল আহমেদ যে জইশে পরবর্তীতে যোগ দিয়ে এই চূড়ান্ত লজ্জাকর ঘটনা ঘটাল তার কেন এমন হল এই প্রশ্নের উত্তর বলছে সে ছোটবেলায় পুলিশের গায়ে ঢিল ছুঁড়েছিল, তার উত্তরে তাকে তার স্কুলের বন্ধুদের সামনে জিপের চারিদিকে ঘুরিয়ে নাকখঁত দেওয়ানো হয়েছে, রীতিমতো অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ফিরে এসে সে অভিমানে বলেছিল সে আর স্কুল যাবে না। তার মন ঘুরে গেল ফিসফিস রহস্যে ভরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের দিকে।

এমনি মানুষের একটা বয়স থাকে যখন নিষিদ্ধ সবকিছুর প্রতি তার আগ্রহ জন্মায়! তাহলে এই লেখার পাঠকরা আমায় কাউন্টার প্রশ্ন করতে পারেন আমি কী বলতে চাইছি শিশুমনে এক বিরূপ প্রভাবের ফল এটা? কিছুটা হয়ত তাই। এবার আরও প্রশ্ন উঠতে পারে এর জন্য সে এত বড় ঘটনা ঘটাবে তার মধ্যে নিজের গঠনরীতিমূলক সম্ভ্রম থাকবে না কিম্বা এমন বহু মানুষের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটে তারা এরকম নৃশংস তো হয় না কিংবা বহু নৃশংস মানুষ আছেন যাদের সঙ্গে শিশুবয়সে কোনোরকম অন্যায় হয়নি এই প্রশ্নগুলোর মান্যতা দিয়েই বলছি ঐ শিশুটির প্রতি কী অন্যপ্রকারের ব্যবহার করা যেত না আবার এই কথাও বলছি যে অন্যায় সে করেছে তার বিচারে কোনো ক্ষমা নেই ফলে একসঙ্গে একথাও সত্যি কোনো কিশোরের প্রতি আমরা কী আচরণ করব সেটাও ভাবা দরকার । একটি রাষ্ট্রের পরিস্থিতি কখনো এক আঙ্গিকে বিচার্য হতে পারে না , সেখানে বহু ভাবনার সময়োচিত ব্যবহারে ভারসাম্য রক্ষা হয়।

আবারও বলছি যুদ্ধ না হওয়াই ভাল , যুদ্ধ আদতেই বিরাট এক ক্ষতি কিন্তু তা বলে বারবার আমাদের দেশবাসীর ওপর, সামরিক শক্তির ওপর অন্যায় হলে আমাদের সুযোগ্য উত্তর দেওয়ার কথা ভুললে চলবে না।ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম প্রাণীও তাদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখে বিশেষ আত্মরক্ষার মুহূর্তে,প্রয়োজন পড়লে তারা তার প্রয়োগ করে। এটুকু যেন না ভুলি #SayNoToWar বলতে বলতে কোথাও যেন চূড়ান্ত সমঝোতার মুহূর্ত তৈরি না হয় আর তার ফাঁকে অন্য কোনো রাজনীতি না ঢুকে পড়ে!

 

এই নিউজের বক্তব্য লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত।

আপনার মতামত লিখুন :

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে
হুমায়ূন আহমেদ

 

তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ শনিবার (২০ জুলাই)। 

কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার ও মায়ের নাম  কমলিনী দেবী।

হরিনাথ মজুমদার ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। তিনি অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।

তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' প্রকাশ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন।পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602039922.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথের লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' 

 

১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে, গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।

কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।

কালজয়ী এই সাংবাদিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (২০ জুলাই) কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602126966.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তন

 

কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর য়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মোঃ আবদুল মজিদ, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান খান, পৌর সভার মেয়র মোঃ সামছুজ্জামান অরুণ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে থাকবেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.আবুল আহসান চৌধুরী।

সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602157692.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনের সামনের চিত্র 

 

গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযত্ন অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র