Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ডেঙ্গু রোগীর প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস

ডেঙ্গু রোগীর প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস
শায়লা সাবরিন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
শায়লা সাবরিন
সিনিয়র ডায়েটেশিয়ান
আজগর আলী হাসপাতাল


  • Font increase
  • Font Decrease

বিগত বছরগুলোর তুলনায় সারা দেশ জুড়েই এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

একইসাথে এই মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ অন্যবারের চেয়ে অনেকটা আলাদা। ফলে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

ফলে এ বছর হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর অধিকাংশই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত। তীব্র জ্বরের পাশাপাশি পেটে ব্যাথা, ডায়রিয়া, বমি, রক্তক্ষরণ, লো ব্লাড প্রেসারের মতো উপসর্গ পরবর্তীতে ডেঙ্গু শকের মতো জটিল অবস্থার কারণ হতে পারে।

ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা, সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও সঠিক ডায়েট তথা খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শারীরিক জটিল অবস্থা থেকে রোগীকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেই, কোন ধরণের খাবার ও পুষ্টি এ সময়ের জন্য স্বাস্থ্য উপকারিতা বহন করে।

ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, রোগী যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা তরল জাতীয় খাবার বারবার গ্রহণ করেন।

ডেঙ্গু জ্বরে প্লাজমা লিকেজ এর কারণে ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানি শূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স দেখা দিতে পারে। পানির পাশাপাশি লবণ ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ তরল যেমন- ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবু-লবণের শরবত এবং ফলের রস পান করা উচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1564997996921.jpg

এ সময় ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল যেমন- মাল্টা, কমলালেবু, লেবু, আপেল, আনারস, আমড়া, জাম্বুরা এ জাতীয় ফলের রস রোগীর খাদ্য তালিকায় দৈনিক রাখতে হবে। ভিটামিন-সি এ সময় জ্বরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, সে সাথে এন্টি অক্সিডেন্টের চাহিদাও পূরণ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1564998012475.jpg

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন-কে সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। ভিটামিন-কে দেহে ‘প্রোথ্রোম্বিন’ নামক প্রোটিন তৈরি করে। যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভিটামিন-কে হেমোরেজিক কন্ডিশন বা ডেঙ্গু জনিত রক্ত ক্ষরণের আশঙ্কা কিছুটা কমিয়ে আনে। ব্রকলি, ফুলকপি, পাতাকপি, সবুজ শাকসবজি, ডিমের কুসুল থেকে ভিটামিন-কে পাওয়া যায়। বিভিন্ন গাঢ় রঙের সবজির স্যুপ এসময় রোগীকে দেয়া যেতে পারে।

জ্বর হলে শরীরে মেটাবলিক রেট বা বিপাক ক্রিয়া অনেক বেড়ে যায়। ফলে ক্যালোরির চাহিদাও অনেকখানি বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালোরির চাহিদা পূরণের জন্য চিকেন স্যুপ, ডিমের স্যুপ, ডালের স্যুপ ইত্যাদি প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় এনার্জি তথা শক্তি দিবে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1564998025204.jpg

তরল খাবারের পাশাপাশি অর্ধতরল বা নরম জাতীয় খাবারে রোগীকে অভ্যস্ত করতে হবে। যেহেতু এই সময় জ্বরের কারণে রোগীর মুখে কোন রুচি থাকে না, তাই অল্প পরিমাণ কিন্তু ক্যালোরির চাহিদা পূরণে সহায়ক এমন নরম খাবার রোগীকে বারবার দিতে হবে। যেমন- চালডালের পাতলা খিচুড়ি বা জাউ ভাত, সেই সাথে নরম করে রান্না করা মাছ বা মুরগীর মাংস, পায়েস, পুডিং, সুজি বা দুধ-সাগু।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1564998360178.jpg

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীর লিভার এনজাইম অনেক বেড়ে যায়। ফলে দেখা দিতে পারে ডায়রিয়ার সমস্যা। এছাড়াও এসময় অনেক রোগীর মুখে রুচি থাকেনা বলে একটু মসলাদার খাবার বা চর্বি জাতীয় খাবার যেন ফাস্টফুড, তেল জাতীয় ভাজাপোড়া খাবার খেতে চায়। যা পরিহার করতে হবে।

এছাড়াও এসময় শক্ত জাতীয় খাবার পরিহার করাই ভালো। কারণ তাতে গাম ব্লিডিং বা দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। জ্বরের কারণে ঠোঁটের চামড়া অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যায়, এতে ঠোঁট ফেটে যেতে পারে। এ বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

আরও পড়ুন: মশা তাড়াবে যে গাছগুলো!

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র