Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মনের মতিগতি

মনের মতিগতি
অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ
তানিয়া চক্রবর্তী


  • Font increase
  • Font Decrease

মন এক অদ্ভুত দেশের রাজ্য, যাকে বোঝা বা নিয়ন্ত্রণ করা খুব মুশকিল। তাই এর খেই না বুঝে আমরা আলেয়া নিয়ে চলি। বিজ্ঞানের কথা কতখানি আমরা সুস্পষ্ট বুঝতে পারি। তাই তো আমাদের কাছে উজ্জ্বল নয় যাদের মস্তিষ্ক, বোধ নিয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত তাদের মনের গঠন কি খুব বৈজ্ঞানিকভাবে আমাদের কাছে সহজভাবে প্রকাশিত? আসলে মন বিষয়টা এরকম যেন এক গ্যালাক্সির মধ্যে কী এক খেলা। পৃথিবীর অসাধারণ সব চিত্রশিল্পী যাদের আঁকা শুধু আঁকা নয় ইতিহাসের মর্মবস্তু। আমাদের মন কখনো আমাদের আয়ত্তে কখনো আয়ত্তে থেকেও আয়ত্তে নয় অর্থাৎ যখন দ্বৈত রূপে কাজ করে। MICHELANGELO- যার নাম শোনেনি এমন মানুষ বোধহয় কম; সিস্টিন চ্যাপেলের সেই ঐতিহাসিক কর্ম যা বিশ্ববন্দিত। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পল উলফের বিচারে তাঁর অজস্র কর্মের ভেতরে সুস্পষ্ট মস্তিষ্কজনিত বাইপোলার রোগের সংকেত পাওয়া গেছে।

পল গৌগিন- যাঁর বিশেষ বন্ধু ছিলেন ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ, মূলত সেরামিকস, স্কাল্পচারের কাজ করতেন। একটা লুকোনো হতাশায় তিনি ভরপুর থাকতেন। আত্মহত্যার চেষ্টাও তিনি করেছিলেন। ভিনসেন্ট ভ্যান গঘকে নিয়ে বহু কাহিনী আছে, তাঁর নিজের কানের কাহিনী সকলেই জানেন; তিনি ৩৭ বছর বয়সে নিজের বুকে নিজে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। জীবনের একটা বৃহত্তর সময় প্রবল এপিলেপটিক রোগগ্রস্ত ছিলেন, হতাশায় ভুগতেন। শিল্পী ফ্যান্সিসকো গোয়া যিনি প্যারানয়েড ডিমেনশিয়ার শিকার হয়েছিলেন। নিয়মিত জৈবিক, মানসিক পতনের মধ্যে দিয়ে তিনি বয়ে যাচ্ছিলেন। অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টকে সেইসময় অন্যমাত্রা দিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের মার্ক রথকো। হতাশার জর্জরিত জীবনে মৃত্যু তাকে আক্রান্ত করে তুলেছিল, নিজের ডান হাতের শিরা কেটে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন মানসিকতার সঙ্গে যুঝতে না পেরে।

রিচার্ড ড্যাড, ১৮১৭ থেকে ১৮৮৬- এই যাপনের সময়টুকুতে প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। অতিপ্রাকৃত ছবি তাঁর সৃষ্টির অন্যতম কাজ। তিনি মনে করতেন তিনি মানসিকভাবে ইজিপ্টের দেবতা অসিরিসের অধিকৃত এবং তাঁর পিতা ছিলেন একজন দানব (শয়তান)। তিনি খুন করতেও উদ্যত হয়েছিলেন একটা সময়ে। মানসিক হাসপাতালে থাকাকালীন অবশ্য তিনি তাঁর সৃষ্টির অনবদ্য রহস্যময় পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন। জীবনের যাপন ও বোধ, শিক্ষা, অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব পরিস্রুতকরণে দার্শনিকদের আগমন বলে আমরা ভাবি। তাঁদের চিন্তায় মনন ও মস্তিষ্কের এক সাযুজ্যপূর্ণ মিল আছে। মন জিনিসটা যে এক প্রহেলিকা তা বলতেই হয় যখন জানতে পারি এইসমস্ত দার্শনিকরা কী ভীষণভাবে নিজস্ব জীবনে জর্জরিত! দার্শনিক ডেভিড হিউম যিনি স্কটিশ এনলাইটমেন্টের এক সক্রিয় সদস্য, যিনি ‘সায়েন্স অব ম্যান’ সূত্রের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের অনুরণনকে বুঝতে চেয়েছিলেন, যিনি নিজেই ‘A SCENE OF THOUGHT’-এর প্রণেতা, তিনি নিজের অজান্তেই কখন নার্ভাস ব্রেকডাউনের আওতায় পড়তে শুরু করলেন বুঝলেন না।

মডার্ন ইকোনমিকসের লেখক যাঁর ‘weath of nations’ যুগান্তকারী বই, সেই দার্শনিক অ্যাডাম স্মিথও নার্ভাস ব্রেকডাউনের এমন আওতায় পড়লেন যে জীবনের বাকি অংশে নিজের সঙ্গে একা কথা বলা মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে থাকলেন। শোনা যায় নাইটগাউন পরে একা একা রাতেরবেলা তিনি ১৫ মাইলও হেঁটে ফেলতেন কী এক অজানা ঘোরে। সেরা প্রাচীন দার্শনিকদের মধ্যে যাঁর নাম আসে, সেই সক্রেটিসের মানসিক অবস্থাজনিত ত্রুটি ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন। আর অপূর্ব গল্প, উপন্যাস, কবিতা লেখা লেখকরা তো তুলনামূলক আরো বেশি সংখ্যায় মানসিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়ে বেঁচে থেকেছেন, যাঁদের নাম বলে শেষ করা যায় না। লিও টলস্টয়, জনাথন সুইফট, ফিলিপ কে ডিক, এইচ পি লাভক্র্যাফট, হেমিংওয়ে, সিলভিয়া প্লাথ, ভার্জিনিয়া উলফ, এডগার এল্যান পো- এরা সকলেই জীবনের মধ্যে দ্বন্দ্বগ্রস্ত অবস্থায় বেঁচেছিলেন। কখনো হতাশায়, কখনো ভুলে জর্জরিত হয়ে, একাকীত্বে, অসহায়তায় জর্জরিত হয়ে বেঁচে থেকেছেন আবার সেই মানুষগুলোই অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম সব মাস্টারপিস রচনা করেছেন। একদিকে অতি সক্রিয়তা, একদিকে অসহায়তা এই দুয়ের মিলনে কী যে আলো জ্বলে উঠত আমরা তার কী বা বুঝি!

ভার্জিনিয়া উলফের শৈশবে তার নিজের পরিবারে যৌনতার অবৈধ, অস্বীকৃত অনুভূতি পাওয়া কোথাও তার মনের সহজ বৃদ্ধিকে নষ্ট করে দিয়েছিল। ওভারকোটের পকেট ভর্তি নুড়ি সমেত সাহিত্যের এক বিস্ময় নদীতে হারিয়ে গেল চিরকালের মতো স্বেচ্ছায়; কী যন্ত্রণা, কী অনুভূতি তার স্বাভাবিক যুদ্ধের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল তা তার মনই জানে। আমেরিকান সাহিত্যের তারা হেমিংওয়ে, মদ্যপানের ক্রমাগত নির্ভরতায় মস্তিষ্ককে হারিয়ে ফেলছিলেন, নার্সিসিস্টিক মনোভাবের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে বাইপোলারে রোগে আক্রান্ত হলেন, ইলেক্ট্রোকনভালসিভ (শক থেরাপি) থেরাপির একটা নির্দিষ্ট পর্বে যখন হয়তো তিনি সুস্থতার দিকে যাচ্ছিলেন বলে ভাবা হচ্ছিল তখনই এক ভোরে নিজের রিভলবার দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করলেন। সিলভিয়া প্লাথের কবিতা পড়লে মুহূর্তরা আচ্ছন্নতায় ভরে যায়। সেই সিলভিয়া প্লাথের গ্যাসআভেনে মাথা রেখে মর্মান্তিক মৃত্যু বিশ্ববাসীর জানা কিন্তু কোথায় আমরা এর কারণ বুঝলাম! বুঝলাম না কারণ মন বস্তুটি নিজেই অবুঝ তাই আমাদের বোঝারও অতীত সে। তবে মস্তিষ্কের সমতা যা আমাদের বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন করে তাকে একটুখানি নিয়ন্ত্রণ করলে বোধহয় মানসিক স্বাস্থ্যের হালচালকে ধরার চেষ্টা করা যেতে পারে...

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র