Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আফ্রিকার উত্তর-উপনিবেশিক কথাসাহিত্যের পঞ্চপ্রদীপ

আফ্রিকার উত্তর-উপনিবেশিক কথাসাহিত্যের পঞ্চপ্রদীপ
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ
ফজল হাসান


  • Font increase
  • Font Decrease

আফ্রিকার উত্তর-উপনিবেশিক সাহিত্য শুরু হয়েছে ১৯৫৭ সালের পরে, বিশেষ করে ষাটের দশকে । সেই সময় থেকে আফ্রিকার দেশগুলো সরকারিভাবে স্বাধীনতা লাভ করে । অনেক সমালোচকের মতে উত্তর-উপনিবেশবাদী সাহিত্যে সাত ধরনের বিপ্রতীপ বিষয়বস্তু স্থান পেয়েছে, যেমন আফ্রিকার অতীত এবং বর্তমানের সংঘাত, চিরায়ত নিয়মকানুন এবং আধুনিকতা, আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠী এবং বিদেশি, ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত, সমাজতন্ত্র এবং ধনতন্ত্র, উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা, এবং আফ্রিকাবাসী ও মানবতা । এছাড়া উত্তর-উপনিবেশবাদী সাহিত্যে অন্যান্য সামাজিক বিষয়বস্তুও স্থান পেয়েছে, যেমন দুর্নীতি, নব্য স্বাধীন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিমাতাসুলভ আচরণ এবং নারীদের ভূমিকা ও অধিকার।

এ কথা সত্যি যে, উপনিবেশিক শাসনতন্ত্রের শুরু থেকে আফ্রিকার সাহিত্যে বিদেশি ভাষা, বিশেষ করে ইউরোপের ফরাসি, ইংরেজি এবং পর্তুগিজ, অনুপ্রবেশ করে । এসব বিদেশি ভাষার বিভিন্ন কলা-কৌশল, আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্যে অথবা আফ্রিকার সাহিত্যকে ভিনদেশে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে অনেক লেখক সাহিত্য রচনা করেন ।

সমকালীন বিশ্ব সাহিত্যে আফ্রিকার লেখকদের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয় এবং তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন লেখক নিজেদের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন । এই নিবন্ধে মাত্র পাঁচজন লেখকের ব্যক্তিজীবন, সাহিত্য ভাবনা এবং উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। এই পঞ্চপ্রদীপ লেখকরা হলেন কেনিয়ার এনগুগি ওয়া থিওং’ও, ঘানার আমা আতা আইদু, সোমালিয়ার নুরুদ্দিন ফারাহ্, মোজাম্বিকের মিয়া কুতো এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বংশোদ্ভূত  ফরাসি লেখক অ্যালেন মাবানকো ।

এনগুগি ওয়া থিওং’ও
কেনিয়ার সবচেয়ে আলোড়িত এবং আলোচিত লেখক এনগুগি ওয়া থিওং’ও। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক, নাট্যকার এবং প্রাবন্ধিক। তাঁর জন্ম কিয়াম্বু জেলার লিমুরু শহরর নিকটবর্তী কামিরিথিতে, ৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে। শৈশবে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত (ব্যাপটাইজ) করে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল জেমস্ এনগুগি। তিনি ১৯৬৩ সালে উগান্ডার ম্যাকেরে ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ডের লিডস্ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন এবং লিডসে অধ্যয়নকালে ১৯৬৪ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘উইপ নট চাইল্ড’ প্রকাশিত হয়, যা কোনো পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলির লেখকদের মধ্যে ইংরেজিতে লেখা প্রথম উপন্যাস। আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে সাড়া জাগানো এবং নন্দিত উপন্যাস ‘এ গ্রেইন অব হুইট’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। এই উপন্যাসে ফ্যানোনিস্ট মার্কসজমের প্রতি তাঁর আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। ‘এ মিটিং ইন দ্য ডার্ক’ এবং ‘সিক্রেট লাইভস্ অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ তাঁর ছোটগল্প সংকলন। যদিও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের যোগ্য প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম অনেকবার আলোচনায় এসেছে, কিন্তু এখনো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544257610990.jpg

একসময় এনগুগি ওয়া থিওং’ও খ্রিস্টান ধর্ম, ইংরেজি ভাষা এবং জেমস এনগুগি নাম প্রত্যাহার করে তিনি ফিরে যান তাঁর আদি নামে এবং লেখালেখি করেন মাতৃভাষা গিকুয়ুতে। সেন্সরশিপ ছাড়া ১৯৭৭ সালে তাঁর প্রকাশিত নাটক ‘আই উইল মেরি হোয়েন আই ওয়ান্ট’-এর জন্য তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর তিনি নাইরোবি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃত্ততা থাকার জন্য তিনি নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে এনগুগি ওয়া থিওং’ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আর্ভিন-এ ইরেজি এবং তুলনামূলক সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন।

আমা আতা আইদু
ঘানার স্বনামধন্য এবং বিশ্বখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক, কবি, নাট্যকার, শিশু-কিশোর সাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ আমা আতা আইদু (পুরো নাম ক্রিস্টিনা আমা আতা আইদু)। তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালের ২৩ মার্চ। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্টের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফেলোশিপ অর্জন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি স্বদেশে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট এবং কেনিয়ায় শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া ১৯৮২-৮৩ সালে ঘানা সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544257736362.jpg

ঘানা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এ. পড়াকালীন আমা আতা আইদু গভীর মনোযোগের সঙ্গে লেখালেখি আরম্ভ করেন এবং লেখালেখির শুরুতেই ‘দ্য ডিলেম্যা অব এ ঘোস্ট’ (১৯৬৫) নাটক রচনার জন্য পুরস্কৃত হন। নাটকটি মঞ্চায়িত এবং গ্রন্থ হিসাবে প্রকাশিত হয়। এই নাটকে তিনি দেখিয়েছেন যে ঘানার ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের অপরিচিত একজনের অনুপ্রবেশের জন্য পারিবারিক জীবনে নেমে আসা সংঘাত, অশান্তি এবং টানাপোড়েন। ‘আনওয়া’ (১৯৭০) তাঁর রচিত অনন্য নাটক। তাঁর প্রথম উপন্যাস (‘আওয়ার সিস্টার কিলিজয়’ বা ‘রিফ্লেকশন্স ফ্রম এ ব্ল্যাক-আইড  স্ক্যুইন্ট’) প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে । তিনি একাধিক ছোটগল্প সংকলন প্রকাশ করেন। এগুলোর মধ্যে ‘নৌ সুইটনেস হিয়্যার অ্যান্ড আ দার স্টোরিজ’ (১৯৭০), ‘দ্য গার্ল হু ক্যান অ্যান্ড আ দার স্টোরিজ’ (১৯৮৭) এবং ‘ডিপলোম্যাটিক পাউন্ড অ্যান্ড আ দার স্টোরিজ’ (২০১২) উল্লেখযোগ্য। ‘নৌ সুইটনেস হিয়্যার অ্যান্ড আ দার স্টোরিজ’ সংকলনের বিভিন্ন গল্পে তিনি ঘানার উত্তর-ঔপনিবেশিক সময়কে তুলে ধরেন এবং চরিত্রকে হেঁয়ালী, কিন্তু সততার সঙ্গে উপস্থাপন করেন। তিনি প্রায় পনের বছরে (১৯৭০-১৯৮৫) একমাত্র কাব্যগ্রন্থ (সামওয়ান টকিং টু সামওয়ান) প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁর একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এগুলোর মধ্যে শিশু-কিশোর উপযোগী ছোটগল্প সংকলন ‘দ্য ঈগল অ্যান্ড দ্য চিকেনস্’ (১৯৮৬), কাব্য গ্রন্থ ‘বার্ডস্ অ্যান্ড আদার পোয়েস্’ (১৯৮৭), উপন্যাস ‘চেঞ্জেস্: এ লভ স্টোরি’ (১৯৯১) এবং কবিতার বই ‘অ্যান অ্যাংগ্রি লেটার ইন জানুয়ারি অ্যান্ড আদার পোয়েমস্’ (১৯৯২) উল্লেখযোগ্য। তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করেন। তাঁর লেখার বিষয়আশয় পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আফ্রিকার বৈষম্যমূলক আচরণ এবং টানাপোড়েন। এছাড়া তাঁর বিভিন্ন লেখায় স্থান পেয়েছে আধুনিক আফ্রিকার সমাজে নারীদের করুণ অবস্থান। বর্তমানে তিনি ঘানায় বসবাস করেন। সেখানে তিনি ‘মাবাসেম’-এর (ঘানা এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নারীদের কাজকে উৎসাহ প্রদান এবং উন্নতিবর্ধন করার সংস্থা) নির্বাহী পরিচালক হিসাবে কর্মরত আছেন।

নুরুদ্দিন ফারাহ্
আফ্রিকা মহাদেশের সফল এবং অন্যতম প্রভাবশালী লেখক সোমালিয়ার নুরুদ্দিন ফারাহ্। তিনি একই সাথে ঔপন্যাসিক, গল্প লেখক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক। তাঁর জন্ম তৎকালীন ইতালি অধ্যুষিত সোমালিল্যান্ডের বাইডোয়া শহরে, ১৯৪৫ সালের ২৪ নভেম্বর। তাঁর শৈশব কেটেছে পার্শ্ববর্তী ইথিওপয়া শাসিত ওজাডেন শহরের কালাফোতে। তিনি ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, সাহিত্য ও সমাজ বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের এসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে নাট্যকলায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউনেস্কো ফেলোশিপ লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নুরুদ্দিন ফারাহ্ সোমালি এবং ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। তাঁর লেখাকে ‘রাজনৈতিক রোমহর্ষক’ বা ‘পলেটিক্যাল থ্রিলারস্’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর লেখার মূল বিষয় সোমালি সমাজ এবং রাজনীতি, বিশেষ করে পারিবারিক সম্পর্ক, জীবনের জটিলতা এবং নারীবাদ। প্রথম উপন্যাস ‘ফ্রম এ ক্রুক্ড রিব’ প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে, যা নারীবাদী পাঠকের কাছে ভূঁয়সী প্রশংসা লাভ করে। এই উপন্যাসে তিনি পারিবারিকভাবে এক  কিশোরীর জোর করে বেশি বয়সী লোকের সঙ্গে বিয়ে নির্ধারিত হওয়ার পর কিশোরীর  পালিয়ে যাওয়া এবং বুড়ো লোকটির নতুন করে জীবন সংগ্রামের কাহিনী  তুলে ধরেছেন। ‘এ ন্যাকেড নিডল্’ (১৯৭৬) তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস। এই উপন্যাসে তিনি মধ্য-সত্তুরের বিপ্লবী-পরবর্তী সোমালিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার এবং জনসাধারণের দুর্গতির কথা চিত্রায়িত করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544257762913.jpg

উপন্যাস প্রকাশের পর ইউরোপে ভ্রমণকালীন তিনি জানতে পারেন, দেশে ফিরে গেলে উপন্যাসের বিষয়বস্তুর জন্য সরকার তাঁকে গ্রেফতার করবে। তাই গ্রেফতার এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় প্রায় বাইশ বছর দেশান্তরিত ছিলেন। সেই সময় তিনি বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা করেন। তিনি তিনটি ত্রয়ী উপন্যাসের সিরিজ রচনা করেন। এগুলো হলো : ‘ভেরিয়েশনস্ অন দ্য থিমস্ অব অ্যান আফ্রিকান ডিক্টেটরশিপ’ [‘সুইট অ্যান্ড সাওয়্যার মিল্ক’ (১৯৭৯), ‘সারডিনস্’ (১৯৮১) এবং ‘ক্লোজ সেস্যামি’ (১৯৮৩)], ‘ব্লাড ইন দ্য সান’ [‘ম্যাপস্’ (১৯৬), ‘গিফটস্’ (১৯৯২) এবং ‘সিক্রেটস্’ (১৯৯৮)] এবং ‘পাস্ট ইমপার্ফেক্ট’ [‘লিঙ্কস্’ (২০০৩), ‘নটস্’ (২০০৭) এবং ক্রশবৌনস্’ (২০১১)]। এসব সিরিজ উপন্যাসের মধ্যে ‘সুইট অ্যান্ড সাওয়্যার মিল্ক’ তাকে সুখ্যাতি এনে দেয় এবং তিনি ‘ইংলিশ স্পিকিং অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। ২০১৪ সালে তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস ‘হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ প্রকাশিত হয়। তাঁর একাধিক নাটক মঞ্চে মঞ্চায়িত এবং রেডিওতে প্রচারিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্য কর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অন্যতম প্রার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভাগাভাগি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিন্যায়াপলিস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপটাউনে বসবাস করেন।

মিয়া কুতো
আফ্রিকা মহাদেশে পর্তুগিজ ভাষার অন্যতম লেখক মিয়া কুতো (পোশাকি নাম আন্তোনীয় এমিলিও লিতে কুতো)। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক, কবি এবং সাংবাদিক। তাঁর জন্ম মোজাম্বিকের বেইরা শহরে, ১৯৫৫ সালের ৫ জুলাই। সেখানেই তিনি শৈশব কাটিয়েছেন। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে স্থানীয় সংবাদপত্রে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি মেডিসিন পড়ার জন্য ১৯৭৪ সালে মপুতো শহরে গমন করেন। কিন্তু সেখানে পড়াশোনার সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৫ সালে মোজাম্বিক স্বাধীনতা অর্জন করার পর তিনি মেডিসিন পড়ায় ইস্তফা দেন এবং সাংবাদিকতা শুরু করেন। একাধিক সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছাড়াও তিনি রাষ্ট্র পরিচালিত মোজাম্বিক ইনফরমেশন এজেন্সির ডিরেক্টর ছিলেন। গত শতাব্দীর আশির দশকে জীব-বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার সময় তাঁর কবিতা এবং ছোটগল্প প্রকাশিত হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544257844288.jpg

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ (রুট অব ডিউ) প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে এবং প্রথম ছোটগল্প সংকলন (ভয়েসেজ মেইড নাইট) প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। এই সংকলন তাঁকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য জগতে পরিচয় করিয়ে দেয়। ‘এভরি ম্যান ইজ এ রেইস্’ (১৯৯৪) তাঁর অন্য ছোটগল্প সংকলন। সংকলন দুটির বেশির ভাগ গল্পের পটভূমি মোজাম্বিকের দশ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গৃহযুদ্ধের পাশবিক ঘটনা। তাঁর প্রথম উপন্যাস (স্লিপওয়াকিং ল্যান্ড) ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর আফ্রিকার প্রথম ছয়টি উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে একটি। এছাড়া এই প্রথম উপন্যাসই তাঁকে এনে দেয় ‘জিম্বাবুয়ে ইন্টারন্যাশনাল বুক ফেয়ার’ পুরস্কার। সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন, যেমন ‘লাতিন ইউনিয়ন’ সাহিত্য পুরস্কার (প্রথম আফ্রিকার লেখক) (২০০৭), ‘নিউস্টাড ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর লিটারেচার’ (২০১৪) এবং ‘ক্যামোস প্রাইজ’ (২০১৩)। বর্তমানে তিনি মপুতোতে পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসাবে কর্মরত আছেন।

অ্যালেন মাবানকো
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বংশোদ্ভূত ‘আফ্রিকার স্যামুয়েল বেকেট’ নামে অভিহিত ফরাসি লেখক অ্যালেন মাবানকো একাধারে কথাসাহিত্যিক, কবি, সাংবাদিক এবং অধ্যাপক। তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। শৈশব কাটে কঙ্গোর সামুদ্রিক শহর পয়েন্ট-নোয়্যারে। তিনি দর্শন-শাস্ত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পরে মায়ের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাইভেটে আইন  বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি বাইশ বছর বয়সে বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে যান এবং ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে তিন বছরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যান অ্যারবর ক্যাম্পাসে ফ্রাঙ্কোফোন সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন এবং পরে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাট লস অ্যাঞ্জেলেস-এর অধ্যাপক নিযুক্ত হন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544257870375.jpg

অ্যালেন মাবানকোর প্রথম উপন্যাস ‘রেড-হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথম উপন্যাস প্রকাশের পর তিনি লেখালেখিতে নিয়মিত হন। ‘গ্লাস ব্রোকেন’ (২০০৫), ‘মেম্যোয়্যার অব পর্কুপাইন’ (২০০৬), ‘ব্ল্যাক বাজার’ (২০০৯), ‘টুমরো আই  উইল হ্যাভ টুয়েনটি ইয়ার্স্’ (২০১০), ‘লাইটস্ অব পয়েন্টে-নোয়্যার’ (২০১৩) এবং ‘স্মল চিলি’ (২০১৫) তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে একাধিক পুরস্কার লাভ করেন, যেমন ‘রেড-হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু’ উপন্যাসের জন্য ‘গ্র্যান্ড লিটারেরি প্রাইজ ফর ব্ল্যাক আফ্রিকা’, ‘মেম্যোয়্যার অব পর্কুপাইন’ উপন্যাসের জন্য ‘প্রি রেনো’ (২০০৬)  এবং ‘স্মল চিলি’ উপন্যাসের জন্য ‘প্রি গনকোর্ট’ (২০১৫)। ‘স্মল চিলি’ উপন্যাসের জন্য ২০১৭ সালে ‘ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’-এর তালিকায় ছিলেন। এছাড়া ‘ব্ল্যাক বাজার’ এবং ‘লাইটস্ অব পয়েন্টে-নোয়্যার’ উপন্যাস দুটি সমালোচকদের ভূঁয়সী প্রশংসা অর্জন করে এবং ফ্রান্সের কুড়িটি বেস্ট সেলার উপন্যাসের তালিকায় (যথাক্রমে ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে) অন্তর্ভুক্ত হয়। তাঁর উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্ররা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। তিনি আফ্রিকার অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। উপন্যাস এবং ছোটগল্প সংকলন ছাড়াও তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা। যদিও তিনি সাহিত্য কর্মের জন্য সমাদৃত, কিন্তু সমালোচনাও কুড়িয়েছেন। তাঁর সাহিত্য রচনা বিশ্বের পনেরটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাট লস অ্যাঞ্জেলেস-এর ফ্রাঙ্কোফোন সাহিত্যের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন।

পরিশেষে বলা যায়, গত শতাব্দীর পঞ্চাশের এবং ষাটের দশক থেকে, অর্থাৎ স্বাধীনতা লাভের সময় থেকে আফ্রিকার সাহিত্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে। কেননা তখন থেকেই আফ্রিকার সাহিত্যে বিদেশি ভাষা, বিশেষ করে ইউরোপের ফরাসি, ইংরেজি এবং পর্তুগিজ, অনুপ্রবেশ করে। এসব বিদেশি ভাষার বিভিন্ন কলা-কৌশল, আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্যে অথবা আফ্রিকার সাহিত্যকে ভিনদেশে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে উত্তর-উপনিবেশিক সময়ে অনেক লেখক সাহিত্য রচনা করেন। বলাবাহুল্য, এসব সাহিত্য শুধু স্বদেশেই নয়, বিদেশেও প্রকাশিত হতে থাকে এবং আন্তর্জাতিক পাঠক মহলে আন্তরিকতার সঙ্গে গৃহীত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে
হুমায়ূন আহমেদ

 

তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ শনিবার (২০ জুলাই)। 

কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার ও মায়ের নাম  কমলিনী দেবী।

হরিনাথ মজুমদার ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। তিনি অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।

তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' প্রকাশ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন।পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602039922.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথের লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' 

 

১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে, গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।

কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।

কালজয়ী এই সাংবাদিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (২০ জুলাই) কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602126966.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তন

 

কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর য়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মোঃ আবদুল মজিদ, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান খান, পৌর সভার মেয়র মোঃ সামছুজ্জামান অরুণ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে থাকবেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.আবুল আহসান চৌধুরী।

সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602157692.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনের সামনের চিত্র 

 

গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযত্ন অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র