Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

যে কারণে মশা আপনাকে বেশি কামড়ায়!

যে কারণে মশা আপনাকে বেশি কামড়ায়!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের প্রত্যেকের পরিচিত এমন একজন বা কয়েকজন রয়েছে যাদেরকে মশা তুলনামূলক বেশি কামড়ায়।

কোন স্থানে একত্রে অনেকজন থাকলে দেখা যাবে নির্দিষ্ট কোন একজন ব্যক্তিকেই মশা বেশি কামড়াচ্ছে। এমন সমস্যাটিকে অনেকে মনের ভ্রান্তি ভেবে উড়িয়ে দেন। কিন্তু এর পেছনেও রয়েছে যথেষ্ট কারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

মশারা কেন মানুষের প্রতি আকর্ষিত হয়?

মশা কামড়ানোর পেছনে থাকে মানুষের ত্বকের উপাদানসমূহ বা কম্পাউন্ডসের উপস্থিতি এবং শরীরের গন্ধ। ভেক্টর বায়োলজিস্ট বার্ট ক্যানলস মশা ও মশা কামড়ানোর কারণের উপরে তার গবেষণা করেছেন। তিনি জানান, মানুষ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণের সাথে শরীরে ব্যবহৃত বেশ কিছু কেমিক্যাল উপাদানও নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে। যা মানব শরীরে এক ধরনের ‘ওডর প্লাম’ তৈরি করে। এই ওডর (গন্ধ) মশা ১০০ ফিট দূর থেকেও শনাক্ত করতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি মানুষের শরীর থেকে কমবেশি ৩০০ ধরনের কেমিক্যাল উপাদান নিঃসৃত হয়।

নির্দিষ্ট কারোর উপরে মশা কেন বেশি আকর্ষিত হয়?

মশার প্রজাতি ও মানুষের শরীরের ত্বক, গন্ধের উপর নির্ভর করে মশা নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়ে থাকে। যেমন- এশিয়ান টাইগার মসকুইটো ল্যাকটিক অ্যাসিডের উপস্থিতি বেশি আছে এমন মানুষের ত্বকের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। অন্যদিকে আফ্রিকান ম্যালেরিয়া মসকুইটো ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ত্বকের দিকে তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হয়।

ক্যানলস জানান, মশার প্রজাতি এবং মানুষের শরীরের নিজস্ব ঘ্রাণ ও তার নিঃশ্বাসের সাথে কী ধরনের কেমিক্যাল মিশছে- এইসকল বিষয়ের উপর নির্ভর করে মশারা নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।

এর সাথে জেনেটিক্যাল গঠন, স্বাস্থ্যের অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, ত্বকের আর্দ্রতা, মাইক্রোফ্লোরাসহ প্রভৃতি বিষয়গুলোও সংযুক্ত থাকে।

ক্যানলস বলেন, ‘আমাদের লোমকূপ থেকে যে সকল উপাদান নির্গত হয়, তা ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বিক্রিয়া ঘটায়, যা মশাকে আকৃষ্ট করার মতো ঘ্রাণ তৈরি করে। সেক্ষেত্রে বলা যায়, আমাদের প্রতি বা আমাদের ত্বকের প্রতি নয়, মশারা আমাদের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়।’

ক্যানলস আরও যোগ করেন, অনেকের মাঝেই ভ্রান্ত ধারণা থাকে যে, রক্ত মিষ্টি হওয়ার দরুন নির্দিষ্ট ব্যাক্তিকে মশা বেশি কামড়ায়। কিংবা রক্তের গ্রুপের উপর নির্ভর করে মশা কম-বেশি আকর্ষিত হয়। অথচ পরীক্ষা করে কিংবা গবেষণা করে এ ধরনের তথ্যের নির্ভরযোগ্য সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে ক্যানলস জানায়।

কীভাবে মশাকে দূরে রাখতে হবে?

যদি আপনার প্রতি মশা তুলনামূলক বেশি আকর্ষিত হয়ে থাকে তবে নিজেকে সবসমপ্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। সাথে লেমন অয়েলে ব্যবহার করতে হবে ও লেবুর রস মিশ্রিত পানি পান করতে হবে। সকল প্রজাতির মশাই লেবুর গন্ধে দূরে থাকে থাকে।

আরও পড়ুন: মশা তাড়াবে যে গাছগুলো!

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র