Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রৌদ্রজ্জ্বল দিনের শুরুটা হোক সচেতনতায়

রৌদ্রজ্জ্বল দিনের শুরুটা হোক সচেতনতায়
নিত্যদিনের অনুষঙ্গ হোক পছন্দসই সানগ্লাস, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিদিনের শুরুটা হচ্ছে প্রচণ্ড রোদ মাথায় নিয়ে।

ধারাবাহিক বৃষ্টিবাদলার পর রোদের তাপ ভালোলাগা তৈরি করলেও সরাসরি রোদের আলো ও তাপ ত্বকের উপর স্থায়ীভাবে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে দেয়।

রোদের জন্য কাজ নিশ্চয় থেমে থাকবে না। কাজে, ক্লাসে কিংবা অফিসের জন্য বাইরে বেরুনোর আগে নিজেকে বাইরে রোদের মাঝে চলাচলের জন্য প্রস্তুত করে নিতে হবে। কারণ রোদের আলোর ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রে তথা রশ্মির জন্য ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন ও ভুগছেন লাখো মানুষ।

রোদের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করার বিষয়টি বেশ কৌশলের। সেক্ষেত্রে খুব সাধারণ কিছু টিপস মাথায় রাখতে পারলেই নিজেকে এই ক্ষতিকর রোদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। আপনাদের সুবিধার জন্য তেমন ছয়টি বিষয় জানানো হলো।

১. অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে একেবারেই ছাড়া দেওয়া যাবে না। সানস্ক্রিন ক্রিম অথবা পাউডার কেনার আগে পণ্যের গায়ে SPF50 দেখে নিতে হবে। এ মাত্রার সানস্ক্রিন রোদের ক্ষতিকর প্রভাবকে ভালোভাবে বাধা দিতে পারে। যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তাদের জন্য সানস্ক্রিন পাউডার ব্যবহার করাই শ্রেয়। মুখ, গলা, ঘাড়, হাত ও পায়ের পাতার খোলা অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে এবং দীর্ঘসময় বাইরে অবস্থান করতে হলে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অবশ্যই সানস্ক্রিন রি-এপ্লাই তথা পুনরায় ব্যবহার করতে হবে।

ঠোঁটে ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন প্রটেক্টেড লিপবাম। লিপবামের SPF30 হলেও কাজ করবে।

২. সান্সক্রিনের সাথে সানগ্লাসকে সঙ্গী করে নিতে হবে। রোদের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে চোখ ও চোখের চারপাশের অংশের ত্বকে। কারণ এ অংশের ত্বক তুলনামূলক পাতলা ও নাজুক হয়। সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হলেও সানগ্লাস পরতে হবে বাড়তি সতর্কতার জন্য। এছাড়াও অনেকে সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলে গেলেও সাথে সানগ্লাস থাকলে দ্রুত পরে নেওয়া যাবে ও ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনা যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563865899008.jpg

৩. গরমে ঘাম বেশি হওয়ার দরুন পাতলা ও সুতি তন্তুর কাপড় পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে রোদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পাতলা তন্তুর কাপড়ের হাতার ঝুল লম্বা করে তৈরি করতে হবে। তাহলে হাতের ত্বক রোদের ক্ষতিকর আলোর প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।

৪. শুধু বৃষ্টির সময়ে নয়, প্রখর রোদেও ছাতা রাখতে হবে নিজের সাথে। ছাতা সাথে থাকার ফলে উন্মুক্ত ও খোলা স্থানে সরাসরি রোদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে খুব সহজেই।

৫. যতটা সম্ভব চেষ্টা করতে হবে সরাসরি রোদের নিচে না থেকে ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার জন্য। বাইরে দীর্ঘসময় থাকার প্রয়োজন হলে তুলনামূলক ছাইয়াযুক্ত স্থান খুঁজে বের করতে হবে এবং সেখানে থাকার চেষ্টা করতে হবে।

৬. খেয়াল করে দেখবেন, যারা নিয়মিত বাইরে চলাচল করেন ও স্লিপার তথা স্যান্ডেল পরেন, তাদের পা রোদে পুড়ে কালচে দাগ বসে যায়। এ থেকে খুব সহজেই অনুমেয়, রোদের আলো ত্বকে কতটা ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে। তাই রোদের ভেতর চলাচলের জন্য পুরো পায়ের পাতা ঢেকে থাকার মতো জুতা নির্বাচন করুন। এতে করে পায়ে ছোপ ছোপ পোড়াভাব তৈরি হবে না এবং রোদের হাত থেকে পায়ের ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: সানগ্লাস ব্যবহারে যে তিন ভুল আপনিও করছেন!

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র