Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাঙলার কিছু বিলুপ্ত বই পুস্তক

বাঙলার কিছু বিলুপ্ত বই পুস্তক
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

বহু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েও কালের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে, কখনোবা লেখকরা সমসাময়িক সময়ে গুরুত্ব পেয়েও পরে হারিয়ে গেছেন। কোথাও চর্চার আড়ালে, কোথাও বা পুস্তকের দুর্লভ হওয়ার কারণে কোথাওবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে বইপত্র অনেকসময় ধ্বংস হয়ে স্মৃতির ধুলোতে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।
এখন যে বইয়ের কথা বলছি যথা ‘ছেলেদের মহাভারত’, ‘মসূয়ার ইতিহাস’, ‘ধ্রুব’, ‘বিক্রমাদিত্য’ ও ‘প্রতাপাদিত্য’, এই সকল বইয়ের রচয়িতা শ্রদ্ধেয় শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য—সম্পর্কে আমার মায়ের ঠাকুরদা হন। আমার মা শ্রীপূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্যের জ্যেষ্ঠ পুত্র শ্রী প্রতাপ ভট্টাচার্য্যের সন্তান। পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্যের স্ত্রী শ্রীমতী সুনীতি দেবীকে আমি দেখেছি ও তার মুখে ছেলেবেলায় কিছু গল্পও শুনেছি, তাঁকে সম্বোধনে বম্মা (বড়মা থেকে) বলে ডাকতাম। এই পাঁচটি বইয়ের প্রতিটিই রচনার দিক থেকে ভিন্ন। হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বের কারণে ১৩৫৪ সনের ১২ই চৈত্র মসূয়ার (বর্তমান বাংলাদেশের ময়মসিংহ জেলার মসূয়া গ্রাম) বাড়ি (ভারতী কুটীর) ত্যাগ করে স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই কন্যা নিয়ে তাকে ভারতবর্ষে আসতে হয়। সেইসময়  স্বভাবতই তাঁকে বেশ অর্থকষ্টে পড়তে হয় কিন্তু এসবের মধ্যেও ক্রমাগত নিজের সাহিত্যসৃষ্টি অব্যাহত রেখেছিলেন।

প্রথমে গৌরীপুর, কালীপুরে কিছুদিন কাটিয়ে মালদার চাঁচলে বাস করেছিলেন। ভারতবর্ষে ফিরে তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন শারীরীকভাবেও খুব সুস্থ ছিলেন বলে জানা যায় না। ১২৯০ বঙ্গাব্দে ময়মনসিংহ জেলার মসূয়া নামক বর্ধিষ্ণু গ্রামে শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য জন্মগ্রহণ করেন। এই মসূয়া গ্রামেই শ্রদ্ধেয় উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্ম হয়। বম্মার মুখে শুনেছি বড়দাদু তথা শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্যের বিশেষ সুহৃদ ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সাহিত্যের বিভিন্ন কর্ম নিয়ে তাঁরা আলোচনা করতেন। তাঁর যেসকল বই বিশেষ জনপ্রিয় ছিল তার মধ্যে ‘ছেলেদের মহাভারত’, ‘প্রতাপাদিত্য’, ‘বিক্রমাদিত্য’, ‘কেদার রায়’, ‘ঈশা খাঁ’, ‘ধ্রুব’, ‘মসূয়ার ইতিহাস’ উল্লেখযোগ্য। শিশুসাহিত্যের এই মূলগ্রন্থগুলি ছাড়াও পাখি নিয়ে বিশেষ কিছু কাজ করেছিলেন যথা ‘গায়ক পাখি’, ‘বাংলার পাখি’, ‘পক্ষীতত্ত্ব’। বাংলার পাখি সম্পর্কে শিশুদের সম্যক জ্ঞান হোক এই আশায় এসকল বই তিনি লিখেছিলেন। এই বইগুলো আজ প্রায় দুর্লভ। ১৩৬০ সনের ১লা বৈশাখ তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

আমাদের মহাকাব্যের দিক থেকে “মহাভারত” মানুষের সংবেদনশীলতাকে, জীবনযাপনকে বোঝার সবচেয়ে অপূর্ব সৃষ্টি। সম্ভবত ছোটদের মহাভারতকেই এখানে ‘ছেলেদের মহাভারত’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এখন সময় ও উন্নত ভাবনায় এসে এই নামকরণে আমাদের অসন্তোষ থাকতেই পারে। তবে যেভাবে ছোটবেলাকে ছেলেবেলা বলা হয় এটা তারই সাদৃশ্যযুক্ত প্রয়োগ সমসাময়িক প্রভাব থেকে। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত ‘ছেলেদের মহাভারত’ প্রকাশের বেশ কয়েকবছর পরে শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্যের ‘ছেলেদের মহাভারত’টিও প্রকাশিত হয়। সেইসময়ের বিশিষ্ট প্রকাশক ‘বৃন্দাবন ধর এন্ড সন্স লিমিটেড” থেকে এই বই প্রকাশিত হয়। তিনটি স্থানে এই প্রকাশনার অফিস ছিল যথা ৫, বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা, ৯০, হিউয়েট রোড, এলাহাবাদ এবং ৭৮/৬, লায়েল স্ট্রিট, ঢাকা”। এই প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী ছিল আশুতোষ লাইব্রেরি। এই আশুতোষ লাইব্রেরিই তাঁর বেশীরভাগ বই প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছিল। এই প্রকাশনী সেইসময়ের বিখ্যাত প্রকাশনীদের অন্যতম। ওখান থেকে ছোটদের বই বেশি প্রকাশিত হতো। এই প্রকাশনা থেকেই ‘শিশুসাথী’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো। এই পত্রিকায় বহু বিশিষ্টজনেরা লিখেছেন নিয়মিত। এই পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা বিখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার সম্পাদনাও করেছেন। সেই সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন। শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য ও রমেশ্চন্দ্র মজুমদার দুজনের পরিবারের মধ্যে বিশেষ ভাবের সম্পর্ক ছিল বলে জানতে পারি। শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য’র অজস্র লেখা প্রকাশিত হয়েছে ‘শিশুসাথী’ পত্রিকায়।

১৩৫৬ সনে ‘ছেলেদের মহাভারত’-এর চতুর্থ সংস্করণটি প্রকাশিত হয়। সেইসময় এই বইটির মূল্য ছিল আড়াইটাকা। এই বইটি মুদ্রিত হয়েছিল ‘নিউ আর্য্যমিশন প্রেস (১১নং রঘুনাথ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কলকাতা)’ থেকে। ‘ছেলেদের মহাভারত’ আসলেই শিশুদের সুখপাঠযোগ্য একটি বই। আঠারোটি পর্বে রচিত এই মহাভারত অতি সরল সহজ ভাষায় রচিত। মূলগ্রন্থটিতে ব্লক প্রিন্টের অপূর্ব সব ছবি সাযুজ্য বজায় রাখে। দ্রৌপদীর কেশাকর্ষণ, অভিমন্যুর যুদ্ধ, ভীম ও বকরাক্ষস এইসব ছবি মনের মধ্যে রচনা ও চিত্রের যুগপৎ ব্যবহারে দারুণ কল্পজগৎ সৃষ্ট করে। মহাভারতটি পড়লে বোঝা যায় কিশোর-কিশোরীদের মনের কথা ভেবেই যেন সতর্ক থেকে লেখা হয়েছে। প্রকাশভঙ্গি সাধুভাষায় হলেও তা ভীষণভাবে বোধগম্য। “মাকে বলিও,—বাবাকে বলিও,—জ্যেঠা মহাশয়,—মাতা দ্রৌপোদী আর অপরাপর সকলকে বলিও—অভিমন্যু বীরের মতো মরিয়াছে। আর বলিও অভিমন্যু শত্রুর নিকট একটিবার দয়া ভিক্ষা করে নাই—যুদ্ধে বিন্দুমাত্র ভয় পায় নাই; অভিমন্যু বাপের মান রাখিয়াছে। সূত! তুমি আরো বলিও, আমার জন্য যেন কেউ কাঁদেন না”—যুদ্ধ শেষে বালক যোদ্ধা অভিমন্যুর তাঁর সারথির প্রতি কথাকে তিনি এইপ্রকারের ভাষায় লিখেছেন। যার ফলে “ছেলেদের মহাভারত” পরপর ঘটনার পারম্পর্যে এক সুখপাঠ্য রচনা হয়ে উঠেছে।

১৩৩৬ সনে হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য কতৃক ৭নং বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রিট (কলকাতা) থেকে তাঁর লেখা ‘মসূয়ার ইতিহাস’ প্রকাশিত হয়। সেই সময়ে এর মূল্য ছিল ২ টাকা। ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার অধীনে মসূয়া গ্রামের কাশ্যপবংশীয় ব্রাহ্মণ ও মৌদগল্য গোত্রীয় কায়স্থগণের বংশ পত্রিকা, বংশ-বিবরণ, প্রধান ব্যক্তিগণের জীবনী ও অন্যান্য কথা নিয়ে এই বই। এটি মূলগ্রন্থে ‘প্রথম ভাগ, ব্রাহ্মণ কাণ্ড’ নামে অভিহিত। এই গ্রন্থের শেষে শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য খেদোক্তি করেছেন—“এই ইতিহাস সংগ্রহ করিতে গিয়া আমি পদে পদে বিশেষ বাধা পাইয়াছি। গ্রামের প্রায় কাহারও নিকট সহানুভূতি পাই নাই। এমনকি বইখানা লেখা হইলে পরেও সকলকে পুনঃ পুনঃ আহ্বান করিয়াছি। বড় দুঃখ এই যে, এমন একটা গুরুতর বিষয় বুঝিবার বা জানিবার কাহারও একবিন্দু কৌতূহল নাই।”

তিনি এও বলেছেন—“বিভিন্ন অসুবিধের কারণে এর সব অংশ প্রকাশ পায়নি। এটা প্রথম ভাগ। সম্ভব হলে পরে বাকিটা প্রকাশিত হবে।” সেই ভাবনা থেকেই হয়তো এই বই ‘প্রথম ভাগ, ব্রাহ্মণ কাণ্ডের’ নামে নামাঙ্কিত ছিল। মূলত যাঁর মুখনিঃসৃত উপদেশ বাণী শুনে শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য এই বই লিখতে তৎপর হয়েছিলেন তাঁর সেই বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠপুরুষ শ্রী ঈশান চন্দ্র ভট্টাচার্য্যকে এই বই তিনি উৎসর্গ করেছেন। বইটি বাঙালির জীবনচরিত বোঝার এক অপূর্ব ঐতিহাসিক কাজ। সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি, খাওয়া-দাওয়া, বেশভূষা সমস্ত কিছুর সুন্দর বিবরণ এই বইতে পাওয়া যায়।

ব্রহ্মপুত্র যেখানে “আড়ালিয়া খাত” নামে পরিচিত ছিল সেইসময়, সেখানে নদীর ভাঙনে প্রতি মাসে বাসস্থান সরিয়ে নিতে হতো সেই থেকে গ্রামের নাম হলো ‘মাস্যা’—এটাই নাকি মসূয়া নামের উৎপত্তির প্রাথমিক কারণ। কেউ বা বলেন মা অসূয়া থেকেই নাকি মসূয়ার উৎপত্তি। একদিকে ঈশা খাঁ অন্যদিকে সম্রাট আকবর আর এদিকে বারেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় এইসমস্ত প্রভাব ছাড়িয়ে কিম্বা নিয়ে বাঙ্গালি জাতি তার সাধারণ জীবন কিভাবে যাপন করত তারই ঐতিহাসিক নিদর্শন এই বই। মসূয়া ছাড়াও তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ভিটাদিয়া, নওপাড়া, উখড়াশাল, বাণিয়াগ্রাম, আচমিতা এইসব অঞ্চলের কথা এবং বিভিন্ন গোত্রের ব্রাহ্মণদের জীবনযাপনের সম্যক পরিচয় এই বই থেকে পাওয়া যায়। এখানে শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য নিজেদের বংশের বিশিষ্ট পণ্ডিতগণেরও কথা বলেছেন। সেইসময় দাবা, পাশা ছাড়াও ‘বলাই নিয়া পালাই’, ‘কান্দুরে কান্দু’ (গাছে চড়ে), মেয়েদের সব অভিনব খেলা ‘বাঘবন্দী’, ‘চাপিলা চুপিলা’, ‘লল্ট গোঁসাই’ প্রভৃতি খেলাধূলার প্রভাব ছিল।

পোশাকে গরদ, তসর ছাড়াও গিলাপ, বনাত, দোলাই—এইসব বস্ত্রের উল্লেখ আছে। প্রথম কিভাবে চাল ধোয়া জলের ব্যবহারে লেখার কালি প্রস্তুত হতো সেকথাও এখানে লিপিবদ্ধ আছে। স্ত্রীশিক্ষার ব্যাপারেও এই বইতে  নিজের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে বাঙ্গালির সংস্কৃতির ইতিহাস জানার অনবদ্য এক বই এই ‘মসূয়ার ইতিহাস’। ১৩২৪ সনে সম্ভবত এই বইটি প্রকাশিত হয়। এর সপ্তম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৩৫৭ সনে। এই বইটির প্রকাশকও ‘বৃন্দাবন ধর অ্যান্ড সন্স লিমিটেড’। এটি মুদ্রিত হয়েছিল ‘শ্রীনারসিংহ প্রেস (৫, বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট,কলকাতা ‘ থেকে। বইটির সেইসময় মূল্য ছিল ‘দশ আনা’। শিশুসাহিত্যের জনপ্রিয় এই বইটি সেইসময়ে ডিরেক্টর বাহাদুর কর্তৃক অবিভক্ত বাংলার সমস্ত স্কুলের পুরস্কার ও লাইব্রেরির পাঠ্যপুস্তক রূপে অনুমোদিত ছিল। বইটির ভূমিকায় লেখক লিখেছেন, এই কাহিনী পড়ে যাতে শিশুরা ভক্তিপরায়ণ হয় এটাই তাঁর একান্ত কামনা। গল্পটি পড়লে বোঝা যায় একটি সদর্থক, ইতিবাচক শিশু চরিত্রের মাধ্যমে তিনি সততাকে সাফল্য ও সুখের উপকরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। এধরনের বই নিঃসন্দেহে শিশুমনে সুপ্রভাব আনতে সক্ষম হয়েছিল। ধ্রুব ও ধ্রুবতারার এই যে গাঠনিক মেলবন্ধন তিনি দেখিয়েছেন তাতে কল্পনার প্রভাব থাকলেও তা খুব সহজেই  মনের কাছাকাছি এসে যায়। ঐতিহাসিক গল্প রচনার দিক থেকে এই বইটি অন্যতম। ছয় আনা মূল্যের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৩২২ সনে। এর প্রকাশক ছিলেন ‘পপুলার লাইব্রেরী, ঢাকা’ এবং এটি  ঢাকার আশুতোষ প্রেস হতে মুদ্রিত হয়েছিল। গোলকপুর, ময়মনসিংহের জমিদার উপেন্দ্রচন্দ্র চৌধুরী বাহাদুরকে তিনি এই বই উৎসর্গ করেছিলেন। মূলত বিক্রমাদিত্যকে কেন্দ্র করে এই কাহিনী আবর্তিত হলেও এখানে বারবার রাজ্যের কথা এবং অবশ্যই মহাকবি কালিদাসের কথা এসেছে। ভূমিকায় অবশ্য তিনি লিখেছেন যেহেতু মহারাজ বিক্রমাদিত্যের কোনো প্রামাণিক ইতিহাস নেই  তাই কিংবদন্তীর ওপর নির্ভর করেই এই বই তাকে লিখতে হয়েছে। সংস্কৃত শ্লোকের প্রাসঙ্গিক প্রয়োগে এবং কাহিনীর সহজবোধ্য ভাষায় এই বইটিও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বই। শিশুদের কাছে কিভাবে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি গল্পের ছলে সামঞ্জস্য রেখে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায় এই বই তার উপযুক্ত নিদর্শন।

তাঁর রচিত ‘প্রতাপাদিত্য’ নামক বইটিও বাঙালির যুদ্ধ ও বীরত্বের ইতিহাসের এক যোগ্য নমুনা বলা যায়। বাঙ্গালির শক্তি মোগলের আধিপত্যেও যে একেবারে হীন হয়ে যায়নি, তারা যে ক্রমাগত সাহস দেখিয়ে বাংলাকে রক্ষা করার প্রয়াস নিয়েছে তা স্পষ্টভাবে এই রচনাতে প্রতিভাত। বিভিন্নরকম বাধা-বিপত্তি থাকলেও সবসময় সাহিত্যের কাজ করার চেষ্টা করেছেন একাগ্রমনে, তাই হয়তো অন্যদিকের স্বচ্ছলতার প্রতি তোয়াক্কাও করেননি। তার সাহিত্যকর্মের কথা সেই সময়ে কারোরই অজানা ছিল না। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, শ্রীনলিনীরঞ্জন সরকার (অর্থ সচিব, পশ্চিমবঙ্গ), সুরেশচন্দ্র সমাজপতি (সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক), রায় বাহাদুর জলধর সেন, অমৃতলাল বসু, ডাঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার (ভাইস চ্যান্সেলার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ডাঃ সুরেন্দ্রনাথ সেন (ভাইস চ্যান্সেলর, দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়), ডাঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মহামহোপাধ্যায় আদিত্যরাম ভট্টাচার্য্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলার, হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস), রায় বাহাদুর সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র (জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ ও ‘ঢাকা রিভিউ ও সম্মেলন’-এর সম্পাদক), রায় বাহাদুর সুরেশচন্দ্র সিংহ (ম্যাজিস্ট্রেট, হাওড়া), পদ্মিণীভূষণ রুদ্র (অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম কলেজ), শশাঙ্কমোহন সেন, সঞ্জীবচন্দ্র চৌধুরী (অধ্যাপক, নেপাল রাজ কলেজ), মৌলভী মহম্মদ ইছরাইল (বি-এল ওয়াকফ কমিশনার), সুরেশচন্দ্র ঘটক, ডাঃ নলিনিকান্ত ভট্টশালী (কিউরেটর, ঢাকা মিউজিয়াম) এঁদের সকলের বন্ধুতা, সম্মতি ও প্রশংসা তার সাহিত্যজীবনের সহায়ক ছিল।

তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়ে অবগত হয়ে স্বয়ং রবিঠাকুর ১৩৩২ সালের ৩০শে ফাল্গুন তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা প্রকাশ করেন, তাঁর কিছুটা অংশ এইরকম—“শ্রীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য মহাশয় যে কাজে জীবন নিয়োগ করিয়াছেন তাহার কিছু কিছু পরিচয় পাইয়া আমি বিশেষ আনন্দলাভ করিয়াছি।” শোনা যায় মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন নিতান্ত সরল মানুষ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বিশেষ স্নেহ করতেন তাঁকে।  এই মেধাবী ও সরল মনের মানুষটির সঙ্গেও পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্যের একপ্রকার বন্ধুতা ছিল। তিনি শ্রী পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্যকে লিখেছিলেন—“নমস্কার দাদা, আপনার পাখী আর বাঙ্গালির গল্প প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবশ্যক। শিক্ষকেরাও ইহার প্রয়োজনীয়তা গ্রহণ করিবেন।” শ্রদ্ধেয়  উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী তাঁকে লিখছেন—“আপনার ‘গায়কপাখী’ সবগুলিই চেনাজানা অথচ কাহারো জীবনকথা আমাদের জানা নেই। আপনি জানাইলেন, বঙ্গ সাহিত্যের ইহা অভিনব সম্পদ হিসাবে গণ্য হইবে।” দুঃখের কথা এইসব বই এখন পাওয়াই যায় না, বাঙালি এইসকল বই এর কথা বর্তমানে জানেই না।

আপনার মতামত লিখুন :

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে

হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে
হুমায়ূন আহমেদ

 

তিনি বলেছিলেন, তার মৃত্যুতে কেউ যেন না কাঁদে। বিষাদ কণ্ঠে গেয়েছিলেন গান, ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায় রে জাদু ধন। মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’

কিন্তু সাত বছর আগে সুদূর আমেরিকায় তিনি যখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন পুরো বাংলাদেশ কেঁদেছিল তার জন্য। শুধু সেদিনই নয়, বাংলা সাহিত্যের ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিটি দিনই তাকে স্মরণ করেন। তার কথা ভাবেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। জীবনের প্রতিটি দিন তিনি ছিলেন সৃষ্টিশীল ও কর্মমুখর। জীবনকে উপভোগ করেছেন তিনি সৃজনের বিবিধ উপাচারে।

হাওর-বাওর-গানের দেশ বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের নানাবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একই জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর তার পিতৃভূমি।

পিতার চাকরির সুবাদে হুমায়ূনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বহু স্থানে। সিলেটের মীরাবাজার, চট্টগ্রাম শহর, পিরোজপুরের মনকাড়া প্রকৃতিতে। যেসব কথা তার লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নের স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি নেন আমেরিকার থেকে। শুরু করেন অধ্যাপনা।

কিন্তু তার ভাগ্য মিশে ছিল সাহিত্যে। সার্বক্ষণিক লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণকে তিনি বেছে নেন। ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ও ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে যে লেখক জীবনের সূচনা ঘটে, তা পরিণত হয় বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয়-জনপ্রিয় লেখক সত্তায়।

গল্প-উপন্যাসের জাদুকরী ক্ষমতায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেন তিনি। মানুষ লাইন ধরে কেনে তার বই। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয় হাজার হাজার কপি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব।

আর তিনি ছিলেন মেধা, প্রতিভা ও জনপ্রিয়তার এক বিরল ব্যক্তিত্ব। সমকাল তো বটেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি গড়েছিলেন পাঠকপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী রেকর্ড। যে রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙা আদৌ সম্ভব হবে না।

‘অচিনপুর’, ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’, ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’, ‘লীলাবতী’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘অচিনপুর’, ‘বাদশাহ নামদার’, ‘দেয়াল’, এমন তিন শতাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে অর্জন করেন নিজস্ব পরিচিতি ও ভূগোল। একা লড়াই করে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টির পাশাপাশি মৃতপ্রায় প্রকাশনাকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

টিভি নাটকেও জনপ্রিয়তার ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘অয়োময়’, ‘দূরে কোথাও’, এমন হৃদয়ছোঁয়া নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় টেনে আনেন হাজার হাজার দর্শক।

চলচ্চিত্র নির্মাণ করেও সোনা ফলিয়েছেন হুমায়ূন। সিনেমাহলমুখী করেছেন মানুষকে। তার নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘ঘেটু পুত্র কমলা’র মতো ছবি বাণিজ্য সফল ও পুরস্কৃত হয়েছে।

নাটক ও চলচ্চিত্রে তিনি লোকবাংলার বহু গান চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার কথা বলেছেন। মানব-মানবীর অন্তর্গত হৃদয়ের দাহ ও বিষাদকে তুলে ধরেছেন অনন্য সুষমায়। তাকে ঘিরে শিল্প, সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক জগত উন্মোচিত হয়েছিল।

প্রেম ও রহস্যময় বেদনার প্রতীক নগ্নপদে হলুদপাঞ্জাবির ‘হিমু’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। যুক্তিবাদী বিশ্লেষক মিসির আলীর মতো চরিত্রও তিনি সৃষ্টি করেছেন। হুমায়ূনের এই দুই চরিত্রের কথা বাংলা সাহিত্যের পাঠক সহজে ভুলবে না। ভুলবে না এমন আরো অনেক মানবিক চরিত্র ও কাহিনীর নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকেও।

মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদ, পুলিশ অফিসার বাবার জেষ্ঠ্য সন্তান হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির পুরোটা জুড়েই আছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূনের উপন্যাস ‘১৯৭১’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘উতল হাওয়া’ এবং চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়স্পর্শী কাহিনীচিত্র। যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লেখার পাশাপাশি আন্দোলনও করেছেন তিনি।

প্রেম ও বিরহ হুমায়ূনের লেখার মূল উপজীব্য হলেও তিনি তার লেখায় অপরূপ দক্ষতায় স্পর্শ করেছেন রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক ঘটনাবলি। লেখার মায়াবী টানে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের নিবিড় সান্নিধ্যে। নীল জোছনায় বেদনাহত একটি তরুণ কিংবা নীলপদ্ম হাতে একটি তরুণীর স্মৃতি-সত্তা পেরিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন মানুষের চেতনার গহীন প্রদেশে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকবেন লক্ষ পাঠকের হৃদয়ে।

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী

কাঙ্গাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ শনিবার (২০ জুলাই)। 

কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হলধর মজুমদার ও মায়ের নাম  কমলিনী দেবী।

হরিনাথ মজুমদার ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। তিনি অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন।

তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' প্রকাশ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণির অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন।পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602039922.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথের লেখা পত্রিকা 'মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' 

 

১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে, গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।

কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মূলত তিনি ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।

কালজয়ী এই সাংবাদিক জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (২০ জুলাই) কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602126966.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তন

 

কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর য়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মোঃ আবদুল মজিদ, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান খান, পৌর সভার মেয়র মোঃ সামছুজ্জামান অরুণ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে থাকবেন, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.আবুল আহসান চৌধুরী।

সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563602157692.jpg
কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনের সামনের চিত্র 

 

গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযত্ন অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।  

কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র