Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাত সচেতনতা

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাত সচেতনতা
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নারীপুরুষ উভয়ের স্তন ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, নারীদের মাঝেই এই ক্যানসারের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

ফলে নারীদের ক্যানসারজনিত কারণে মৃত্যুর হারের মাঝে অধিকাংশ স্থান দখল করে থাকে স্তন ক্যানসার বা ব্রেস্ট ক্যানসার।

গবেষণার তথ্য সুপারিশ করে ৫-১০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার দেখা দেওয়ার পেছনে থাকে বংশগত ও জিনগত কারণ। বাদবাকি ক্ষেত্রে এই ক্যানসার দেখা দেওয়ার পেছনে নির্ভর করে জীবনযাপনের ধরণ, খাদ্যাভ্যাস ও নিত্যদিনের অভ্যাস সমূহ।

এ কারণে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সঠিক নিয়ম মেনে চলা খুবই প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ। এমন জরুরী সাত সচেতনতামূলক বিষয় আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

বাড়তি ওজন স্বাস্থ্যের জন্য কখনোই ভালো কিছু নয়। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ওবেসিটি তো বটেই, অতিরিক্ত ওজনের দরুন ক্যানসারের মতো ভয়াল রোগও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের মেনোপজ পরবর্তী সময়ে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায় বাড়তি ওজনের ফলে।

শারীরিক কার্যক্রম চালু রাখা

অলসতাজনিত কারণে কিংবা সময়ের অভাবে শারীরিক কার্যক্রম অথবা শরীরচর্চার অভ্যাসটি অনেকেই গড়ে তোলেন না। নিয়ম মেনে শরীরচর্চা যদি করা নাও হয়,  দৈনিক এমন কোন শারীরিক কার্যক্রম করতে হবে, যা শরীরে ঘাম তৈরি করবে। তিরিশ- এক ঘণ্টা সময়ের শারীরিক কার্যক্রমও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করবে।

ফল ও সবজি গ্রহণ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/27/1564224935525.jpg

স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্তন ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করবে। বিশেষত রঙিন সবজি তথা গাজর, বিট, ব্রকলি প্রভৃতি এবং আপেল, কমলালেবু, বেদানা, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, টমেটোর মতো ফলগুলো সামগ্রিকভাবে শারীরিক সুস্থতা প্রদান করবে।

ডার্ক চকলেট গ্রহণ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/27/1564224951346.jpg

বহু স্বাস্থ্য উপকারিতার মজাদার ও সুস্বাদু এই খাবারটি স্তন ক্যানসার প্রতিরোধেও কাজ করবে। গবেষণা জানাচ্ছে, ডার্ক চকলেটে ক্যানসারের বিপক্ষে কাজ করার মতো উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসারকে দূরে রাখে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত ডার্ক চকলেট না খেলেও, প্রতি সপ্তাহে ১০০ গ্রাম পরিমাণ ডার্ক চকলেট খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।

ঘুম থেকে উঠতে হবে দ্রুত

সকালে দ্রুত ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসটি কষ্টকর হলেও, সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার ফলে স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা কমে যাত অনেকখানি। ৭-৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম শেষে, ঘুম থেকে উঠতে হবে একদম কাক ডাকা ভোরে। তবেই মিলবে এই উপকারিতা, এমনটাই জানাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাজ্যের ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশন কনসরটিয়াম।

নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/27/1564224964424.JPG

ঘরে বসে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে হবে। গোসলের সময় খুব সহজেই স্তন ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া যায়। বগলের নিচের অংশ থেকে শুরু করে স্তন ও স্তনের আশেপাশের অংশে শক্ত চাকা, ছোট গুটির মতো দলা, স্তনের বোটার চারপাশের ত্বকে গুঁড়ি গুঁড়ি অংশ, স্তনে ব্যথাভাব, চুলকানির প্রাদুর্ভাব, বোটার রঙ আকস্মিকভাবে পরিবর্তন হওয়া, বোটা থেকে সাদা তরল অথবা রক্ত নিঃসৃত হওয়ার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিলেই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হতে হবে।

নিয়মিত স্তন পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা দেখা দিলে একদম প্রাথমিক ধাপেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে করে সঠিক চিকিৎসায় দ্রুত সেরে ওঠা যায়।

স্তন্যপান করতে হবে

যে মায়েদের নবজাতক শিশু আছে, তাদের স্তন্যপান করানোর প্রতি জোর দিতে হবে। মাতৃদুগ্ধ একদিক থেকে শিশুর জন্য যেমন উপকারী, ঠিক তেমনিভাবে স্তন্যপান মায়ের জন্যেও উপকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হরমোনাল ফ্যাক্টর ইন ব্রেস্ট ক্যানসার এর গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে জানিয়েছে, ১২ মাস স্তন্যপানের ফলে ৪.৮ শতাংশ স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা কমে যায়।

আরও পড়ুন: নো ব্রা ডে: ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে জরুরি সচেতনতা

আরও পড়ুন: পিরিওডকালীন সময়ে হাঁটাহাঁটি বন্ধ থাকবে?

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র