Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

অপ্রচলিত ‘গোল্ডেন-মিল্ক’ এর অজানা যত গুণ!

অপ্রচলিত ‘গোল্ডেন-মিল্ক’ এর অজানা যত গুণ!
গোল্ডেন মিল্ক।
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রামাঞ্চলের দিকে গরম দুধের সাথে কাঁচা হলুদ কিংবা হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে পান করার প্রচলন থাকলেও, শহরের দিকে এই পানীয় পানের প্রচলন তেমন একটা নেই বললেই চলে। হলুদ-দুধ পান করলে গায়ের রঙ উজ্জ্বল হয়- লোকমুখে চালু এই ধারণাটি আদতে সত্য কিনা সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এই পানীয়ের অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে একদম নিশ্চিতভাবেই সবাইকে জানানো যেতে পারে।

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রে হাজার বছর ধরে বিভিন্ন রোগের প্রতিকার স্বরূপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে হলুদ। হলুদে থাকে নায়াসিন, ভিটামিন-সি, ই, কে, পটাশিয়াম, কপার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক। যা এই প্রাকৃতিক উপাদানকে এক অনন্য উপকারী উপদান করে তুলেছে।

আরো পড়ুন: স্বাস্থ্যকর গুণে ভরপুর গাঁদা ফুল

গুণে ভরপুর এই হলুদের সাথে দুধ মিশিয়ে তৈরি করা হয় হলুদ-দুধ, যাকে বলা হয়ে থাকে গোল্ডেন মিল্ক। আজকের ফিচারে চোখ বুলিয়ে জেনে নিন দারুন এই পানীয়ের অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।  

ঠাণ্ডার সমস্যা কমায়

নাক থেকে ক্রমাগত পানি পড়া কিংবা নাক বন্ধ হয়ে থাকা, খুশখুশে কাশির সমস্যা ও গলাব্যথা দেখা দিলে এক গ্লাস উষ্ণ হলুদ-দুধ পান করে নিতে হবে। শীত হোক বা গ্রীষ্মকাল, সকল ঋতুতেই কমন ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগতে হয়। সেক্ষেত্রে যেকোন ওষুধের চাইতেও ভালো উপকারী পানীয় হিসেবে কাজ করবে হলুদ মিশ্রিত দুধ। হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান সমূহ ঠাণ্ডার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

শরীরের ব্যথা কমিয়ে প্রশান্তি আনে

হাড়ের জোড়ার ব্যথার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে হলুদ-দুধ। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য এই পানীয় খুব উপকারী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/10/1533902362498.jpg

লিভার রাখে সুস্থ

আপনি যদি লিভারের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে এখন থেকেই নিয়মিত হলুদ-দুধ পান করা শুরু করা প্রয়োজন। এই পানীয় রক্তের বিষাক্ত পদার্থকে দূর করে। ফলে লিভার সুস্থভাবে কাজ করতে পারে।

ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করে

বর্তমান সময়ের অন্যতম আশঙ্কাজনক রোগ হলো ক্যান্সার। শরীরে যদি একবার ক্যান্সার দানা বাঁধে, তাকে দমিয়ে রাখা বেশ কষ্টকর হয়ে যায়। ক্যান্সার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শরীরে, ফলে সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। হলুদ আশ্চর্যজনকভাবে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে। ফলে ক্যান্সার বৃদ্ধি পেতে পারে না। ব্রেস্ট, ফুসফুস, কোলন ও প্রস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে হলুদ বেশি কার্যকরি।

আরো পড়ুন: কেন খাবেন আদা?

পিরিয়ডের কষ্টকর ব্যথা কমায়

অনেক নারীর জন্যেই পিরিয়ড একটি আতংকের নাম। পিরিয়ডের প্রথম কয়দিন যদি তলপেটে প্রচন্ড ব্যথাভাব অনুভূত হয় তবে পান করতে হবে হলুদ-দুধ।

দূর করবে অনিদ্রা

হলুধ-দুধে রয়েছে ট্রিপটোফেন। যা ঘুম তৈরিকারি এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড। দ্রুত ঘুম আসার জন্য শরীরে প্রয়োজন হয় অ্যামিনো অ্যাসিডের। তাই বুঝতেই পারছেন, অনিদ্রাজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে সমাধানটাও খুব সহজ।

আপনার মতামত লিখুন :

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র