Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোরবানি পরবর্তী পরিচ্ছন্নতায় সাত নিয়ম

কোরবানি পরবর্তী পরিচ্ছন্নতায় সাত নিয়ম
কোরবানির পর ঘর ও ঘর সংলগ্ন স্থান স্যাভলন মিশ্রিত পানিতে মুছে নিতে হবে
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

হাতে গুণে মাত্র দু’দিন পরেই কোরবানির ঈদ।

প্রতি বছরের মতো এ বছরেও ঈদ নিয়ে চলছে আয়োজনের তোড়জোড়। তবে এবারে আনন্দ আয়োজনের তোড়জোড়ের সাথে যুক্ত হয়েছে সচেতনতাও।

চলতি সময়ে পুরো দেশ জুড়েই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বিরাজ করছে। কোরবানি পরবর্তী সময়ে এর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আতঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণও। কোরবানির পরবর্তী সময়ে নিজ বাড়িসহ বাড়ির চারপাশ বেশ নোংরা হয়ে থাকে। এছাড়া স্থানে স্থানে পানি জমে থাকে। যা ডেঙ্গু মশার লার্ভার জন্ম ও বিস্তারের জন্যে দারুণ উপযোগী।

সেক্ষেত্রে কোরবানি পরবর্তী সময়ে কিছু নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্নতার কাজ করলে, একইসাথে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এড়ানো সম্ভব হবে। হাতে ঈদের একদিন বাকি থাকতেই জেনে নিন কোরবানি পরবর্তী সময়ের জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়।

১. কোরবানি শেষে চেষ্টা করুন যথাসম্ভব চারপাশের অংশ নিজ থেকে পরিষ্কার করে ফেলতে। চামড়া, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, ময়লা ও পানি যতখানি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে ততই ভালো। বিশেষত রক্ত ও পানি যেন কোথাও জমাটবদ্ধ হয়ে থাকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. রক্ত ও পানি সরানোর জন্য শলার ঝাড়ু ব্যবহার করতে হবে। পশু কোরবানি দেওয়ার আশেপাশের স্থানে রক্ত ও পানি জমবেই। সেগুলো ঝাড়ুর সাহায্যে নিকটস্থ ড্রেনে ফেলে দিতে হবে।

৩. আশেপাশের স্থান পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে। ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের জন্মে বাধাদান করবে।

৪. ঘরে কোরবানির মাংস নেওয়ার পর দীর্ঘসময় বাইরে না রেখে দ্রুত ভাগ বাটোয়ারা করে ফেলতে হবে। বাইরে রাখা হলে মাংস নিঃসৃত রক্ত ও অন্যান্য আবর্জনা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করবে।

৫. মাংস, হাড়, ভুঁড়ি, চর্বি ও কোরবানির পশুর অন্যান্য অংশ পরিষ্কার করে রেফ্রিজারেটরে রাখার পর মাংস কাটার যন্ত্রাংশের দিকে খেয়াল করতে হবে। এগুলো কোন অবস্থাতেই নোংরা অবস্থায় রাখা যাবে না। যথাসম্ভব পরিষ্কার করে গুছিয়ে তুলে রাখতে হবে।

৬. চেষ্টা করতে হবে বিকালের আগেই কোরবানির মাংস গুছিয়ে ফেলতে। এরপর পুরো বাড়ি, বারান্দা ও সংযুক্ত সিঁড়ি স্যাভলন মিশ্রিত পানি দিয়ে মুছে নিতে হবে। খেয়াল করতে হবে, ঘর ও বারান্দার কোথাও রক্ত বা পানি জমে আছে কিনা।

৭. সকল গোছগাছ শেষে জমাকৃত ময়লা-আবর্জনা একটি নির্দিষ্ট বড় ব্যাগে জমা করতে হবে। যত্রতত্র ও উন্মুক্ত স্থানে ময়লা একদম রাখা যাবে না। ময়লা জমা করার পর ব্যাগের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে ময়লা ফেলার স্থানে ফেলতে হবে।

এমন সহজ কিছু নিয়ম খেয়াল রাখতে পারলে কোরবানি পরবর্তী সময়ে খুব দ্রুততম সময়ের মাঝে নিজ বাড়িসহ চারপাশ পরিষ্কার করে নেওয়া যাবে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যাবে।

আরও পড়ুন: ঈদ অবসর ভ্রমণে কী রাখবেন সাথে?

আরও পড়ুন: ঝেড়ে ফেলুন পুরনো জঞ্জাল

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র