Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ডিপ ফ্রিজ খালি করার এইতো সময়!

ডিপ ফ্রিজ খালি করার এইতো সময়!
ঈদের আগেই গুছিয়ে নিতে হবে ডিপ ফ্রিজ
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে।

একবারে অনেকখানি মাংস সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্থানের সংকুলান করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় প্রতি ঈদেই। ঈদের দিন কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য যেন কোন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন। এতে করে মাংস ডিপ ফ্রিজে ভালোভাবে রাখা নিয়ে কোন ধরনের ঝামেলা দেখা দিবে না।

কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিপ ফ্রিজ পরিষ্কার করা ও গোছানোর জন্য উত্তম সময় হবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে হাতে সময় নিয়ে কাজ করা যায়। ডিপ ফ্রিজ দীর্ঘদিন পরিষ্কার করা না হলে বরফ জমে যায়। এই বরফ বাড়তি স্থান নিয়ে নেয়। তাই সবার আগে বরফ পরিষ্কার করে নিতে হবে। বরফ পরিষ্কারের সময় খেয়াল রাখতে হবে, ডিপ ফ্রিজের ভেতরের অংশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বরফ পরিষ্কার করা হয়ে গেলে পানিতে লিকুইড ডিশ ওয়াশার মিশিয়ে কাপড়ের সাহায্যে মুছে নিতে হবে। এতে করে ডিপ ফ্রিজের ভেতরের অংশে কোন বাজে ও পুরনো গন্ধ থাকলে দূর হয়ে যাবে।

এবারে আসা যাক ডিপ ফ্রিজে থাকা মাছ ও মাংসের বিষয়ে। এতোদিন ধরে যে মাছ ও মাংস ফ্রিজে ছিল সেগুলো নিশ্চয় ফেলে দেওয়া কিংবা একবারে রেঁধে ফেলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে অনেকদিনের পুরনো মাছ ও মাংস বেছে বের করতে হবে। সাধারণত লম্বা সময় ধরে ডিপে প্রাণিজ প্রোটিন সংরক্ষণ করা হলে তার স্বাদ ও উপকারিতা উভয়ই কমে যায়।

পুরনো মাছ-মাংসগুলো পুনরায় ডিপ ফ্রিজিং করার বদলে রান্না করে ফেলতে হবে। এতে করে বেশ অনেকখানি জিনিস কমে আসবে। এছাড়া খেয়াল করে দেখবেন, ডিপ ফ্রিজে বহুদিনের পুরনো মাংসের অবশিষ্টাংশও সংরক্ষণ করা হয় রান্নায় ব্যবহারের জন্য। ডিপে রাখা হলেও চার-পাঁচ মাস পরেই এগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এমন কোন খাদ্যাংশ থাকলে সেটা বেছে ফেলে দিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564805825637.JPG

এখন কিন্তু ডিপ ফ্রিজে শুধু মাছ-মাংসই নয়, সাথে বাটা ও টুকরা মশলা, বিভিন্ন ধরনের ফ্রোজেন ফুড ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল ফ্রোজেন করে রাখা হয়।

বাটা মশলা বেশ প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময়। সেক্ষেত্রে ফ্রোজেন বাটা মশলা একসাথে সব ব্যবহার না করে বা ফেলে না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পাত্রে সকল বাটা মশলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে বাটা মশলা রাখা হলে অনেকখানি স্থানের প্রয়োজন হবে।

এবারে আসা যাক ফ্রোজেন ফুডের বিষয়ে। ভেজিটেবল রোল, সমুচা, সিঙ্গারা, কাটলেট, টিকিয়াসহ যাবতীয় ফ্রোজেন ফুডের সংখ্যাও কমিয়ে ফেলতে হবে। কোরবানির ঈদে সবার আকর্ষণ থাকবে কোরবানির মাংসে রাঁধা মজাদার খাবারের দিকেই। এ সময়ে ফ্রোজেন ফুডের প্রয়োজন হবে না। তবে যদি একান্তই প্রয়োজন থাকে ও স্টকে কিছু পরিমাণ ফ্রোজেন খাবার রাখতে হয়, তবে সকল আইটেম অল্প করে একটি বক্সে সংরক্ষণ করতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564805845143.JPG

এছাড়া সবজি ও ফল যদি ফ্রোজেন করে রাখা হয়, সেটা ঈদের আগে ব্যবহার করে ফেলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

সবশেষে ভীষণ জরুরী বিষয়টি হলো, ডিপে খাবার সংরক্ষণের ধরণ। যে মাছ-মাংস, ফ্রোজেন খাবারগুলো ডিপে পুনরায় সংরক্ষণ করতে হচ্ছে, সেগুলো যদি এলোমেলোভাবে রাখা হয় তবে ডিপ ফ্রিজ পরিষ্কার করেও কোন লাভ হবে না। ডিপের একটি নির্দিষ্ট অংশে গুছিয়ে সকল জিনিস রাখা হলে খুব সহজেই ডিপে অনেকখানি খালি স্থান হয়ে যাবে।

ধাপ ও নিয়ম মেনে ডিপ পরিষ্কার করতে পারলে ও কোরবানি ঈদের আগে একইভাবে রাখতে পারলে, ডিপে কোরবানির মাংস রাখা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে না।

আরও পড়ুন: পানি সংরক্ষণের পাত্রের উপর নির্ভর করে সুস্থতা!

আরও পড়ুন: অসুস্থতা দেখা দিতে পারে আপনার রান্নাঘর থেকেও!

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র