Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যুদ্ধ এক রক্তাক্ত প্রক্রিয়াকরণ

যুদ্ধ এক রক্তাক্ত প্রক্রিয়াকরণ
ছবি: বার্ত২৪.কম
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

আইনস্টাইন নাকি বলেছিলেন, চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ হলে তা হবে লাঠি আর পাথর দিয়ে। কারণ প্রযুক্তির সর্বাধিক প্রয়োগ হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফলে বাকি আর কিছু থাকবে না। পরাশক্তির সংঘাত, শহরের দিকে জনজীবনের কেন্দ্রস্থ হওয়া, ঘাতক রোবটের আবিষ্কার, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য বিনষ্টীকরণ কিম্বা হ্যাকিং তথা তথ্যযুদ্ধ, হাইব্রিড যুদ্ধ তথা প্রতিপক্ষকে সবরকমভাবে হেনস্থা করার পর্যায় ইত্যাদির যে প্রকার বাড়-বাড়ন্ত সভ্য সমাজে শুরু হয়েছে ফলে যুদ্ধ যে প্রকারের হোক তা এক নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি যে করবে তাতে সন্দেহ রাখার কারণ নেই।

এমনিতেই বহু রাষ্ট্র তার আন্তরিক আনুগত্য বা সৌহার্দ্যের অভাব নিয়ে সভ্যতায় আসীন। আফগানিস্তান , পাকিস্তান, মিসর, নাইজেরিয়া এসব জায়গার তীব্র জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদ যে রক্তপাত ঘটনোর জন্য সদাব্যস্ত তা প্রতিমুহূর্তে প্রমাণিত। তার মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী চীন নিজের যাবতীয় প্রযুক্তি ও মূলধন প্রয়োগে নিজের সামরিক শক্তিকে উন্নত করায় প্রয়াসী; আমেরিকা যে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে এক প্রতিযোগীতায় সামিল তা টের পাওয়া যায়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/17/1550409086614.jpg

এদিকে এই বর্তমান যুদ্ধহীন এক পরিস্থিতির মধ্যেও শোনা যায় উত্তর কোরিয়া এবং মার্কিন শক্তি দু’জনেই পারলে দু’জনকে ধবংস করে। বিংশ শতাব্দীর সে যুদ্ধ ইতিহাস সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে মানুষ কী কখনো অস্বীকার করতে পারবে? এই যুদ্ধ জনজীবনে যে কী বিস্ময়কর প্রভাব ফেলেছিল তা ভাবলে চমকে উঠতে হয়। হয়ত অনেক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির আবিষ্কার ভবিষ্যতে যুগের হিত করেছে কিন্তু যে মূল্য সেই কারণে চোকাতে হয়েছে তা অপরিমেয়! ব্রিটিশরা ভয়াবহ সেই যুদ্ধট্যাংকার আবিষ্কার করল। তারপর এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই চীনের পদাতিক বাহিনী আনল ফ্লেম থ্রোয়ার। আসলো রাইফেল, বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস সিলিন্ডার, একে একে যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন তারপর ১৯১২ তে আসলো আশ্চর্যজনক বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। স্টিফেন হকিংস যুদ্ধে ‘ঘাতক রোবট’ ব্যবহার না করার বার্তা দিয়ে গেলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি এতই রক্তলোলুপ পরিস্থিতি যে শেষপর্যন্ত কী হবে বলা যায় না।

প্রথমত মানুষ যা বাঁচিয়ে রাখে সে তার কিয়দংশ জীবতকালে পায়। তবু সে আগামীর কথা ভেবে এগোতে থাকে। সেই নশ্বর জীবনকে, অর্থাৎ যে যাবেই শুধু তাকেই মারার জন্য অন্য কোনো প্রাণী নয় মানুষই পেতেছে ফাঁদ মানুষের বিরুদ্ধে! এই দেহ থেকে নিঃসৃত যে রক্তকে সে কাপড়ে বেঁধে দিচ্ছে সেই রক্তই সে ঝরাবে অন্যের গা থেকে ভাবলে অবাক লাগে! মানুষেরই তৈরি নীতিতে মানুষের কী এক ঘোর যে সে ক্রমাগত ধবংসলীলায় মাততে চায়। তবু যুগ যুগ ধরে নিরাপত্তাকেই স্বীকৃতি দিতে সেনাবাহিনীর আগমন হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/17/1550409122289.jpg

সুন্দর, সুষ্ঠকে তো রক্ষা করতেই হয়! কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে এই আধুনিক জনসমাজেও কেন শক্তির পরীক্ষা হয় প্রাণের ভিত্তিতে? যে মানুষ প্রতি পদে পদে প্রমাণ করেছে দেহজ শক্তি শক্তি নয় সেই মানুষই শক্তির পরীক্ষায় নেমেছে প্রাণের বিনিময়ে। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় এক একটি যুদ্ধ কীভাবে সব ধবংস লীলায় মেতেছে বারবার। সেই মঙ্গোলিয়ান যুদ্ধ থেকে দুনগান যুদ্ধ, নাপোলিওনিক যুদ্ধ,রাশিয়ার যুদ্ধ, লুসান রেবেলিয়ন, তাইপিং বিদ্রোহ ,এসব ভয়ংকর যুদ্ধ এক একটা সভ্যাতাকে ছারখার করে দিয়ে গেছে; হ্যাঁ পুরস্কার বেঁচে থেকেছে তা নিশ্চয় সভ্যতার পক্ষে গর্বের কিন্তু মানবসভ্যতার যে ভিত সেই মানুষই ক্রমাগত ধবংস হলে সভ্যতার সত্যি কী কিছু বাঁচে!

ইতিহাসে জানা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৭ কোটি মানুষ মারা গেছে। কুইঙ্গ সাম্রাজ্যের যুদ্ধে চীনে ২ কোটি মানুষ মারা যান। প্রায় ১৪,০০০ বছর আগে নাকি মেসোলিথিক সেমেট্রিতে ভয়ঙ্কর মৃত্যু দেখেছিল মানুষ, সেই প্রথম মানুষ যুদ্ধ কী তা জানল এরপর যখন রাষ্ট্র তার ক্ষমতা একীভূত করতে শিখল আনুমানিক ৫,০০০ বছর আগে মিলিটারি সৈন্যদের আগমন শুরু হল। আপাতদৃষ্টিতে সুরক্ষার কবচ মনে হলেও যুদ্ধের দামামা বাজার সূত্রপাত হয়ে গেল। যুদ্ধ যে কী তা আমরা জানি। আমাদের সমঝোতা, অন্যায়-ন্যায় প্রতিবাদ, হিংসা-লালসা, বিজাতীয় রাগ এমন বহু কিছু আছে যা ক্ষুদ্র ঘরের কোণ থেকেই শুরু হয়; সেখানে সাম্রাজ্য রাষ্ট্রের যুদ্ধ অনেক পরে আসে।

যুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা অসম্পর্ণ রয়ে গেল, এখানেই পরবর্তীতে কখনও বলব...

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র