Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস
বিভিন্ন ফল ও সবজির জুস
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ঘরে ঘরে এখন ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতা।

শিশু থেকে বৃদ্ধ- সবাই আক্রান্ত হচ্ছে এই জ্বরে। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে যেহেতু সেভাবে বিশেষ কোন চিকিৎসা নেই, এই জ্বর হলে খাদ্যাভ্যাসের দিকে খেয়াল দিতে হয় সবার আগে। এ সময়ে প্রচুর পরিমাণ তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়। পানি, ডাবের পানি, ফলের জ্যুস, বিভিন্ন ধরনের স্যুপ, জাউ ভাত প্রভৃতি খাওয়াতে হয় আক্রান্ত রোগীকে।

শুধু পানি কিংবা ডাবের পানি পানে অরুচি দেখা দিলে পান করাতে হবে ফল ও সবজির জুস। লেবু, কমলালেবু, আনার, আপেল, টমেটো, বিট, শসার মতো জলীয় অংশ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদানের জুস রোগীদের আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন এই সকল উপকারী ফলে তৈরি পাঁচ পদের জুস।

আঙ্গুরের জুস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564816022637.JPG

বিভিন্ন ধরনের ফলের মাঝে মিষ্টি স্বাদের জন্য আঙ্গুর ফলটি অনেকেই তুলনামূলকভাবে বেশি পছন্দ করেন। সহজেই রেসিপি বিধায় যখন তখন আঙ্গুরের জুস তৈরি করা যাবে। এই জুস তৈরি জন্য ১৫-২০টি আঙ্গুর, এক কাপ পানি, বড় এক টুকরো লেবুর রস, দুই চা চামচ মধু ও এক চিমটি লবণ প্রয়োজন হবে।

জুস তৈরির জন্য প্রথমে শুধু আঙ্গুরগুলো ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এতে পানি, লেবুর রস, মধু ও লবণ দিয়ে পুনরায় ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করতে হবে।

আপেল-কমলালেবুর জুস

রোগীদের জন্য এই জুসটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী পানীয় হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া কমলালেবুর প্রশান্তিদায়ক সুবাস ও স্বাদ রোগীর মুখে স্বাদ বাড়াতেও কাজ করবে। জুসটি তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে দুইটি কমলালেবুর রস, এক-চতুর্থাংশ লেবুর রস, একটি মাঝারি আকৃতির আপেলের টুকরা, আধা ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুঁচি, এক চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ বিট লবণ।

প্রথমে আপেলের টুকরাগুলো ব্লেন্ড করে এতে কমলালেবুর রস, লেবুর রস, আদা কুঁচি, মধু ও বিট লবণ দিয়ে পুনরায় ব্লেন্ড করতে হবে। যদি খুব বেশি ঘন জুস পছন্দ না হয়, তবে আধা কাপ পানি যোগ করা যাবে।

শসা-বিটের জুস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564816041359.jpg

বিটের ফলেট, ম্যাংগানিজ, আয়রন, বেটাইন, পটাশিয়াম এবং শসার ভিটামিন-এ, বি, সি, ফলিক অ্যাসিড ও পর্যাপ্ত পরিমাণ জলীয় অংশ সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরী। লেবু ও আদার উপকারিতার কথা বলাই বাহুল্য। এই জুসটি তৈরির জন্য খোসাবিহীন দুইটি বিটের টুকরা, খোসাসহ দুইটি শসার টুকরা, দুই ইঞ্চি পরিমাণ আদার টুকরা একসাথে ব্লেন্ড করতে হবে। এতে লেবুর রস যোগ করে পুনরায় ব্লেন্ড করে ছেঁকে স্বাদমতো মধু যোগ করে পান করতে হবে।

টমেটোর জুস

মিষ্টি জুস পান করতে যদি রোগী পছন্দ না করেন, তবে সেক্ষেত্রে টক ও হালকা ঝালের ফ্লেভারে তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার টমেটোর জ্যুস। এই জুস তৈরিতে প্রয়োজন হবে চারটি টমেটো, এক মুঠো ধনিয়া পাতা, অর্ধেক কাঁচামরিচ, আধা ইঞ্চি আদা, একটি অর্ধেক কোয়া রসুন, আধা চা চামচ বিট লবণ ও এক চিমটি লবণ।

জুস তৈরির জন্য চুলার আগুনে টমেটো পুড়িয়ে নিতে হবে। এর জন্য বড় কাঁটাচামচে টমেটো গেঁথে আগুনের উপর ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পোড়াতে হবে। টমেটোর চামড়া কুঁচকে কালো হয়ে আসলে আগুনের উপর থেকে সরিয়ে নিতে হবে। সবগুলো টমেটো পোড়ানো হয়ে ঠাণ্ডা করে গেলে টমেটোর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এবারে ব্লেন্ডারে টমেটো, ধনিয়া পাতা, আদা, রসুন কাঁচামরিচ, লবণ ও বিটলবণ একসাথে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

আনারের জুস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564816055522.jpg

আনার বা ডালিমের রস ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফলিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এই ফলকে দারুণ এক স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।

আনারের জুস তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে একটি বড় আকৃতির আনার, একটি কমলালেবু, ১০-১২টি পুদিনা পাতা, মধু ও পানি।

আনার ছিলে ব্লেন্ডারে শুধু আনার ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এই আনার ছেঁকে আনার রস বের করে এতে কমলালেবুর রস ও পুদিনা পাতা দিতে পুনরায় ব্লেন্ড করতে হবে। এতে মধু ও পানি যোগ করে শেষবারের মতো ব্লেন্ড করে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

আরও পড়ুন: যেভাবে তৈরি হবে সুস্বাদু ব্যানানা স্মুদি

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র