Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

মশা তাড়াবে যে গাছগুলো!

মশা তাড়াবে যে গাছগুলো!
রান্নাঘরে ছোট টবেই হবে পুদিনা গাছ, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছে পুরো দেশের মানুষ।

নিজেকে ও পরিবারের মানুষদেরকে নিরাপদে রাখার জন্য সবার মাঝেই কাজ করছে চিন্তাভাবনা। বাসার ভেতরে ও আশেপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে ও মশা জন্মাতে না পারে, সেদিকে সবাই খেয়াল রাখছেন। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ঘরের জানাল বন্ধ করে মশার কয়েল জ্বালাচ্ছেন এবং মশারি ব্যবহার করছেন। কিন্তু এতো প্রস্তুতি স্বত্বেও বিপত্তি এসে হানা দিচ্ছে ঠিকই।

কারণ নিজের বাড়ি ও বাড়ির আশেপাশের অংশ পরিষ্কার করা হলেও, পুরো এলাকা থেকে যাচ্ছে আগের মতোই। ফলে ময়লা ও জমে থাকা পানি থেকে মশা জন্ম নিচ্ছে এবং সতর্কতা গ্রহণের পরেও কোন না কোনভাবে ঘরে প্রবেশ করছে।

এক্ষেত্রে উপকারে আসবে বিশেষ কিছু গাছ। এখনকার সময়ে নিজ বারান্দায় শখের ছোট বাগান গড়ে তুলতে সকলেই ভালোবাসেন। সে বাগানে এমন কিছু গাছ সংগ্রহ করতে হবে, যা মশাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পরিচিত অথবা অর্ধ-পরিচিত এই গাছগুলো ‘মসকুইটো রিপ্যালেন্ট’ তথা মশা নিবারন করতে বা তাড়াতে কাজ করে। ঘরের সাথে লাগোয়া কিংবা আলোযুক্ত স্থানে নিম্নোক্ত গাছ রাখলে ক্ষতিকারক মশার হাত থেকে নিজেদেরকে অনেকটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

তুলসি

পরিচিত ঔষধি এই গাছের উপকারী পাতা বহুল ব্যবহৃত উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপকারিতা সম্পন্ন এই পাতার আরও বড় উপকারিতাটি হল, এই গাছ ও গাছের পাতা মশাকে তাড়াতে কাজ করে। তুলসি পাতায় প্রাকৃতিক এক ধরনের ঘ্রাণ রয়েছে, যা মশারা সহ্য করতে পারে না। এর জন্য গাছে সতেজ পাতা থাকাই যথেষ্ট, পাতা ছিঁড়ে কচলে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

ক্যাটনিপ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/26/1564121892546.JPG

এই উদ্ভিদের এমন নামকরণের পেছনে যথার্থ কারণ আছে। বিড়াল এই গাছ খুবই পছন্দ করে। কারণ এই গাছে নেপিট্যাল্যাক্টন (Nepetalactone) নামক এক প্রকারের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ কেমিক্যাল রয়েছে। যা বিড়ালদের আকর্ষিত করে এবং মশা, মাছি, পোকামাকড়কে দূর করে।

২০১০ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে পোকামাকড় তাড়ানোর উপাদানের চাইতেও ক্যাটনিপ বেশি কার্যকরি। আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে খুব সহজেই এই গাছ বেড়ে ওঠে এবং যারা বিড়াল পালেন তারা এই গাছ ঘরে রাখলে খুশিও হবেন।

পুদিনা পাতা

রান্নাঘরের জানালায় বা বারান্দায় যে পুদিনা গাছটি আছে, সেটা হরেক রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আপনাকে মশার হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখবে। দ্রুত বেড়ে ওঠার এই উদ্ভিদ ও এর পাতা থেকে তৈরি তেল (পিপারমিন্ট অয়েল) মশাকে দূরে রাখবে। এছাড়া মশা কামড় দেওয়া স্থানে পুদিনা পাতা কচলে ম্যাসাজ করলেও আরাম পাওয়া যাবে।

লেমন বাম

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/26/1564121914483.jpg

মিন্ট পরিবারের আরেকটি সদস্য হলো এই লেমন বাম। এই উদ্ভিদটি দেখতেও অনেকটা পুদিনা পাতার মতো, তবে পুদিনা পাতা নয়। একেবারে প্রতিকুল পরিবেশে ও অযত্নেও এই গাছটি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।

সেইজ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/26/1564121932589.jpg

বিভিন্ন পূজা-অর্চনাতে এই পাতা ব্যবহার করা হয় এবং পোড়ানো হয়। সেইজ (Sage) কে ভুঁই তুলসি নামেও ডাকা হয়। এই পাতার ধোঁয়াই মূলত মশাকে দূর করে। ঘরে সন্ধ্যা নাগাদ কয়েকটি সেইজ পাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিলে ঘরে সুমিষ্ট গন্ধ থাকবে ও মশাও দূর হবে।

ঘরে ও বারান্দায় গাছ রাখার ক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে। গাছের টবে যেন কোন পানি না জমে। টবের মাটি শুকিয়ে আসলেই কেবল তাতে পানি দিতে হবে।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র