Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে সহজ সচেতনতা

কোরবানির মাংস সংরক্ষণে সহজ সচেতনতা
কোরবানির মাংস কাটতে হবে ছোট টুকরা করে
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানির ঈদ মানেই মাংস সংরক্ষণের ঝক্কি ঝামেলা।

শুধু তো মাংস নয়, সাথে গরু ও খাসির অন্যান্য অংশ যেমন: হাড়, চর্বি, ভুঁড়ি, মাথার অংশ ও কলিজাও থাকে। কোরবানির পর ভাগ বাটোয়ারা শেষে নিজেদের ভাগে যতটুকু মাংস থাকে, সেটুকুই ঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে গেলে হিমশিম খেতে হয়।

ইতোপূর্বে জানানো হয়েছে যে, ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে থেকে ডিপ ফ্রিজ পরিষ্কার ও গুছিয়ে রাখতে পারলে ঝামেলা কমে যাবে প্রায় অর্ধেক। সেক্ষেত্রে মাংস সংরক্ষণে খুব একটা সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে সঠিক নিয়মে মাংস সংরক্ষণ করা না হলে সংরক্ষণের পাশাপাশি সমস্যা দেখা দিতে পারে মাংসেও। দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাংসের পুষ্টিগুনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে কারণে কিছু সাধারণ সচেতনতা জানা থাকলে মাংস সংরক্ষণে সুবিধা হবে।

প্রাণিজ প্রোটিন তথা মাংসের প্রায় ৫৫-৭০ শতাংশই হলো জলীয় অংশ। ফলে মাংসে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে ও পচন দেখা দেয়। তবে কোরবানি শেষে মাংস ঘরে আনার সাথে সাথেই ফ্রিজিং করা উচিত নয়। কোরবানি শেষে অন্তত দুই ঘণ্টা পর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে ও পানি শুকিয়ে ফ্রিজিং করতে হবে। এ সময়ের মাঝে মাংসের সাথে থাকা বাড়তি রক্ত ঝরে যাবে। ফলে ফ্রিজিং এর ক্ষেত্রে কোন সমস্যা দেখা দিবে না।

মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরী। প্রথমত, মাংসের সাথে বাড়তি হাড় ও চর্বি সরিয়ে ফেলতে হবে। এতে করে তুলনামূলক বেশি মাংস সংরক্ষণ করা যাবে এবং মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

দ্বিতীয়ত, মাংস কাটতে হবে ছোট ও পাতলা টুকরা করে। আমরা সাধারণত বড় ও ভারি টুকরা করে মাংস কেটে থাকি। এতে করে কাঁচা মাংস ফ্রিজিং হতে লম্বা সময়ের প্রয়োজন হয় এবং মাংসের ভেতরে কাঁচা রক্ত রয়ে যায়। পাতলা ও ছোট টুকরা করে মাংস কাটা হলে অল্প সময়ের মাঝে মাংস ফ্রিজিং হয়ে যাবে এবং মাংসের ভেতরে থাকা রক্ত ঝরিয়ে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/05/1564983916057.jpg

কোরবানির মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত মাংস দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের দিকে নজর না দিয়ে, এর গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিও নজর দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিংক, ফসফরাসের সঙ্গে রেড মিট তথা গরু ও খাসির মাংস থেকে পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ও প্রথম শ্রেণির আমিষ।

মাংস সংরক্ষণের বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি থাকলেও, ডিপ ফ্রিজে নিম্ন তাপমাত্রায় ফ্রিজিং করাই সবচেয়ে প্রচলিত ও সহজ উপায়। তাই মাংস সঠিক নিয়মে কেটেবেছে, রক্ত ঝরিয়ে ও শুকিয়ে নিয়ে ছোট ছোট ও আলাদা প্যাকেটে নিয়ে ফ্রিজিং করতে হবে। ফ্রিজের তাপমাত্রা যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ কম হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

এবারে আসা যাক মাংস বাদে কোরবানির প্রাণীর অন্যান্য অংশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। ভুঁড়ি, কলিজা, হাড় ও চর্বি, মাথা ও মগজ- যেটাই সংরক্ষণ করা হোক না কেন মনে রাখতে হবে, মাংসের সাথে রাখা যাবে না। কলিজা, ভুঁড়ি, জিহ্বা বা লেজের অংশ খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে তবেই ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে। নতুবা এতে থাকা ময়লা ও রক্ত থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। মাথার অংশ ও মগজ ধুয়ে রক্ত ঝরিয়ে এরপর প্যাকেট করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বাড়তি হাড় ও চর্বি ফেলে দেওয়া হয়। যদি ফেলে দেওয়া না হয় তবে চর্বি ধুয়ে ও হাড় জ্বালিয়ে এরপর সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। পায়ের হাড়ের ক্ষেত্রেও যদি জ্বাল দিয়ে পানি শুকিয়ে রাখা সম্ভব হয় তবে পায়ের হাড় ভালো থাকবে।

খুব সাধারণ এমন কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারলে কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণে কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।

আরও পড়ুন: ডিপ ফ্রিজ খালি করার এইতো সময়!

আরও পড়ুন: যেভাবে নতুনের মতো থাকবে কাঠের চামচ

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র