Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিন্নাবেড়া গ্রামের পথে

বিন্নাবেড়া গ্রামের পথে
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ
মঈনুস সুলতান


  • Font increase
  • Font Decrease

থিকথিকে আবর্জনায় জুতাখানা ঘিনঘিনে ময়লায় ভরে উঠল। কিন্তু এসব দিকে নজর দেওয়ার সময় কই। দেওয়ান তরজার বেড়া মড়মড় করে ভেঙে হীরা মিয়ার ভুষিমালের দোকানের পেছনে বেগুনের খেতে এসে পড়ে। পাতার আর্দ্রতা গুটানো পায়জামার পায়ায় দাগ কেটে দেয়। এলাকায় বড় দেওয়ান বলে পরিচিত আসিফ হাসান বসে ছিলেন কামাল ফার্মেসির পেছনের কামরায়। খানিকটা রাশভারী লোক, হাটেবাজারে তিনি তেমন একটা আসেন না। তবে আজ আসতে হয়েছে, কারণ তাঁর ফিলিপস্ ট্রানজিসটারের ব্যাটারি ফুরিয়েছে। খান সেনারা গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে। রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে নানা জায়গায়। বাজারে মাল সামানের চালান আসছে না। তাই পয়সা দিয়েও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না রেডিওর ব্যাটারি।

তো বড় দেওয়ান বাজারে এসে কামাল ফার্মেসির পেছনে বসে ভলিওম কমিয়ে কমপাউন্ডারের সাথে ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে স্বাধীনবাংলা বেতারের সংবাদ শুনছিলেন। কপাটের বাইরে পায়ের শব্দ হতেই কমপাউন্ডার দ্রুত নভ ঘুরিয়ে নিয়ে আসেন রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠানে। ওখানে গীত হচ্ছে আহমেদ রুশদীর উর্দু গান ‘একেলে না জানা/হামে ছোড় কর তুমহারে বিনা।’ এলাকার তরুণ কমরুদ্দীন কামরায় ঢুকে ফিসফিস করে দেওয়ানকে খবরটি দেয়। একটু আগে চারজন খান সেনা তার চাচা শান্তি কমিটির প্রধান বদরুদ্দীন হাজিকে নিয়ে দেওয়ানবাড়িতে যায়। তারা হয়তো গ্রামে রেইড সেরে এবার বাজারের দিকে আসবে। তাই সময় থাকতে দেওয়ানের সরে পড়া উচিত।

নুরমনার বেগুন খেতের বেড়া ডিঙ্গিয়ে বড় দেওয়ান এবার বাজারের মসজিদের পেছনে ওজু করার পুকুরের কাছে এসে পড়েন। কমরুদ্দীন সম্পর্কে তার ছাত্র। বছর কয়েক আগে তিনি জেলা সদরের কলেজ থেকে বি এ পাশ করে ফিরে আসেন নিজস্ব সাকিন ঝিগরকান্দি গ্রামে। অবশ্য বি-এ’র রেজাল্ট আউট হওয়ার পর ঢাকা শহরেও দু’বার গিয়েছিলেন ভার্সিটিতে মাস্টার্স করা যায় কিনা তার সুলক সন্ধান করতে। কিন্তু ভার্সিটির ক্যাম্পাসে সারাক্ষণ মিছিল স্লোগান, কখনো কখনো টিয়ার গ্যাস লাঠিচার্জ ইত্যাদি নজর করে মনে হয়েছিল এসব জঞ্জাল থেকে দূরে থাকাই বেহতর। দেওয়ানবাড়িতে পুরানো পত্রিকা পড়ে সময় তার কাটছিল না। এলাকার হাই স্কুলে তখন শিক্ষকদের খুব আক্রা যাচ্ছে। মাসের শেষে মাইনার সঙ্কুলান হচ্ছে না বলে অনেক শিক্ষকই সরে গেছেন অন্যত্র। তখন দেওয়ান সিদ্ধান্ত নেন বিনা মাইনায় স্কুলে ক্লাস নেওয়ার। বছর খানেক তার খারাপ কাটেনি। শীতের সিজনে স্যুটটাই পরে স্কুলে যেতেন। বর্ষাকাল আসতেই গামবুট পরে জলকাদা ডিঙ্গিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া বেজায় বিরক্তির ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল। তারপর ছাত্র সামলানোর বিষয়টিও তার কাছে উটকো ঝামেলা মনে হতো। কমরুদ্দীন ছাত্র হিসাবে মেধাবী না হলেও তার আউট বই পড়ার ধাত আছে। বিষয়টি দেওয়ান খুব পছন্দ করতেন। তো স্কুল মাস্টারি ছেড়ে দেয়ার পরও তার সাথে ছাত্র হিসাবে কমরুদ্দীনের একটা সম্পর্ক থেকে গেছে। মাঝে মাঝে তার কাছে আসে সে দেওয়ানবাড়ির লাইব্রেরি থেকে তারাশঙ্করের ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ বা সমরেশ বসুর ‘গঙ্গা’ ইত্যাদি বইপত্র ধার নিতে।

মসজিদের পেশাবখানার পাশে এসে বড় দেওয়ান রুমালে নাক চেপে ধরেন। ঠিক তখনই কমরুদ্দীন ফিসফিস করে বলে—গতকাল শান্তি কমিটির গোপন বৈঠকে তার চাচা বদরুদ্দীন হাজি তাকে চা ও খিল্লিপান সরবরাহের দায়িত্ব দেন। তখন সে শুনতে পায় যে—খান সেনাদের কাছে দেওয়ানের আচরণ সম্পর্কে নালিশ করার বিষয়টি। দেওয়ান ছাত্রদের বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা সোনালি-সবুজ পতাকা দর্জি দিয়ে তৈরির জন্য পঞ্চাশ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া .. মাস খানেক আগে যখন এলাকার লোকজন, বিশেষ করে হিন্দুরা শরণার্থী হিসাবে ভারতে চলে যাচ্ছিল তখন তিনি প্রমোদ বাবুকে পাওয়ার টিলারখানা ব্যবহার করতে দেন। বাবু টিলারের ট্রেইলারে করে খেশকুটুম বিশেষ করে তার বিরাশি বছরের বৃদ্ধা মাকে ত্রিপুরাতে পাঠান। আরো কিছু হিন্দু পরিবারও ট্রেইলারে করে সীমান্ত পাড়ি দেয়। আর গতকাল সন্ধ্যাবেলা সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির এক সদস্য স্কুলের বয়োবৃদ্ধ হেডমাস্টার আব্দুল খালেক সাহেবকে খান সেনারা গুলি করে হত্যা করছে। তার লাশ পড়ে আছে কালের থলির পাঁকুড় গাছের তলায়, কেউ দাফন করার সাহস পাচ্ছে না। বিষয় দুশ্চিন্তারই বটে। দেওয়ানবাড়িতে ফিরে যাওয়া হবে এখন আজরাইলের সাথে মোলাকাতের শামিল। সামনে উপায় একটাই। প্রায় মাইল পাঁচেক হেঁটে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ত্রিপুরায় চলে যাওয়া। সড়ক ধরে যাওয়াটা সঠিক হবে না। রিক্সা ফিক্সার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কমরুদ্দীন তাকে আলপথে হাঁটার পরামর্শ দিয়ে বিদায় নিতে চাইলে দেওয়ান ভীষণ অসহায় বোধ করেন। তার সাথে কমরুদ্দীনের বর্ডার অব্দি যাওয়া খুবই মুশকিল। কারণ তার চাচা বদরুদ্দীন হাজি তাকে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠিয়েছেন। ডালডা, গরমমশলা ও তেজপাতা কিনে তার তাড়াতাড়ি এখনই হাজিবাড়িতে ফেরা উচিত। কারণ মেয়েরা অপেক্ষা করছে, ডালডা ও তেজপাতা পাওয়া গেলেই তারা খান সেনাদের জন্য দোপেঁয়াজা রাঁধবে। কমরুদ্দীন তাকে অভয় দিয়ে বলে—স্যার, সোজা যাবেন বিন্নাবেড়া গ্রামে। নাসিরুদ্দীন বিড়ির চোরাচালানী বোংগা করবারি দানাউল্লাহকে বিষয় খুলে বলবেন। সে সন্ধ্যার পর আপনাকে নিরাপদে সীমান্তের ওপারে পৌঁছে দেবে।

কমরুদ্দীন ফিরে যাওয়ার পর দেওয়ান খেয়াল করেন যে—তার সফেদ পায়জামার পায়া চোরকাটায় ভরে উঠছে। আলপথে তিনি কি কখনো এর আগে হেঁটেছেন? একবার কি এক খেয়ালে একখানা পাওয়ার টিলার কিনেছিলেন। বাপ দাদার আমলের জমিদারী না থাকলেও তার বিষয় সম্পত্তির খাসে ধানি জমি-মিরাশ এখনো প্রচুর। ভেবেছিলেন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করবেন। চাষবাসের ওপর দু’চারখানা বইপত্রও কিনেছিলেন। একদিন গামবুট পরে ফেল্টহ্যাট মাথায় আলে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন পাওয়ার টিলারের লাঙ্গল বাওয়া। কিন্তু জমিজিরত চাষবাসের জঞ্জাট তার পোষালো না। ড্রাইভার তেল চুরি করে। কিছুদিন পরপর কিনতে হয় পার্টস্, সারাই করাতে হয় টিলার। তো একলটে ঘুরঘুরি বন্দের সাড়ে তিন হাল খাস-জমি তিনি প্রমোদ বাবুর কাছে বর্গা দিয়েছেন। বাবু তার পাওয়ার টিলার মেনটেইন করেন, তিনি মাসওয়ারি খানিকটা ভাড়া পান।

পরিস্থিতি গুরুতর হলেও দেওয়ানের মনে ভয়ের কোনো অনুভূতি হয় না। বদরুদ্দীন হাজির সাথে তার বাবা মরহুম দেওয়ান আবুল হাসানের মামলা মোকদ্দমা নিয়ে কাজিয়া সংঘাত ছিল। এসব তো তিরিশ বছর আগের পৌদপুরানী কেসসা। হাজির সাথে তার তো কোনো দুশমনী নেই। হাজি তার পেছনে লাগলেন কেন? এসব ভাবতে গিয়ে দেওয়ানের শরীর খারাপ লাগে। মনে হয় জ্বর এসে যাচ্ছে। পাকস্থলিতেও নিঃসরিত হচ্ছে এসিড। ঠিক বুঝতে পারেন না বিন্নাবেড়া গ্রামের নিশানা কি এদিকে? তার মন কেবলই ফিরে যেতে চায় দেওয়ানবাড়িতে। ইচ্ছা হয় কুসুম গরম জলে গোসল সেরে একটু বারান্দার ইজি চেয়ারে বসবেন। বাড়িতে কাজবাজও পড়ে আছে অনেক। তার স্ত্রী গোলমালের কারণে বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থেকে পোষা ময়না ও টিয়ে পাখিকে আদার তিনি নিজ হাতে দেন। আর নতুন প্রজাতির গোলাপের যে চারা লাগিয়েছেন তাতে বিকালে পানিই বা কে দেবে? শমসেন নগরে গোলাগুলির পর স্ত্রী রওশন বানুকে যমজ বাচ্চা দুটিসহ বাপের বাড়ি তিনিই পাঠিয়েছেন। ওরা মফস্বল শহরের বাসায় নিরাপদে আছে। তবে স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর দেওয়ানবাড়িতে কামকাজের লোকজন তিনি নিজেই কমিয়ে দিয়েছেন। কেবলমাত্র এক বৃদ্ধা বাপের আমলের বান্দীবেটি তার জন্য রান্নবান্না করে দিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে যায়। মাঝে মাঝে তার নাতনিও আসে দালানঘরের যে দু’তিনটি কামরা তিনি ব্যবহার করেন তা ঝাড়পোছ করতে। পাখি দুটিকে আদার দেওয়ার বিষয়টি কি তাদের মাথায় আসবে? আর ঝারি দিয়ে গোলাপ গাছে একটু পানি দেওয়া।

বিকাল পড়ে যাওয়ার সময় নানা হাঙ্গামার ভেতর দিয়ে দেওয়ান বিন্নাবেড়া গ্রামে পৌঁছান। পায়ে ফোস্কা পড়ে যাওয়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। বোংগা কারবারী দানাউল্লার বাড়িতে গিয়ে তিনি বড় খাজুল হন। তার স্ত্রী দরজার বেড়ার আড়াল থেকে কেঁদে-কেটে হাহাকার করে জানায় যে, তার স্বামী সপ্তাহ দিন আগে ইন্ডিয়া যায় বোংগায় বিড়ির চালান আনতে। এদিকে বর্ডারে চলছে গোলমাল, রাতবিরাতে গোলাগুলি হলে সে আর ফিরে আসতে পারেনি।

হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ করে দেওয়ানের মাথায় কী যেন ঘুরে ওঠে। বেশ মশগতে শরীরের ভারসাম্য বাজায় রাখেন তিনি। শীতের সন্ধ্যায় দু’তিন পেগ ব্র্যান্ডি খেলে এরকমের অনুভূতি হয়। চন করে বিষয়টি মনে পড়ে। দেওয়ানবাড়ির ধান রাখার বাড়ার-ঘরের আধো অন্ধকারে শুয়ে আছেন প্রমোদ বাবু। কামরাটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া। প্রমোদ রঞ্জন দাসের বিষয় আশয় প্রচুর। বাজারে আড়ত ছাড়াও আছে রেশনের দোকান ও স্ট্যাম্প ভেন্ডারের কারবার। অত্র এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় সকলে শরণার্থী হিসাবে ত্রিপুরা গেলে প্রমোদ বাবু তাঁর পরিবার পরিজন সকলকে ওপারে পাঠান। তবে তিনি থেকে যান নিজ বাড়িতে। পাঁচদিন আগে খান সেনারা হিন্দুপাড়ায় নাপাম ছিটিয়ে বেড়-আগুন দিলে তার ঘরবাড়ি তাবৎ কিছু পুড়ে যায়। প্রমোদ বাবু বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে থেকে প্রাণে বাঁচেন। তারপর সন্ধ্যাবেলা দেওয়ানবাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। বাড়ার-ঘরের ধানগোলার ঠিক উপরে ছাদের কাছে আছে একটি গুপ্ত কামরা। চাকর নকরদের যাতে সন্দেহ না হয় এর জন্য দেওয়ান কামরায় দরোজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। বুড়ি বান্দীবেটি কাজে আসার আগে তিনি তাঁকে নিজ হাতে নাস্তা দিচ্ছেন। আর বুড়ি চলে যাওয়ার পর, তাকে থালায় করে খাবারও তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রমোদ বাবুকে বাড়ার-ঘরে তালাবদ্ধ রেখে দেওয়ান পালিয়ে ইন্ডিয়ায় যেতে পারেন না। এর একটা বিহিত করতে হয়। তিনি ঝিকরকান্দি গ্রামে ফেরার পথে এবার ঘুরে দাঁড়ান। প্রমোদ বাবু সাথে তার সম্পর্ক বাপের আমল থেকে। বিবাহের সময় কিংবা মামলা মোকদ্দমা ইত্যাদি সংসারের নানাবিধ দুর্বিপাকে যখন তার টাকা পয়সার তঙ্গি পড়েছে তখনই তিনি প্রমোদ বাবুর কাছ থেকে সামান্য সুদে টাকা ধার নিয়েছেন। তার প্রতি দেওয়ানের আছে এক ধরনের কৃতজ্ঞতা। আর প্রমোদ বাবুর বুদ্ধিসুদ্ধির ওপরও তিনি নির্ভর করেন বিপুলভাবে। ঝিকরকান্দির দিকে হাঁটতে হাঁটতে ভাবেন—পথঘাট না জেনে একা বর্ডার অতিক্রম করতে যাওয়াটা হবে বেআকলামির শামিল। আর সাথে টাকা পয়সাও তেমন কিছু নেই। ত্রিপুরাতে পৌঁছে দিনগুজরানই বা করবেন কিভাবে? খান সেনারা এতক্ষণে টহল ছেড়ে নিশ্চয়ই ফিরে গেছে থানা সদরে। দ্রুত হাঁটতে থাকলে ঠিক সন্ধ্যার পরপরই তিনি ফিরতে পারবেন দেওয়ানবাড়িতে। তালা খুলে দিয়ে প্রমোদ বাবুর সাথে জলদি একটু শলা পরামর্শও করা যাবে। সিন্দুক থেকে টাকাপয়সা ও সোনার জেওরাত কয়েকখানাও তুলে নিতে পারেন। তারপর না হয় রাত থাকতে থাকতে প্রমোদ বাবুকে সাথে নিয়ে আবার মেলা দেবেন ত্রিপুরার দিকে।

হঠাৎ করে দেওয়ানের খেয়াল হয় যে—তিনি এবার সড়ক ধরেই হাঁটছেন। আলপথে ফিরে যেতে ইচ্ছা হয় না। কারণ আলপথ ধরে বিন্নবেড়া গ্রামে আসার পথে ফোঁস করে ওঠা সাপের মুখে পড়ে যেতে যেতে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। মনে একটি কুচিন্তা খেলে যেতেই তিনি নিজেকে প্রবোধ দেন—খান সেনারা কেবল মাত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে আগুন দিচ্ছে। দেওয়ানবাড়ির বারমহলে আছে মিনারওয়ালা মসজিদ ও মকতব। তাকে বাড়িতে না পেয়ে হয়তো খান সেনারা রেগে যাবে, কিন্তু আগুন দিতে যাবে না। সড়কের বাঁকে এসে দেওয়ান ইতস্তত করেন—রাজপথ ধরে হেঁটে যাওয়াটা কি সঠিক হবে? পথে জনমানুষ কিছু নেই কেন? তবে কি তিনি সাপখোপের রিস্ক নিয়ে আবার ফিরে যাবেন আলপথে। ঠিক তখনই হরন দিয়ে ধুলাবালি উড়িয়ে বাঁকের ওপার থেকে বেরিয়ে আসে গাড়িটি। লালরঙের পিকাপ। গাড়িখানা ঝিমাইচাল চা-বাগানের। দেওয়ান শুনেছেন যে বাগানের বিহারী মালিক লাল পিকাপটি পাক-আর্মিকে ব্যবহার করতে দিয়েছেন টহলের কাজে। তিনি ভাবেন—গাড়ির আরোহীরা হয়তো তাকে চিনতে পারবে না। কিন্তু নসীব খারাপ। পিকাপটি এসে দাঁড়ায় তার পাশে।

গরু-ভইস বাঁধার একখানা দড়ি তার হাতে প্যাঁচাতে গেলে দেওয়ানের মেজাজ বিগড়ে যায়। তিনি চীনা কারবাইন ঝুলানো খান সেনাকে পরিষ্কার উর্দু জবানে বলেন—গায়ে হাত দেবে না। হাম আপস্ তোমহারা সাথ ক্যাম্প-ছে যাওগি। বাত করোঙ্গি খোদ কমান্ডার কা সাথ। কিন্তু ছ-ফুটি খান সেনা তাকে পিছমোড়া করে বাঁধতে গেলে তিনি বেঁকে ওঠেন। তখন জোরাজোরিতে চোখ থেকে চশমা খুলে ছিটকে পড়ে ধুলায়। খান সেনা তার কোমরে বন্দুকের কোন্দা দিয়ে ঘাঁ দিলে তিনি হুমড়ি খেয়ে পড়েন পিকাপের চেসিসে। তখন মিলিটারির বুটের তলায় পড়ে মড়মড় করে ভেঙ্গে যায় তার বাইফোকাল চশমা।

পিকাপ ট্রাকে দড়ি বাঁধা হয়ে বসে আছে আরো কয়েকজন মানুষ। এদের মাঝে বাবরি চুলের মরম আলীকে তিনি চিনতে পারেন। মাথা ফেটে রক্ত বেরিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার গালের বা’ দিক। বাউলা গানের লোক মরম আলীকে তিনি খুব ভালো করে চেনেন। ইলেকশনের সময় মাইকে তার গলার স্বর প্রায়ই শোনা যেত। দোতারা বাজিয়ে সে গাইছে জয় বাংলার গান।  মরম আলী দেওয়ানের দিকে নীরবে তাকিয়ে থাকে। তার মুখে কোনো কথা জোগায় না। হঠাৎ করে সে চোখমুখ ভেঙেচুরে শিশুর মতো কেঁদে ওঠে হু হু করে। কিছু যেন বলে। দেওয়ান খেয়াল করে তা শুনতে গেলে পিকাপে দাঁড়িয়ে থাকা এক খান সেনা ‘হাল্লা মত করো হারামজাদে’ বলে বন্দুকের কোন্দা দিয়ে মরম আলীর মাথায় বাড়ি মারে। বড় দেওয়ানের আদ্দির ফিনফিনে কোর্তা ঘামে জবজবে হয়ে উঠছে। মরম আলীর কথা কি তিনি ঠিক মতো শুনতে পেরেছেন? তবে কি আগুনে পুড়ে দেওয়ানবাড়ি সত্যিই খাক হয়ে গেছে। খান সেনারা শুধু কি তার দালানঘরে আগুন দিয়েছে। নাকি আগুনের লেলিহান শিখা পুড়িয়ে ভস্ম করেছে ধানের বাড়ার-ঘরও?

যদি মরম আলীর বাচন সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে শত বৎসর আগে মুর্শিদাবাদের নবাবের দরবার থেকে পাওয়া দেওয়ানী সনদ খানাও পুড়ে গেছে। এই প্রথম বিশাল কিছু হারানোর বেদনা তার কলিজায় শেলের মতো এসে বিঁধে। দারুণ আফসোস হয়—তার যমজ বাচ্চা দুটি কোনো দিন দেখবে না দেওয়ানবাড়ির দড়ো বুনিয়াদের দলিলি প্রমাণ। আলমারির উপরের তাকে সনদের পাশেই রাখা আছে তার পরদাদা দেওয়ান নুরুল হাসানের হাতে লেখা ইয়াসিন শরীফ। আল্লার কালাম আগুনে পোড়ে না। তবে কী পবিত্র সুরার তাসিরে দগ্ধ হওয়া থেকে রেহাই পাবে নবাবী জামানার সনদ? ধানের বাড়ার-ঘরটি দালান থেকে বেশ দূরে মহলের পুকুরের ওপারে। আগুন হয়তো অত দূর অব্দি পৌঁছবে না। কিন্তু গুপ্ত কামরার দুয়ারে যে তালা লাগানো। আর যদি হার্মাদ সেনারা বাড়ার-ঘরেও আগুন দিয়ে থাকে,তাহলে..? কী করবেন ঠিক বুঝতে পারেন না, প্রমোদ বাবু তার বড়ো কাছের মানুষ। এক ধরনের অসহায় রাগে দেওয়ান উঠে দাঁড়াতে গেলে মাথায় চীনা কারবাইনের বাড়ি দিয়ে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়।

তখনই লাল পিকাপটি থামে। ফ্রন্টসিট থেকে নেমে আসেন বদরুদ্দীন হাজী। পিকাপের চেসিসের কাছে এসে হাজি মেহদীমাখা দাড়ি খিলাল করতে করতে গলা খাঁকারি দিয়ে বলেন—দেওয়ানজীর বেটা দেওয়ান, মনে মনে কয়েক মর্তবা তওবা আসতাগফার পড়েন। রক্তের ধারায় বুজে যাওয়া চোখের পাপড়ি খানিক কসরতে খুলে বড় দেওয়ান কী যেন বলতে চান। কিন্তু ঝাঁকি দিয়ে ঝিমাইচাল চা বাগানের লাল পিকাপটি ধুলা উড়িয়ে খান সেনাদের ছাউনির দিকে ছোটে।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র