Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

যেভাবে কাটাবেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিবিহীন কোরবানি ঈদ

যেভাবে কাটাবেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিবিহীন কোরবানি ঈদ
শায়লা সাবরিন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
শায়লা সাবরিন
সিনিয়র ডায়েটেশিয়ান
আজগর আলী হাসপাতাল


  • Font increase
  • Font Decrease

গরুর ও খাসির মাংস বা রেড মিট শ্রেণী পুষ্টি গুনে অতুলনীয় খাবার। এই খাবারে প্রোটিন ফ্যাট এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাইক্রো-মিনারেলস, জিংক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-বি১২ থাকে। পুষ্টি উপাদান বেশি বলে অতিরিক্ত রেড মিট খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই ঈদ উৎসবে একটু সতর্কতা অবলম্বন করে মাংস খাওয়া হলে নিরাপদ থাকা যেতে পারে। আসুন স্বাস্থসম্মত উপায়ে মাংস খাওয়ার কিছু টিপস জেনে নেই।

১. স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর উপায়ে কোরবানির মাংস খেতে হলে প্রথমেই মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত চর্বি কেটে ফেলে দিতে হবে এবং ছোট টুকরা করে কাটতে হবে। এতে ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ অনেকটা কমে যাবে। কিছু পরিমাণ মাংস কিমা করেও ফ্রিজে রেখে দেয়া যেতে পারে। কিমার মাংসে ফ্যাট এর পরিমাণ কম থাকে।

২. রেড মিট বা লাল মাংসের পুষ্টিগুন অনেকটাই নির্ভর করে রান্নার কৌশলের উপর। গরুর মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস। পাশাপাশি এতে যথেষ্ট পরিমাণে ফ্যাট রয়েছে। তাই রান্নার সময় আলাদা করে তেল বা ঘি ব্যবহার না করে সিরকা, লেবুর রস বা টক দই দিয়ে কিছু সময় মেরিনেট করে রেখে অল্প তাপে ভালভাবে সেদ্ধ করে রান্না করতে হবে যেন পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে। মাংসের রেজালা, কোরমা, রোস্ট বা ভুনার চেয়ে স্টেক, গ্রিল, কাবাব করে খেলে কিছুটা হলেও কম ক্যালরি গ্রহন করা সম্ভব সেই সাথে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565094700337.jpg

৩. মাংসে খাদ্য আঁশের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই ঈদের দিন বা তার পরের দিনের মেন্যুতে ফাইবারের চাহিদা অবশ্যই সবজি বা সালাদের আইটেম রাখতে হবে। সেই সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানিও খেতে হবে। কোল্ড ড্রিঙ্কস বা সফট ড্রিঙ্কস এর পরিবর্তে টক দইয়ের লাচ্ছি, বোরহানি, লাবাং বা মাঠা হেলদি ড্রিঙ্কস হিসেবে রাখা যেতে পারে।

৪. যারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন তারা পরিমিত পরিমাণে ঈদের সময় গরুর মাংস খেতে পারেন। তবে তা যেন হয় যে কোন এক বেলায়। যারা কিডনি রোগী এবং যাদের রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি তাদের জন্য অবশ্যই গরু-খাসীর মাংস এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে এড়িয়ে চলতে হবে কলিজা, মগজ, গুদা বা ভুঁড়ি, নেহারি।

৫. কোষ্ঠ কাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যায় যারা ভুক্তভোগী তাদেরকে গরুর মাংস খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অবশ্যই তাদের জন্য পরামর্শ থাকবে তারা যেন ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার যেমন ইসুপগুল বা তোকমার শরবত, সালাদ, সবজি, খোসাযুক্ত ফল ও সেই সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ঈদের সময়ের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565094742384.jpg

৬. ঈদের আনন্দে মাংসসহ অন্যান্য ক্যালরি বহুল খাবার যেন ওজন বাড়িয়ে না দেয় সেই ব্যাপারটিও খেয়াল রাখতে হবে। তাই যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকেন তারা প্রতি সেশনে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটার সময় বাড়িয়ে দিন ঈদের পর থেকেই। তাহলে ওজন বাড়ার চিন্তা থেকে অনেকটাই রেহাই পেতে পারেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে রক্তের খারাপ চর্বি-কোলেস্টেরল, এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইডস সেই সাথে রক্তের ইউরিক এসিড বেড়ে না যায়।

 

আরও পড়ুন: কোরবানির মাংস সংরক্ষণে সহজ সচেতনতা

আরও পড়ুন: ছয় কারণে সখ্যতা গড়ুন সালাদের সাথে

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র