Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রান্না বনাম মেয়ে

রান্না বনাম মেয়ে
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

রান্নার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বোধহয় মেয়েদের সম্পর্ক। হ্যাঁ, এখনো আমরা বেরোতে পারলাম না এই ধারণার বেড়াজাল থেকে। একইসময়ে একদিকে জানছি ব্যাডমিন্টনে ক্যারোলিনা মারিনের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতার কথা অন্যদিকে জানছি রান্না নিয়ে মানসিক নির্যাতনে একটি মেয়ের আত্মহত্যার কথা। মুম্বই হাইকোর্টের একটি মামলায় জানা যায় একটি মেয়ে রান্না নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন। আসলে আমরা উন্নয়নশীল শক্তিশালী মেয়েদের “মেয়ে” ভাবি না, ভাবি মেয়েজাতির ব্যতিক্রম। ফলে সেইসব মেয়েরা আমাদের কাছে সুপারহিরোইন। সাধারণ ঘরে সাধারণ মেয়েরাই যে এই সুপারহিরোইন তা আমাদের ভাবনায় কুলোয় না।

গণতান্ত্রিক এই দেশের আদমশুমারিতে শুধু তো পুরুষ ও বাচ্চার গণনা হয় না! স্বাভাবিকভাবে নারীও থাকে সেই গণনায়। ফলে একটা দেশের ছেলে, মেয়ে সকলের শিক্ষা ও জীবিকা থাকলে গোটা আর্থসামাজিক কাঠামোটাই বদলে যায় সেটাও ভাবতে পারি না! মেয়ে সন্তান জন্মালো অতএব তাকে সাবধানে রাখো, সে কোথায় গেল,  অনেক পড়ে চাকরি করেই বা তার কী হবে, তাকেও তো রান্না করতেই হবে ইত্যাদি ভাবনা শিক্ষিত ঘরের আনাচে-কানাচেই জমে আছে। শুধু যে ভাবনার গাঁথুনিতে ভাবনা ঢুকে বসেছে তা নয়!  বাবা-মা, পরিবেশ, এমনকি মেয়েরা নিজেরাও খারাপ শুনতে শুনতে নিজেকে বড় করার যাবতীয় সাহসটুকু বিসর্জন দেয়। শুধু কী এক অলীক নিরাপত্তাবোধের জন্য স্থানান্তরিত হয়ে বাধ্যতামূলক গৃহকর্মে নিপুণা হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।

ভাবতে ভালো লাগছিল ইন্দ্রা নুয়ির কথা। এরকম মেধাবী এক মহিলা যিনি পেপসির সিইও পদে দীর্ঘদিন থেকে কর্পোরেট জগতে নারী-পুরুষের প্রাধান্যের হিসেবকেই বদলে দিয়েছেন। সেই ভাবনার ছন্দে এসে ঘোর কাটল যখন জানলাম তাঁর মাও তাকে বলেছেন চাকরির কথা গ্যারেজেই ফেলে এসে মনে রাখতে তিনি এক স্ত্রী, মা, পুত্রবধূ। তবুও নুয়ি এগিয়ে এসেছেন।  মেয়েরা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, বিখ্যাত হয়েছে, স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এরকম উদাহরণ অবশ্যই আছে। কিন্তু তাতে কী? আমদের স্মৃতিতে পুরনো উদাহরণ দূরে থাক, সমসাময়িক  উদাহরণগুলোই ক্রমাগত এড়িয়ে চলেছি। সাধারণ ঘরের ডাল-ভাত খাওয়া মেয়েগুলোকে যতদিন  সুপারহিরোইন হওয়ার কথা ভাবাতে পারব না ততদিন আমাদের ভয়েই থাকতে হবে।

বধূহত্যার ভয়, ধর্ষণের ভয়, বদনামের ভয়, বিয়ে ভাঙার ভয় এইসমস্ত ভয় ছাড়িয়ে যে পি ভি সিন্ধু, ইন্দ্রা নুয়ি, ইন্দিরা ব্যানার্জির মতো সাহসীরা আছেন তা যতদিন না মনে ঢুকবে ততদিন মেয়েদের রান্নার হলুদে, নুনে সেদ্ধই হতে হবে। যত বেশি নারীজীবনের আতঙ্কের কথা ভাবা হবে ততই দেখতে পাওয়া যাবে না নারীজীবনের সাফল্য। যে পরিমাণে ধর্ষণের আতঙ্ক, রান্নাবান্নার সতর্কতা মেয়েদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তার অর্ধেকও যদি শিক্ষা ও সাফল্যের কথা তাদের বোঝানো যেত, পরিস্থিতি আলাদা হতো। ১৯৪৯ সালে “THE SECOND SEX” নামক বিখ্যাত  বইটির লেখিকা সিমোন দ্য বোভেয়ার ছোটবেলা থেকে তাঁর মাকে (ফ্রাঁসোয়া ব্রাসেয়ো) দেখে মেয়েদের জীবনকে ভয় পেয়েছিলেন। মায়ের প্রতিদিনের ক্লান্তিকর অর্থহীন ঘরের কাজ দেখে তিনি ছোটবয়সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কখনো মা কিম্বা গৃহিণী হবেন না। এখন প্রশ্ন জাগে এটাই, ঘরের কাজ, রান্নাবান্নার সঙ্গে উন্নত শিক্ষিত জীবনের বিরোধ কোথায়? বিরোধ কেবল লিঙ্গভিত্তিক বাধ্যতামূলক চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে যখন  এটা চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আরো মনে আসে মেরি ওলস্টোনক্র্যাফটের ১৭৯২ সালে প্রকাশিত “VINDICATION OF THE RIGHTS OF WOMAN” নামক যুগান্তকারী বইয়ের কথা। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মানো একটি মেয়ে  প্রচলিত ভাবনার উল্টদিকে গিয়ে মেয়েদের জন্য এই বই লিখেছিলেন। এই লেখার জন্য তাঁকে হায়েনা বলেও সম্বোধন করা হয়েছিল তবু তিনি ক্রমাগত লড়ে গেছেন।

সেই ১৭৯২ সাল থেকেই যদি ধরি, আজ ২০১৮ সাল অবধি আমাদের ভাবনার ভিত্তি এত দুর্বল হয়ে থাকা কি আমাদের নিজেদের বোধের অপমান নয়? ১৯৮৯ সালে ফতিমা বিবি সুপ্রিম কোর্টের প্রথম মহিলা বিচারপতি হন। ১৯৫০ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে  ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে ৮ জন মাত্র মহিলা বিচারপতি হয়ে এসেছেন। সংখ্যাটা খুব সৌভাগ্যজনক তা বলছি না কিন্তু মেয়েদের বাবা-মা, বন্ধু সকলেই যদি ভাবেন “কটা মেয়ে আর ওরকম হয়”, সেখানেই মেয়েজন্ম কেবলই রান্নাবান্নাকে স্বীকৃতি দিয়ে দেয়।

ভাগ্যিস এরকম ভাবনাকে প্রশ্রয় দেননি ইন্দিরা ব্যানার্জির মতো মেয়েরা, তাই আজ ২০১৮-তেও তিনি সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি। জীবনের আর  সমস্ত কাজের মতো রান্নাও একটা কাজ, এর মধ্যে লিঙ্গ ভাবনাকে জড়িয়ে আমরাই নিজেদের প্রহসন বানাই এবং ভয়ঙ্কর গোলমালের পথ চওড়া করি। বড় বড় শেফ তারা তো পুরুষ, সেক্ষত্রে “মেয়েসম্পর্কিত রান্নার” বাগধারা কিভাবে বজায় রাখি ভাবতে আশ্চর্য লাগে! কাজের ক্ষেত্রে রান্নাও যেমন কোনো লিঙ্গভিত্তিক কাজ নয়, জীবনের ক্ষেত্রে মেয়েরাও আসলে মানুষ ছাড়া কিছু নয়!

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র