Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চিড়িয়াখানার প্রাণ

চিড়িয়াখানার প্রাণ
ছবি: সংগৃহীত
তানিয়া চক্রবর্তী  


  • Font increase
  • Font Decrease

ইংরেজিতে যাকে বলে জু, জুলজিক্যাল পার্ক। কিন্তু এই ব্যাপারটা কী এতই স্বাভাবিক ও প্রাণীসংরক্ষণের নিয়ম মেনে হত?? না জানলে অবাক হতে হয় প্রাণী নয় মানুষও এর শিকার ছিল। এইকথায় পরে আসছি।দেড়শ থেকে আড়াই’শ খ্রিঃপূ তেই আগমন হয়েছিল এই চিড়িয়াখানা ভাবনার। একটি জাতির সম্মান, গর্ব তাদের শক্তি তারা প্রদর্শন করত তাদের উন্নত পশুশালার মাধ্যমে। সেই পশুশালায় আস্তে আস্তে চিড়িয়াখানার রূপ নেয়।রাজা রাজরারা সখে যে পশুপাখি পুষতেন সে আমরা জানি কিন্তু খাঁচায় রেখে প্রদর্শন করার বিষয়টা একটু আলাদা ছিল। চীন, মেসোপটেমিয়া, মিশর এই বিষয়ে এগিয়ে ছিল।মিশরের রানি হাশেপসাটের কথাই উল্লেখিত ভাবে পাওয়া  যায়। তিনি আফ্রিকা থেকে প্রাণীদের নিয়ে এসে তার নির্মিত চিড়িয়াখানায় রাখতেন। এই প্রথম চিড়িয়াখানায় মানুষ বাইরে থেকে প্রাণীদের দেখতে পারল। ২৪০০ খ্রিঃপূ দক্ষিণ-পূর্ব ইরাকে সম্ভবত প্রথম চিড়িয়াখানা তৈরি হয় কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য দ্রষ্টব্য ছিল না ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/03/1549201259782.jpg

এখানকার চিড়িয়াখানায়  প্রাণীরা হল  লেপার্ড, বানর, বাঘ, পাখি। পরবর্তীতে টলেমিও আলেকজান্দ্রিয়াতে চিড়িয়াখানা বানিয়েছিলেন। শোনা যায় । মেসোপটেমিয়াতেও রাজাদের সব আলাদা চিড়িয়াখানা ছিল এর মাধ্যমেই তারা তাদের ক্ষমতাও প্রদর্শন করত। ব্যাবিলনের রাজা নেবুচাডরজার বুনো প্রাণীর বন্দীশালা বানিয়েছিলেন। কলকাতায় ১৮০১ পরবর্তী চিড়িয়াখানা তৈরী হয়। প্রথম চোরাবাগানেই এই চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। বাংলাদেশে প্রথম রমনা পার্কে প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরী করা হয়। এর কিছুদিন পর সুষ্ঠভাবে মিরপুরে চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি বর্তমান বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা।খ্রিঃপূ ১৫০০ তে চীনে শ্যাং রাজবংশের সময় চিড়িয়াখানার প্রসার দেখা যায়।১৮২৬ সালে লন্ডনের রিজেন্ট পার্কে লন্ডন জু খোলা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/03/1549201084093.jpg

বিংশ শতাব্দীতে এর নাম হয় গুছিয়ে “ বায়োপার্ক”। সব থেকে পুরোনো চিড়িয়াখানার অস্তিত্ব রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে। ১৭৫২-তে রোমান সম্রাট প্রথম ফ্রান্সিসের আমলে এটি পশুশালা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। উনিশ শতকের আগে অবধি চিড়িয়াখানা তৈরীর পেছনে কোনো বিজ্ঞান সম্মত ভাবনা ছিল না রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রদর্শন ছাড়া।আধুনিক উন্নত চিড়িয়াখানার যেমন বহু উন্নতি হয়েছে ভাগ হয়েছে যেমন সাফারি পার্ক, অ্যাকোয়ারিয়া, রোডসাইড জু, পেটিং জু,অ্যানিম্যাল থিম পার্ক ইত্যাদি।

তো এই হল মুখ্যত প্রাথমিক চিড়িয়াখানার আগমন ইতিহাস তাও এই পদ্ধতি পশুপাখির পক্ষে ঠিক কিনা তা নিয়ে বহু বিতর্ক আছে; কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে যে মানুশ এই চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠা করেছে তারা নিজেদেরও স্বজাতিকেও চিড়িয়াখানায় বন্দী রাখত কেবল নিজেদের আমোদ-প্রমোদের জন্য এর মধ্যে সংমিশ্রিত হয়েছিল বর্ণবাদও; যা মানবসভ্যতার অভিশপ্ত ইতিহাস। ম্যাক্সিকোর মোক্তজুমায় মানব শরীরকে বন্দী করে তাদের পশুর মতো প্রদর্শন করানো হত।ইটালীর মেডিসি পরিবারের নিজস্ব মানব সংগ্রহশালা ছিল। এমনকি মানুষের সামনে মানুষের মৃত্যু অবধি বন্দী অবস্থায় প্রদর্সিত হত। প্যারিস, লন্ডন, নিউইয়র্ক এই সমস্ত উন্নত শহরের ব্যবসায়ীরা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের রপ্তানি করে তাদের বন্দী অবস্থায় প্রদর্শন করতেন।

কালো চামড়ার মেয়েরা কিম্বা গ্রাম্য আদিবাসীদের দিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় রেখে পশুর মতো আচরণ করতে বলা হত। কখনো কখনো জলচর প্রাণীদের সঙ্গে জলভর্তি খাঁচাও তাদের রেখে দেওয়া হত। আমেরিকা ফিলিপাইওনদের যুদ্ধে হারিয়ে ক্রীতদাস বানিয়ে জংলি জীবের মতো এদের প্রদর্শন করাতো। ওটাবেংগা, আন্দামানের আদিবাসী, নুবিয়ান এরকম মানুষদের তো বটেই এমনকি, ভারতীয়, তুর্কী, আফ্রিকানদের বন্দী করেও মানবচিড়িয়াখানার মজা নিত মানুষ।

তাই মানুষ আজ যতই মজা করুক, চিড়িয়াখানার গা জুড়ে বসে পিকনিক করুক, এর আগমনীটা এত সুখের ছিল না। আমোদে-প্রমোদে-অত্যাচারের ইতিহাসে এর আগমন তবে বিজ্ঞানমনস্ক ভাবনার সম্প্রসার হওয়ায় চিড়িয়াখানার ভাবনা উন্নত হয়েছে এবং বাস্তবিক তা মানুষের কল্যাণেও এগিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে
হুমায়ূন আহমেদ

 

তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ শনিবার (২০ জুলাই)। 

কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার ও মায়ের নাম  কমলিনী দেবী।

হরিনাথ মজুমদার ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। তিনি অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।

তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' প্রকাশ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন।পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602039922.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথের লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' 

 

১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে, গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।

কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।

কালজয়ী এই সাংবাদিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (২০ জুলাই) কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602126966.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তন

 

কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর য়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মোঃ আবদুল মজিদ, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান খান, পৌর সভার মেয়র মোঃ সামছুজ্জামান অরুণ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে থাকবেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.আবুল আহসান চৌধুরী।

সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602157692.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনের সামনের চিত্র 

 

গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযত্ন অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র