Alexa

অনুভব

অনুভব

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

এই কিছুদিন হলো এক মলিন বিকেলে এক বন্ধুর আসার অপেক্ষায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি চা-স্টলে খোটখাট একটা বেঞ্চের ঠিক মাঝখানে একাকী বসে আছি। আশেপাশের লোকজন একা বা কয়েকজন মিলে এদিক-সেদিক হেঁটে বেড়াচ্ছে নির্দিষ্ট কক্ষপথহীন ধূমকেতুগুলো যেমনভাবে মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ায়, উদ্যানের ভেতর দিয়ে মানব-শরীরের অভ্যন্তরে স্নায়ুর মতো বয়ে চলা পিচের রাস্তাগুলো ধরে হাঁটতে হাঁটতে কেউ কেউ হঠাৎ পরিচিত কারো দেখা পেয়ে দাঁড়ানো অবস্থাতেই গল্পে মশগুল, জায়গায় জায়গায় শূন্য ক্যানভাসে হাতের আঙুল দিয়ে ছিটে দেওয়া রঙের ফোঁটা সদৃশ্য চক্রাকারে বাঁধানো ইট-সিমেন্টের বেঞ্চগুলোতে কতক বসে আছে; দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন পাথরে খোঁদাই করা ভাস্কর্য, কাছে গিয়ে দাঁড়ালেই কেবল তাদের জীবিতাবস্থা ধরা পড়ে। মাঝে মাঝে বাতাসে ভেসে আসছে দু-একটা উচ্চারিত শব্দ, উচ্ছল হাসির টুকরা, জুটিদের হালকা মেজাজের খুনসুটি, গাছের ডালে বসে থাকা পাখিদের ডাকাডাকি, হঠাৎ এক ডাল থেকে অন্য ডালে উড়ে যাওয়ার সময় ডানার ঝটপটানি; পাখির, মানুষের, পতঙ্গের, কীটের দু-চারটা দীর্ঘশ্বাসও বোধ হয় পড়ে থাকবে, তবে সেগুলোর কোনোটাই আমার কান পর্যন্ত এসে পৌঁছায় না।

দীর্ঘশ্বাস অন্যের অস্বস্তির কারণ হতে চায় না বলেই কি পড়ার প্রায় সাথে সাথেই কৃষ্ণগহ্বর থেকে বের হয়ে আসা আলোর মতো উৎসের ভেতরেই নীরবে সেঁধিয়ে যায়, চতুর্দিকে সরবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে না? আমার-বসা-বেঞ্চটির ঠিক বিপরীত পাশের বেঞ্চটিতে একটা জুটি পরস্পরের সাথে মাথা ঠেকিয়ে রয়েছে যেন থোকায় ঝুলে থাক দুটি ডাব; দুজনেরই হাতে-ধরা-চায়ের কাপ দুটি একটা তাল বজায় রেখে কোলের কাছ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত উঠানামা করছে অবিরতভাবে। স্টলটির সামনে—বেশ দূর পর্যন্ত দেবদারু গাছের মতো সোজা তারপর আকস্মিকভাবে বেঁকে যাওয়া পিচের সরু রাস্তাটির উপরে—তরুণ ছেলে-মেয়ের একটা জমাট দল তিক্ত মুখভাব করে চায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। চায়ের অভাবে আড্ডাটা ঠিক জমে উঠবে না—এই ভয়েই বোধ হয় তারা চুপ মেরে আছে। এমনকি সবারই চোখ নিচের দিকে, পরস্পর মুখের দিকে তাকাবে—এই সাহসটুকু কেউ করে উঠতে পারছে না। এই বিশ্বচরাচরে বোধ হয় কেবলমাত্র যৌন-প্রেমই কথাহীনভাবে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার স্পর্ধা যোগায়! যাহোক, চায়ের কাপ হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তাদের মুখ থেকে বের হওয়া অজস্র বাক্যস্রোত অন্যদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে—এমন সম্ভাবনাই পরস্পরকে একসাথে ধরে রেখেছে, অন্যথায় বেশ আগেই হয়তো তারা নিজেদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। মুমূর্ষু বিকেলে লালচে আভা ফুটে ওঠা আকাশের কিনার ধরে দূর থেকে এগিয়ে আসা ঝাঁকবাঁধা পাখির মতো সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে শুরু করেছে। নদী, খাল, বিল, হাওড়, ঝিল বা পুকুরের পানিতে ছড়িয়ে দেওয়া মাছ-ধরার-জাল যেমন জেলে লোকটির ধীর টানে ক্রমান্বয়ে গুটিয়ে আসে ঠিক তেমনিভাবে অন্ধকার গুছিয়ে আসছিল। আঁধারের জমে ওঠার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা আমার অনস্তিত্ব-বোধটি শিরা-উপশিরা দিয়ে প্রবাহিত রক্তে নিকোটিনের অভাব বাড়িয়ে তুলতে তুলতে একপর্যায়ে আমাকে বেঞ্চে-বসা-অবস্থা থেকে মাটিতে দুপায়ের উপর দাঁড় করিয়ে দিল। স্টলের টেবিলটির সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে সিরামিকের কাপের ভেতরে স্টিলের চামচের খটখট শব্দ তুলে চা বানাতে থাকা ছেলেটির দিকে এগিয়ে যাই। চা-পিয়াসী দলটির প্রত্যেকের জন্য চা বানানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো। তারপর সিগারেট ধরিয়ে কয়েকটা টান দিতে দিতেও আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার বিড়ম্বনা। ছেলেটার কাছ থেকে বাকি টাকা ফেরত না নিয়ে তো চলে আসতে পারি না! এরই মধ্যে অসংখ্য মহাবিশ্বের মাঝে আমাদের এই মহাবিশ্বটি বা বিস্তৃত মহাবিশ্বের অন্তর্গত আমাদের এই অঞ্চলটি খানিকটা প্রসারিত হলো।

খানিকটা গোল হয়ে আসা ঠোঁটের মাঝ দিয়ে বের হতে থাকা ধোঁয়ার আধিপত্যে সামনের শূন্য জায়গার (ধোঁয়া ঘনীভূত অবস্থায় যতটুকু পথ অতিক্রম করে; ক্রমান্বয়ে বাতাসের সাথে মিশে যাওয়ার সীমানা পর্যন্ত) অধিকার নিতে নিতে বেঞ্চটির বেশ খানিকটা নিকটে চলে আসতেই দেখি যে, বেঞ্চটির যে অংশটাতে আমি বসেছিলাম ঠিক সেইখানে একটি সুবেশী তরুণী বেশ আয়েশ করে বসে আছে। খানিকটা প্রসারিত দুই হাটুর ওপর কনুইয়ের ভর রাখা, মোনাজাতের ভঙ্গিতে থাকা দুই হাতের তালুর ওপর রাখা একটা স্মার্ট ফোন; যন্ত্রটির স্ক্রিনটিকে যদি মনে করি গ্রাম্য উঠান তাহলে তার বুড়ো আঙুল দুটো যেন সেখানে হুড়োহুড়ি রত দুষ্ট ছেলে-মেয়ের দল। তার দিকে একটা শরীর এগিয়ে আসছে—এটা বুঝতে পারা মাত্রই, সে হালকা নড়ে উঠল। মনুষ্যপ্রজাতির কেউ নিকটে চলে এসেছে টের পেয়ে আপন মনে মাছের কাঁটা-খেতে-থাকা বিড়াল যেমনভাবে আনত মুখ তুলে উপরের দিকে তাকায়, অনেকটা সেরকমভাবে তরুণীটি স্ক্রিনে নিমগ্ন তার চোখ দুটি আমার মুখপানে উঁচিয়ে ধরল। টর্চ লাইটের আলো ফেলার মতো করে আমি তার মুখের দিকে তাকালাম, একটা সাদাসিধে করুণ ছাপ ফেসিয়াল মাস্কের মতো সেটে আছে। আমি নিজেও তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঠিক এরকমই একটা ভাব আমার মুখাবয়বের ওপর এঁটে থাকতে দেখি। আমার মনে হতে থাকে, মেয়েটি যেন আমার অস্তিত্বের একটা অংশ হয়ে কিছুক্ষণ পূর্ব পর্যন্তও আমার দখলে থাকা জায়গাটির ওপর অবস্থান নিয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সময় ধরে কোনো একটা জায়গা নিজের দখলে রাখে তাহলে সেই জায়গাটির ওপর তার একটা স্বতস্ফূর্ত অধিকার চলে আসে, অন্যরাও তার সেই দাবিকে খুব সহজেই স্বীকার করে নেয়। এটার একটা আইনগত ভিত্তিও আছে, আইনের পরিভাষায় ব্যাপারটিকে দখলিস্বত্ব বা ভোগসত্ত্ব (Occupancy right) বলে অভিহিত করা হয়। ওই জায়গাটির প্রতি আমার দখলিস্বত্বের দৃষ্টিতে সে যাতে কোনোরকম বিব্রত বোধ না করে—এই ভাবনায় অন্যদিকে ঘুরে গেলাম ঠিক যেমনভাবে গতি অব্যাহত রেখেই দিক পরিবর্তন করে বাঁধা পাওয়া স্রোত। এমনকি বেঞ্চের কিনারে তার পাশে বসার আকাঙ্ক্ষাটাকেও—যা আমার মন-প্রাণ জুড়ে বসেছে অল্প সময়ের মধ্যেই—শুষ্ক মৌসুমে বিলের স্বল্প পানিতে পলো বাওয়ার মতো করে চেপে ধরলাম; কোনো অপ্রত্যাশিতের কাছ ঘেঁষে আসার অস্বস্তিতে মেয়েটি যেন বেঞ্চ থেকে উঠে পড়ে অন্য কোথাও চলে না যায়—এই আশায়। আমার চারপাশের কোথাও মুখের মধ্যে অরঞ্জিত করুণ ছাপ-আঁকা এই মেয়েটির অস্তিত্ব অনুভব করতে পারাটাই আমার একমাত্র কাম্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেই মুহূর্তে। যার ফলে, তাড়া আছে এমন একটা ভাব মুখের মধ্যে ফুটিয়ে তুলে—যেন আমি পাশের রাস্তা দিয়ে চলার সময় হঠাৎ থেমে সিগারেট ধরিয়ে আবার আমার গন্তব্যের দিকে রওনা দিচ্ছি—বেঞ্চের সামনে দিয়ে কিছু দূর  হেঁটে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি।

এই ঘটনার ফলে, পুরো মস্তিষ্ক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোনো একটা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির সূত্রগুলো ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে বেশ পূর্বের একটা ঘটনার আকারে জ্বলে ওঠে, যা হয়তো আমার জীবনে কোনোদিন সংগঠিত হয় নি, অথবা এই ঘটনাটির তথ্যগুলোর মস্তিষ্কের বহিরাবরণে (Cortex) ছড়িয়ে পড়া এবং একীভবনের পর দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি হিসেবে নিউরনের বেশে সম্পূর্ণ মস্তিষ্কজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়ার সময় বোধ করি প্রাকৃতিক কোনো ভুলের কারণে পাল্টে গিয়ে আমার অতীত জীবনে শুকনো নদী আকৃতির অনেকগুলো ক্ষতের যেকোনো একটাতে আশ্রয় নিয়েছে। তখন আমি বেশ ছোট, গ্রামের বাড়িতে থাকি, নাগরিক জীবনে প্রবেশ করা হয়নি।  

ওইদিন ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গিয়েছিল। আমি বিছানা ছেড়ে টুথব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে কলপাড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হচ্ছি। চৌকাঠ পেরোব, ঠিক সেই মুহূর্তে দেখি, একটা চড়াই আমাদের পোষা কবুতরদের অবশিষ্ট রেখে যাওয়া ধানের খোসা ছাড়িয়ে একটা একটা করে মুখে পুরে নিচ্ছে। আমি উঠানে নেমে কয়েকটি পদক্ষেপ দিতেই—তাকে আমি তাড়িয়ে দেব, এই ভয়েই হয়তো—চড়াইটি বেশ কয়েক লাফ দূরে সরে গেল। আমার ডান হাতে ধরা ব্রাশটিকে পাখিটি বোধ হয়ে ভেবেছে তার শরীরের মাপ অনুযায়ী তৈরি করা ছোট্ট একটা লাঠি যা এক্ষুণি তার দিকে তেড়ে আসবে। তবে তার পেটে হয়তো খিদে ছিল বা ডিম থেকে সদ্য ফুটে ওঠা ছানাগুলোর জন্য তার খাবারের থলিতে আরো কিছু খোসা- ছাড়ানো-ধান (চাউল) পুরে নিতে চাইছিল, তাই সে বারবার ভীরু ভীরুভাবে লোভার্ত দৃষ্টিতে একবার ধানগুলোর দিকে আবার সদয়তার খোঁজে আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছিল ঘোমটা টানা গ্রাম্য-গৃহবধূদের পায়ের তালে ওঠা-নামা করতে থাকা ঢেঁকিটির মতো। সাথে সাথে, এই ছোট্ট জীবটির খুঁটে খুঁটে খাওয়ার দৃশ্য আমার কাছে পরম উপভোগ্য হয়ে উঠল। “দ্যা স্ট্যারি নাইট” শিরোনামের শিল্পকর্মটি আঁকার সময় যদি বুভুক্ষু শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যানগগকে নিজ চোখে দেখতে পেতাম তাহলে যেমন আনন্দ হতো, ঠিক সেইরকম কিছু একটা বোধ হয় আমার ভেতর ঘটে গিয়ে থাকবে। দৃশ্যটাকে কোনোমতেই মরতে দেওয়া যাবে না, এটাকে আবার নিজ থেকেই বেঁচে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাই প্রথমে সামনের দিকে বাগিয়ে ধরা টুথ-ব্রাশটিকে চটজলদি পেছনে নিয়ে আসি, তারপর সামনের দিকে চোখ রেখেই কয়েক ধাপ পেছনে হেঁটে চৌকাঠের পাশে এসে দাঁড়াই। আমার পেছন দিকে চলে আসায় অভয় পেয়ে খুদে প্রাণীটি ছোট ছোট লাফে ফিরে আসতে শুরু করে, আর ওদিকে আমি পাখিটির ফিরে আসার সাথে তাল মিলিয়ে কয়েক কদম পিছিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ি। প্রথম চড়াইটার দেখাদেখি আরো কয়েকটা মাটিতে নেমে আসে, তারপর হেঁটে হেঁটে, লাফিয়ে লাফিয়ে, একটু একটু উড়ে উড়ে ছড়ানো ধানের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করে। পাখিগুলোর ছড়ানো ধানের কাছে আসার এবং অন্য চড়াইদের উঠানের অন্যপ্রান্তের ছায়াময় স্থান থেকে, ঘরের টুঁইয়ে বাঁধা তাদের বাসা থেকে, আমগাছের শাখা থেকে এসে যোগ দেওয়ার সমানুপাতিক হারে ঘরের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছিলাম, যাতে আমার শারীরিক অস্তিত্ব ওদেরকে ভয় পাইয়ে না দেয়, স্বাচ্ছন্দে ধান খেতে পারে। পেছনে হাঁটতে হাঁটতে একসময় আমি বুঝতে পারলাম, ঢেউখেলানো টিনের বেড়ার সাথে আমার পিঠ লেগে গেছে। বলা হয়, জনগণের পিঠ নাকি দেয়ালে গিয়ে ঠেকলে সে আর কোনো উপায়ান্তর না দেখে জীবনাবসনের শঙ্কা জেনেও ক্ষ্যাপার মতো সামনের দিকে অগ্রসর হয়, তবে আমার ক্ষেত্রে উল্টোটা হলো। আমার পেছনদিকটা টিনের বেড়ার সাথে এমনভাবে আটকে রইল যেন ওটা আমার শরীর একটা অংশ হয়ে উঠেছে, আর আমার সামনে তো কোনো বিপদ ছিল না, ছিল শুধু সুন্দরের পুনরাবৃত্তি।

যাহোক, ঘরের এই জায়গাটুকুতে সূর্য সরাসরি তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, দরজা খোলা পেয়ে ঘরের ভেতর একফালি জমির আকারে ঢুকে পড়ে ধান ক্ষেতের আলের ভেতর দিয়ে সেচের পানির মতো চুইয়ে গিয়ে ভেতরের দিকের অন্ধকারকে খানিকটা নরম করে তুলেছে মাত্র। নিঃসঙ্গে ও অস্পষ্ট আঁধারে দাঁড়িয়ে আমার সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে আলোতে অনেকগুলো চড়াইয়ের সরু সরু পা-দুটি দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলার ও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি, অন্ধকার বেষ্টিত স্থানে বসে দর্শকরা যেমন নিজেদের ভেতরে একা হয়ে গভীর তন্ময়তায় দৃশ্য-শিল্পের স্বাদ গ্রহণ করে। আঁধারের গহ্বরে একলা না হলে বুঝি শৈল্পিকতা আস্বাদন করা যায় না!   

ঘটনাটি হয়তো বাস্তবের, না হয় কল্পিত। তবে আমার শুধু মনে হয়, ওইদিন চড়াইগুলো বোধ হয় বাহিরের খরখরে রৌদ্রে নয়, বরঞ্চ আমার ভেতরের কোনো এক আলো ঝলমলে স্থানে স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করেছিল; আর অন্ধকার আমাকে ঘিরে রেখেছিল স্বল্পব্যাসার্ধ বৃত্তের মসৃণতায়।

আপনার মতামত লিখুন :